খুঁজুন
                               
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৭ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই লেবাননে ইসরাইলের হামলা, নিহত ২৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
যুদ্ধবিরতির ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই লেবাননে ইসরাইলের হামলা, নিহত ২৯

লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, শনিবার নাবাতিহ জেলায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।

একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের টায়ার জেলার বারিশ গ্রামে একটি পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ। সংস্থাটি ঘটনাটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এ ছাড়া সিডনের নিকটবর্তী একটি গ্রামে হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন। টায়ার জেলার শাহুর এলাকায় একজন এবং পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকার সোহমোর শহরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কফর রুম্মান-নাবাতিহ সড়কে চালানো এক ইসরাইলি হামলায় তাদের একজন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর দাবি, এ ধরনের আক্রমণ দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার যেকোনো প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে।

অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন তাদের বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর রাতভর হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তবে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে নাবাতিহ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি অবস্থান দখলের উদ্দেশ্যে ইসরাইলি বাহিনী অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়েছিল। তাদের যোদ্ধারা সেই চেষ্টা প্রতিহত করেছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ বলেছেন, ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। তাঁর মতে, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি উপস্থিতি বজায় থাকলে কোনো যুদ্ধবিরতিই কার্যকর অর্থ বহন করবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার মধ্যেই এই সহিংসতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইসরাইলের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ওই সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ চুক্তিটিকে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া কোনো সমঝোতা মানতে ইসরাইল বাধ্য নয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সমালোচনাও করেছেন।

কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার ইসরাইল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ লেবাননে চার ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর বেন গভিরের ‘পুরো লেবানন পুড়িয়ে দেওয়া উচিত’ মন্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ইসরাইল সরকারের প্রকৃত অবস্থানকে তুলে ধরে এবং তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহও সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের চলমান আলোচনা কতটা এগোবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে ইসরাইল যুদ্ধবিরতির শর্ত ও আন্তর্জাতিক আইন কতটা মেনে চলে তার ওপর। তাঁর মতে, দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার লাইসেন্সিং ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের যাতে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সেজন্য একটি কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

রোববার (২১ জুন) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো ভৌত স্থাপনা বা শিল্পকারখানা স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া বাস্তব অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় তা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে শেষ করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। কারণ এ ধরনের স্থাপনায় নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থাপনা পরিদর্শন করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে।

তবে বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সেজন্য সরকার অস্থায়ী বা প্রভিশনাল লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বলে জানান তিনি। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা এরইমধ্যে অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে আনার একটি রূপরেখা নির্ধারণ করেছি। এখন খাতভিত্তিক লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ চলছে। কারণ একেক খাতের জন্য একেক ধরনের অনুমোদন ও নথিপত্র প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন প্রক্রিয়া যেমন টেক্সটাইল কারখানা স্থাপনের প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।

কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করা হবে। বিডা পরিদর্শনের তারিখ নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একত্র করবে এবং একটি সমন্বিত ব্যবস্থার অধীনে একবারেই পরিদর্শন সম্পন্ন করা হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভিন্ন সংস্থার কাছে যেতে হবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইভি প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে চায়। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে, ডিজেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল এবং সংকটকালে সরবরাহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের যানবাহন ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে নিতে সরকার আগ্রহী। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য প্রস্তুত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার আপাতত প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির আমদানি ও ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দেবে।

জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্প স্থাপন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জাপানকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে বিনিয়োগকারী অনলাইনে এক প্ল্যাটফর্মে ক্লিক করেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন। আমাদের লক্ষ্য হলো সময়, ব্যয় ও জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করা।

সভায় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা করে জেবিসিসিআই নেতারা বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

কালের আলো/এসএকে

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে সারওয়ার আলমকে।

২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বেশ আলোচিত ছিলেন।

সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন এ কর্মকর্তা।

হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি।

এর আগে, মো. সারওয়ার আলম বঞ্চিত হয়ে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

কালের আলো/এসএকে

সরিয়ে দেওয়া হলো সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
সরিয়ে দেওয়া হলো সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে

রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁকে প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে আদেশে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি