খুঁজুন
                               
, ,
           

তারা জুলাই শহীদদের কবরের টাকা মেরে খেয়েছে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
তারা জুলাই শহীদদের কবরের টাকা মেরে খেয়েছে: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই শহীদদের কবর পাকা করতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছিল। তারা সেই টাকাও মেরে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করেনি। ফলে বিএনপি সরকার আসার পর এই অধিদপ্তর গঠন করে কাজ করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। দলীয় পরিচয়ের কারণে অনেক জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা তাদেরকে গেজেটভুক্ত করার জন্য কাজ করছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই শহীদদের কবর পাকা করতে দুই লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু আমি গিয়ে দেখি কবরের কোনো চিহ্নও নেই। তারা কবরের টাকা মেরে খেয়েছে। এমন অনেক তথ্য আমাদের কাছে আছে, যা প্রকাশ করলে তারা মুখ লুকানোর জায়গা পাবে না।

তিনি বলেন, একমাত্র বিএনপির গণহত্যা বা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থানের কোনো ইতিহাস নেই। বিরোধী দলের ইতিহাস কলঙ্কিত বলেই তারা মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তা কখনো ভুলবে না।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট অনুষ্ঠান বানচাল করতে একজন সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে মব চালানো হয়। দ্বিমত থাকলে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে সভ্যভাবে তারা প্রতিবাদ জানাতে পারতেন। কিন্তু যেকোনো অজুহাতে তাদের বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি সৃষ্টি করার পরিকল্পনা ছিল।। তাদের এই আচরণে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন

প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ইসির কাছে জামায়াতের ৯ অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ইসির কাছে জামায়াতের ৯ অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচনে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকারি দলের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে জামায়াতের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম পরওয়ার জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুনির্দিষ্ট নয়টি অভিযোগ লিখিতভাবে জমা দিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তিনটি দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সমর্থনে ছবি, আহত ব্যক্তিদের ছবি এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণও কমিশনের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ

জামায়াতের এই নেতা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও পক্ষপাতমূলক ভূমিকার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ইউএনওর সঙ্গে এক প্রার্থীর রাতে বৈঠক, অর্থ লেনদেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার মতো অভিযোগ রয়েছে।

গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় স্থান ব্যবহার, নির্ধারিত সময়ের আগে মাইক বাজানো এবং প্রতীক রঙিনভাবে ব্যবহারের মতো আচরণবিধিবিরোধী কর্মকাণ্ড ঘটছে। মসজিদের ভেতরে সভা আয়োজন এবং ভোটারদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও কমিশনকে জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী বা তাঁর পক্ষের লোকজন ভোটারদের সুযোগ-সুবিধা বা সেবা দিতে পারেন না। অথচ বিভিন্ন ইউনিয়নে মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে তাঁরা অভিযোগ পেয়েছেন। এসব অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ছবি কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার রয়েছেন উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, এই সম্প্রদায়ের ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন তাঁরা। সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকেও নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করলে চাকরি নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন—এমন ভয় দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া জামায়াতের নারী ও পুরুষ কর্মীদের ওপর হামলা এবং তাঁদের আহত করার অভিযোগও তোলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সেনা মোতায়েনের দাবি

নির্বাচনে শুধু বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করলেই নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হবে না বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর মতে, দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাও জরুরি। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক চাপের মুখে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের সংশয় রয়েছে। এ কারণে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তিনি ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচন যেন ওই নির্বাচনের মতো বিতর্কিত পরিস্থিতির দিকে না যায়, সে বিষয়ে কমিশনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়নি জামায়াত

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেননি বলে জানান গোলাম পরওয়ার। তবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেনকে মনোনীত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, কমিশন অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা, স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ এবং নিজেদের এখতিয়ারের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে কমিশনের বক্তব্যে তাঁরা পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারেননি।

এদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও অভিযোগ করেছেন, উপনির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না এবং তাঁদের অভিযোগ যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তবে জামায়াতের তোলা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি, আপত্তিকর ভিডিওতে অর্থ আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
প্রেমের ফাঁদে ফেলে জিম্মি, আপত্তিকর ভিডিওতে অর্থ আদায়

রাজধানীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিত্তবান পুরুষদের হানিট্র্যাপে ফেলার মাধ্যমে অর্থ আদায় করছিল একটি প্রতারক চক্র। চক্রটির সদস্যরা ভুক্তভোগীদের হোটেল বা নির্ধারিত বাসায় ডেকে জিম্মি করতেন। পরে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় করা হতো বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। একপর্যায়ে কৌশলে তাঁদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলের কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। সেখানে চক্রের অন্য সদস্যরা ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন।

ডিবিপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের আপত্তিকর অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দেওয়া হতো। এভাবে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত চক্রটি। একবার অর্থ নেওয়ার পরও ব্ল্যাকমেইল করে পুনরায় টাকা দাবি করা হতো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রটির সদস্যরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন। পাশাপাশি ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ডিবিপ্রধান। প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, রাজধানীর তুরাগ এলাকায় হানিট্র্যাপের মাধ্যমে প্রতারণায় জড়িত একটি চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য সামনে আসে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাইমার জন্মদিনে গোলাপি সাইকেলে স্বপ্নের যাত্রা, চক্ষুসেবায় মানবিকতার আলো

