খুঁজুন
                               
, ,
           

রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যা মামলার রায় রোববার

ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আগামী রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার পর বিচারক এজলাসে উঠলে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন নির্ধারণ করেন। এর মধ্য দিয়ে আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এদিন সকাল ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

গতকাল বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থন ও সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আজ বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছিলেন।

বুধবারের শুনানিতে বিচারক মামলার ১৬ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ এবং বিভিন্ন আলামত আসামিদের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও আদালতে উল্লেখ করা হয়।

আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্যে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’  একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ডলারকে ধরেন। আমি অপরাধ করেছি। তাকেও ধরেন।’ অন্য আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি।’

গতকাল বুধবার শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, শুরুতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরে সোহেল রানা নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নথিভুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানিয়েছে।

‘ডলার’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সোহেলের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ নামের কোনো উল্লেখ ছিল না। তদন্ত ও মামলার নথিতেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যায়ে এসে এ ধরনের নাম উল্লেখ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা হতে পারে।

ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া হবে। যেসব সাক্ষ্য-প্রমাণ, যুক্তিতর্ক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তার ভিত্তিতে যে বিচার আসবে, তাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না বলে আমরা আশা করি।

রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, বুধবারের কার্যক্রম ছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামি পরীক্ষা। এটি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেই ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্ক শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। শিশু সাক্ষী হওয়ায় রামিসার বড় বোনের সাক্ষ্য ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। তদন্তকালে জব্দ করা কাটা গ্রিলসহ বিভিন্ন আলামতও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী জয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করে পুলিশ।

মামলায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এখন মামলাটির রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রামিসার পরিবার তথা পুরো দেশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২২৮

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২২৮ শিশু। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম–বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে এ সময়ে ৯৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৩১ শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৭ জন। এ সময়ে ১ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮২৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৪০৪। এ সময়ে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংবিধান ও নিয়ম মেনে যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন ঘোষণা: মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
সংবিধান ও নিয়ম মেনে যথাসময়ে স্থানীয় নির্বাচন ঘোষণা: মঈন খান

সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, তার কিন্তু একটি সাংবিধানিক পদ্ধতি আছে। আজকে যদি বলে দেই যে অমুক দিন নির্বাচন হবে, এই কথার কোনো অর্থ থাকবে না।

কাজেই এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তরটা কিন্তু আমার দেওয়াটা যুক্তিযুক্ত হবে না। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়, নিয়মকানুন অক্ষরে অক্ষরে পালন করে, ইনশাল্লাহ বিএনপি সরকার যথাসময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘোষণা করবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনের কথা তুলে ধরে মঈন খান বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আপনারা বিগত নির্বাচনগুলো দেখেছেন। আট (২০০৮) এর নির্বাচন, চৌদ্দ এর নির্বাচন, আঠার এর নির্বাচন এবং চব্বিশ এর নির্বাচন।

আট (২০০৮) কিন্তু বিশেষ করে বলছি। এই চারটি নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছা প্রতিফলিত করে নাই। দীর্ঘ দিন পরে আমরা সৌভাগ্যবান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সত্যিকারে অর্থে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আজকে আজকে আপনাদের সামনে এসেছি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, স্পষ্ট ভাষায় বলছি, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা আইনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। আমরা আইনের পথে যেতে চাই।

বিচার বিভাগ নিয়ে মঈন খান বলেন, এই দেশের বিচার ব্যবস্থাকেও তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারের রায়, জজ সাহেব লিখতো না, মন্ত্রণালয়ে লেখা হতো। কাজেই আমরা কোনো উইচ হান্টিংয়ে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই এই দেশে, সত্যিকারের অর্থে গণতান্ত্রিক যে সিস্টেম, সেই সিস্টেমটাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ফিরিয়ে আনার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আমরা সেই পথে হাঁটছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমার অগ্রাধিকার হলো জনগণ। আমাদের জনগণের সরকার, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা এই সরকার গঠন করেছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সচিব মো. শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএএন/এমডিএইচ

সেপ্টেম্বরে নবম পে স্কেলের গেজেট!

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
সেপ্টেম্বরে নবম পে স্কেলের গেজেট!

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশকে ঘিরে আবারও আশার আলো দেখছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জুলাইয়ে গেজেট প্রকাশের আলোচনা থাকলেও নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। এবার সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেতন বৃদ্ধির হার, বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা—এই কয়েকটি বিষয় নিয়ে পর্যালোচনার কারণেই প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে। তবে এসব জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তি করে সেপ্টেম্বরের শুরুতেই পে স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

  • জুলাইয়ের বিলম্ব কাটিয়ে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি

  • অক্টোবর থেকে নতুন বেতন, কার্যকর ধরা হবে ১ জুলাই—তিন মাসের বকেয়া সমন্বয়ের পরিকল্পনা

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে।

জুলাইয়ের আশা, সেপ্টেম্বরে নতুন লক্ষ্য
নবম পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আলোচনা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

এবার সেপ্টেম্বরকে চূড়ান্ত সময়সীমা হিসেবে সামনে রেখে কাজ এগোচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে গেজেট প্রকাশ না হলে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে হতাশা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। কারণ পে স্কেল শুধু বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, উৎসব ভাতা, অবসর-সুবিধাসহ সরকারি চাকরিজীবীদের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামো। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর প্রতিটি সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থনীতিতে।

অক্টোবর থেকে নতুন বেতন, কার্যকর ১ জুলাই
সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল অক্টোবর থেকে বাস্তবে কার্যকর করার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বেতন কাঠামোটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হতে পারে। এর অর্থ, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বেতন নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হবে। পরে ওই তিন মাসের বকেয়া অর্থ সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হলে অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে অথবা সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বকেয়া অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হবে। তবে বকেয়া কীভাবে এবং কত ধাপে দেওয়া হবে, সেটিই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

অর্থের সংস্থান নিয়ে সরকারের ভাবনা
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হচ্ছে অর্থের সংস্থান। বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তবে এটি কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের অর্থের সংস্থান করতে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ঋণ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকার শুধু রাজস্ব আয় বাড়ানোর ওপর নির্ভর করছে না; প্রয়োজন হলে ঘাটতি অর্থায়নের পথও খোলা রাখছে।

বেতন বাড়বে কত, সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
গেজেট প্রকাশের সময়সূচি নিয়ে আলোচনা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি আগ্রহ বেতন কতটা বাড়বে তা নিয়ে। নতুন পে স্কেলে বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন কী হারে বাড়বে, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কতটা পরিবর্তিত হবে এবং ভাতাগুলো কীভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা বাস্তবসম্মত বেতন বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। অন্যদিকে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বেতন বাড়ানোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদে এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা। অর্থাৎ, নতুন পে স্কেলে শুধু বেতন বৃদ্ধির হার নয়, সরকারের আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হয়ে উঠেছে।

জুডিশিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয়েও জটিলতা
নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ক্যাডার ও সার্ভিসের মধ্যে বেতন কাঠামোর ভারসাম্য বজায় রাখা না গেলে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। ফলে একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা, অন্যদিকে বিভিন্ন সার্ভিসের মধ্যে সামঞ্জস্য এবং সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে বিবেচনা করেই চূড়ান্ত।

কালের আলো/এএএন/এমডিএইচ