খুঁজুন
                               
, ,
           

বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ণ
বুয়েটকে বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে: মাহদী আমিন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বুয়েটের যেমন সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে সৃজনশীলতা, মেধা, বুদ্ধি এবং দেশ বিনির্মাণের ভূমিকা রয়েছে, ঠিক তেমনি রয়েছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে অনেক অবদান। শনিবার (২৭ জুন) বিকালে বুয়েট অডিটোরিয়ামে ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মাহদী আমিন বলেন, ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে আমরা চিন্তা করতে পারি, ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু বুয়েটের ফ্যাকাল্টি মেম্বার্সদের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের যত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন না কেন, দেখবেন সেখানে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা রয়েছেন তারা সেখানে হয় পড়াশোনা করছেন অথবা কেউ না কেউ শিক্ষকতা করছেন। অর্থাৎ আজকে বুয়েটে ভর্তির মাধ্যমে আপনারা খুব রিয়েল একটা লেগেসি পাচ্ছেন, যেটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেই ঐতিহ্য বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরেও বিশ্বের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উপদেষ্টা বলেন, নতুন সরকার মাত্র চার মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী শুধুমাত্র কোনো সার্টিফিকেট অর্জন করবে না, শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য থেকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। একজন মানুষ যার ন্যায়, নীতি, সততা, যোগ্যতা, দেশপ্রেম থাকবে। এবং একই সঙ্গে সেই দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়ে তিনি গড়ে উঠবেন। যেখানে আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার হিসেবে তারা চাকরির জন্য, ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য সে প্লাটফর্মগুলোতে সুযোগ পাবেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেক্ষেত্রে বুয়েটকে অবশ্য বড় একটা ভূমিকা রাখতে হবে। যেহেতু আপনারা দেশের শীর্ষ মেধাবী, সবচেয়ে বেশি সৃজনশীলতা নিয়ে আপনারাই তো আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

আপনারা যারা রয়েছেন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পড়াশোনা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিসকেও প্রাধান্য দেওয়া উচিত।স্পোর্টস কালচারকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। পুথিগত বিদ্যা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আপনাদের ইন্টারপার্সোনাল স্কিলস, ট্রান্সফারেবল স্কিলস, টিম স্কিল, লিডারশিপ এই প্রত্যেকটা তৈরি করতে হবে।

মাহদী আমিন বলেন, আমরা যেমন বলি- ‘গ্রেট পাওয়ার কামস গ্রেট রেসপন্সিবিলিটি’ আপনাদের ক্ষেত্রেও একই। আপনাদের অনেক স্বীকৃতি আছে। এর মানে, আমাদের এটাকে আরও এক হাত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে কীভাবে একটা শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারি, সেখানে আপনারা অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে বুয়েট শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন- তিনি গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন, কীভাবে বুয়েটে গবেষণার জন্য আরও বেশি ফান্ডিংয়ের ব্যবস্থা আমরা করতে পারি। এত বড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রো-ভিসি স্যারকে বলছিলাম অডিটোরিয়ামের এ অবস্থা কেন? আমাদের মনে হয় সরকারের দিক থেকেও আরও বেশি সহযোগিতা করার প্রয়োজন রয়েছে এবং আমরা ইনশাআল্লাহ সেটা করব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, আমি আজকে যখন আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি এটা শুধু ওরিয়েন্টেশনের শিক্ষার্থীর সামনে না, দাঁড়িয়ে রয়েছি আগামী বাংলাদেশ যারা বিনির্মাণ করবে, আগামীর বাংলাদেশের যারা কান্ডারি, সেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে। আগামীর ভবিষ্যৎ ইনশাআল্লাহ আপনারা নির্মাণ করবেন। সরকারের দিক থেকে যা করণীয়, যা সহযোগিতার প্রয়োজন হবে, আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা দিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়াব।

এ সময় শহীদ আবরার ফাহাদের কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ সেই মানুষটা কিন্তু আপনাদেরই পূর্বে ছিলেন এ বুয়েটের। আমরা চাই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং সুনাগরিক হয়ে ওঠার যে আকাঙ্ক্ষা সেটাকে ধারণ করে, আগামী বাংলাদেশের বুয়েট এবং বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরকে মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্লাটফর্মটা তৈরি করে দিতেন।

