খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জীবন বাজি রেখে শান্তিরক্ষীরা দেশের সম্মান রক্ষা করছেন: শামা ওবায়েদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
জীবন বাজি রেখে শান্তিরক্ষীরা দেশের সম্মান রক্ষা করছেন: শামা ওবায়েদ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করা সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বশান্তি রক্ষায় যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তা অনেকেই যথেষ্ট উপলব্ধি করেন না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভালোবেসে ও দেশের সম্মান রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভাটি আয়োজন করে ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব)।

ডিজাব সভাপতি আলমগীর হোসেনের বক্তব্যে আরও বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডোর (অব.) এম তাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া

ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডোর মোহাম্মদ মুতাসির রহমান (এলপিআর)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ডিজাবের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মাসুম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সদস্যরা যে ভূমিকা রাখেন, আমি আফ্রিকার দেশগুলোতে গিয়ে বিভিন্ন কনফারেন্সে দেখেছি আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা বাংলাদেশিরা সেটা যথেষ্ট উপলব্ধি করি না। তারা যে অর্জন করে আনেন, সেটা জীবনের চেয়েও বড় নয়। তারা জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের পরিবারের প্রতিও আজ স্মরণ করতে চাই। প্রত্যেকটি পরিবার তাদের বাবা, স্বামী, ভাইকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, তারা ফেরত আসবেন কি না, সেটা তারা জানেন না। কিন্তু সেই দেশপ্রেম থেকে, বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা এই কাজটি করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের স্যালুট জানাই। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকেও তাদের স্যালুট জানাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবসময় বিষয়টি নিয়ে সচেষ্ট রয়েছে।

ভবিষ্যতেও শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের কাছে আসলে আমরা সেটি গুরুত্বের সঙ্গে নেব এবং আপনাদের সহযোগিতা করব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, কমোডর (অব.) এম এম জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (এলপিআর)। তারা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাফল্য কেবল সামরিক দক্ষতার ফল নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পেশাদারিত্বের সমন্বিত প্রতিফলন।

বক্তারা আরও বলেন, সিয়েরা লিওনের পুনর্গঠনে বাংলাদেশের অবদান, হাইতিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুসলিম নারী পুলিশ ইউনিট মোতায়েন, আফ্রিকায় স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সম্প্রতি জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ অর্জন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিজাব) সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, অনেকের ধারণা রয়েছে শান্তিরক্ষা মিশনে গেলে শান্তিরক্ষী সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অর্থের বড় একটি অংশই বাংলাদেশ সরকার পেয়ে থাকে।

শান্তিরক্ষা মিশন এলাকা ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করা শান্তিরক্ষীরা অনেক সময় নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত থেকেও বঞ্চিত হন। দেশে জন্ম নেওয়া সন্তানকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হয় না অনেকের। ভিডিও কলে সন্তানকে দেখে তারা নিজেদের সান্ত্বনা দেন। মা-বাবা কিংবা নিকট আত্মীয় মারা গেলেও অনেক সময় দেশে ফিরে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান না শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা সদস্যরা।

তিনি আরও বলেন, শান্তিরক্ষীরা প্রতিদিন নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে তারা দেশের সম্মান ও বিশ্ব শান্তি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক, সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক দিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে দেশটি শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশে ৬৩টিরও বেশি মিশনে দুই লাখ ছয় হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি জানান, বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৪ হাজার ২১২ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার পথে আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপন করে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন।

অনুষ্ঠানে ডিজাবের সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ও মামুনূর রশীদ, সংগঠনের সিনিয়র সদস্য মাসুদ করিমসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক ও গবেষক বক্তব্য রাখেন। তারা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরে ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারের নীতি-সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, জাতিসংঘের চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ‘ইনভেস্ট ইন পিস’ বা ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ, দক্ষতা ও মানবিক উদ্যোগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

অনুষ্ঠান শেষে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া সেমিনারে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স সেকশনের প্রেস স্পেশালিস্ট মাহাদি আল হাসনাতসহ ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩২

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার ভোরের দিকের এই ভূমিকম্পে আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে ম্যানিলা।

মিন্দানাওয়ের এই ভূমিকম্পের জেরে কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। ভোরে ফিলিপাইনের সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ওই ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর তীব্র কম্পন মিন্দানাও এবং ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও প্রবলভাবে অনুভূত হয়।

প্রায় ৭ লাখ মানুষের আবাসস্থল জেনারেল সান্তোস সিটির বাসিন্দারা এলাকা কেঁপে ওঠার সময়কার আতঙ্কের কথা স্মরণ করে বলেছেন, এটি অতীতের অভিজ্ঞতার অন্য যেকোনও ভূমিকম্পের চেয়ে আলাদা ছিল। দেশটিতে আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সান্তোস সিটি।

৪৪ বছর বয়সী জোজো কালমা বলেন, এই প্রথম আমি এত শক্তিশালী ভূমিকম্প দেখলাম। সত্যিই নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। আমি আমার সন্তান এবং ভাগ্নির কথা ভাবছিলাম, যদি তাদের কিছু হয়ে যেত?

