খুঁজুন
                               
, ,
           

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী গেছেন । শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি হাসপাতালটির করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-তে ভর্তি ছিলেন।

কবি আল মুজাহিদী বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক, সম্পাদক ও সাহিত্যসেবী। ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এই কবি ষাটের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তার কবিতায় বাংলাদেশের মাটি, মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের গভীর অন্বেষণ ফুটে উঠেছে। মৃত্তিকার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতি, প্রেম, জাতীয় চেতনা এবং আত্মদর্শন তাঁর কাব্যজগতের প্রধান অনুষঙ্গ।

আল মুজাহিদী দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তিনি দীর্ঘ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে নতুন লেখকদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তাঁর সাহিত্যকর্মে একদিকে যেমন রয়েছে গ্রামীণ জীবনের গন্ধ, অন্যদিকে ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, সমাজ ও রাজনীতির গভীর পর্যবেক্ষণ। ফলে তাঁর কবিতা কেবল নান্দনিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতিসত্তা ও মানবিক মূল্যবোধেরও এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠেছে।

দুই বাংলার সাহিত্যপ্রেমীদের কাছেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর লেখনিতে আছে শেকড়ের প্রতি অনুরাগ, মানুষের প্রতি মমত্ব এবং সময়কে গভীরভাবে অনুধাবনের ক্ষমতা।

কবি আল মুজাহিদীর প্রয়াণ বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কবিতা, চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দীর্ঘদিন প্রেরণা জোগাবে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে অভিমত সাহিত্য অনুরাগীদের।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে যোগ্যদের পদোন্নতি দিন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে যোগ্যদের পদোন্নতি দিন: প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দক্ষতা, সততা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সেনাসদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, প্রথম পর্বের এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে।

অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পদোন্নতি বিবেচনা করতে হবে।

এর আগে বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

একইসঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে আহত ও নিহত সেনাসদস্যদেরও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

দেশের প্রয়োজনে আত্মত্যাগের জন্য সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদর দপ্তরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সেনাপ্রধান।

সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.)-সহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি

গ্যাস লিকেজের আগুনে দগ্ধ স্বামী ও ভাগনির পর মারা গেলেন ফাহিমাও

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
গ্যাস লিকেজের আগুনে দগ্ধ স্বামী ও ভাগনির পর মারা গেলেন ফাহিমাও

রাজধানীর ভাটারায় গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ ফাহিমা আক্তারও (২১) মারা গেছেন। এর আগে এ ঘটনায় তার স্বামী শাহীন (২৪) ও ভাগনি হাফছা (৪) মারা যান। এ নিয়ে দগ্ধ তিনজনেরই মৃত্যু হলো।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফাহিমা। ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ভাটারায় গ্যাস বিস্ফোরণ দগ্ধ ফাহিমা শনিবার রাত ১১টার দিকে আইসিইউতে মারা গেছেন। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, এর আগে ফাহিমার স্বামী শাহীন ও ভাগনি হাফছাও আইসিইউতে মারা যান। শাহীনের শরীরের ৫০ শতাংশ এবং হাফছার শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরের দিকে ভাটারার নতুনবাজার ১০০ ফিট এলাকার একটি বাড়িতে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের এক ভাগনি দগ্ধ হন। পরে দগ্ধ তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

শাহীনের প্রতিবেশী মো. জসিম বলেন, শাহীন একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন। পরিবার নিয়ে ভাটারা থানার নতুনবাজার ১০০ ফিট এলাকার একটি বাসার নিচতলায় থাকতেন। মঙ্গলবার ভোরের দিকে বিকট শব্দে গ্যাসের লাইন লিকেজ থেকে তাদের বাসায় বিস্ফোরণ হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এলএনজি সরবরাহ কমায় তিতাস এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
এলএনজি সরবরাহ কমায় তিতাস এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট

কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনালগুলোতে কারিগরি ত্রুটির কারণে পুনঃগ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে।

এর ফলে তিতাস গ্যাসের আওতাভুক্ত এলাকায় শিল্প, বাণিজ্যিক, সিএনজি ও আবাসিকসহ সব শ্রেণির গ্রাহক তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে পড়েছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) এক বার্তায় তিতাস গ্যাস জানায়, মহেশখালীতে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনালসমূহ থেকে আরএলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের অধীন বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।

এতে গ্রাহক পর্যায়ে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।এ অবস্থায় গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে কারিগরি ত্রুটি নিরসন ও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি