রাজধানীর ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে জার্সি
রাজধানীর মার্কেট আর দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতেও বিক্রি হচ্ছে জার্সি। গুলিস্তানের জাতীয় স্টেডিয়ামের উল্টোপাশের সড়ক ও ফুটপাতে জার্সির পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকার ও ব্যবসায়ীরা। মূলত সুপারশপ থেকে ফুটপাত সর্বত্রই এখন চলছে বিশ্বকাপ জার্সির জমজমাট বেচাকেনা।
মার্কেটের দোকানগুলোতে জার্সির দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি হলেও গুলিস্তানের রাস্তার পাশের এই দোকানগুলোর চিত্র ঠিক উল্টো। এখানে জার্সি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৭০০ টাকায়। ফলে মার্কেটের তুলনায় ক্রেতা সমাগম এখানে একটু বেশি। ফুটপাতের বিক্রেতা মো. মহসিন বলেন, দেশীয় কারখানায় তৈরি সাধারণ মানের জার্সিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। মান ও সাইজভেদে এসব জার্সির দাম ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা। আর শিশুদের জার্সি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।
তবে জার্সির বিক্রি বেশি হলেও ক্রেতাদের অভিযোগ দাম বেশি নিচ্ছেন দোকানিরা। রাজধানীর শাখারী বাজার থেকে সঞ্জয় দাস গুলিস্তানে প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জার্সি কিনতে এসে দাম শুনে হতাশ হয়েছেন। জার্সির দাম বেশি বলে মনে করছেন তিনি। সঞ্জয় বলেন, জার্সির দাম একটু বেশি, আমাদের আয়ের তুলনায় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে আরকি। তবে এখনও কেনা হয়নি। কেনার আশায় আছি।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে ক্রেতাদের মূল লক্ষ্য এখন জার্সি কেনা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি কেনা যেন এখন একপ্রকার ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। অনেকেই জার্সি কিনছেন মনের আনন্দে। প্রিয় দলকে সাপোর্ট দিতে। তবে বিশ্বকাপে দলকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য জার্সি কেনটা বাধ্যতামূলক নয় বলে মনে করছেন তারা।
ক্রেতা মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম বলেন, শুধু বিশ্বকাপ নয়, অন্যান্য সময়ও জার্সি কেনা হয়। তবে বিশ্বকাপে জার্সি কেনাটা বাধ্যতামূলক কিছু নয়, এটা মূলত আনন্দের বিষয়।
গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা সুজন সরকার বলেন, ছেলে ব্রাজিলের জার্সি কিনতে বায়না ধরেছে। আমি নিজে কখনও জার্সি কিনিনি বা পরিনি। তাই দাম জানতেই ফুটপাতের দোকানগুলোতে এসেছি। ছেলের ইচ্ছা তো আর ফেলতে পারি না।
ক্রেতা সাইফুল ইমাম বলেন, আগে বিশ্বকাপ ঘিরে অন্যরকম উন্মাদনা ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে বসে খেলা দেখার মধ্যে আলাদা উত্তেজনা কাজ করত। এবার খেলাগুলো মাঝরাতে ও ভোরে হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসেই খেলা দেখার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই ছেলের জন্য, স্ত্রীর জন্য এবং নিজের জন্যও জার্সি কিনেছি। তবে দাম কিছুটা বেশিই।
বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস ম্যানুফেকচারার অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কবির হোসেন বলেন, বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম নিজেও একজন সাবেক ফুটবলার। ফুটবল নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ আরও বাড়াতে এবং দেশের ফুটবলকে জনপ্রিয় করতে তিনি উদ্যোগ নেবেন বলে আশা করি। পাশাপাশি স্পোর্টস পণ্যের ওপর যৌক্তিক ও অভিন্ন শুল্ক নির্ধারণ করা হলে জার্সিসহ অন্যান্য ক্রীড়া সামগ্রীর দাম কমবে এবং সব শ্রেণির মানুষ তা কিনতে পারবে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array