খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস-২০২৬ কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ানে এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, সমতা, ন্যায্যতা ও ভারসাম্যের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা, সম্মান ও দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করছেন প্রধানমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বিদেশ সফর কাভার করতে অনেক সাংবাদিক ঢাকা ও মালয়েশিয়া থেকে দালিয়ানে এসেছেন।

মাহদী আমিন জানান, গত রাতে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ ২১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার আটজন রয়েছেন।

তিনি বলেন, এই প্রতিনিধি দল সীমিত পরিসরেই বহুপাক্ষিক আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরছে। চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানিয়ে মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে হোটেলে পৌঁছে দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চীনের এই সম্মাননার জন্য তিনি দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও রাজাসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।

মাহদী আমিন আরও জানান, চীনে এসে প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং বহুপাক্ষিক বিষয়ে বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।

ডব্লিউইএফ আয়োজিত সামার দাভোস ২০২৬–এ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, শিক্ষাবিদ ও করপোরেট নেতারা অংশ নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান। এবারের প্রতিপাদ্য ‘Innovating at Scale’।

প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, এটি একজন সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বৈশ্বিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ। এর উদ্দেশ্য বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নকে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সঙ্গে যুক্ত করা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত—এই বার্তার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থাশীল ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি জানান, ডব্লিউইএফ প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জুইংগি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা নিয়ে আলোচনা হয় এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রশংসা করা হয়।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় ডব্লিউইএফ’র “ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন আ শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ” শীর্ষক সেশনে বক্তব্য রাখেন।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারভিত্তিক পরিকল্পনার মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখনন, পদ্মা ও তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, সবুজ শিল্প বিকাশে পাট শিল্প ও পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যানবাহন চালু এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়, বরং সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বিনিয়োগ।

তিনি আরও জানান, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল (Loss and Damage Fund) কার্যকর বাস্তবায়ন, জলবায়ু অর্থায়ন সহজলভ্য করা এবং অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন।

প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ দায়িত্বের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

মাহদী আমিন জানান, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে আয়োজিত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বস্ত্রীক অংশ নিচ্ছেন। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, গিনি, মন্টেনিগ্রো ও কাজাখস্তানের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে উপস্থিতি ও আলাপচারিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামীকাল বুধবার (২৪ জুন) সকালে “অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স”-এ প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। এরপর দুপুরে দালিয়ান থেকে হাই স্পিড ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দেবেন, যেখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে।

তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশে যেমন আস্থা অর্জন করেছেন, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মর্যাদাসম্পন্ন অবস্থান তৈরি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সমতা, ন্যায্যতা ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে কার্যকরভাবে তুলে ধরছে।

মাহদী আমিনের মতে, দালিয়ানে ডব্লিউইএফ সামার দাভোসে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা গ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা বাড়াবে।

প্রেস কনফারেন্স শেষে তিনি জানান, বেইজিংয়ের কার্যক্রম সম্পর্কেও পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।  তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ। সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্ষমতার ভারসাম্যে সংবিধান সংশোধন হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সংবিধানের কয়েকটি ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং কয়েকটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, কয়েকটি কমিশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব কমিশন থেকে এসেছিল। এ নিয়ে আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ছয়টি সংস্থার বিষয় উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ছয়টি সংস্থার মধ্যে চারটির বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। বাকি দুটি সংস্থার বিষয়ে মোটামুটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তবে কোন ছয়টি সংস্থার নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর নাম উল্লেখ করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কমিটির আলোচনায় কোনো বিষয়ে কারও সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, লিখিতভাবে পাওয়া মতামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ এবং আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে জানা যায়।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংশোধন আনা হচ্ছে। কয়েকটি সংস্থার নিয়োগক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও সেই উদ্যোগের অংশ।

সংবিধান সংশোধনের এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের প্রস্তাবে রূপ নেয় এবং কোন কোন সংস্থার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, তা কমিটির পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ
মাদকমুক্ত যুবসমাজ গড়তে খেলাধুলায় জোর, আন্তর্জাতিক সাফল্যে উন্নত প্রশিক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

একজন তরুণের হাতে মুঠোফোন বা মাদকের বদলে যদি থাকে খেলার সরঞ্জাম, সামনে থাকে নিয়মিত অনুশীলন আর লক্ষ্য থাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব—তাহলে বদলে যেতে পারে তার ভবিষ্যতের গতিপথ। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রেখে সম্ভাবনাময় নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের এমন ভূমিকাই গুরুত্ব পেয়েছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে। তাঁর ভাষায়, ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে যুবসমাজই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম বয়ে আনবে। এদিন, মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বার্তা—একদিকে মাদক থেকে যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, অন্যদিকে তাদের প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে জাতীয় সম্পদে রূপান্তর করা।

  • ‘মাদক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়’—কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপে সমাজকল্যাণমন্ত্রী
  • শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান,
  • ৭৯ দলের প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ

মাদক থেকে দূরে রাখতে চাই বিকল্প ও সম্ভাবনার পথ
তরুণদের মাদকমুক্ত রাখার আলোচনা প্রায়ই সচেতনতা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে তরুণদের গঠনমূলক কাজে যুক্ত করার বিষয়টি। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো গেলে শিশু-কিশোর ও তরুণেরা নিজেদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র পাবে।

খেলাধুলা নিয়মশৃঙ্খলা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। কিন্তু এসব সুফল পেতে শুধু প্রতিযোগিতার আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, দক্ষ প্রশিক্ষক, সহজলভ্য মাঠ ও ক্রীড়া অবকাঠামো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক পরিচর্যা।

মন্ত্রী বলেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বাড়াতে পারবে। এ বক্তব্যে মাদক প্রতিরোধের পাশাপাশি তরুণদের দক্ষতা বিকাশ ও ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।

‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকমুক্ত ও সুস্থ ধারায় পরিচালিত করতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতির বিকাশে বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। শিশু-কিশোর ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আয়োজন করা হয়েছে। সন্তানদের নিয়মিত খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতে উৎসাহিত করতে অভিভাবকদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে পরিবারের উৎসাহের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ক্রীড়াচর্চায় অংশগ্রহণের পরিসর আরও বিস্তৃত হতে পারে।

দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। দেশপ্রেমের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি চিন্তা ও কাজের শুরুতেই থাকতে হবে দেশ। তাঁর এই বক্তব্যে তরুণদের ব্যক্তিগত বিকাশের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তরুণদের মধ্যে সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্মিলিতভাবে লক্ষ্য অর্জনের অভ্যাস তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

৫৯ ইভেন্টে লড়াই, অংশ নিলেন প্রায় ১,৬০০ প্রতিযোগী
দুই দিনব্যাপী ‘জুনিয়র ন্যাশনাল কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এ দেশের ৭৯টি দলের প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। মোট ৫৯টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন খেলোয়াড়েরা। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইভেন্টের বিজয়ীদের হাতে মেডেল ও ট্রফি তুলে দেন মন্ত্রী। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক জাহিদ পারভেজ চৌধুরী, সোতোকান কারাতে দো ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাদাত হোসেন এবং বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি শাহজাদা আলম। এ ছাড়া ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রীড়া সংগঠক, প্রশিক্ষক ও খেলোয়াড়েরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে