খুঁজুন
                               
, ,
           

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে (ফুড বিজনেস অপারেটর) তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সঙ্গে খাদ্য পণ্যের লেবেলিং ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভেজাল ও মানহীন খাদ্য নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। এই কর্মশালার আয়োজন করেছে আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগরের প্রায় ১০ লাখ ১৩ হাজার খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং একসঙ্গে সম্পন্ন করা যাবে। তালিকাভুক্তির মাধ্যমে প্রথমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এরপর নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে একই তথ্য বারবার দিতে হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে।

খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং একটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এ কাজে যুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর বা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ নিয়ে যে শঙ্কা রয়েছে, তা দূর করতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সেমিনার, চেম্বার অব কমার্স ও ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ভেজাল ও নকল খাদ্যের তথ্য দিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, কোথাও ভেজাল বা নকল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার তদারকিতে মোবাইল টেস্টিং ভ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভ্যানে প্রাথমিকভাবে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা গেলেও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, খাদ্য পরীক্ষার পুরো ব্যয় এখনও সরকার বহন করছে। কোনো পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয় এবং পরে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানির ১০৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করেছে সরকার। উন্নত দেশে খাদ্য মান লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে অভিযানের সময় নানা চাপ ও বাধার মুখে পড়তে হয়। তা সত্ত্বেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য উৎপাদন বা বিক্রি শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, এটি ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সততা ও দায়িত্বশীলতাও জরুরি।

কর্মশালায় খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) এখন বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগ বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্যাকেটজাত খাবারের পেছনে থাকা জটিল ‘নিউট্রিশন ফ্যাক্টস’ সাধারণ ভোক্তার জন্য বোঝা কঠিন হওয়ায় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এই কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিংকে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এফওপিএল পদ্ধতিতে প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা বা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যাতে ভোক্তা দ্রুত বুঝতে পারেন কোন খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বি রয়েছে।

বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে বিভিন্ন ধরনের এফওপিএল মডেল চালু রয়েছে। চিলি ও মেক্সিকোতে কালো অষ্টভুজাকৃতি সতর্কবার্তা, যুক্তরাজ্যে ট্রাফিক লাইট এবং ফ্রান্সে নিউট্রি-স্কোর পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। চিলিতে এ ব্যবস্থা চালুর পর চিনিযুক্ত পানীয় ও জাঙ্ক ফুডের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাংলাদেশেও এফওপিএল চালুর জন্য একটি খসড়া বিধিমালা প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এতে উচ্চ চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কীকরণ চিহ্ন ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের জন্য চিলির মতো কালো অষ্টভুজাকৃতি সতর্কবার্তা মডেল সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, কারণ এটি সহজে বোঝা যায় এবং সকল শ্রেণির মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিকর খাবার চিনতে পারেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বিএসটিইএম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার মহুয়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর রুহুল আমিন রুশদসহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়েছেন’, বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়েছেন’, বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনা ও তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলা নিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি ‘সীমা ছাড়িয়ে গেছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) মাস্কের এই মন্তব্য সামনে আসে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এসব হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করছে এবং ডিজেলের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

জ্বালানি সংকট নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ

শনিবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়ছে। বিশেষ করে ডিজেলের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের অভিযোগ, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে ওয়াশিংটন একাধিকবার কিয়েভকে সতর্ক করলেও ইউক্রেন সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি। যুদ্ধ বন্ধের সুযোগও জেলেনস্কি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি ইউক্রেনে নতুন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কিয়েভকে ছয়বার সতর্ক করার দাবি

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা থেকে বিরত থাকতে ইউক্রেনকে অন্তত ছয়বার অনুরোধ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এসব অনুরোধের পরও হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের চাপ কমাতে রুশ ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে কিয়েভ। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।

স্টারলিংক নিয়েও বাড়ছে দূরত্ব

মাস্ক ও জেলেনস্কির মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি নতুন নয়। ইউক্রেনের যুদ্ধে মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবস্থা স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ, সেনা ইউনিটগুলোর সমন্বয় এবং বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে স্টারলিংক ব্যবহারের বিষয়ে অতীতে আপত্তি জানিয়েছেন মাস্ক। ২০২২ সালে ক্রিমিয়ার কাছে রুশ নৌবহর লক্ষ্য করে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্টারলিংক পরিষেবা সম্প্রসারণে তিনি সম্মতি দেননি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাস্কের যুক্তি ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপে স্পেসএক্স সরাসরি বৃহত্তর সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

যুদ্ধের কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন

রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্টারলিংক ব্যবহারের প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে কৌশলগত মতপার্থক্য আরও সামনে এসেছে।

ইউক্রেনের জন্য স্টারলিংকের গুরুত্ব বিবেচনায় মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি দেশটির সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তবে মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর স্টারলিংক পরিষেবা বন্ধ বা সীমিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সূত্র: আরটি, অ্যাক্সিওস ও দ্য আটলান্টিক।

কালের আলো/জেএন

শিক্ষামন্ত্রী

ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ

ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পর্যালোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিদেশি কারিকুলামে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা যাতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় সমতার ভিত্তিতে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেলকে নিজস্ব উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার সমমানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। বাংলাদেশেও শিক্ষার সর্বস্তরে সমতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশের ইতিহাস, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির কার্যকর পাঠদান জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞানের ৫০ নম্বর ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের জন্য ভর্তির সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নুরুল ইসলাম জানান, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও প্রচলিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় তাঁদের সুযোগ সীমিত। তাঁদের মূলধারার উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ভর্তি নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন।

অনুষ্ঠানে অ্যালায়েন্স অব প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসের সভাপতি মোর্শেদুল ইসলাম দেশের উচ্চশিক্ষায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারণে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ ও প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, পর্যটকদের ফিরতে হবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, পর্যটকদের ফিরতে হবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেওয়ায় দুই দিক থেকে আসা পর্যটক ও যানবাহন মাঝপথে আটকা পড়ে।

সাধারণত খাগড়াছড়ি ও সাজেকের মধ্যে প্রতিদিন দুই দফায় সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। তবে অবরোধের কারণে রোববার যাতায়াত বিঘ্নিত হয়। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে যাওয়া পর্যটকেরা বাঘাইহাটের গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন। অন্যদিকে, সাজেক থেকে বের হওয়া পর্যটকেরাও মাচালং এলাকায় আটকে যান।

পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও আশ্বাসের পর বিকেল ৫টার দিকে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এরপর সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় আটকে পড়া পর্যটকেরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

অবরোধ প্রত্যাহার হলেও জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি