খুঁজুন
                               
, ,
           

সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় ‌ভিত্তিতে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় ‌ভিত্তিতে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

সশস্ত্র বাহিনীকে কোনোভাবেই দলীয় রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাওয়া হেলমেট হলে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও রাওয়ার যৌথ উদ্যোগে ফিরে দেখা জুলাই অভ্যুত্থান-২০২৪ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

শামছুল ইসলাম বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, জুলাইকে অবহেলা করে, জুলাইকে অস্বীকৃতি জানিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭১ সাল যেমন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুশাসন ও মানুষকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। সেই চেতনা ধারণ করেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের কাজ করছে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনার মূল ভিত্তি হলো বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। এ চেতনার তিনটি প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে বৈষম্যের অবসান, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় সংহতি ও পুনর্মিলন।

তিনি দাবি করেন, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের তিনটি শ্রেণিতে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে এবং এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ ও আহত যোদ্ধা পরিবারের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে। তাঁদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে বোর্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মেজর সিনহা হত্যা ও বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জানিয়ে শামছুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে শিগগির দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

শামছুল ইসলাম বলেন, বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পেশাদার, রাজনীতিমুক্ত ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনে মেধা ও যোগ্যতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো ব্যক্তি বা দলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না; বাহিনীর আনুগত্য থাকবে সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি।

জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে অর্থনৈতিক, খাদ্য, সাইবার, তথ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপদেষ্টা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও জাতি পুনর্গঠনে ঐক্যের বিকল্প নেই। বিভক্ত হলে আধিপত্যবাদী শক্তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সত্য ও ইতিহাস যেন অপব্যাখ্যা, বিভ্রান্তি বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তাঁর অভিযোগ, কেউ কেউ জুলাইকে নিজেদের রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।

কালের আলো/এসএকে

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে দেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে দেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী

তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে দেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এই চালিকাশক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলনকে কেবল একটি সাধারণ আয়োজন নয়, বরং আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম কারিগরদের মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাদের অনেকেই নিজ উদ্যোগে এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সামিটে অংশ নিয়েছেন। বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যা হবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।

চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সেমিকন্ডাক্টরকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ও মহাকাশের স্যাটেলাইট- প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্য অপার সুযোগ বিদ্যমান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে আমরা একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনা করছি। তবে এই খাতের উন্নয়ন একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত জাতীয় মিশন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প মালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের একযোগে এই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

এ খাতকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন নতুন উদ্ভাবন বাস্তবায়নে সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ বরাদ্দ রেখেছে, যার বণ্টন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ টানতে শুল্কমুক্ত (বন্ডেড) সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে। আমাদের মেধা, দক্ষ তারুণ্য এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব। সরকার আপনাদের স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

কালের আলো/এসএকে

মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে: ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে: ভূমিমন্ত্রী

Oplus_131072

মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অডিটোরিয়ামে ২০২৬-শিক্ষাবর্ষের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যাতে মাদকাসক্ত না হয়ে পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে। একজন ব্যক্তির পক্ষে, সরকারের পক্ষে একা কখনো এটা রোধ করা সম্ভব নয়। এটা রোধ করতে পারে গোটা জাতি ও আমাদের দেশের জনগণ। এতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন শিক্ষক সমাজ।

তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনারা চেষ্টা করবেন এই মাদক থেকে ছাত্ররা, বাচ্চারা যেন দূরে থাকে। ভালো ছাত্ররাই অনেক সময় ইফেক্টেড হয়। যদি জানতে পারেন তাহলে বাসায় চলে যাবেন। নিজ সন্তানের মতো বাবা-মাকে সাথে নিয়ে বসে আলোচনা করুন, তাকে উপদেশ দেবেন। এই কঠিন বিপদ থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য তাকে আসক্তিমুক্ত করবেন। ঘৃণা করে আইনের হাতে ঠেলে দিলে সে আরো খারাপের পথে যাবে। তাকে ভালোবাসা, মমতা, শিক্ষা দিয়ে ভালো পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ১৮ বছর এর না হলে কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না। আমি আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এটাতে আমরা যাবো।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি জানি আপনারা আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো জানেন। আমি খুবই আনন্দবোধ করছি, যেই প্রতিষ্ঠানে আজকে আমার ছাত্র-ছাত্রী, ভাই বোনেরা নির্বাচিত হয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে শপথ নিয়েছে। এই শপথটাই আমাকে সেই দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এরকম শপথ আমিও নিয়েছিলাম। এটি ক্ষমতা নয়, এটি দায়িত্ব। অল্প বয়সের অনেকের অনেক লোভ হয়, কিন্তু আমরা যেন কেউ লোভে না পড়ি। আজকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, আমি তাদের সফলতা চাই।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শুধু রাজশাহী নয়, বাংলাদেশ নয়, এই পুরো মহাদেশে, সারাবিশ্বে অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদ সৃষ্টি করেছে। আপনারা এই প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রদূত। আপনাদের কথাবার্তা, আপনাদের চলাচল, আপনাদের অনেক শিক্ষা আর সবকিছুই অন্যরা দেখবে। রাজশাহী, রাজশাহীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ যেটা আজকে চিন্তা করে, সারা দেশই তার পরে চিন্তা করে। আপনারা সেই গর্বিত প্রতিষ্ঠানের ট্রেনিং, শিক্ষা এবং ডিগ্রি অর্জন করতে এসেছেন। আপনাদের অনেক সমস্যা আছে। সরকার বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ করেছে। আমরা একটা হোস্টেলের কথা লিখেছিলাম। কিন্তু এখন দেখি ছাত্র-ছাত্রী ভাইদের মনে দুঃখ হবে, সেই জন্য দু’টি নতুন হোস্টেল যেন হয় তার ব্যবস্থা করা হবে।

কালের আলো/এসএকে

বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতার ওপর জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকতা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তাই সাংবাদিকদের অ্যাক্টিভিস্ট নয়, বরং তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা উচিত।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’-এর এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যথাযথ তথ্য-উপাত্ত ছাড়া কোনো তথ্য সংবাদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না; তা কেবল মতামত হতে পারে। তিনি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্যানেল আলোচনায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য, অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও দৈনিক ওয়াদা-এর সম্পাদক শফিকুল আলম, হিমাল সাউথ এশিয়ান-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মনি দীক্ষিত, দ্য হিন্দু পত্রিকার কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ ও চ্যালেঞ্জের ধরন ভিন্ন হলেও এর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে একই রকম। তারা স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে, পরে দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ-এ প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সেখানে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র, শিল্প ও সেবা খাতের দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, এআই নিয়ে কাজ করা এখন সময়ের দাবি এবং এর সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মেলনে প্রযুক্তিবিদ প্রণব যোগেন্দ্র ব্রহ্মভট্ট, ব্যারিস্টার তাসমিয়া রহমান প্যাটেল, টেরি কে. রুপার্টসহ দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেন।

‘বেঙ্গল ডেলটা কনফারেন্স ২০২৬’ তথ্যমন্ত্রী বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি