খুঁজুন
                               
, ,
           

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যায় ইরানের তেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যায় ইরানের তেল

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করেই মালয়েশিয়ার উপকূলীয় জলসীমা ব্যবহার করে চীনের কাছে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার (২৫ জুলাই) ইরানের তেলবাহী জাহাজ ‘হিউম্যানিটি’ মালাক্কা প্রণালি ও সিঙ্গাপুর হয়ে মালয়েশিয়ার উপকূলের দিকে এগোচ্ছিল। হঠাৎ করেই জাহাজটির স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা— এআইএস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

স্যাটেলাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, ৩৩০ মিটার (১,০৮৩ ফুট) লম্বা এই অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি এখন মালয়েশিয়ার ‘ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস’ (ইওপিএল) এলাকায় পৌঁছেছে। প্রায় ১২০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই এলাকা দক্ষিণ চীন সাগরে উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজটি সম্ভবত অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিতেই ট্র্যাকিংয়ের বাইরে চলে গেছে। ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই তেলের চূড়ান্ত গন্তব্য চীন। ঐতিহাসিকভাবেই ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীন কিনে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, দশকের পর দশক ধরে ইওপিএল এলাকাটি ইরান, রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলের এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের পাঁচ মাসব্যাপী সংঘাত এবং ১৩ এপ্রিল থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত চলা ও ১৪ জুলাই পুনরায় শুরু হওয়া ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের পরও এই কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মেরিটাইম সিকিউরিটি মনিটরিং প্রজেক্ট সিলাইটের পরিচালক রে পাওয়েল আলজাজিরাকে জানিয়েছেন, এ বছরের শুরু থেকে তিনি এমন ৬২টি জাহাজ পর্যবেক্ষণ করেছেন, যেগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল, ইওপিএল, হংকং ও উত্তর চীনের মধ্যে চলাচলের সময় ভুয়া বা বাতিল পরিচয় ব্যবহার করেছে।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউন্সের মতে, এই জাহাজগুলো মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি নেটওয়ার্কের অংশ। তারা চীনের স্বাধীন ছোট শোধনাগার বা ‘টিপট’গুলোতে ইরানি তেল পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।

তিনি জানান, ইরান থেকে চীনে যাওয়া অপরিশোধিত তেল আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। উৎস গোপন রাখতে চীনে পৌঁছানোর আগে এই প্রক্রিয়া একাধিকবার হতে পারে।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, চীন সাধারণত সিএনপিসি, সিনোপেক এবং সিএনওওসি-এর মতো তাদের বড় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির বদলে ছোট ও স্বাধীন ‘টিপট’ শোধনাগারগুলোর মাধ্যমে এই তেল কেনে। এই ছোট শোধনাগারগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সাথে সরাসরি যুক্ত না থাকায় তারা নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে কম দামে ইরানি তেল সংগ্রহ করে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ইয়োকোসুকা কাউন্সিল অন এশিয়া-প্যাসিফিক স্টাডিজের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কর্মসূচির পরিচালক চার্লি ব্রাউন বলেন, মালয়েশিয়ার ইওপিএল সংলগ্ন নোঙর এলাকা আগের মতোই ব্যস্ত। যুদ্ধের আগে এবং সংঘাতের প্রতিটি পর্যায়েই সেখানে জাহাজ নোঙর করা ও জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মতো কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে।

তার মতে, মোটামুটি হংকংয়ের সমান আয়তনের হওয়ায়, ইওপিএল-এর একটি সুবিধা হলো এর শান্ত পরিবেশ, যা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সরবরাহকারীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট কাছাকাছি এবং ঐতিহাসিকভাবে একটি ধূসর আইনি পরিসরে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট দূরে।

এই ইওপিএল মালয়েশিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে হলেও এটি তাদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের আওতাভুক্ত। তবে এখানে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার চেয়ে মাছ ধরা ও প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের বিষয়গুলোই বেশি প্রাধান্য পায়। মালয়েশিয়ার মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি আগেই জানিয়েছিল, দুর্গম অবস্থান ও অধিক্ষেত্রগত সীমাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় টহল দেওয়া কঠিন।

কুয়ালালামপুর অবশ্য তাদের আইন শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। অবৈধ নোঙর, বাঙ্কারিং এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া ইইজেডে জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর ঠেকাতে গত জুনে মালয়েশিয়া তাদের ইইজেড আইন সংশোধন করেছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

চার্লি ব্রাউনের মতে, যেকোনো সাধারণ দিনেই ওই এলাকায় প্রায় ২০০টি জাহাজ নোঙর করা থাকতে পারে। এর অর্ধেকই সম্ভবত ইরানের সঙ্গে যুক্ত।

