খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বজুড়ে ঈদের আনন্দ, ভারতে মুসলিমদের মনে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে ঈদের আনন্দ, ভারতে মুসলিমদের মনে আতঙ্ক

সারা বিশ্বে এখন ঈদুল আজহার আনন্দ। সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে বুধবার (২৭ মে) পালিত হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম বড় এই উৎসব। রাত পোহালে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাংলাদেশেও ঈদ। সারাদেশ ভাসবে আনন্দে। কিন্তু আনন্দের বদলে ভারতের মুসলিমদের মনে এখন শুধুই আতঙ্ক।

বুধবার (২৭ মে) সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশটির অধিকাংশ রাজ্যে পালিত হওয়ার কথা এই ধর্মীয় উৎসব।

তবে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে ঈদগাহে বা খোলা জায়গায় নামাজের অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। গত ঈদে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়া খেতে হয়েছিল তাদের। ফলে এবারের ঈদকে সামনে রেখে আতঙ্কে দেশটির মুসলিমরা।

আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট জেলার মালিয়ানা গ্রামের একটি ছোট মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক চলছে। তবে সেখানে উৎসবের আমেজের চেয়ে উদ্বেগই বেশি স্পষ্ট। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু কোরবানির পশু বা দান নয়; বরং রাস্তা, ব্যারিকেড, পুলিশি অনুমতি এবং কোথায় ও কীভাবে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে— সেই প্রশ্ন।

দিল্লি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা মুসল্লিদের সতর্ক করে দিচ্ছেন— মসজিদের গেটের বাইরে জড়ো না হতে, ভিড় হলে পরবর্তী জামাতের জন্য অপেক্ষা করতে, কোনো ধরনের বিতর্কে না জড়াতে এবং উসকানিমূলক পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া না জানাতে।

উপস্থিত মুসল্লিদের কেউ কেউ মোবাইলে স্থানীয় পুলিশের পরামর্শসংবলিত বার্তা দেখছিলেন। সেখানে প্রকাশ্যে নামাজ না পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অনেকে আবার উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলেন।

মালিয়ানা গ্রাম মুসলিমদের জন্য এক বেদনাদায়ক স্মৃতির জায়গা। ১৯৮৭ সালের মে মাসে সেখানে হিন্দু জনতা ও প্রাদেশিক আর্মড কনস্ট্যাবুলারির সদস্যদের হাতে ৭২ মুসলিম নিহত হন। দীর্ঘ ৩৬ বছরের বিচারপ্রক্রিয়ার পর ২০২৩ সালে প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তদের খালাস দেয় আদালত। তবে এবারের উদ্বেগ সেই পুরনো ঘটনার কারণে নয়; বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদের নামাজকে ঘিরে বাড়তে থাকা বিধিনিষেধের কারণে।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন ডানপন্থী হিন্দু সংগঠন প্রকাশ্যে মুসলিমদের নামাজের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, রাস্তা বা খোলা জায়গায় নামাজের কারণে যানজট ও নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় রাস্তা, পার্ক বা খালি জমিতে নামাজ আদায় বন্ধ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলা স্থানে নামাজের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসন মুসলিমদের দেওয়া অনুমতিও বাতিল করেছে।

সম্প্রতি বিজেপির ঘনিষ্ঠ কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) সারাদেশে রাস্তার ওপর নামাজ নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। সংগঠনটির অভিযোগ, এটি মুসলিমদের ‘শক্তি প্রদর্শনের’ অংশ।

তবে মুসলিমদের বক্তব্য, বাস্তবতা ভিন্ন। জনবহুল এলাকায় অধিকাংশ মসজিদ বা ঈদগাহে একসঙ্গে সব মুসল্লির জায়গা হয় না। ফলে ঈদ বা জুমার সময় সাময়িকভাবে রাস্তার কিছু অংশ ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প থাকে না।

ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মুসলিম বাস করেন। ২০১৭ সাল থেকে সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন যোগী আদিত্যনাথ, যিনি মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের জন্য পরিচিত। তাঁর সরকারের আমলে রাস্তা ও খোলা জায়গায় মুসলিমদের নামাজ আদায়ের ওপর কঠোরতা বেড়েছে।

গত ১৮ মে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, মুসলিমদের ‘শিফটে’ ঈদের নামাজ আদায় করা উচিত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে মেনে নিলে ভালো, না মানলে অন্য পদ্ধতি নেওয়া হবে।’ এই ‘অন্য পদ্ধতি’ কী হতে পারে, সে বিষয়ে মুসলিমদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মিরাটের এক মুসলিম বাসিন্দা জানান, গত বছর খোলা জায়গায় নামাজ পড়ার অভিযোগে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কোথাও কোথাও বাড়িঘর ভাঙার ঘটনাও ঘটে। এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট যাচাই আটকে দেওয়ার অভিযোগও ছিল। এসব কারণে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে।

আলিগড় জেলার দোকানদার আরিফ মালিক বলেন, গত ঈদে তাদের এলাকার মুসল্লিরা কয়েক মিনিটের জন্য খোলা মাঠে নামাজ পড়লেও পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এবার পরিবারগুলো মানুষকে ভিড় এড়িয়ে চলতে বলছে।

উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন মসজিদ কমিটিগুলো ঈদের আয়োজন নতুনভাবে সাজাচ্ছে। কোথাও জামাত ছোট করা হচ্ছে, কোথাও মুসল্লিদের ছোট ছোট দলে আসতে বলা হচ্ছে। নামাজ শেষে দ্রুত সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেন কেউ সাময়িকভাবেও রাস্তার ওপর চলে না যান।

মিরাটের মসজিদ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আরিফ বলেন, এখন মানুষের উদ্বেগ শুধু নামাজ কোথায় হবে তা নয়; বরং ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে প্রকাশ্যে একত্র হওয়াকেই সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। এখন মানুষকে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে কোথায় জায়নামাজ বিছাবে, কীভাবে চলাফেরা করবে।

মিরাটের এক ব্যবসায়ী আরশাদ বলেন, আগে ঈদের সকাল আনন্দের ছিল। এখন আগের রাত থেকেই দুশ্চিন্তা শুরু হয়। মানুষ ভাবতে থাকে পুলিশ আসবে কি না, কেউ ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে কি না।

এই পরিস্থিতির মানসিক প্রভাবও বাড়ছে। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নোমান খান বলেন, অনেকে অপমানিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন। শারীরিকভাবে কিছু না ঘটলেও ভিডিও ধারণ, অনলাইনে টার্গেট করা বা মিথ্যা অভিযোগের ভয় কাজ করে। অনেক পরিবার তরুণদের মসজিদের বাইরে দাঁড়াতেও নিরুৎসাহিত করছে।

পশ্চিম উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার এক ইমাম বলেন, ঈদের প্রস্তুতির চেয়ে এখন বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে বিধিনিষেধ এড়ানোর কৌশল নিয়ে। তার ভাষায়, ‘বিতর্ক এড়ানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।’

লখনউর আরেক ইমাম বলেন, জায়গার অভাবে নামাজের সময় অল্প সময়ের জন্য রাস্তার কিছু অংশ ব্যবহার করা হতো, কিন্তু আগে এটি বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখা হয়নি। এখন এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন মুসলিমরা ইচ্ছাকৃতভাবে জনপরিসর দখল করতে চাইছে।

ভারতের রাজধানী দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা মসজিদের বাইরের ময়দানে ঈদের জামাত। এখন আর এভাবে দিল্লিতে বাইরে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয় না হিন্দুত্ববাদী নরেন্দ্র মোদির সরকার।

এই উদ্বেগ শুধু উত্তর প্রদেশে সীমাবদ্ধ নয়। দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গসহ বিজেপিশাসিত অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুরনো দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের আশপাশের ব্যবসায়ীরাও বলছেন, এখন ঈদ এলেই নতুন নিয়ম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মানুষ শুধু শান্তিতে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরতে চায়। কিন্তু এখন প্রত্যেক ঈদের সঙ্গে নতুন কোনো বিধিনিষেধের আশঙ্কা জড়িয়ে থাকে।

তবু ঈদের প্রস্তুতি থেমে নেই। রাত পর্যন্ত বাজারে ভিড়, দর্জিদের ব্যস্ততা, শিশুদের নতুন জুতা ও মিষ্টির আবদার— সবই চলছে আগের মতো। মসজিদে স্বেচ্ছাসেবকেরা কার্পেট পরিষ্কার করছেন, মুসল্লিদের জন্য পানির ব্যবস্থা করছেন। কিন্তু উৎসবের সেই পরিচিত পরিবেশের নিচে চাপা উদ্বেগ স্পষ্ট।

কোরবানিকেও এবার বাড়তি নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। পশুর রক্ত বা বর্জ্য যেন রাস্তায় বা ড্রেনে না যায়, তা নিয়ে কড়া সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও রয়েছে।

একই সময়ে টেলিভিশন বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলিম ধর্মীয় চর্চাকে কেন্দ্র করে বিদ্বেষমূলক প্রচার বাড়ছে। হিজাব, হালাল খাবার, আজানের লাউডস্পিকার— বিভিন্ন বিষয় ঘিরে ধারাবাহিক বিতর্ক মুসলিমদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

উত্তর প্রদেশের এলাহাবাদে ঈদের জামাতের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে ভারতীয় পুলিশ। নয়ডার সফটওয়্যার প্রকৌশলী ফাইজান আলি বলেন, ধীরে ধীরে এমন অনুভূতি তৈরি হয় যেন পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ। এমনকি নামাজ পড়ার আগেও এখন মানুষ দুবার ভাবছে।

