রাজশাহীতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের স্মরণে স্থাপনার নামকরণের দাবি
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে বিমানবন্দর, সড়ক অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো চত্বরের নামকরণের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার। এনিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
প্রশাসকের নিকট এ স্মারকলিপি প্রদান করেন মহানগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা শহীদ পাইলট তৌকির ইসলামের পিতা তোহরুল ইসলাম এবং মামা মোহাম্মদ আলী। স্মারকলিপিতে শহীদ এই বিমানসেনার আত্মত্যাগের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার দৃষ্টান্ত তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই বীর সেনা কর্মকর্তার স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে রাজশাহী বিমানবন্দর, সড়ক বা চত্বরের নামকরণ করা হলে তা শুধু তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই হবে না, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম ১৯৯৭ সালের ৯ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই মেধাবী তৌকির পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে অ্যারোনটিক্স বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমিতে যোগদান করে সফল প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৯ সালে (জিডিপি) শাখায় কমিশন লাভ করেন।
কর্মজীবনে তিনি ১৫ ও ৩৫ স্কোয়াড্রনে পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ ও কোর্সে কৃতিত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তাঁর নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতা সহকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে প্রশংসিত ছিল।
২০২৫ সালের ২১ জুলাই নিয়মিত প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় বিমান দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তৌকির ইসলাম। পরবর্তীতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এঘটনায় মাইলস্টোন স্কুলে ৩৬ জন মারা যান। যার মধ্যে ছিলেন ২৮ জন শিক্ষার্থী।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি


আপনার মতামত লিখুন
Array