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
জাইমার জন্মদিনে গোলাপি সাইকেলে স্বপ্নের যাত্রা, চক্ষুসেবায় মানবিকতার আলো

জন্মদিন মানেই কেক কাটা, শুভেচ্ছা আর আনুষ্ঠানিকতা—প্রচলিত এই ছবির বাইরে গিয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জে জন্মদিন উদ্‌যাপনে যুক্ত হলো মানবিকতার ভিন্ন এক গল্প। ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিনকে উপলক্ষ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাযাত্রা সহজ করা, পড়াশোনায় উৎসাহ জোগানো এবং অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে প্রাধান্য পেয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানুষের কল্যাণ।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় গোলাপি রঙের বাইসাইকেল। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পেয়েছে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ। অন্যদিকে, শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পরিচালিত হয় চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। আয়োজকদের হিসাবে, দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে এই সেবার আওতায় আনা হয়েছে।

  • মীর শাহে আলমের উদ্যোগে ৫৪৮ মেধাবী ছাত্রী পেল বাইসাইকেল, ১,৫০০ শিক্ষার্থীকে উপহার
  • দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষের চক্ষুসেবায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

জন্মদিনের আনন্দকে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা ও অসহায় মানুষের সেবার সঙ্গে যুক্ত করার এ আয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে নারীশিক্ষায় উৎসাহ জোগানো এবং চিকিৎসাসেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা কর্মসূচিটিকে দিয়েছে আলাদা তাৎপর্য। শুধু তাই নয়—শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো এবং সমাজের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েও বিশেষ দিনকে স্মরণীয় করে তোলা যায় এই বিষয়টিকে মোটা দাগে উপস্থাপন করা হয়েছে।

গোলাপি সাইকেলে শিক্ষার পথে নতুন গতি
একটি সাইকেল শুধু যাতায়াতের বাহন নয়। গ্রামীণ এলাকার অনেক ছাত্রীর জন্য এটি হতে পারে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর সহজ উপায়, সময় বাঁচানোর মাধ্যম এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বাড়তি অনুপ্রেরণা। বাড়ি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব কমানো সম্ভব না হলেও যাতায়াতের সময় ও ভোগান্তি কমাতে সাইকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিবগঞ্জ ও মোকামতলা এলাকার ৫৪৮ জন মেধাবী ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল তুলে দেওয়ার মূল লক্ষ্য নারীশিক্ষার প্রসার, বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা। পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে উপহার দেওয়া হয়েছে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ।

সাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নারীশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আজকের ছাত্রীরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে এবং পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে পারে, সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে মেয়েদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নারীশিক্ষার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

উপহারের আনন্দে যুক্ত হলো দেড় হাজার শিক্ষার্থী
সাইকেলের পাশাপাশি ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে জাইমা রহমানের ছবি সংবলিত মগ উপহার দেওয়ার মধ্য দিয়ে জন্মদিনের আনন্দে যুক্ত করা হয়েছে আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে। উপহারগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে দিনটির স্মারক হয়ে থাকার পাশাপাশি তাদের মধ্যে উৎসাহ ও সম্পৃক্ততার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এমন উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে শিক্ষা নিয়ে ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি আগ্রহ ও সহযোগিতা প্রকাশ পেলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং শিক্ষাজীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তৈরি হতে পারে।

চক্ষুসেবায় প্রায় ৪ হাজার মানুষের পাশে
জন্মদিনের আয়োজনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। রোববার দুপুর ১২টায় শিবগঞ্জের আলিয়ারহাট রোকেয়া-ছাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো এ সেবা পরিচালিত হয়।

আয়োজকরা জানায়, প্রথম দিন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে দুই হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেওয়া হয়। দুই দিনে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে সেবার আওতায় আনার মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি বিস্তৃত হয়েছে। চোখের সমস্যা শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছানি অপারেশনের সুযোগ তৈরি করা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ চিকিৎসাব্যয়ের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, মোকামতলা ও শিবগঞ্জের যাঁদের চোখের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসাসেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এই উদ্যোগের ইতিবাচক দিক হলো, চিকিৎসাসেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চোখের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গেলে এ কার্যক্রমের সুফল আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

জন্মদিনের আয়োজন ঘিরে মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আগের বছরগুলোতেও বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলেও দোয়া মাহফিল, এতিমদের খাবার বিতরণ, চিকিৎসাসেবা ও চক্ষুচিকিৎসাসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের মঙ্গল কামনায় গত ২০ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার দেওয়ানতলা মাজার এলাকায় অসহায় মানুষের মধ্যে দুপুরের খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি
চক্ষুচিকিৎসা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের কল্যাণের বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তবে দিনের মূল আয়োজনের অন্যতম দিক ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা এবং অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সাইকেল বিতরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুজ্জামান শাহিন, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মীর লাবণী আক্তার, রূপসী বিডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, তাঁর স্ত্রী মীর ফারিয়া তাবাসসুম এবং প্রতিমন্ত্রীর কন্যা মীর সামারা সুনাতসহ অন্যরা।

কালের আলো/এমএএএমকে