খুঁজুন
                               
, ,
           

ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার বলিউড পরিচালক শাকিল নূরানী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার বলিউড পরিচালক শাকিল নূরানী

ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে বলিউডের পরিচালক শাকিল নূরানীকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। ৭৩ বছর বয়সী এই নির্মাতা ‘বড়ে দিল ওয়ালা’ ও ‘জোরু কা গুলাম’-এর মতো সিনেমা পরিচালনা করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৮ আগস্ট ভোরে মুম্বাইয়ের মালবানি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

৩৩ বছর বয়সী এক অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে শাকিল নূরানীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪(২)(এম), ১২৩, ৩৫১(২) ও ৮৮ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে লোখান্ডওয়ালায় একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নূরানীর সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। সে সময় পরিচালক তাঁকে তাঁর একটি আসন্ন সিনেমার কথা জানান এবং কাজের বিষয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।

পরে একটি চিত্রনাট্য পড়ার জন্য মালবানিতে নূরানীর বাড়িতে যান ওই অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, সেখানে পরিচালক তাঁকে একটি পানীয় দেন, যাতে মাদক মেশানো ছিল। পানীয়টি খাওয়ার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জ্ঞান ফেরার পর নূরানী তাঁকে তাঁর মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও দেখান। বিষয়টি পুলিশ বা পরিবারের সদস্যদের জানালে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী।

অভিযোগকারীর দাবি, পরে ওই ভিডিওকে হাতিয়ার করে তাঁকে ভয় দেখানো হয় এবং একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়। এমনকি যৌন সম্পর্কের পর পরিচালক তাঁকে বারবার গর্ভনিরোধক ওষুধ খেতে বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে শাকিল নূরানীর আইনজীবী বিকাশ সিং গোর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, মিথ্যা মামলায় পরিচালককে ফাঁসানো হয়েছে।

আইনজীবী আরও বলেন, আদালতে এখনো অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত নূরানীকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

তদন্তের স্বার্থে শাকিল নূরানীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে মুম্বাই পুলিশ। অভিযোগে উল্লেখ করা ভিডিওটি উদ্ধার ও পরীক্ষা করা, সেটির সত্যতা যাচাই এবং একই ধরনের আরও কোনো ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁর হেফাজত প্রয়োজন বলে জানায় পুলিশ।

পরে নূরানীকে বোরিভেলির হলিডে কোর্টে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

অভিযোগের তদন্ত এখনো চলছে।

কালের আলো/এসএ

মক্কা চুক্তির একদিন পরই সৌদিতে হামলা

পাকিস্তান-তুরস্ককে কঠিন শিক্ষা দেওয়ার হুমকি ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
পাকিস্তান-তুরস্ককে কঠিন শিক্ষা দেওয়ার হুমকি ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের

সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদিতে বিদ্রোহীরা এমন সময় হামলা চালাল, যখন মাত্র একদিন আগে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি সামরিক জোট গঠন করেছে সৌদি।

এই চুক্তিতে বলা আছে, তিন দেশের কারও ওপর অন্য কেউ যদি হামলা চালায় তাহলে এই হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন এগিয়ে আসতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে দেশ দুটিকে হুমকি দিয়েছে হুতিরা। তারা বলেছে, যদি ইয়েমেনের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন ও ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-তুরস্ক কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায় তাহলে তাদের কঠিন জবাব দেওয়া হবে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, হুতি কমান্ডারা বলেছেন, “যদি পাকিস্তান ও তুরস্ক ইয়েমেনের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের পরিকল্পনা করে এবং ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে সৌদির আগ্রাসনের সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে তাদের কঠোর শিক্ষা দেওয়া হবে।”

এরমাধ্যমে হুতিরা মূলত বার্তা দিয়েছে সৌদির বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে এবং সৌদির সবচেয়ে ‘মূল্যবান রত্ন’ আরামকোর তেল স্থাপনা ও তেল পরিবহনের অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাবে।

সৌদিতে সরাসরি হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনে থাকা দেশটির মিত্র শক্তি সরকারি সেনাবাহিনীর ওপরও হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। এরমধ্যে মারিব ও হারদামাউতে দুইদিন আগে টানা কয়েক ঘণ্টা হামলা চালিয়েছে তারা।

নতুন করে আবারও মারিব এবং তাইয়িবে লড়াই চলছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইয়েমেনে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। গত কয়েক বছর লড়াই বন্ধ ছিল। কিন্তু নতুন করে যদি আবারও আলোচনা শুরু না হয় তাহলে এ লড়াই দীর্ঘায়িত হবে।

সূত্র: আলজাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

গুম আইনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়নি: শিশির মনির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
গুম আইনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়নি: শিশির মনির

প্রস্তাবিত গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনের খসড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে গেছে এবং গুমের তদন্তভার পুলিশের ওপর ন্যস্ত করাকে ‘তদন্ত না করার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী  শিশির মনির।  একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি ‘ন্যূনতম প্রতিযোগিতা’ থাকা সুস্থ পরিবেশের জন্য জরুরি বলে মত দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত নতুন গুম আইনের সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, অধিকতর উন্নত একটি আইন তারা প্রস্তাব করবেন। কিন্তু বর্তমানে যে ড্রাফট (খসড়া) দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায় তারা আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড থেকে সরে এসেছেন। আগের অধ্যাদেশে ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অফ হিউম্যান রাইটস’ বা ‘ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর রেফারেন্স থাকলেও বর্তমান আইনে তার কোনো উল্লেখ নেই।’