আলজাজিরার পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট তথ্যে দেখা গেছে, গত এক মাসে হিউম্যানিটিসহ ইরানের পতাকাবাহী ১৮টি তেলের ট্যাংকার ইওপিএল-এ পৌঁছানোর পর ট্র্যাকিংয়ের বাইরে চলে গেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আরেকটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ডোরকে মালাক্কা প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যেতে দেখা গেছে।

এছাড়াও একইদিন ইওপিএল-এ অন্তত ৫০টি মার্কিন বা ইইউ-নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত জাহাজ তাদের এআইএস সিগন্যাল চালু রেখে অবস্থান করছিল। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সেখানে আরও অনেক জাহাজ রয়েছে।

ইউরোপভিত্তিক সংস্থা জিওপলিটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেসের মতে, ইওপিএল-এ স্থানান্তরিত ইরানি তেলের কেনাবেচা চীনের ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেম বা সিআইপিএসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এর ফলে মার্কিন নজরদারিতে থাকা সুইফট নেটওয়ার্কের বাইরে গিয়ে চীনা মুদ্রা রেনমিনবিতে অর্থ পরিশোধ করা যায়।

প্রসঙ্গত, চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের তেল কেনার কথা স্বীকার করে না। ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইওপিএল-এর মাধ্যমে চীনে ইরানের তেল পরিবহনের বিষয়টি তাদের অজানা।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অতীতে বারবার বলেছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ‘অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা’ এবং আন্তর্জাতিক আইনে ভিত্তিহীন ‘দূরবর্তী এখতিয়ার’ প্রয়োগের বিরোধিতা করে।

গবেষক এরিকা ডাউন্স বলেন, গত বছর ইরান চীনে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করলেও চীনের কাস্টমসের তথ্যে এই তেল আমদানির কোনো হিসাব নেই। একই সময়ে মালয়েশিয়া থেকে চীনের আমদানি মাঝেমধ্যেই মালয়েশিয়ার নিজস্ব তেল উৎপাদনের পরিমাণকে ছাড়িয়ে যায়। এ থেকে বোঝা যায়, ওই তেলের একটি অংশ অন্য উৎস থেকে এসেছে।

অন্যদিকে বেইজিং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে নিজস্ব শোধনাগারগুলোকে রক্ষা করতেও পদক্ষেপ নিয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানি তেল কেনার দায়ে পাঁচটি টিপট শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সেই নির্দেশ ব্লক করে দেয়। তাদের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

চলতি সপ্তাহেও আরও ছয়টি তেলের ট্যাংকার ও হংকং-চীনভিত্তিক পাঁচটি কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, এগুলো ইরানের শ্যাডো ফ্লিটের সঙ্গে যুক্ত এবং চীনে তেল পরিবহন করেছে। এ বিষয়ে বেইজিং এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীনা শোধনাগারগুলোর ইরানি তেল কেনার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইওপিএল-এর মতো নেটওয়ার্কগুলো বাকি তেলের বিক্রি সচল রেখেছে।

চার্লি ব্রাউন বলেন, মার্কিন কঠোরতার কারণে সরবরাহ কিছুটা কমলেও এই ছায়া নেটওয়ার্কের কারণে ইরানের তেল বাণিজ্যকে পুরোপুরি স্তব্ধ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: আলজাজিরা

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪৪ অপরাহ্ণ
পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মহাসড়কে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা হ্রাস এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই যুগান্তকারী প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার শুভ উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে আজকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস্তবায়িত এই ব্যবস্থার সাফল্য ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল মহাসড়কে এই স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি চালু করার ঘোষণা দেন।

মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করে মন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা—তা মালিক পক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশের যে কারো পক্ষ থেকেই হোক না কেন—সবকিছুই এই সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় রেকর্ড হিসেবে জমা থাকবে। ফলে এই অপরাধমূলক প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ জনগণের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণরূপে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে।

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচল প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে অননুমোদিত ও লাইসেন্সহীন কোনো থ্রি-হুইলার বা নন-মোটরাইজড যান চলতে দেওয়া হবে না এবং এগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তবে পার্শ্ববর্তী স্থানীয় ফিডার রোড ব্যবহার এবং সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়টি শৃঙ্খলার সাথে সমন্বয় করার জন্য তিনি হাইওয়ে পুলিশ প্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও এডিশনাল আইজি ফারুক আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বাংলাদেশ পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অনুষ্ঠানে এই আধুনিক ও যুগোপযোগী উদ্যোগকে সফল করতে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর গৃহীত একটি সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম বা ওভারস্পিড, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, ট্রাফিক সাইন-সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে যানবাহন চালানো এবং অবৈধ পার্কিংসহ যেকোনো ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন এআই ক্যামেরায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড ও শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রযুক্তিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে তার তথ্য সরাসরি বিআরটিএ’র ডেটাবেজে চলে যাবে এবং স্বয়ংক্রিয় সংকেতের মাধ্যমে যানবাহনের নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিবরণ নিশ্চিত করা হবে। প্রাপ্ত সংবাদের পর যানবাহনের মালিকগণ তাঁদের সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এভাবে বারবার আইন লঙ্ঘন করার অপরাধ ঘটলে বিআরটিএ-র বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

