খুঁজুন
                               
, ,
           

সেই অনাথ শিশুকন্যার দায়িত্ব নিয়ে পাহাড়িদের আস্থা-নির্ভরতায় বিজিবি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
সেই অনাথ শিশুকন্যার দায়িত্ব নিয়ে পাহাড়িদের আস্থা-নির্ভরতায় বিজিবি

মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মমতাময়ী স্কুল শিক্ষিকা মা সুমতি চাকমাকে হারিয়ে অকূল পাথারে পড়েন শিশুকন্যা প্রাপ্তি চাকমা। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক-মাচলং সড়কে শনিবার (১৮ জুলাই) ঘটে এই দুর্ঘটনা। কোনো সান্ত্বনায় থামছিল না আট বছরের ছোট্ট শিশুটির চোখের পানি। এই শিশুর ভরণপোষণ, লেখাপড়া ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অনন্য মানবিক মূল্যবোধে শিশুটির সুন্দর আগামী নিশ্চিতে গ্রহণ করা হয়েছে কার্যকর উদ্যোগ।

স্থানীয় মারিশ্যা ২৭ বিজিবি জোনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহিদুল ইসলাম সোমবার (২০ জুলাই) সকালে বাবাসহ অনাথ শিশুটিকে স্থানীয় জোন কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে স্নেহের পরশে বুকে টেনে নিয়েছেন। জাহিদুল ইসলাম শিশু প্রাপ্তিকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। তাঁর পড়ালেখা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। পাশাপাশি নিহত শিক্ষিকার ঋণের দায়ভার পর্যালোচনা করে তা পরিশোধে বিজিবির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

জোন কমান্ডারের এই উদ্যোগ কেবলই মাত্র মানবিকতাকেই মুখ্য করে তুলেনি বরং একটি বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সীমান্ত শার্দুলদের নিত্যকার নি:স্বার্থ দায়িত্ববোধের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছে। যেখানে অশ্রু মুছে হাসি ফোটানোর এক অদম্য সংকল্পের বার্তা রয়েছে। স্থানীয় পাহাড়িদের বিজিবির অনন্য এই মেলবন্ধন যেন পারস্পরিক আস্থা-নির্ভরতার উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এর আগে গত শনিবার (১৮ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ যায় স্থানীয় স্কুল শিক্ষিকা সুমতি চাকমার। মূলত পাহাড়ি অটোরিকশা চালক হবেন্দ্র ত্রিপুরার (৪৪) অদক্ষতা ও বেপরোয়া গতি এই দুর্ঘটনার কারণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অটোরিকশা চালকের লাইসেন্স ছিল না। গাড়িটিও মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেসের। সিএনজি মালিকের পরিচয় নিয়েও জনমনে রয়েছে বিভ্রান্তি।

সাজেকে যাতায়াত করা অনেক পর্যটক জানান, উঁচু পাহাড়ে সাধারণত ডিজেল বা পেট্রোলচালিত গাড়ি চলার কথা। কিন্তু সেখানে সিএনজিচালিত তিন চাকার গাড়ির বেপরোয়া গতিতে চলাচলের প্রবণতা সড়কগুলোতে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ, নি:স্ব করছে অনেক পরিবারকে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের অভাবে এসব অবৈধ যানের দৌরাত্ম বেড়েছে।

শিশু প্রাপ্তি চাকমা চিরদিনের মতো হারিয়েছেন নিজের মাকে। বুকফাটা নি:শব্দ এক আর্তনাদ, ক্ষত ও গভীর শোকাতাপ বিজিবির হৃদয়-মস্তিষ্ককে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। অনাথ শিশুটিকে দেখভালের পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে একটি পরিবারের একটি শিশুর বেঁচে থাকার অদম্য আকাঙ্ক্ষাকে জাগরূক রেখে সীমান্তরক্ষীরা ছড়িয়ে দিয়েছে মানবতার আলো।

এদিন অসহায় শিশু প্রাপ্তি চাকমার জীবনে আশার আলো হয়ে আসা বিজিবির জোন কমান্ডারের মানবিক মূল্যবোধের এই উদাহরণ আপ্লুত করেছে সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমাসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও। তাঁরাও বলছেন, মমতা ও সহমর্মিতার এই চর্চা শিশুটিকে সুন্দর, ইতিবাচক ও আলোকিত ভোর উপহার দিবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

কালের আলো/এমএএএমকে

ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৪৯, মামলা ৪৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৪৯, মামলা ৪৩

