খুঁজুন
                               
, ,
           

মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে: ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে: ভূমিমন্ত্রী

Oplus_131072

মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অডিটোরিয়ামে ২০২৬-শিক্ষাবর্ষের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যাতে মাদকাসক্ত না হয়ে পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে। একজন ব্যক্তির পক্ষে, সরকারের পক্ষে একা কখনো এটা রোধ করা সম্ভব নয়। এটা রোধ করতে পারে গোটা জাতি ও আমাদের দেশের জনগণ। এতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন শিক্ষক সমাজ।

তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনারা চেষ্টা করবেন এই মাদক থেকে ছাত্ররা, বাচ্চারা যেন দূরে থাকে। ভালো ছাত্ররাই অনেক সময় ইফেক্টেড হয়। যদি জানতে পারেন তাহলে বাসায় চলে যাবেন। নিজ সন্তানের মতো বাবা-মাকে সাথে নিয়ে বসে আলোচনা করুন, তাকে উপদেশ দেবেন। এই কঠিন বিপদ থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য তাকে আসক্তিমুক্ত করবেন। ঘৃণা করে আইনের হাতে ঠেলে দিলে সে আরো খারাপের পথে যাবে। তাকে ভালোবাসা, মমতা, শিক্ষা দিয়ে ভালো পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ১৮ বছর এর না হলে কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না। আমি আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এটাতে আমরা যাবো।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি জানি আপনারা আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো জানেন। আমি খুবই আনন্দবোধ করছি, যেই প্রতিষ্ঠানে আজকে আমার ছাত্র-ছাত্রী, ভাই বোনেরা নির্বাচিত হয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে শপথ নিয়েছে। এই শপথটাই আমাকে সেই দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এরকম শপথ আমিও নিয়েছিলাম। এটি ক্ষমতা নয়, এটি দায়িত্ব। অল্প বয়সের অনেকের অনেক লোভ হয়, কিন্তু আমরা যেন কেউ লোভে না পড়ি। আজকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, আমি তাদের সফলতা চাই।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শুধু রাজশাহী নয়, বাংলাদেশ নয়, এই পুরো মহাদেশে, সারাবিশ্বে অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদ সৃষ্টি করেছে। আপনারা এই প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রদূত। আপনাদের কথাবার্তা, আপনাদের চলাচল, আপনাদের অনেক শিক্ষা আর সবকিছুই অন্যরা দেখবে। রাজশাহী, রাজশাহীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ যেটা আজকে চিন্তা করে, সারা দেশই তার পরে চিন্তা করে। আপনারা সেই গর্বিত প্রতিষ্ঠানের ট্রেনিং, শিক্ষা এবং ডিগ্রি অর্জন করতে এসেছেন। আপনাদের অনেক সমস্যা আছে। সরকার বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ করেছে। আমরা একটা হোস্টেলের কথা লিখেছিলাম। কিন্তু এখন দেখি ছাত্র-ছাত্রী ভাইদের মনে দুঃখ হবে, সেই জন্য দু’টি নতুন হোস্টেল যেন হয় তার ব্যবস্থা করা হবে।

কালের আলো/এসএকে

এফএসআরইউ মেরামতে দেশি-বিদেশি টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে: পেট্রোবাংলা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
এফএসআরইউ মেরামতে দেশি-বিদেশি টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে: পেট্রোবাংলা 

কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকা এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত করে দ্রুত চালু করতে দেশি-বিদেশি টেকনিক্যাল টিম নিরলস কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব মেরামত কার্যক্রম সম্পন্ন করে টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৫ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে দেখা দেওয়া কারিগরি ত্রুটি মেরামত করে চালু করার জন্য দেশি ও বিদেশি টেকনিক্যাল টিম নিরলস কাজ করছে। যত দ্রুত সম্ভব এ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো নতুন আপডেট পাওয়া গেলে পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। বাসাবাড়ি, শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।

সাময়িক এ অসুবিধার জন্য সম্মানিত গ্যাস গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।

কালের আলো/এসএকে

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে বসছে অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিকম নেটওয়ার্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে বসছে অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিকম নেটওয়ার্ক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনালে দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা নিশ্চিত হবে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম’ (অ্যাক্টিভ ডাস) বসানো হবে। এর সাথে যুক্ত থাকবে শত শত স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট।

