খুঁজুন
                               
, ,
           

আইস্ক্রিনের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে : ধ্রব দিয়াস লাভ জার্নি’তে উঠে আসবে প্রেমের এক নতুন গল্প

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৮ অপরাহ্ণ
আইস্ক্রিনের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে : ধ্রব দিয়াস লাভ জার্নি’তে উঠে আসবে প্রেমের এক নতুন গল্প

নব্বইয়ের দশকের প্রেম, সেই সময়ের আবেগ আর ভালোবাসার সরল গল্প—এবার আধুনিক আবহে নতুন প্রজন্মের দর্শকের সামনে হাজির হতে যাচ্ছে। আইস্ক্রিনের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘মিশন ডিডিএলজে : ধ্রব দিয়াস লাভ জার্নি’তে ভিন্ন আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে সে সময়েরই এক প্রেমের গল্পকে ।

রোমান্টিক কমেডি ঘরানার এই ওয়েব ফিল্মটি নির্মাণ করেছেন আসিফ জাহাঙ্গীর অর্ক। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাওভী ও লাবণ্য।
জানা গেছে, বর্তমান প্রজন্মের দর্শকদের কাছে নব্বইয়ের দশকের প্রেমের আবহ ও সেই সময়ের ভালোবাসার অনুভূতি নতুনভাবে তুলে ধরাই এই ওয়েব ফিল্মের অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই ঢাকা ও মানিকগঞ্জের বিভিন্ন মনোরম গ্রামীণ লোকেশনে এর দৃশ্যধারণ করা হয়েছে।

‘মিশন ডিডিএলজে’ নামটির মধ্যেও রয়েছে একটি বিশেষ ‘হিডেন স্টোরি’। তবে সেই গল্পের রহস্য কী, তা এখনই প্রকাশ করতে চান না নির্মাতা। পুরো বিষয়টি জানতে দর্শকদের ওয়েব ফিল্মটি দেখতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নির্মাতা বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকের প্রেমের আবেগকে আধুনিক নির্মাণশৈলীতে উপস্থাপনের কারণে গল্পটি দর্শকদের আলাদা আনন্দ দেবে।

ওয়েব ফিল্মটির নির্বাহী প্রযোজক আশেক হোসেন তন্ময় জানিয়েছেন, সম্প্রতি ‘মিশন ডিডিএলজে’র শুটিং শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজও। এতে নতুন এই জুটির সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন মাসুদ মহিউদ্দিন, স্বপ্না শেখ, শারমিন সুলতানা শর্মী, সাদিয়া ইসলাম জুঁই, আরমান মাহমুদ ও শওকত শোভন। সবকিছু ঠিক থাকলে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে আইস্ক্রিনে মুক্তি পাবে ওয়েব ফিল্মটি।

কালের আলো/এসএ

পাহাড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতিই হোক সবার অঙ্গীকার

সিরাজুল ইসলাম:
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
পাহাড়ে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতিই হোক সবার অঙ্গীকার

প্রতি বছর ৯ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী প্রাচীন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবনধারা এবং অধিকার নিয়ে আলোচনা হয় এই দিনে। বাংলাদেশেও দিবসটি ঘিরে নানা আলোচনা ও বিতর্ক সামনে আসে, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এই দেশের সমাজ ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে নানা জনগোষ্ঠী, ভাষা, ঐতিহ্য ও জীবনধারার সমন্বয়ে। সমতলের মানুষের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীরও রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসকারী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো, বম, খুমি, খিয়াংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীগুলোর পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, এসব জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ না বলে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সরকারের যুক্তি হলো, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আগমন, বসতি স্থাপন এবং ঐতিহাসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের পরিচয় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অনেকেই নিজেদের এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক অধিবাসী হিসেবে বিবেচনা করেন এবং ‘আদিবাসী’ পরিচয়কে তাদের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক অস্তিত্বের অংশ হিসেবে দেখেন। এই পরিচয়ের প্রশ্নটি শুধু একটি শব্দের বিতর্ক নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, আবেগ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।

তবে পরিচয়ের এই বিতর্কের বাইরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো- তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উন্নয়নের অধিকার সমান। পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা বুঝতে হলে শুধু পরিচয়ের বিষয়টি দেখলে হবে না; দেখতে হবে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনৈতিক সুযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্রও। পাহাড়ি এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা এবং প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

তারপরও গত কয়েক দশকে পার্বত্য অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ এবং বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে উন্নয়ন হয়েছে। তবে এই উন্নয়ন আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন, যাতে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষও দেশের অন্যান্য এলাকার মতো সমান সুযোগ ও সুবিধা পায়। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন শুধু রাস্তা, সেতু বা ভবন নির্মাণের নাম নয়। প্রকৃত উন্নয়ন হলো মানুষের আস্থা অর্জন, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাক, উৎসব ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পদের অংশ। একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণের সুযোগ থাকা উচিত। একই সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় মূলধারার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথও আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা যায়, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলো নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রেখেও জাতীয় উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশেও এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, যেখানে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব পরিচয় ও সংস্কৃতি বজায় রেখে দেশের অগ্রযাত্রার অংশীদার হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে কিছু কঠিন অধ্যায় রয়েছে। অতীতের সংঘাত, অবিশ্বাস এবং নিরাপত্তাজনিত সমস্যাগুলো এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু কোনো দেশই অতীতের সমস্যাকে স্থায়ী বিভাজনের কারণ হতে দিতে পারে না। ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হলে প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা, সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এখানে রাষ্ট্রের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে সব পক্ষের। সরকারকে যেমন উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও দেশের সামগ্রিক স্বার্থ ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা কারও জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলে সরকার যেমন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে পারবে, তেমনি স্থানীয় মানুষও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে এগিয়ে যেতে পারবে।