ভূমিকম্পের সময় তিনি একটি ভবনের সামনে নিজের মোটরচালিত থ্রি-হুইলার ট্যাক্সি চালাচ্ছিলেন। পরে ওই ভবনটি ধসে পড়লেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি।

• ভবন ধসের দৃশ্য ক্যামেরায় বন্দি

একটি ফাস্টফুডের দোকান থাকা ওই ভবনটি ধসে পড়ার মুহূর্ত স্থানীয় সরকারের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে ধরা পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, ধুলার স্তর দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কিত পথচারীরা দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করছেন।

কালমা বলেন, ভূমিকম্পের সময় তার সন্তানরা স্কুলে ছিল। তবে তারা নিরাপদ আছে। যদিও তার ভাইয়ের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে তারা ভালো আছে।

দীর্ঘ ছুটির পর স্কুলগুলো খোলার ঠিক পরপরই সোমবারের ওই ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

দেশটির সরকার সামরিক ও দুর্যোগ মোকাবিলাকারী বিভিন্ন সংস্থাকে মোতায়েন করেছে। কেবল মিন্দানাওয়ে ওপর থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষ ও ভূমিধসের কারণে ৩২ জন নিহত এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং বোর্নিও দ্বীপের মালয়েশীয় রাজ্য সাবাহতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে ওইসব এলাকার উপকূলীয় বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ফিলিপাইনে ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্পের আট মাস পর এই দুর্যোগ আঘাত হেনেছে। ওই সময় দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে অগভীর ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এর দুই সপ্তাহ পর মিন্দানাওতে আরও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটি ছিল ৭.৪ মাত্রার।

সূত্র: রয়টার্স।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

সামাজিক মাধ্যমে গুজব ঠেকাতে আইন সংশোধন হচ্ছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সামাজিক মাধ্যমে গুজব ঠেকাতে আইন সংশোধন হচ্ছে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারপ্রধান, তার পরিবার এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে অপপ্রচার, গুজব ও মানহানিকর কনটেন্ট প্রতিরোধে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬’ নামে একটি সংশোধনী আনার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় চিফ হুইপের চিঠির বিধান অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রশ্নের উত্তর দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের নামে সরকারপ্রধান, তার পরিবার এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচার ও গুজব প্রতিরোধে আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে গুজব ও মানহানির সংজ্ঞা আধুনিকায়নের পাশাপাশি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হবে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি ক্ষতিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

মেটা বা ফেসবুকের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশ আইনি কাঠামোর মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান আইনে সে ধরনের কঠোর বিধান না থাকায় বিটিআরসির অনুরোধ সবসময় কার্যকর হয় না।

তিনি বলেন, নতুন আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিতর্কিত কনটেন্ট অপসারণের বাধ্যবাধকতা রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থা ও বিটিআরসিকে কনটেন্ট ব্লক ও তথ্য হস্তান্তরের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে ১৮৬৭ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইন আধুনিকায়ন করে নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অনলাইন জুয়া, বেটিং এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে আইনটি চলতি সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও তিনি বলেন, বর্তমান আইনের সীমাবদ্ধতা দূর করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন খসড়া আইনে উন্নত প্রশিক্ষণ, ল্যাবরেটরি সুবিধা এবং নিজস্ব ডগ স্কোয়াড গঠনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সামাজিক অনাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় সরকার আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলেও সংসদকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নতুন পে-স্কেলে নবম গ্রেডে ভাতা পাবেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
নতুন পে-স্কেলে নবম গ্রেডে ভাতা পাবেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে নবম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতাও আনুপাতিক হারে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

সোমবার (৮ জুন) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবির মধ্যে ভাতা ও বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মাসিক ২০ হাজার টাকা এবং এফসিপিএস পার্ট-১ উত্তীর্ণ পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা ৩৫ হাজার টাকা ভাতা পাচ্ছেন। নবম গ্রেডের বর্তমান মূল বেতন ২২ হাজার টাকা হওয়ায় বিদ্যমান কাঠামোতে ভাতার একটি সমন্বয় রয়েছে। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন যে হারে বৃদ্ধি পাবে, একই আনুপাতিক হারে চিকিৎসকদের ভাতাও বাড়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের দাবি ছিল ইন্টার্ন ভাতা ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের ভাতা ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা। সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং নতুন বেতন কাঠামোর আলোকে ভাতা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য সচিব জানান, চিকিৎসকদের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবির বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের ন্যায্য দাবিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পান। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নবম গ্রেডের বেসিকের সমান ভাতা পেলে তারা ২২ হাজার করে পাবেন। এ ছাড়া স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণার্থী বা পোস্টগ্রাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা কোনো ধরনের ইনক্রিমেন্ট ছাড়া নবম গ্রেডের সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ভাতা বৃদ্ধি। এ বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কারণে ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকরা তাদের চলমান কর্মবিরতি, ওয়ার্ড বর্জন ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি সাত কর্মদিবসের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন।

বৈঠক শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. নাবির বিন কাসিম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আলোচনাকে তারা ফলপ্রসূ মনে করছেন। সে কারণেই আপাতত কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