পুরো টার্মিনাল কমপ্লেক্সজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪জি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ৫জি সংযোগ দিতে এই ব্যবস্থা ডিজাইন করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, এই নেটওয়ার্ক স্থাপন কাজের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হবে।

প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক মূলত আউটডোর টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল হলেও, এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে জটিল ইনডোর পরিবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রি-ইনফোর্সড কংক্রিট, স্টিল কাঠামো ও বিশাল কাঁচের দেয়াল রেডিও সংকেতকে দুর্বল করে দেয়।

৭০০টি স্মল সেল এবং ৬৩৫টি ওয়াই-ফাই ইউনিটের সাহায্যে অ্যাক্টিভ ডাস কাঠামোর মাধ্যমে সংকেত ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি কোনো সিগন্যাল ড্রপ ছাড়াই যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা দেবে।

ভবিষ্যতের বিমান চলাচল প্রযুক্তির কথা বিবেচনা করেই এই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। যাত্রী, এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ৪জি ও ৫জি উপযোগী নেটওয়ার্ক আগামী দিনে বিমানবন্দরের আধুনিক পরিচালনায় সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ কেন্দ্রের জন্য একটি সম্প্রসারণযোগ্য যোগাযোগ কাঠামো তৈরি হবে।

৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, যার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রকল্পটির মাধ্যমে পুরো তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন এলাকা, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (ইসিটি), ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (আইসিটি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইনডোর সুবিধা।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে মূলধনী ব্যয় হিসেবে ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই টাকা মূলত মূল নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, ট্রান্সমিশন সিস্টেম, অ্যাক্টিভ ডাস উপকরণ, স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই ডিভাইসসহ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে খরচ হবে।

রাজস্ব ব্যয় হিসেবে নির্ধারিত ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ, পরিবহন, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হবে। অন্যদিকে দৈব ও মূল্যবৃদ্ধিজনিত সম্ভাব্য খরচের জন্য ২৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৯১ লাখ যাত্রী চলাচল করেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়, নবনির্মিত এই টার্মিনালে এখনো ব্যাপক ইনডোর মোবাইল কভারেজের ঘাটতি রয়েছে। ফলে, বিভিন্ন ইনডোর এলাকায় দুর্বল সিগন্যাল, কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং ধীরগতির ইন্টারনেট সেবার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পুরো টার্মিনালজুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেটওয়ার্ক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করাই নতুন এই টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর লক্ষ্য।

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রতিবছর লাখ লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর প্রথম প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। তাই এই প্রকল্প বাংলাদেশের ডিজিটাল প্রবেশদ্বারকে আরো শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখুঁত ও উচ্চগতির মোবাইল সংযোগ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে, বিমানবন্দর পরিচালনায় গতি আনতে এবং পর্যটন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা করতে অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই উদ্যোগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে বিমানবন্দর ও অন্যান্য প্রধান জনবান্ধব স্থানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে দেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে দেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত: প্রধানমন্ত্রী

তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে দেশকে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় পরবর্তী প্রধান এই চালিকাশক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ইতোমধ্যে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সর্বাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলনকে কেবল একটি সাধারণ আয়োজন নয়, বরং আগামীর প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম কারিগরদের মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাদের অনেকেই নিজ উদ্যোগে এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সামিটে অংশ নিয়েছেন। বর্তমান সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যা হবে স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর।

চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের এই যুগে সেমিকন্ডাক্টরকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন ও মহাকাশের স্যাটেলাইট- প্রতিটি ক্ষেত্রেই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর বাজার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্য অপার সুযোগ বিদ্যমান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত থেকে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ অর্জন করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

তিনি বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে আমরা একটি জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনা করছি। তবে এই খাতের উন্নয়ন একক কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়; এটি একটি সম্মিলিত জাতীয় মিশন। সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প মালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের একযোগে এই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

এ খাতকে ত্বরান্বিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর থেকে সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন নতুন উদ্ভাবন বাস্তবায়নে সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ বরাদ্দ রেখেছে, যার বণ্টন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, বিদেশি ও দেশি বিনিয়োগ টানতে শুল্কমুক্ত (বন্ডেড) সুবিধা প্রদান এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে। আমাদের মেধা, দক্ষ তারুণ্য এবং উদ্ভাবনী শক্তির ওপর ভর করেই আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব। সরকার আপনাদের স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা উদ্যোগ এবং বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

কালের আলো/এসএকে