১৭ বছরের অসুস্থতার পর মারা গেলেন মিশরীয় অভিনেতা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
১৭ বছরের অসুস্থতার পর মারা গেলেন মিশরীয় অভিনেতা

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্নায়ুতন্ত্রের জটিল রোগ মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসের (এমএস) সঙ্গে লড়াইয়ের পর মারা গেলেন মিশরের অভিনেতা আমর মোহাম্মদ আলী। সোমবার (১৭ আগস্ট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

অভিনেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মিশরের অভিনেতা সিন্ডিকেটের প্রধান আশরাফ জাকি।

১৯৮০-এর দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে পা রাখেন আমর মোহাম্মদ আলী। জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘আরাবেস্ক’-এ ‘শাকশাক’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান তিনি। তাঁর অভিনয় তখন ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

২০০৬ সালে প্রচারিত টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘হাদায়েক আল শায়তান’-এ অভিনয়ের পর আর পর্দায় দেখা যায়নি তাঁকে। এর পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় তাঁর দীর্ঘদিনের অসুস্থতা।

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এমন একটি রোগ, যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে স্নায়ুর প্রতিরক্ষামূলক আবরণে আক্রমণ করে। এর ফলে ধীরে ধীরে চলাফেরা, ভারসাম্য ও দৃষ্টিশক্তিসহ শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

আমর মোহাম্মদ আলীর ক্ষেত্রেও রোগটি ক্রমেই গুরুতর আকার ধারণ করে। অসুস্থতার কারণে একসময় অভিনয়জগৎ থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যেতে বাধ্য হন তিনি।

তাঁর ভাই আহমেদ জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগের কয়েক দিনে অভিনেতার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তিনি নিজে দাঁড়াতে পারতেন না। এমনকি কথা বলা ও খাওয়াদাওয়াও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

দীর্ঘদিন পর্দার বাইরে থাকার পর সুস্থ হয়ে আবার অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা ছিল আমর মোহাম্মদ আলীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের অসুস্থতার কাছে হার মানলেন তিনি।

শিশুশিল্পী থেকে জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেতা হয়ে ওঠা আমর মোহাম্মদ আলীর অভিনয়জীবন দীর্ঘ না হলেও ‘আরাবেস্ক’-এর ‘শাকশাক’ চরিত্রের মাধ্যমে মিশরের দর্শকদের মনে তিনি আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন।

কালের আলো/এসএ

উপজেলাতেই মিলবে উন্নত চোখের চিকিৎসা, থাকবে অপারেশন থিয়েটার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৪ অপরাহ্ণ
উপজেলাতেই মিলবে উন্নত চোখের চিকিৎসা, থাকবে অপারেশন থিয়েটার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি উপজেলায় নির্মাণাধীন ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে চোখের চিকিৎসার জন্য আলাদা আউটডোর, ইনডোর ও অপারেশন থিয়েটার সুবিধা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

একইসঙ্গে দেশে প্রায় ১০ লাখ চোখের ছানি অপারেশন, কয়েক কোটি চশমা বিতরণ এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি চিকিৎসার লক্ষ্য নিয়ে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার প্ল্যান’ চূড়ান্ত করছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হু স্পেকস ২০৩০ ইনিশিয়েটিভ’ -এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘হু স্পেকস ২০৩০ ইনিশিয়েটিভ’।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. মুহিত বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আধুনিক চক্ষু সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ চলছে। প্রায় ৫০০টি উপজেলায় চোখের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা রাজধানীতে ছুটতে না হয়।

তৃণমূলের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় থাকা এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর প্রশিক্ষণে ‘প্রাইমারি আই কেয়ার’ বা প্রাথমিক চক্ষু সেবা একটি আবশ্যক অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো সমন্বয় করে খুব দ্রুত অন্তত অর্ধেক জেলায় নিয়মিত ছানি অপারেশন ও রিফ্রাকশন সেবা জোরদার করা হবে।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এনআইওএইচ-এর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে। একইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের এনজিওগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশের চক্ষু সেবার সাফল্য তুলে ধরার পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. এম এ মুহিত জানান, বিগত ছয় মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চক্ষু সেবার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তৎপরতায় বাংলাদেশ একটি গ্লোবাল সামিট আয়োজনের বড় প্রতিশ্রুতিও অর্জন করেছে। সরকারের লক্ষ্য আগামী ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে দেশের চক্ষু চিকিৎসা খাতে একটি যুগান্তকারী ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ.এস.এম.এম. কাদির, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক উপদেষ্টা ডা. তাশি তবগে এবং বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