খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার

ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে উঠলে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিন সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

গতকাল বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিলেন।

বুধবারের শুনানিতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও আদালতে উল্লেখ করা হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’  একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন।’ অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি।’

গতকাল বুধবার শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, শুরুতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নথিভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানিয়েছে।

‘ডলার’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোহেলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ নামের কোনো উল্লেখ ছিল না। তদন্ত ও মামলার নথিতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের নাম উল্লেখ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হতে পারে।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হবে। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতে যে বিচার আসবে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আমরা আশা করি।

রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, বুধবারের কার্যক্রম ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা। এটি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্ক শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তদন্তকালে জব্দ করা কাটা গ্রিলসহ বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী জয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করে পুলিশ।

মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এখন মামলাটির রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রামিসার পরিবার তথা পুরো দেশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ছাড়াতে পারে ১০ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ছাড়াতে পারে ১০ হাজার

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দু’টি ভূমিকম্প আঘাত হানে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায়। ভূমিকম্প দু’টির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫।

ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় উপকূল ছিল এ ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল বা এপিসেন্টার। ওই অঞ্চলে দেশটির বেশ কয়েকটি তেল শোধানারগার আছে।

গতকাল যেদিন ভূমিকম্প হয়, সেদিন দেশটিতে জাতীয় ছুটি ছিল। বহু মানুষ সেদিন বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সে সময়েই আঘাত হানে এই বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন শহর এবং গ্রামে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ইউএসজিএসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার অধিকাংশ ভবন ও বাড়িঘর নির্ম ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার বা তার চেয়ে বেশিও হতে পারে।

ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে সুনামির সতর্কতা জারি করেছিল ইউএসজিএস; তবে পরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র : সিএনএন

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভিনির জোড়া গোল, নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নকআউটে ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ
ভিনির জোড়া গোল, নেইমারের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নকআউটে ব্রাজিল

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে যেন বিধ্বংসী মেজাজে দেখা গেল ব্রাজিলকে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানের লিড নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিরতি থেকে এসে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ৩-০ তে করে সেলেসাওরা। আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই স্কটিশ রক্ষণভাগকে চাপের মুখে রেখে আধিপত্য বিস্তার করেছে ভিনি-কুনিয়ারা।

ম্যাচের শুরুর দিকেই স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগের ভুলে ভাগ্য খোলে ব্রাজিলের। অষ্টম মিনিটে তরুণ উইঙ্গার রায়ান স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনাকে চাপে ফেলেন। সেই চাপে পড়ে ম্যাকেনা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান, আর সেই সুযোগটি লুফে নেন ভিনিসিয়ুস। গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে নিপুণ দক্ষতায় কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

২৫ মিনিটে ভিনিসিয়ুস আবারও জালের দেখা পেয়েছিলেন, তবে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্যে সেই গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, বল জালে পাঠানোর ঠিক আগে স্কটিশ ডিফেন্ডারকে ফাউল করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে তাতে দমে যাওয়ার পাত্র নন ভিনি।

বিরতির ঠিক আগে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে এটি ভিনির ব্যক্তিগত চতুর্থ গোল।

দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে মাতেউস কুনহার গোলে স্কোরলাইন ৩-০ করে ব্রাজিল। আবারও আক্রমণ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখেন ব্রুনো গিমারায়েসের। তার পাস থেকে ডান পায়ে ফিনিশ করেন কুনিয়া। এদিকে কোনঠাসা স্কটল্যান্ড ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ে। ৫৫ মিনিটে ম্যাকলিনের পেনাল্টির আবেদনও নাকচ হয়। অন্যদিকে ব্রাজিল এখন পুরো নিয়ন্ত্রণে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ভিনির জোড়া গোলে এগিয়ে বিরতিতে ব্রাজিল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ভিনির জোড়া গোলে এগিয়ে বিরতিতে ব্রাজিল

মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখাচ্ছে ব্রাজিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোলে ২-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাত সেলেসাওরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে দেখা গেছে ব্রাজিলকে। খেলা শুরুর মাত্র ৭ মিনিটের মাথায় আক্রমণভাগের দারুণ সমন্বয়ে গোল আদায় করে নেন ভিনিসিয়ুস। সতীর্থের বাড়ানো নিখুঁত পাসে স্কটিশ রক্ষণভাগকে পরাস্ত করে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়ান এই তারকা ফরোয়ার্ড।

লিড নেওয়ার পরও ব্রাজিলের আক্রমণের ধার একটুও কমেনি। ভিনিসিয়ুস, লুকাস প্যাকেতা ও কুনহার সম্মিলিত আক্রমণ বারবার কাঁপিয়ে তুলছে স্কটল্যান্ডের রক্ষণভাগ। বিপরীতে, গোল হজম করার পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্কটল্যান্ড। তবে ব্রাজিলের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকায় প্রতিপক্ষ খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না।

উল্টো ম্যাচের ২২ মিনিটে আবার গোলের দেখা পায় সেলেসাওরা। স্কটিশ তারকা জ্যাক হেনড্রি অ্যাঙ্গাস গানকে একটি জঘন্য ব্যাক পাস দেন এবং ভিনি সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করে স্কোর ২-০ করেন। তবে ভার চেকে ভিনির ফাউল ধরা পরলে গোলটি বাতিল করা হয়। এরপর হাইড্রেশন বিরতির পর কিছুটা বদলে গেছে স্কটল্যান্ডের খেলা। ব্রাজিলের চাপ সামলে এবার নিজেরাও আক্রমণে উঠতে শুরু করেছে স্টিভ ক্লার্কের দল।

৩০ মিনিটে প্রথম কর্নার পায় স্কটল্যান্ড। প্রাথমিক ডেলিভারি ক্লিয়ার হলেও ডান দিক থেকে জন ম্যাকগিন বাঁ পায়ে দারুণ বল তোলেন বক্সে। ম্যাকেনা হেড করতে উঠলেও ঠিকমতো লক্ষ্য রাখতে পারেননি, শেষ পর্যন্ত বিপদ কাটায় ব্রাজিল।

এরপর আরেকটি কর্নার থেকেও সুবিধা নিতে পারেনি স্কটল্যান্ড। বক্সের ভেতর ব্রুনো গিমারায়েস পড়ে গেলে ফাউলের বাঁশি বাজান রেফারি, ফলে চাপ কাটিয়ে ওঠে ব্রাজিল। শেষ কয়েক মিনিটে স্কটল্যান্ড অন্তত ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। তবে ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফের ভিনির গোলে ব্যবধান বাড়ায় সেলেসাওরা। বাকি সময়ে আর কোনও অঘটন না হলে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।

কালের আলো/এসআর/এএএন