ডেঙ্গু মোকাবিলায় সেনা মোতায়েন করল শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। দেশটিতে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আদা দেরানা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে মহামারিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মশার প্রজনন ক্ষেত্র নির্মূল করতে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার কাজে জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে অনুমোদন দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ভিত্তিতে গতকাল সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসসা এবং প্রেসিডেন্টের সচিব নন্দিকা সানাত কুমারনায়েকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
দিশানায়েকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রচেষ্টা সম্প্রসারণে একটি পর্যবেক্ষণ ইউনিট প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে জনস্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা অংশ নেবেন, যারা স্থির জলাশয়য়ের মতো এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করবেন।
পাশাপাশি যেসব সম্পত্তির মালিক (বাসাবাড়ি, কারখানা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ) তাদের প্রাঙ্গণে মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগ দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করবেন।
এতে আরও বলা হয়, আগামীকাল বুধবার থেকেই দেশব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হবে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু এবং মশা বাহিত অন্যান্য ভাইরাস আরও দ্রুত এবং বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বৃষ্টি, সাম্প্রতিক বন্যার জমে থাকা পানি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ বছর দেশটিতে প্রায় ৫০ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা মধ্যে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে চলতি জুন মাসের শুরু থেকেই দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে দৈনিক ১ হাজার বেশি রোগী ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বাড়ি, স্কুল ও কর্মস্থলে জমে থাকা পানির জন্য নিয়মিত পরিদর্শন করতে এবং মশার সংখ্যা কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কায় ইতিহাসের ভয়াবহতম ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল, যেখানে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৪৪০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল, যা দেশটিতে ১৯৬২ সালে প্রথম ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ডেঙ্গুতে রেকর্ড আক্রান্ত ও প্রাণহানি।
সূত্র: আনাদোলু
কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array