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা যখন সেই কাজটা করতে যাব, অবশ্যই মূল গড়ে উঠার ভিত্তি হবেন আপনারা। আপনারা যারা ছাত্র-ছাত্রী রয়েছেন, আগামীর বাংলাদেশে যখন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন, ভালো ভালো জায়গায় নিজেদের কর্মসংস্থান হবে, হাজারো, লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান আপনারা তৈরি করবেন। আগামীর বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ আপনারা সেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একরামুল হকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল হাসিব চৌধুরী এবং ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এন এম গোলাম জাকারিয়া।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাইমার জন্মদিনে গোলাপি সাইকেলে স্বপ্নের যাত্রা, চক্ষুসেবায় মানবিকতার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
জাইমার জন্মদিনে গোলাপি সাইকেলে স্বপ্নের যাত্রা, চক্ষুসেবায় মানবিকতার আলো

জন্মদিন মানেই কেক কাটা, শুভেচ্ছা আর আনুষ্ঠানিকতা—প্রচলিত এই ছবির বাইরে গিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জে জন্মদিন উদ্‌যাপনে যুক্ত হলো মানবিকতার ভিন্ন এক গল্প। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিনকে উপলক্ষ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাযাত্রা সহজ করা, পড়াশোনায় উৎসাহ জোগানো এবং অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে প্রাধান্য পেয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানুষের কল্যাণ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় গোলাপি রঙের বাইসাইকেল। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পেয়েছে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ। অন্যদিকে, শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পরিচালিত হয় চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। আয়োজকদের হিসাবে, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে এই সেবার আওতায় আনা হয়েছে।

  • মীর শাহে আলমের উদ্যোগে ৫৪৮ মেধাবী ছাত্রী পেল বাইসাইকেল, ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে উপহার
  • দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষের চক্ষুসেবায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

জন্মদিনের আনন্দকে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা ও অসহায় মানুষের সেবার সঙ্গে যুক্ত করার এ আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে নারীশিক্ষায় উৎসাহ জোগানো এবং চিকিৎসাসেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা কর্মসূচিটিকে দিয়েছে আলাদা তাৎপর্য। শুধু তাই নয়—শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং সমাজের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েও বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে তোলা যায় এই বিষয়টিকে মোটা দাগে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গোলাপি সাইকেলে শিক্ষার পথে নতুন গতি
একটি সাইকেল শুধু যাতায়াতের বাহন নয়। গ্রামীণ এলাকার অনেক ছাত্রীর জন্য এটি হতে পারে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর সহজ উপায়, সময় বাঁচানোর মাধ্যম এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বাড়তি অনুপ্রেরণা। বাড়ি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব কমানো সম্ভব না হলেও যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি কমাতে সাইকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল তুলে দেওয়ার মূল লক্ষ্য নারীশিক্ষার প্রসার, বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা। পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে উপহার দেওয়া হয়েছে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ।

সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নারীশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে মেয়েদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

উপহারের আনন্দে যুক্ত হলো দেড় হাজার শিক্ষার্থী
সাইকেলের পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ উপহার দেওয়ার মধ্য দিয়ে জন্মদিনের আনন্দে যুক্ত করা হয়েছে আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে। উপহারগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে দিনটির স্মারক হয়ে থাকার পাশাপাশি তাদের মধ্যে উৎসাহ ও সম্পৃক্ততার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এমন উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে শিক্ষা নিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি আগ্রহ ও সহযোগিতা প্রকাশ পেলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তৈরি হতে পারে।

চক্ষুসেবায় প্রায় ৪ হাজার মানুষের পাশে
জন্মদিনের আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। রোববার দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো এ সেবা পরিচালিত হয়।

আয়োজকরা জানায়, প্রথম দিন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়। দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে সেবার আওতায় আনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি বিস্তৃত হয়েছে। চোখের সমস্যা শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছানি অপারেশনের সুযোগ তৈরি করা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ চিকিৎসাব্যয়ের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মোকামতলা ও শিবগঞ্জের যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এই উদ্যোগের ইতিবাচক দিক হলো, চিকিৎসাসেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে এ কার্যক্রমের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

