খুঁজুন
                               
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে সরকারের ব্যাপক কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রীয়ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনে সরকারের ব্যাপক কর্মসূচি

চলতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও বড় পরিসরে উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে গত ৩ মে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। এই আয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা প্রশাসনসহ দেশের প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে বিশেষ স্মারক পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে দেশব্যাপী বিশেষ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বলা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়েও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

মাঠ প্রশাসনের অংশ হিসেবে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কাছেও এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতির সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম এবং সমাজকল্যাণসহ বিভিন্ন খাতভিত্তিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে যুক্ত করায় জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদকেও এই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসকে জাতীয় পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা, আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিবসটির গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে এবং সব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

পুঁজিবাজারে বড় সংস্কারের ইঙ্গিত বিএসইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
পুঁজিবাজারে বড় সংস্কারের ইঙ্গিত বিএসইসির

দেশের পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, আইপিও, মার্জিন ঋণ ও মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত বিধিমালা পর্যালোচনার পাশাপাশি বাজারের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও সহজ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রোববার (৭ জুন) বিএসইসি কার্যালয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনারকে অভিনন্দন জানাতে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এ বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে মাসুদ খান বলেন, দেশের পুঁজিবাজারকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলতে কমিশন একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে কমিশনের অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, সম্প্রতি প্রণীত আইপিও, মার্জিন ঋণ ও মিউচুয়াল ফান্ড সংক্রান্ত বিধিমালাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা বিএসইসিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তিনি আইপিও মূল্যায়ন, বাজার তদারকি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে ডিএসইর অন্যান্য পরিচালকরা দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের স্পষ্ট বিভাজন, আইপিও ও রাইটস ইস্যু প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি বৃদ্ধি, আধুনিক সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালু, ডিলিস্টিং প্রক্রিয়া কার্যকর করা এবং ব্রোকারেজ খাতের অনিয়ম প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার জানান, স্ক্রিপ্ট নেটিং ও টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ডিএসই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সীমান্তে বিএসএফের বাড়াবাড়ি প্রশ্নের মুখে ভারতীয় নীতি

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
সীমান্তে বিএসএফের বাড়াবাড়ি প্রশ্নের মুখে ভারতীয় নীতি

সীমান্ত একটি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানা মাত্র নয়; এটি তার সার্বভৌমত্ব, জাতীয় মর্যাদা এবং নিরাপত্তার সুস্পষ্ট প্রতীক। এ কারণেই কোনো দেশের সীমান্তে অন্য দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর একতরফা পদক্ষেপ শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং পারস্পরিক কূটনৈতিক আচরণের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ কার্যক্রম নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিছক একটি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয় নয়; এটি দুই দেশের সম্পর্কের প্রকৃতি এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে যখন অভিযোগ উঠছে যে যথাযথ যাচাই-বাছাই, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রত্যাবাসনের স্বীকৃত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কিছু মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে যে—এ ধরনের কর্মকাণ্ড আদৌ কি বিধিসম্মত?

আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি হলো, কোনো রাষ্ট্র অন্য একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর একতরফাভাবে তার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। যদি কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হন, তবে তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। আর যদি তিনি বাংলাদেশের নাগরিক না হন, তাহলে তাকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কাজেই ‘পুশইন’ নামে পরিচিত এই পদ্ধতি আইনগতভাবে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ, তেমনি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভারত সব সময়ই নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসে। আন্তর্জাতিক ফোরামে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবিও করে। কিন্তু সীমান্তে বারবার যে আচরণ দেখা যায়, তা সেই ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ?

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বহু বছর ধরেই নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। সীমান্ত হত্যা, গুলি চালানো, নাগরিক হয়রানি, কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে বিরোধ, পানি বণ্টন সংকট—এসবের সঙ্গে এখন নতুন করে যুক্ত হয়েছে পুশইনের অভিযোগ। প্রশ্ন হচ্ছে, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দাবিদার একটি রাষ্ট্রের সীমান্ত আচরণ কেন বারবার বিতর্কের জন্ম দেয়?