গুমের তদন্তভার পুলিশের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের ইতিহাসে আমরা দেখেছি এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের সব জায়গায় হয়তো কোথাও পুলিশের সদস্য, না হয় র‍্যাবের সদস্য, না হয় ডিজিএফআইয়ের সদস্য জড়িত থাকেন। সেই অপরাধের তদন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে এখন আবার পুলিশকেই! এর অর্থ হবে- এই অপরাধকে তদন্ত করার আর কোনো দরকার বাস্তবে থাকবে না। পুলিশের করা অপরাধের তদন্ত পুলিশকে দেওয়া বাস্তব অর্থে তদন্ত না করারই শামিল।’

গুমের তথ্যভাণ্ডার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বের আইনে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল মানবাধিকার কমিশনের। কিন্তু এই আইনে তা দেওয়া হচ্ছে সরকারকে। সরকার কি চায় যে বাংলাদেশে কী পরিমাণ মানুষ গুম হয়েছে তার তথ্য প্রকাশ করতে? এটি কোনো ইনকামবেন্ট গভর্নমেন্ট (দায়িত্বে থাকা সরকার) কোনোদিন প্রকাশ করতে চায় না।’

৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, ‘নির্বাচন মানে কি? আপনার অপশন থাকতে হবে- কাকে ভোট দেবেন, কাকে ভোট দেবেন না। যদিও ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে কোনো সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না, দিলে তার সদস্য পদ থাকে না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যেহেতু একটা নির্বাচন, সুতরাং এখানে একটা মিনিমাম প্রতিযোগিতা থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই চার্টারে ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা দেওয়ার প্রশ্ন এসেছিল। জুলাই সনদ তো বাস্তবায়িত হয় নাই। তবে ৭০ অনুচ্ছেদ সবসময় সংবিধানে থাকবে না। যে সংবিধান সংস্কার করার প্ল্যান করা হচ্ছে, সেখানে এই বিধান থাকছে না। দিস ইজ এ বিগেনিং অফ সামথিং গুড, লেট ইট বি ডান উইথ দ্য প্রসেস অফ দ্য কনস্টিটিউশনাল জার্নি। (এটি ভালো কিছুর সূচনা, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এটি সম্পন্ন হতে দেওয়া হোক।)’

বর্তমান সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যারা পদত্যাগ করেন নাই কিংবা যাদের সদস্যপদ বাতিল হয়নি, তারা সকলেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আর এমপিদের মধ্য থেকে কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে নিয়ম অনুযায়ী তার ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করতে হবে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মাঠের বল গিয়ে লাগল গাড়িতে, ঘটল দুর্ঘটনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
মাঠের বল গিয়ে লাগল গাড়িতে, ঘটল দুর্ঘটনা

ফুটবল ম্যাচে খেলা থেমে যাওয়ার কারণের অভাব নেই। কখনো মাঠে দর্শক ঢুকে পড়েন, আবার ঝড়-বৃষ্টির কারণেও খেলা বন্ধ রাখতে হয়। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে তো দেখা গেছে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ও। তবে উরুগুয়ের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে খেলা থামল একেবারেই ভিন্ন কারণে।

শুধু ম্যাচই থামেনি, মাঠের পাশের সড়কে গাড়ি চলাচলও সাময়িকভাবে থমকে যায় একটি ফুটবলের কারণে।

শনিবার উরুগুয়ের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল উরুগুয়ে মন্টেভিডিও ও পায়সান্দু। এস্তাদিও পার্কে এএনক্যাপে চলছিল ম্যাচটি।

ম্যাচের ২৪ মিনিটে এক ডিফেন্ডার নিজেদের সীমানা থেকে বল বিপদমুক্ত করতে জোরে শট নেন। কিন্তু বলটি এতটাই জোরে ছুটেছিল যে মাঠের সীমানা পেরিয়ে পাশের সড়কে গিয়ে পড়ে।

মাঠের বাইরেই ছিল ব্যস্ত রাস্তা। সেই সময় সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল একটি সাদা গাড়ি। হঠাৎ সামনে ফুটবল চলে আসায় চালক দ্রুত ব্রেক কষেন। গাড়িটি থেমে গেলেও পেছন থেকে আসা গাড়িটির চালক যথেষ্ট সময় পাননি। ফলে মুহূর্তেই দুটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

ঘটনাটি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচারের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষে গাড়ি দুটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে চালক বা যাত্রীদের কেউ গুরুতর আহত হননি।

এদিকে বলটি উদ্ধার করা এবং দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিরাপদ কি না নিশ্চিত করতে ম্যাচ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার খেলা শুরু হয়।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পায় উরুগুয়ে মন্টেভিডিও।

একটি ফুটবল যে একই সঙ্গে মাঠের খেলা এবং পাশের ব্যস্ত সড়ক—দুই জায়গাতেই খেলা থামিয়ে দিতে পারে, উরুগুয়ের এই ম্যাচে সেটিই দেখা গেল।

কালের আলো/এসএ