খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে প্রায় ১০ লাখ খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে (ফুড বিজনেস অপারেটর) তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সঙ্গে খাদ্য পণ্যের লেবেলিং ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভেজাল ও মানহীন খাদ্য নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। এই কর্মশালার আয়োজন করেছে আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগরের প্রায় ১০ লাখ ১৩ হাজার খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে নিবন্ধন ও লাইসেন্সিং একসঙ্গে সম্পন্ন করা যাবে। তালিকাভুক্তির মাধ্যমে প্রথমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। এরপর নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে। এতে একই তথ্য বারবার দিতে হবে না এবং পুরো প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ হবে।

খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জানান, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং একটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এ কাজে যুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কর বা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ নিয়ে যে শঙ্কা রয়েছে, তা দূর করতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে সেমিনার, চেম্বার অব কমার্স ও ব্যবসায়ী সংগঠনের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ভেজাল ও নকল খাদ্যের তথ্য দিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, কোথাও ভেজাল বা নকল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার তদারকিতে মোবাইল টেস্টিং ভ্যান ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ভ্যানে প্রাথমিকভাবে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা গেলেও চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, খাদ্য পরীক্ষার পুরো ব্যয় এখনও সরকার বহন করছে। কোনো পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয় এবং পরে পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। সম্প্রতি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানির ১০৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করেছে সরকার। উন্নত দেশে খাদ্য মান লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে অভিযানের সময় নানা চাপ ও বাধার মুখে পড়তে হয়। তা সত্ত্বেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্য উৎপাদন বা বিক্রি শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, এটি ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সততা ও দায়িত্বশীলতাও জরুরি।

কর্মশালায় খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) এখন বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগ বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্যাকেটজাত খাবারের পেছনে থাকা জটিল ‘নিউট্রিশন ফ্যাক্টস’ সাধারণ ভোক্তার জন্য বোঝা কঠিন হওয়ায় কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এই কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিংকে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এফওপিএল পদ্ধতিতে প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা বা চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, যাতে ভোক্তা দ্রুত বুঝতে পারেন কোন খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বি রয়েছে।

বিশ্বের ৪০টির বেশি দেশে বিভিন্ন ধরনের এফওপিএল মডেল চালু রয়েছে। চিলি ও মেক্সিকোতে কালো অষ্টভুজাকৃতি সতর্কবার্তা, যুক্তরাজ্যে ট্রাফিক লাইট এবং ফ্রান্সে নিউট্রি-স্কোর পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। চিলিতে এ ব্যবস্থা চালুর পর চিনিযুক্ত পানীয় ও জাঙ্ক ফুডের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাংলাদেশেও এফওপিএল চালুর জন্য একটি খসড়া বিধিমালা প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এতে উচ্চ চিনি, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কীকরণ চিহ্ন ব্যবহারের প্রস্তাব রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের জন্য চিলির মতো কালো অষ্টভুজাকৃতি সতর্কবার্তা মডেল সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে, কারণ এটি সহজে বোঝা যায় এবং সকল শ্রেণির মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিকর খাবার চিনতে পারেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ।

এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বিএসটিইএম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার মহুয়া, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এবং বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর রুহুল আমিন রুশদসহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাজশাহীতে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

রাজশাহী মহানগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৯ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ইসকাফ সিরাপ ও ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে বিশেষ মাদকবিরোধী টিম, মতিহার থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টিম মঙ্গলবার রাতে এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- মতিহার থানার সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল হকের ছেলে সাগর আলী, মোয়াজ্জেম আলীর ছেলে রাজিব আলী এবং মৃত সাঈদের ছেলে শিহাব আলী। এ মামলার পলাতক আসামি হলেন মতিহার থানাধীন চরসাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোজাহার আলীর ছেলে কামরুল ইসলাম এবং ইব্রাহিম আলী।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মতিহার থানার জাহাজঘাট-দাশমারী এলাকা থেকে সাগর আলীকে এবং চরসাতবাড়িয়া এলাকা থেকে রাজিব আলী ও শিহাব আলীকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক দুই আসামির বাড়িতে অভিযান চালানো হলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।

অভিযানের সময় গ্রেপ্তার আসামিদের দেহ তল্লাশি এবং পলাতক আসামিদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪৯ বোতল ভারতীয় ইসকাফ সিরাপ ও তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আরএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭০ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
লিবিয়া থেকে ফিরেছেন ১৭০ বাংলাদেশি

অনিয়মিত পথে ইউরোপ যেতে ইচ্ছুক ১৭০ বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে ঢাকায় ফিরেছেন। বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে বুরাক এয়ারের বিশেষ ফ্লাইটযোগে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপোলিস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন এই ১৭০ বাংলাদেশি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথ খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দু 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর দাবি শুভেন্দু 

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও জানান, রাজ্যের ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১ হাজার ৮০০ জন বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া বক্তৃতায় এই দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১ হাজার ৮০০ জন অবস্থান করছেন এবং পর্যায়ক্রমে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। আমরা প্রতিদিন অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাচ্ছি।’

জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে এ বিষয়ে ভারতীয় নাগরিকদের (যাদের ভোটার আইডি, আধার কার্ড ও অন্যান্য বৈধ নথি রয়েছে) উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন শুভেন্দু।

তিনি বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের, তারা যে ধর্মেরই হোন না কেন, চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেন্দ্রীয় সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনেই রাজ্য সরকার অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে কারণ এর সঙ্গে সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত।’

যারা স্বেচ্ছায় ভারত ছাড়তে চান, হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে তাদের চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই বলেও জানান তিনি।

শুভেন্দু বলেন, ‘ইতিমধ্যেই অনেক অভিবাসী হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে দেশ ছেড়েছেন। যারা স্বেচ্ছায় যেতে চান, তারা যেতে পারেন।’

বিজেপি সরকারের এই মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তার সরকার বাংলাদেশ সীমান্তে তারের বেড়া নির্মাণের জন্য এ পর্যন্ত বিএসএফকে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৬০০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, মাত্র দেড় মাস আগেই পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধীকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের চালু করা “শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং নির্বাসন” নীতির অংশ হিসেবে নথিপত্রহীন মুসলিমদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তে পুশইন ব্যাপক হারে বেড়েছে, যা দুই দেশের সীমান্ত জুড়ে গভীর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মূলত, বিজেপি সরকার রাজ্যের নথিপত্রহীন মুসলিম অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে। এই অভিযানটি শুধু বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় মুসলমানদের একাংশের মধ্যেও এই আশঙ্কা জাগিয়েছে যে, তারাও এমন একটি অভিযানের শিকার হতে পারেন, যে অভিযানটি তার লক্ষ্যবস্তুদের আইনি মর্যাদার পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের পরিচয়ের ভিত্তিতেও সমানভাবে পরিচালিত বলে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভারতের এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ অনৈতিক” বলে আখ্যা দিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, বিজেপির এই নিপীড়ন, সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশকে জাতিগত হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশটির ২০ কোটি মুসলমানকে প্রান্তিকীকরণ ও নিপীড়নের বৃহত্তর নীতিরই অংশ।

বিশ্বের অন্যতম মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

এই নির্বাসনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা ‍দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই, সেইসব আটককৃতদেরও আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে কোনো ভারতীয় নাগরিককে অন্যায়ভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা না হয়।’

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