ধর্ম ও জনপরিসর নিয়ে কাজ করা গবেষক নাদিম খান বলেন, একটি সম্প্রদায় যদি তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উপলক্ষে প্রকাশ্যে একত্র হতে ভয় পায়, তাহলে তা বোঝায় জনপরিসর কার জন্য এবং কে সেখানে নিজের উপস্থিতি বৈধ মনে করবে— সেই প্রশ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।

ভারত সরকারের দাবি, এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জনশৃঙ্খলা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য। তবে সমালোচকরা বলছেন, একই সময়ে বড় হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও উৎসবের জন্য প্রশাসনিক সহায়তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। ফলে মুসলিমদের মধ্যে আইন প্রয়োগে বৈষম্যের ধারণা আরও জোরালো হচ্ছে।

দিল্লির এক আইনজীবী বলেন, সংবিধান জনশৃঙ্খলার শর্তে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। কিন্তু যদি একটি সম্প্রদায় ধারাবাহিকভাবে কঠোর নজরদারির মুখে পড়ে, আর অন্যরা প্রশাসনিক সহায়তা পায়, তাহলে আইনের দৃষ্টিতে সমতার প্রশ্ন উঠবেই।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডিএমপির কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি রবিউল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
ডিএমপির কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি রবিউল

ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (০৬ জুলাই) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি শাহ্ মো. ফয়সাল আহমেদকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা-রমনা বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

আর গোয়েন্দা-রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক কে এম রবিউল ইসলামকে কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ-প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এর আওতায় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তাও পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। যুক্তরাজ্যের পক্ষে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার সারাহ কুক।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশের জন্য এই সমঝোতা স্মারক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট দুর্যোগকে কেন্দ্র করে নয়; ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, বজ্রপাত, ভূমিকম্পসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতাধীন যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, এই সহযোগিতার আওতায় বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজন হলে আর্থিক সহায়তাও পেতে পারে। বাংলাদেশের দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা এরই মধ্যে অনেক বেড়েছে, তবে নতুন এই অংশীদারত্ব সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয়। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতি জোরদার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে সেই প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, সমঝোতা স্মারকটি যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য একটি কার্যকর সহযোগিতা কাঠামো তৈরি করবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় জনবল সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত তথ্য বিনিময় এবং জ্ঞান স্থানান্তরের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগের জন্য অপেক্ষা করে পরে ব্যবস্থা নিলে চলবে না। আগেই প্রস্তুত থাকতে হবে। এ কারণেই দুর্যোগ প্রস্তুতি সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান, সঠিক প্রযুক্তিগত সহায়তা, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে বাংলাদেশ যেন যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকে।

হুমায়ুন কবির জানান, এই সমঝোতা স্মারক শুধু ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের মতো নির্দিষ্ট দুর্যোগে সীমাবদ্ধ নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় পড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতার সুযোগ থাকবে। প্রয়োজন দেখা দিলে আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রযুক্তিগত সহায়তা, জ্ঞান স্থানান্তর, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর।

তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়বে। ফলে ভবিষ্যতে দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও সমন্বিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০১০ সাল থেকে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারে প্রায় ৬ কোটি পাউন্ড সহায়তা দিয়েছে। নতুন এই সমঝোতা দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, মানবিক সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার একটি কাঠামো তৈরি করবে।

সারাহ কুক বলেন, এই অংশীদারত্ব অতীতের সফল সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি হ্রাসে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা নিয়ে কঠোর বার্তা দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা নিয়ে কঠোর বার্তা দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক হুমকি ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো আলোচনা শুরু হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হুমকি বা চাপের পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা কোনোভাবেই শুরু করবে না তেহরান।

তিনি লিখেছেন, ‘সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং দ্ব্যর্থহীন: ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি যতদিন অব্যাহত থাকবে, ততদিন চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আলোচনা শুরু হবে না। আপনার স্বাক্ষরের প্রতি অটল থাকুন।’

মূলত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সর্বশেষ বক্তব্যে আবারও ইরানকে হুমকি দেন, যার জবাবে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চুক্তিতে পৌঁছাবে, অথবা ‘কাজ শেষ’ (আবারো হামলা) করে দেবে’।

মার্কিন বাহিনী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘কাজটা শেষ করা কঠিন হবে না। তবে আমি একটা সমঝোতায় আসতে চাই, কারণ আমি ৯১ মিলিয়ন মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না… কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মধ্যেই আমরা তাদের বিদ্যুৎ ও শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো অচল করে দিতে পারি। প্রতিটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা তা জানে।’

ট্রাম্পের এই ধরনের হুমকি এবং আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বানের দ্বিমুখী নীতিকে তীব্র নিন্দা জানান আরাঘচি।

নিজের পোস্টে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে বিপুল সমাগমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ গর্বিত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা এবং তার কীর্তিকে সম্মান জানাতে ঐক্য ও সংহতির সঙ্গে একত্রিত হয়েছে। তারা কিংবা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী— কেউই কোনো হুমকিকে ভয় পায় না।’

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