খুঁজুন
                               
সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার

ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে উঠলে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিন সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

গতকাল বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিলেন।

বুধবারের শুনানিতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও আদালতে উল্লেখ করা হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’  একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন।’ অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি।’

গতকাল বুধবার শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, শুরুতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নথিভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানিয়েছে।

‘ডলার’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোহেলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ নামের কোনো উল্লেখ ছিল না। তদন্ত ও মামলার নথিতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের নাম উল্লেখ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হতে পারে।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হবে। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতে যে বিচার আসবে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আমরা আশা করি।

রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, বুধবারের কার্যক্রম ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা। এটি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্ক শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তদন্তকালে জব্দ করা কাটা গ্রিলসহ বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী জয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করে পুলিশ।

মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এখন মামলাটির রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রামিসার পরিবার তথা পুরো দেশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সব ধর্ষণই সমান অপরাধ, ছোট-বড় সংজ্ঞা নাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ
সব ধর্ষণই সমান অপরাধ, ছোট-বড় সংজ্ঞা নাই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্নীতির মতো ধর্ষণেরও কোনো ছোট কিংবা বড় ডেফিনেশন বা সংজ্ঞা আইনিভাবে হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের ক্ষেত্রে একটির বিচার চাওয়া হবে আর অন্যটির চাওয়া হবে না- এমন দ্বিচারিতা চলতে পারে না। সব ধর্ষণই সমান অপরাধ।’

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশনের বাজেট ও ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদ অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে আলোচনা শুরু হয়। যেখানে ঘটনার ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও সরকারের উদ্ধার তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন, ১৯ ঘণ্টা পার হওয়ার পর সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তার স্পষ্ট বয়ান ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। এরপরও কিছু সদস্যের বক্তব্য ও ডিবেট নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে মন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, তারা আসলে ধর্ষণের পক্ষে কথা বলছেন নাকি বিপক্ষে কথা বলছেন, তা স্পষ্ট নয়। আইনে যেমন উচ্চ দুর্নীতি বা নিম্ন দুর্নীতি বলে আলাদা কিছু নেই, দুর্নীতি মানেই দুর্নীতি; ঠিক তেমনি ধর্ষণের ক্ষেত্রেও কোনো ছোট-বড় ভেদ নেই, সব অপরাধই সমান এবং সবক্ষেত্রেই সমানভাবে বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে অধিবেশনে দুদক সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী কমিশন গঠনের লক্ষ্যেই পূর্বের অধ্যাদেশটি তখন গ্রহণ করা হয়নি, তবে আগের আইনটি রিভাইভ হওয়ায় সার্চ কমিটির মাধ্যমেই দ্রুত দুদককে ফাংশনাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি মধ্যবর্তী ব্যবস্থা এবং পরবর্তীতে সংসদে বিল আকারে এনে সবার আলোচনার ভিত্তিতে আরও শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়ন করা হবে।

একই সঙ্গে দেশ থেকে পাচার হওয়া প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পেশ করা শ্বেতপত্রের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ব্যাংকিং খাতের লুটপাট ও রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া ঋণের টাকা দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। এই বিপুল পরিমাণ পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে মাগুরার ডিসিকে

মাগুরা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে মাগুরার ডিসিকে

মাগুরার নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার এম্বুলেন্সে ঢাকা পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেল তিনটার দিকে তাকে ঢাকা নেওয়া হয়।

এর আগে রোববার (১৪ জুন) কয়েকটি সরকারি কর্মসূচি শেষে রাতে তিনি তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবীর জানান, জেলা প্রশাসক শ্বাসকষ্ট, গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা এবং পেটের স্নায়ুজনিত কিছু জটিলতায় ভুগছেন। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা তাকে ঢাকায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিই।

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গেছে, গত দুই দিন ধরেই তিনি কিছুটা অসুস্থ বোধ করছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে জেলা প্রশাসকের আকস্মিক অসুস্থতায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার আশু রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্যের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা : সংসদে সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেওয়া হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা : সংসদে সেতুমন্ত্রী

গত তিন বছরের বেশি সময়ে দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ও তাদের পরিবারকে মোট ২১৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সরকার। ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সময়ে মোট ৫ হাজার ৮৪ জন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারকে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় সেশনের সপ্তম কার্যদিবসে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই তথ্য জানান। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই লিখিত বক্তব্য পেশ করেন।

সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সরকারি এই আর্থিক সহায়তার আওতায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মানুষের পরিবারগুলো। মোট ৩ হাজার ৮৮১ জন নিহত ব্যক্তির পরিবারকে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৮২৯ জন এবং গুরুতর আহত আরও ৩৭৪ জন ব্যক্তি সরকারের এই কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন।

কালের আলো/এসএকে