এখানে একটি সত্য আমাকে স্বীকার করতেই হবে। ভারতের সঙ্গে যেসব দেশের সীমান্ত রয়েছে, বিশেষ করে যেসব দেশের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এমন একতরফা আচরণ খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রায়ই এমন মনোভাব লক্ষ্য করা যায়, যেন ঢাকা নয়াদিল্লির সমমর্যাদার অংশীদার নয়, বরং নির্দেশ গ্রহণকারী কোনো অধস্তন পক্ষ। ভারতের এই মানসিকতাই সমস্যার মূল।

বাংলাদেশ কোনো করদ রাজ্য নয়, কোনো প্রটেক্টরেট নয়, কোনো প্রভাব বলয়ের উপনিবেশও নয়। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র। ফলে সীমান্তে যে কোনো কর্মকাণ্ড পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতেই পরিচালিত হওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সময়কালও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারে নতুন কিছু বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। তিস্তা প্রকল্প, পানি ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পদ্মা ব্যারাজের মতো বৃহৎ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এসব উন্নয়ন স্বাভাবিকভাবেই আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

এখানে সরাসরি কোনো কারণ-ফল সম্পর্কের দাবি করা কঠিন। তবে এটাও সত্য যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চাপ প্রয়োগের ভাষা সব সময় প্রকাশ্য হয় না। অনেক সময় সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি কিংবা নিরাপত্তা ইস্যুকেও কৌশলগত বার্তা দেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

তবে যে কারণই থাকুক না কেন, সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করে কোনো ইতিবাচক বার্তা দেওয়া যায় না। বরং এতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস আরো বেড়ে যায়। ভারতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বন্ধুত্বের কথা বললেও সীমান্তের বাস্তবতা তখন সেই বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ঘটনার ক্ষেত্রে অনেক সময় ভারতের পক্ষ থেকে এমন আচরণ দেখা যায়, যেন বাংলাদেশ প্রতিবাদ করলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মেনে নেবে। এই ধারণা শুধু ভুল নয়, বিপজ্জনকও। কারণ মর্যাদা এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘদিন নীরব থাকতে পারে না। ভারতের এই সত্য উপলব্ধি করা একান্ত জরুরি বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশের জনগণ ভারতের শত্রু নয়। বাংলাদেশের জনগণ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বিশ্বাস করে। কিন্তু বন্ধুত্ব কখনো একতরফা হতে পারে না। বন্ধুত্বের নামে যদি সীমান্তে গুলি চলে, মানুষ মারা যায়, কিংবা কথিত পুশইনের মাধ্যমে অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে সেই সম্পর্কের ভিত্তি দুর্বল হতে বাধ্য।

সবচেয়ে বড় কথা, কোনো রাষ্ট্রের শক্তিমত্তার প্রকৃত পরিচয়  প্রতিবেশীর ওপর প্রভাব খাটানোর মধ্যে নয়; বরং সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক পরিচালনার মধ্যেই নিহিত। ভারত যদি সত্যিই দক্ষিণ এশিয়ায় দায়িত্বশীল আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তাহলে তাকে প্রথমেই তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে আচরণের ধরন পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশেরও উচিত এই বিষয়ে আরও দৃঢ়, সুস্পষ্ট এবং নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করা। সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন, একতরফা সিদ্ধান্ত কিংবা আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া যাবে না। কারণ আজ যদি সীমান্তে সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করা হয়, কাল সেটি আরও বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।

পুশইনের অভিযোগ তাই কেবল সীমান্তের একটি প্রশাসনিক ঘটনা নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে। প্রশ্ন হচ্ছে, যদি সত্যিই বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সীমান্তে বারবার এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে?

