খুঁজুন
                               
, ,
           

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা চরমোনাই পীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা চরমোনাই পীরের

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

একই সঙ্গে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থে দায়িত্ব পালনের জন্য নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, নেক হায়াত ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়াও করেন তিনি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে অলংকারিক দায়িত্ব পালন করতে হলেও রাষ্ট্রপতির পদটি দলীয় বৃত্তের ঊর্ধ্বে। রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বজনীন ঐক্য ও সর্বজনের আস্থার প্রতীক। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে বিএনপির মহাসচিবের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।’

পীর চরমোনাই বলেন, ‘নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন, এটাই প্রত্যাশা। দেশ ও জাতির স্বার্থে তিনি নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমরা আশা করি।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে সততা এখন বিরল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সততার ক্ষেত্রে একজন পরীক্ষিত ব্যক্তি। একই সঙ্গে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি একজন পোড়খাওয়া সেনাপতি। সুষ্ঠু রাজনীতির বিকাশে তার সাধনা সর্বজনবিদিত।’

মুফতি রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘এমন একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির আসনে সমাসীন হওয়া রাজনীতির জন্য ইতিবাচক। যে আশাবাদ নিয়ে তিনি বঙ্গভবনে যাচ্ছেন, সেই আশাবাদকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করছি।’

এরআগে এদিন ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ফলাফলে ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ৮৮ ভোট পান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

অভিজ্ঞ মঈন খানের মন্ত্রিসভায় প্রত্যাবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
অভিজ্ঞ মঈন খানের মন্ত্রিসভায় প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

ড. আবদুল মঈন খান ছাড়াও এদিন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও সাচিং প্রু জেরী। একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

নরসিংদীর পলাশের সংসদ সদস্য ড. মঈন খান দেশের রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন, মার্জিত ও তাত্ত্বিক রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদীতে জন্ম নেওয়া মঈন খান উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সে। ১৯৭৩ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি শিক্ষকতা ও সরকারি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর নরসিংদী-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথমে তথ্যমন্ত্রী এবং পরে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মন্ত্রিসভায় ফেরায় ড. মঈন খানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

কলকাতার আগুনে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে শনিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
কলকাতার আগুনে নিহত ৬ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে শনিবার

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

নিহতদের মরদেহ সংরক্ষণ, ময়নাতদন্ত ও দেশে পাঠানোর যাবতীয় খরচ বহন করছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশন। শুক্রবার রাতে মরদেহগুলো কলকাতার পার্ক সার্কাসের পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘরে রাখা হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমীন, তাদের সন্তান শর্ণশীষ দত্ত ও মো. আকরাম আলীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইভাবে সাভারের আহামেদ বাবু এবং সাতক্ষীরার এসএম আলিমুজ্জামানের মরদেহও স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়।

পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি অনুমতি সম্পন্ন করে মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে প্রয়োজনীয় ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিহত সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতাতেই সৎকার করা হবে। তার মরদেহ কলকাতার নিমতলা শ্মশানে শেষকৃত্যের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে মুখ খুলল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে মুখ খুলল ভারত

চলতি মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত নতুন প্রতিরক্ষা জোটে (মক্কা চুক্তি) বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের গুঞ্জন নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ভারত।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান— সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক জোট এবং এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার গুঞ্জনটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলবে?

জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে নয়াদিল্লি। এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কিছু বলার নেই’।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এর আগে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে তার অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে যে প্রশ্নটি করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমার আপাতত কিছুই বলার নেই। আমার কাছে কোনো আপডেট থাকলে তা আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।’

আরেক সাংবাদিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমান অবস্থা জানতে চান।

জবাবে জয়সওয়াল স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নদী-সম্পর্কিত সব বিষয় যৌথ নদী কমিশনের আওতায় আলোচনা হয়। পাশাপাশি গঙ্গা পানি চুক্তির অধীনে যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ হলো— সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় সম্মিলিত প্রতিরক্ষা চুক্তি।

গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় এই তিন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব—সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির প্রধান শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তাকে সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে, যা পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর ‘আর্টিকেল-৫’ এর মতো একটি যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এই জোটে যোগদানের কোনো আনুষ্ঠানিক বা চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ইঙ্গিত দিয়েছেন, বদলে যাওয়া আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যেকোনো জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেবে।

ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বড় উদ্বেগের জায়গা হলো পাকিস্তান। এখন বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের সামরিক অংশীদারিত্বের জোটে যোগ দেয়, তবে তা দিল্লির জন্য অস্বস্তির বড় কারণ হবে।

বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর দিল্লির যে একচেটিয়া আঞ্চলিক প্রভাব ছিল, তা ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে। তুরস্কের কাছ থেকে বাংলাদেশের অস্ত্র কেনা বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করার বিষয়গুলোকে তারা সতর্কসংকেত হিসেবে দেখছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