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে তাদের বিরুদ্ধে ৪৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, তাদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩১ জন, লালবাগ বিভাগে ১৯ জন, ওয়ারী বিভাগে ৩৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ২৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৮ জন, মিরপুর বিভাগে ৯৩ জন, গুলশান বিভাগে ৩৬ জন, উত্তরা বিভাগে ৩২ জন, সিটিটিসির অভিযানে ২ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ১৪ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে তাদের হেফাজত থেকে ৩ হাজার ৩৫৬ পিস ইয়াবা, ১৪ কেজি ৫২০ গ্রাম গাঁজা, ৯৯ বোতল বিদেশি মদ, ৬৩টি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট, চারটি চাকু, ৮০টি সিমকার্ড, পাঁচটি মোবাইল চার্জার, দুটি মাল্টিপ্লাগ এবং একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা, কমল বিমান ভাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা, কমল বিমান ভাড়া

হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পর ২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’–এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এছাড়া হজযাত্রীর বিমান ভাড়া ৩৭ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ দুই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

‘হজ প্যাকেজ-১’-এর আওতায় হজযাত্রীরা মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা পাবেন। মিনায় তাদের তাঁবু থাকবে জোন-২–এ। এছাড়া মিনা ও আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে। এ প্যাকেজে সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫ থেকে ৪০ দিন।

এ ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে রুম আপগ্রেড এবং স্বল্পমেয়াদি (সর্ট) প্যাকেজ সুবিধাও গ্রহণ করা যাবে। এ প্যাকেজের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

অন্যদিকে ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’ তুলনামূলক কম খরচের। এ প্যাকেজের আওতায় মক্কায় হারাম শরীফ থেকে দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনায় তাঁবুর অবস্থান হবে জোন-৫–এ। মিনা ও আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ অনুযায়ী সেবা এবং মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

হোটেল যদি হারাম শরীফ থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হয়, তাহলে সৌদি সরকারের বিধান অনুযায়ী হজযাত্রীদের জন্য সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা রাখা হবে। এ সাশ্রয়ী প্যাকেজের খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

২০২৫ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। একটি প্যাকেজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজে (মসজিদুল হারামের আশপাশের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে বাড়ি ) ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। অপর প্যাকেজে (মসজিদুল হারামের আশপাশের দেড় কিলোমিটারের মধ্যে বাড়ি) ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

এক বছরে সাড়ে চার মিলিয়ন মামলা কমিয়ে দুই মিলিয়নে আনার আশা আইনমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
এক বছরে সাড়ে চার মিলিয়ন মামলা কমিয়ে দুই মিলিয়নে আনার আশা আইনমন্ত্রীর

মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার জট সাড়ে চার মিলিয়ন (৪৫ লাখ) থেকে কমিয়ে আগামী এক বছরের মধ্যে দুই মিলিয়নে (২০ লাখ) আনার আশা প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলাগুলোকে অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হয়।
মামলার জট কমাতে মধ্যস্থতা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার চাপ কমে আসবে। আরও উদ্যোগ নেওয়া গেলে এ সংখ্যা আরও কমানো সম্ভব হবে। এতে আদালতে প্রতিদিন নতুন করে যে মামলার স্তূপ তৈরি হচ্ছে, সেটিও কমে আসবে।

তিনি বলেন, আদালতগুলোকে অনুরোধ করবো, বিচার প্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে যখন দেখবেন কোনো মামলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, তখন দুই পক্ষের আইনজীবী অথবা জেলা লিগ্যাল এইডের আওতায় থাকা মিডিয়েটরের কাছে বিষয়টি পাঠানো যেতে পারে।

আইনমন্ত্রী বলেন, পোস্ট ফাইলিং মামলাগুলোও যদি মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যায়, বিশেষ করে তফসিলভুক্ত আইনগুলোর ক্ষেত্রে, তাহলে আমরা বিশ্বাস করি আগামী এক বছরের মধ্যে সাড়ে চার মিলিয়ন পেন্ডিং মামলা দুই মিলিয়নে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। এটি করতে পারলে বিচার বিভাগের জন্য একটি আশার আলো তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে মানুষের হয়রানি কমবে। মামলায় জড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানুষও উপকৃত হবেন।

আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়া জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। জনগণের জানা দরকার, সরকার সরকারি অর্থে মানুষকে শুধু মামলা-মোকদ্দমা থেকে দূরে রাখতে চাচ্ছে না, বরং অসহায়, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তিনি এ উদ্যোগটি জনস্বার্থ ও জনকল্যাণে আরও কার্যকর করতে প্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

কালের আলো/এসআর/এএএন