জন্মদিনের আয়োজন ঘিরে মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আগের বছরগুলোতেও বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলেও দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি
চক্ষুচিকিৎসা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কল্যাণের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তবে দিনের মূল আয়োজনের অন্যতম দিক ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা এবং অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সাইকেল বিতরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মীর লাবণী আক্তার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাতসহ অন্যরা।

কালের আলো/এমএএএমকে

ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ অপরাহ্ণ
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বই থেকে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইয়ে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না। রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান গণমাধ্যমকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রজ্ঞার স্তরে থাকবে না কোনো প্রতীক
এনসিটিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে থাকা জ্ঞানের পিরামিডে চারটি স্তরের নাম আগের মতোই থাকবে। তবে প্রতিটি স্তর বোঝাতে ব্যবহৃত প্রতীকগুলো বাদ দেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রজ্ঞার স্তরে থাকা দাঁড়িপাল্লার ছবিটি আর রাখা হচ্ছে না।

এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, ‘উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এ চার স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। এ বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো পুনরায় আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।’

ছাপানো বইয়ে যুক্ত হবে সংশোধিত পৃষ্ঠা
ইতিমধ্যে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের বড় একটি অংশ ছাপানো হয়ে গেছে। ফলে পুরো বই নতুন করে ছাপানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠাটি সংশোধন করে শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, যেসব বই ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে চলে গেছে, সেগুলোর জ্ঞানের পিরামিড থাকা পৃষ্ঠার ওপর নতুন করে ছাপানো পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করা হবে। এতে পুরো বই পরিবর্তন না করেই বিতর্কিত প্রতীকটি বাদ দেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পুরো বই পুনরায় ছাপাতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ ও সময়ের প্রয়োজন হতো। তাই আপাতত শুধু সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগেই বন্ধ করা হয়েছিল ছাপার কাজ
দাঁড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছিল।

তবে তখন দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। পরে শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিটিবি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো একটি পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। কয়েকজন প্রেস মালিকও এ প্রক্রিয়ায় সম্মতি দেন বলে জানা গেছে।

জ্ঞানের পিরামিডে চারটি স্তর
ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ পাঠে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর জন্য জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। পিরামিডটিতে নিচ থেকে ওপরের দিকে রয়েছে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তর।

আগের নকশায় উপাত্তের স্তরে পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক, তথ্যের স্তরে পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে প্রতীক এবং জ্ঞানের স্তরে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞা বোঝাতে রাখা হয়েছিল দাঁড়িপাল্লার ছবি। নতুন সিদ্ধান্তে এসব প্রতীকের কোনোটিই আর থাকবে না।

আগের বইয়েও ছিল দাঁড়িপাল্লা
প্রজ্ঞার প্রতীক নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি বুঝতে আগের শিক্ষাবর্ষের বইয়ের দিকে তাকানো প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সেই অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার স্তরে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা হয়েছিল।

তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি ফিরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতীকটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।

ছাপানো হচ্ছে প্রায় ৩১ কোটি বই
এনসিটিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে। এর বেশির ভাগই ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। অন্যদিকে, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

বিপুলসংখ্যক বই ছাপানোর কার্যক্রমের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় সংশোধনী যুক্ত করে বিতর্কিত প্রতীকটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা আরও পরিমার্জনের কথাও জানিয়েছে এনসিটিবি।

কালের আলো/এসএ/আরআইকে

 

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই নিয়ে যা বললেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই নিয়ে যা বললেন স্পিকার

সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের বিকাশ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুইডেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সুইডেনের সংসদ এককক্ষবিশিষ্ট এবং দেশটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্পিকারের মতে, দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন করা গেলে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা সম্প্রসারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রপ্রিয় উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দিতেও পিছপা হননি। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সেই শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস দেশটির সংসদীয় কাঠামো সম্পর্কে স্পিকারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রদূত বলেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সংসদ ও সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ এবং ককাস গঠনের বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি