খুঁজুন
                               
রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নেদারল্যান্ডসে তরুণদের সৃজনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন অধ্যাপক ইউনূস

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
নেদারল্যান্ডসে তরুণদের সৃজনশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরলেন অধ্যাপক ইউনূস

নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডামে ডাচ পোস্টকোড লটারির আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল সোমবার (১ জুন) আমস্টারডামে আয়োজিত ডাচ পোস্টকোড লটারির প্রধান বার্ষিক অনুষ্ঠানে ৮৫০ জনের বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।

আশা ও পরিবর্তনের তাগিদ নিয়ে অধ্যাপক ইউনূস তিন শূন্যের পৃথিবীর তাঁর স্বপ্ন তুলে ধরেন—এমন একটি পৃথিবী যেখানে সম্পদের কেন্দ্রীকরণ রোধ করে দারিদ্র্য সম্পূর্ণরূপে দূর করা হবে, চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্ব শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে গড় কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারাই সেই প্রজন্ম হয়ে ওঠে যারা এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।

বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে এ দেশের তরুণদের অসাধারণ সাহসিকতার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে তিনি সম্মুখসারিতে থাকা নারীদের সংগ্রাম ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, নারীরাই এই আন্দোলনের সম্মুখসারিতে ছিলেন এবং গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ডাচ পোস্টকোড লটারির এই আয়োজনে দাতব্য সংস্থাগুলোর অংশীদার, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়িক নেতারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পোস্টকোড লটারির অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামাজিক প্রভাব উদযাপন করা হয় এবং বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের মধ্যে অর্থবহ সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ‘ইয়াং প্রফেশনালস নেটওয়ার্কিং সেশন’-এর মাধ্যমে। এতে জেনারেশন জি-এর পক্ষ থেকে মূল বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডসের তরুণ অধিকারকর্মী, নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রজন্মগত ন্যায্যতার পক্ষে সক্রিয় কণ্ঠস্বর জাহকিনি বিসেলিঙ্ক। সেশনের শেষ পর্যায়ে অধ্যাপক ইউনূস মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সম্মেলনে অংশ নেওয়া তরুণদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অধ্যাপক ইউনূস তরুণ পেশাজীবীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ে অংশ নেন এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য বাস্তবধর্মী প্রস্তাবনা তৈরিতে জোর দেন।

মূল পর্বে ডাচ পোস্টকোড লটারির পরিচালক সিগরিড ভ্যান আকেন এবং চেয়ারম্যান ইয়োনে আর্নল্ডুসেন বক্তব্য দেন। পরে বিভিন্ন সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাজানো এই আয়োজনটি অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

৮৫০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব ছিল মঞ্চে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে এক বিশেষ আলাপচারিতা। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক জাতিসংঘ তরুণ প্রতিনিধি হাযার ইয়াকুবি।

দুই বছরের দায়িত্ব পালনকালে হাযার ইয়াকুবি মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও জলবায়ু সংকট বিষয়ে তরুণদের মতামত সংগ্রহ করেন এবং সেই অভিজ্ঞতাকে জাতিসংঘে প্রদত্ত বক্তব্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তুলে ধরেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে একটি প্রাণবন্ত ও গভীর আলোচনা করেন, যেখানে অধ্যাপক ইউনূস কাঠামোগত পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্যোগ শুধু কাম্য নয়, বরং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য অপরিহার্য।’

অনুষ্ঠানটি একটি নেটওয়ার্কিং রিসেপশনের মাধ্যমে শেষ হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে পরষ্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সামাজিক উদ্ভাবন ও পরিবেশগত দায়িত্ববোধ নিয়ে আলোচনার জন্য Circa Amsterdam-এর আইকনিক জিওডেসিক ডোম একটি উপযুক্ত প্রেক্ষাপট হিসেবে কাজ করে, যা এর টেকসই নকশা ও শক্তি-সাশ্রয়ী ব্যবস্থার জন্য সুপরিচিত।

ডাচ পোস্টকোড লটারি নেদারল্যান্ডসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফান্ডরেইজিং লটারি, যা সমাজ, পরিবেশ এবং মানবিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা বিস্তৃত দাতব্য সংস্থাগুলোতে এর আয় থেকে অর্থায়ন করে।  “দ্যা পাওয়ার অব পোস্টকোডস” হলো এর বার্ষিক আয়োজন, যেখানে অংশীদার, নীতিনির্ধারক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের একত্র করে সম্মিলিত প্রভাব বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ হয়। -বিজ্ঞপ্তি

কালের আলো/এএএন

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প : মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৩০

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুইবার আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৩০ জনে। এ ছাড়া অন্তত ৩ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, গত বুধবারের এই বিধ্বংসী ভূমিকম্পে দেশের প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এই বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে শুধু রাজধানী কারাকাসেরই প্রায় ২০ লাখ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এখনো চলমান থাকায় মানবিক সংকটের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সংস্থাটি জানায়, উপকূলীয় শহর কাতিয়া লা মার-এর প্রায় ৩১.৫ শতাংশ ভবন ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, গত বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

এর মধ্যে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পটি ইয়ারাকুই রাজ্যের ইউমারে শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পটি একই রাজ্যের সান ফেলিপে থেকে ২৩.৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আঘাত হানে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সব মাধ্যমিক স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সোমবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
সব মাধ্যমিক স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সোমবার

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব স্কুলে আগামী সোমবার একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালনের নির্দেশে দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

সম্প্রতি মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন-লেইস প্রজেক্ট থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জলবায়ু অনুদান বাবদ দেওয়া পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এদিন একটি ফলদ, একটি বনজ ও একটি ঔষধি বৃক্ষরোপণ, ব্যানার ফেস্টুন তৈরি এবং সেমিনার ও র‍্যালি আয়োজন করতে হবে।

এদিন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্যদের উপস্থিত থেকে সরাসরি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জনানো হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বুয়েটের যেমন সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে সৃজনশীলতা, মেধা, বুদ্ধি এবং দেশ বিনির্মাণের ভূমিকা রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অনেক অবদান। শনিবার (২৭ জুন) বিকালে বুয়েট অডিটোরিয়ামে ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মাহদী আমিন বলেন, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে আমরা চিন্তা করতে পারি, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু বুয়েটের ফ্যাকাল্টি মেম্বার্সদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের যত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন না কেন, দেখবেন সেখানে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা রয়েছেন তারা সেখানে হয় পড়াশোনা করছেন অথবা কেউ না কেউ শিক্ষকতা করছেন। অর্থাৎ আজকে বুয়েটে ভর্তির মাধ্যমে আপনারা খুব রিয়েল একটা লেগেসি পাচ্ছেন, যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেই ঐতিহ্য বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরেও বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, নতুন সরকার মাত্র চার মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র কোনো সার্টিফিকেট অর্জন করবে না, শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য থেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একজন মানুষ যার ন্যায়, নীতি, সততা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম থাকবে। এবং একই সঙ্গে সেই দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়ে তিনি গড়ে উঠবেন। যেখানে আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার হিসেবে তারা চাকরির জন্য, ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য সে প্লাটফর্মগুলোতে সুযোগ পাবেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে বুয়েটকে অবশ্য বড় একটা ভূমিকা রাখতে হবে। যেহেতু আপনারা দেশের শীর্ষ মেধাবী, সবচেয়ে বেশি সৃজনশীলতা নিয়ে আপনারাই তো আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

আপনারা যারা রয়েছেন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পড়াশোনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসকেও প্রাধান্য দেওয়া উচিত।স্পোর্টস কালচারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পুথিগত বিদ্যা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপনাদের ইন্টারপার্সোনাল স্কিলস, ট্রান্সফারেবল স্কিলস, টিম স্কিল, লিডারশিপ এই প্রত্যেকটা তৈরি করতে হবে।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা যেমন বলি- ‘গ্রেট পাওয়ার কামস গ্রেট রেসপন্সিবিলিটি’ আপনাদের ক্ষেত্রেও একই। আপনাদের অনেক স্বীকৃতি আছে। এর মানে, আমাদের এটাকে আরও এক হাত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে কীভাবে একটা শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারি, সেখানে আপনারা অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন- তিনি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন, কীভাবে বুয়েটে গবেষণার জন্য আরও বেশি ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। এত বড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-ভিসি স্যারকে বলছিলাম অডিটোরিয়ামের এ অবস্থা কেন? আমাদের মনে হয় সরকারের দিক থেকেও আরও বেশি সহযোগিতা করার প্রয়োজন রয়েছে এবং আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা করব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আমি আজকে যখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি এটা শুধু ওরিয়েন্টেশনের শিক্ষার্থীর সামনে না, দাঁড়িয়ে রয়েছি আগামী বাংলাদেশ যারা বিনির্মাণ করবে, আগামীর বাংলাদেশের যারা কান্ডারি, সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে। আগামীর ভবিষ্যৎ ইনশাআল্লাহ আপনারা নির্মাণ করবেন। সরকারের দিক থেকে যা করণীয়, যা সহযোগিতার প্রয়োজন হবে, আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়াব।

এ সময় শহীদ আবরার ফাহাদের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ সেই মানুষটা কিন্তু আপনাদেরই পূর্বে ছিলেন এ বুয়েটের। আমরা চাই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সুনাগরিক হয়ে ওঠার যে আকাঙ্ক্ষা সেটাকে ধারণ করে, আগামী বাংলাদেশের বুয়েট এবং বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরকে মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্লাটফর্মটা তৈরি করে দিতেন।

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যখন সেই কাজটা করতে যাব, অবশ্যই মূল গড়ে উঠার ভিত্তি হবেন আপনারা। আপনারা যারা ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন, আগামীর বাংলাদেশে যখন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন, ভালো ভালো জায়গায় নিজেদের কর্মসংস্থান হবে, হাজারো, লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান আপনারা তৈরি করবেন। আগামীর বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ আপনারা সেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাসিব চৌধুরী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এন এম গোলাম জাকারিয়া।

কালের আলো/এম/এএইচ