প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে পাহাড়ি ও বাঙালি- সব সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বসবাস করবে। কারণ উন্নয়ন এবং সম্প্রীতি একে অপরের পরিপূরক। পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীও বাংলাদেশের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের বিচ্ছিন্ন করে নয়, বরং সম্মানের সঙ্গে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

বিশ্ব আদিবাসী দিবসের আলোচনায় তাই শুধু পরিচয়ের বিতর্ক নয়, সামনে আসা উচিত আরও বড় একটি প্রশ্ন- কীভাবে পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। পরিচয়ের ভিন্নতা যেন বিভেদের কারণ না হয়। বরং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে শক্তিতে পরিণত করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির একটি উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

এসএসসি পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ আবেদন শুরু মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
এসএসসি পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ আবেদন শুরু মঙ্গলবার

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা আগামীকাল থেকে খাতা চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। আগামীকাল ১১ আগস্ট এ আবেদন শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।

সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০২৬ সালের ফল পুনঃনিরীক্ষণের নিয়মাবলিতে এবার সম্পূর্ণ নতুন পদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা তাদের খাতা চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। তবে এজন্য প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা ফি দিতে হবে। এই ফি বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।

এজন্য শিক্ষার্থীকে প্রথমে rescrutiny.eduboardresults.gov.bd সাইটে প্রবেশ করতে হবে।

প্রবেশের পর নির্ধারিত স্থানে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর পূরণ এবং বোর্ড ড্রপডাউন থেকে বোর্ড নির্বাচন করতে হবে। শেষে সাবমিট বাটনে ক্লিক করলেই হবে।

তবে ক্লিকের পর সেই ছাত্রছাত্রী বা তার অভিভাবকের দেওয়া মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এরপর সেই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে ফলাফল। পরবর্তী স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফল দেখা যাবে। তবে কেউ এক বা একাধিক বিষয়ে ফল পুনঃনিরীক্ষণ করতে চাইলে তাকে আবারও ফি বাটনে ক্লিক করে ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয়পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে

পরবর্তী স্ক্রিনে দেওয়া ফি-এর পরিমাণ দেখা যাবে। বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপগুলো উপরে উল্লেখিত পোর্টালের হেল্প বাটনে ক্লিক করে দেখে নেওয়া যাবে। ফি পরিশোধ করে আবেদনের পোর্টালে এসে জমা দিন বাটনে ক্লিক করতে হবে।

উল্লেখ্য, ফি দিয়ে একবার আবেদন জমা দেওয়ার পরে আরও বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একইভাবে তা করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুনভাবে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া ফি পরিশোধের আগেই যদি আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে মুছে ফেলুন বাটনে ক্লিক করে নির্বাচিত বিষয়গুলো, যেগুলোর জন্য এখনো ফি প্রদান করা হয়নি, প্রত্যাহার করা যাবে এবং নতুন করে বিষয় নির্বাচন করা যাবে।

তবে একবার ফি জমা দিলে আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই ফি ফেরত দেওয়া হবে না। ম্যানুয়াল কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কলাম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, মৃত বেড়ে ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
কলাম্বিয়ায় ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, মৃত বেড়ে ২০

কলাম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় দেশটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে এলাকাজুড়ে বিপুলসংখ্যক বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) এবং কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা জানিয়েছে, সোমবার কলম্বিয়ার চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এটি রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। কলম্বিয়া প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছিল।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনার ফলে এখনো কোনো ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

এক্সে এক পোস্টে চোকোর গভর্নর নুবিয়া কর্ডোবা বলেন, ‘আমরা এইমাত্র চোকো বিভাগে একটি বড় ভূমিকম্প অনুভব করেছি। আমরা আফটারশক নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

তিনি বলেন, ‘যদিও এর কেন্দ্রস্থল ছিল সান হোসে দেল পালমারের কাছে, তবে এ ঘটনায় রাজধানী কুইবদোতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করছি এবং শিগগিরই প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করব।’

কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে কাজ শুরু করেছেন।

এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের ফলে বোগোটায় বিভিন্ন ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেশের অন্যান্য স্থানেও ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে।

কলম্বিয়ার চোকো প্রদেশের গভর্নর এক্সে জানান, প্রাদেশিক রাজধানী কুইবদোতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকাটিতে এএফপির এক সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিওতে একটি ভবন ধসে পড়তে দেখা গেছে।

সংবাদমাধ্যমগুলো এহে কাফেতেরো নামক পর্যটন অঞ্চলের পেরেইরা ও মানিজালেসের মতো শহরগুলোতেও ভবন ধসের ফুটেজ প্রকাশ করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কলম্বিয়ার পেরেইরা শহরের মেয়র জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে অন্তত ১৮ জন মারা গেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, মানিজালেসে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জুনের শেষের দিকে ভেনিজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সপ্তাহ পর এই ভূমিকম্পটি ঘটেছে। ওই ভূমিকম্পে দেশটিতে ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শত শত ভবন ধ্বংস হয়েছিল। ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই কম্পনগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি