খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

ঈদ করতে যাচ্ছিলেন গ্রামে, সঙ্গে ছিল অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী-ছেলে

ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
ঈদ করতে যাচ্ছিলেন গ্রামে, সঙ্গে ছিল অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী-ছেলে

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করবেন বলে ঢাকা থেকে বাসে করে রওনা হয়েছিলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কোলারদোনিয়া গ্রামের সোহাগ (৪০)। তবে কে জানতো এই ঈদের দিনেই নিভে যাবে তাদের সবার জীবনের আলো।

তাদের বহনকারী বাসটি গোপালগঞ্জ সদরের বেদগ্রামে পৌঁছালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এ সময় প্রাণ হারান সোহাগ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা বেগম ও ছয় বছরের ছেলে আহমদ আলী।

এ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যরা হলেন, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সমেশ ঢালীর ছেলে শাওন ঢালী ও একই উপজেলার মাহাবুব শেখের ছেলে শোয়েব শেখ।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা খুলনা মহাসড়কের উপজেলার বেদগ্রাম স্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে  একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন।

বিকেলে খবর পেয়ে নিহত সোহাগের স্বজনেরা গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে মরদেহ বুঝে নিতে আসে। এ সময় কথা হয় সোহাগের চাচতো ভাই রকিবুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার চাচতো ভাই ঢাকায় কাঠের ব্যবসা করতেন।

তার বড় ছেলেকে ঢাকায় রেখে পরিবারের বাকি সদস্যদের নিয়ে কোরবারির জন্য সকালে ঢাকা থেকে পিরোজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

২টার দিকে খবর পাই তারা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। সোহাগের বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই, তার ভাইয়েরা ঢাকায় থাকে। তাই আমরা সোহাগ ও তার স্ত্রী-সন্তানের লাশ নিতে এসেছি।

স্থানীয় চেয়ারম্যান হাসনাত ডালিম বলেন, দুপুরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ আমাদের খবর দেয় সোহাগ ও তার স্ত্রী-সন্তান নিহত হয়েছেন। সোহাগের গ্রামের বাড়িতে আপন ভাই বোন কেউ না থাকায় আমরা লাশ বুঝে নিতে এসেছি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস গোপালগঞ্জ বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুত গতির একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এ সময় যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে পড়ে। ঘটনাস্থলেই ৫ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ২৫ জন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১০৮৯

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ১০৮৯

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৮৯ জন শিশু।

বুধবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ৮৯ জন শিশু। এ সময়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদফতর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি বা হামসদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, আরও ২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, আরও ২ জনের মৃত্যু

প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষাকাল শুরু হতেই বাড়ছে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। দেশের ৫৮টি জেলায় ছড়িয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। এতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৫৭ জন রোগী।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দুইজনের মৃত্যু এবং ১৫৭ জনের হাসপাতালে ভর্তির খবর জানানো হয়।

গত রোববার ডেঙ্গুতে দুই নারীর মৃত্যু হয়। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১১ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। যে ছয়টি জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি তার মধ্যে আছে ঢাকা বিভাগের শরীয়তপুর; সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার এবং রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলা।

প্রতি বছর বর্ষা এলেই বাড়ে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। অবশ্য এবার গতবারের তুলনায় এখনো প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৭ হাজার ৭৭ জন রোগী। ওই সময় ডেঙ্গুতে মারা যান ৩০ জন। চলতি বছর এই সংখ্যাটি অনেকটা কম।

তবে ডেঙ্গুর প্রকোপ যেভাবে দিন দিন বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি গুরুতর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য সরকারও আগেভাগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে নড়েচড়ে বসেছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধান করে ১৯ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স করা হয়েছে। ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে দুই সিটি করপোরেশনই পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

প্রায় ৪৬৪ কোটি টাকার ইউরিয়া ও টিএসপি সার কিনছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
প্রায় ৪৬৪ কোটি টাকার ইউরিয়া ও টিএসপি সার কিনছে সরকার

দেশের কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ইউরিয়া ও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং ৩০ হাজার টন টিএসপি সার রয়েছে। এই সার কিনতে মোট ব্যয় হবে ৪৬৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার ৬২৫ টাকা।

বুধবার (২৪ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কৃষি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ১২৫ টাকা, যা সার বিক্রির আয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভর্তুকি থেকে মেটানো হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিকল্পনা অনুসারে কাফকোর সঙ্গে ৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার সংশোধিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ১৬তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার প্রতি মেট্রিক টন ৫৪০ দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার দরে কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৬২ লাখ ২২ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে কাফকো থেকে কেনা হবে ৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

অন্যদিকে বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস-এর কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ২১তম (ঐচ্ছিক-৬ষ্ঠ) লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা সরকারি তহবিল (জিওবি) থেকে বহন করা হবে।

বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববর্তী চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় ২০২৫ সালের ২ জুলাই মরক্কোর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি নবায়ন করা হয়। নবায়িত চুক্তির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সারের এফওবি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭১৩ মার্কিন ডলার। এ হিসাবে ২১তম লটের জন্য মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই টিএসপি সারের চালান আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে পৌঁছাবে এবং তখনই তা কৃষকদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএডিসির টিএসপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ মেট্রিক টন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