একটি বিষয় পরিষ্কার—বন্ধুত্ব কখনো শক্তির প্রদর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; বন্ধুত্ব দাঁড়িয়ে থাকে সম্মান, আস্থা এবং পারস্পরিক মর্যাদাবোধের ওপর। সীমান্তে একতরফা পদক্ষেপ, কথিত পুশইন, সীমান্ত হত্যা কিংবা আন্তর্জাতিক রীতিনীতিকে উপেক্ষা করে পরিচালিত কর্মকাণ্ড সেই আস্থার ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়।

ভারতের নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধি করা উচিত যে, আজকের বাংলাদেশ আর কোনো দুর্বল বা নীরব রাষ্ট্র নয়। অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের কারণে বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশকে সমমর্যাদার অংশীদার হিসেবে বিবেচনা না করে যদি এখনো পুরোনো আধিপত্যবাদী মানসিকতা থেকে সীমান্ত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনার চেষ্টা করা হয়, তবে সেটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্যই দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে।

বাংলাদেশের জনগণ কখনো ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু তারা নিজেদের রাষ্ট্রের মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে আপস করতেও প্রস্তুত নয়। সীমান্তে প্রতিটি গুলি, প্রতিটি মৃত্যু, প্রতিটি পুশইন অভিযোগ এবং প্রতিটি একতরফা পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে—ভারত কি সত্যিই বাংলাদেশকে সমমর্যাদার বন্ধু হিসেবে দেখে, নাকি কেবল একটি কৌশলগত প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু কূটনৈতিক বিবৃতিতে নয়, সীমান্তের বাস্তব আচরণেই নিহিত।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, তবে সেই সম্পর্ক অবশ্যই সমমর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে হতে হবে। বন্ধুত্বের নামে আধিপত্য কিংবা সহযোগিতার আড়ালে একতরফা চাপ গ্রহণযোগ্য নয়। নয়াদিল্লি যত দ্রুত এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করবে, ততই দুই দেশের সম্পর্ক আরও ভারসাম্যপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং দীর্ঘস্থায়ী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।

অপরাধীদের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
অপরাধীদের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকলেও কেউ অপকর্ম বা গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

রোববার (৭ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিগত ১৭ বছরের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। বিগত ১৭ বছরের বৈরী পরিবেশেও অনেক পেশাদার সাংবাদিক নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো— আওয়ামী লীগের সময়ে যেসব নামধারী সাংবাদিক গুম, খুন, ভোট চুরি, ব্যাংক ডাকাতি ও গণহত্যার বৈধতা দিয়েছেন এবং এগুলোর পক্ষে সম্মতি উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট) করেছেন, তাদের বিষয়ে সরকার কী ভাবছে?’

আওয়ামী লীগ আমলের সুবিধাভোগী গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে— এমন অভিযোগ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজকে যারা সরকারে আছেন, বিশেষ করে বিএনপির সর্বোচ্চ নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে এই সাংবাদিকরা বিভিন্ন সময় দেশদ্রোহী ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়াসহ কয়েকটি গণমাধ্যম বিএনপি-জামায়াত নেতাদের হত্যার পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করেছে। দুঃখজনকভাবে সেই নামধারী সাংবাদিকদের বর্তমানে বিভিন্ন হাউসে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের সাংবাদিকদের এখন টিভি চ্যানেল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে।’

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সময় টিভি দখল করা হয়েছে। গতকাল নোয়াখালীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ যে ছাত্রদলকে পিটিয়েছে, সেটি ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া ও কিছু টকশো-জীবীকে উদযাপন করতে দেখা গেছে। এসব গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরকার আদৌ কোনো আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে কি না বা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা আমি মাননীয় মন্ত্রীর কাছে জানতে চাই।’

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা একটি কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই— দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করবে বা সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করবে, সে যেই হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

অপরাধীদের বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘অপরাধী সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী— যেই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ আইনের বিপক্ষে কাজ করলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে গঠিত এই সরকার তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