খুঁজুন
                               
, ,
           

একসময় মঞ্চ অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশকও ছিলেন মির্জা ফখরুল

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
একসময় মঞ্চ অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশকও ছিলেন মির্জা ফখরুল

রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত হলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনে নাটক ও সংস্কৃতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর নাটকের হাতেখড়ি হয় ফণী ভূষণ পালদের কাছে।

শুধু অভিনয় নয়, তিনি নাটক পরিচালনাও করেছেন। তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো—ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা রহমান (আবদুর রহমান) ও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একই মঞ্চে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল। রহমান আবার তাঁর মামাতো ভাই।

মির্জা ফখরুলের জীবনে শিক্ষকতা, সংস্কৃতি ও রাজনীতি—তিনটি ক্ষেত্রই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে কোনটি বেশি উপভোগ্য—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংস্কৃতির জগতকেই বেছে নিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, বিএনপির মহাসচিব ও রাজনীতিবিদ হিসেবে যে মির্জা ফখরুলকে মানুষ চেনে, তাঁর জীবনে একসময় মঞ্চের অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশকের পরিচয়ও ছিল। সেই সাংস্কৃতিক অধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অনেকটাই অজানা থেকে গেছে।

রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত হলেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনে নাটক ও সংস্কৃতির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর নাটকের হাতেখড়ি হয় ফণী ভূষণ পালদের কাছে।

শুধু অভিনয় নয়, তিনি নাটক পরিচালনাও করেছেন। তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো—ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা রহমান (আবদুর রহমান) ও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে একই মঞ্চে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল। রহমান আবার তাঁর মামাতো ভাই।

মির্জা ফখরুলের জীবনে শিক্ষকতা, সংস্কৃতি ও রাজনীতি—তিনটি ক্ষেত্রই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে কোনটি বেশি উপভোগ্য—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সংস্কৃতির জগতকেই বেছে নিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, বিএনপির মহাসচিব ও রাজনীতিবিদ হিসেবে যে মির্জা ফখরুলকে মানুষ চেনে, তাঁর জীবনে একসময় মঞ্চের অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশকের পরিচয়ও ছিল। সেই সাংস্কৃতিক অধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অনেকটাই অজানা থেকে গেছে।

কালের আলো/এসএ

সোলো ট্রাভেলে নারীদের নিরাপত্তায় যেসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি

ট্রাভেল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
সোলো ট্রাভেলে নারীদের নিরাপত্তায় যেসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে নারী ভ্রমণকারীদের মধ্যে সোলো ট্রাভেল বা একা ভ্রমণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কেউ একাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরছেন, আবার কেউ কয়েকজন বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ি দিচ্ছেন বিদেশে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট, সোলো ট্রাভেল ভ্লগ ও বিভিন্ন ট্রাভেল কমিউনিটিও এই প্রবণতাকে আরও উৎসাহিত করছে।

তবে একা ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন কোনো গন্তব্যে যাওয়ার আগে কিছু প্রস্তুতি ও সতর্কতা ভ্রমণকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে।

যাত্রার আগে প্রস্তুতি

গন্তব্য সম্পর্কে জানুন:
যে এলাকায় যাচ্ছেন, সেখানকার সংস্কৃতি, পোশাক, সামাজিক রীতি ও স্থানীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা নিন। বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপ ও কমিউনিটিতে সাম্প্রতিক ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতাও দেখে নিতে পারেন।

থাকার জায়গা যাচাই করুন:
হোটেল বা হোস্টেল বুক করার আগে রিভিউ ভালোভাবে পড়ুন। বিশেষ করে নারী ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতা খুঁজে দেখা কাজে দিতে পারে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অবস্থান ও ২৪ ঘণ্টা রিসেপশন আছে কি না—এসবও নিশ্চিত করুন।

ভ্রমণসূচি বিশ্বস্ত কাউকে জানান:
পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে ভ্রমণসূচি, হোটেলের ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর শেয়ার করে রাখুন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে যোগাযোগ করার অভ্যাস থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বিষয়টি বোঝা সম্ভব।

যাত্রাপথে সতর্কতা

দিনের আলো থাকতে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। অপরিচিত জায়গায় গভীর রাতে পৌঁছানো এড়িয়ে চলাই ভালো। বাস বা ফ্লাইটের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।

পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন ব্যবহার করুন। অপরিচিত শহরে রাইড-শেয়ারিং সেবা ব্যবহার করলে সাধারণত চালকের পরিচয় ও ট্রিপের তথ্য পাওয়া যায়। রাস্তা থেকে অপরিচিত ব্যক্তির প্রস্তাবে কোনো যানবাহনে ওঠা এড়িয়ে চলুন।

গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আলাদা রাখুন। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, ভিসা, নগদ অর্থ ও ব্যাংক কার্ডের প্রয়োজনীয় কপি বা ডিজিটাল ছবি আলাদা জায়গায় সংরক্ষণ করুন।

প্রযুক্তিকে কাজে লাগান

বিদেশ ভ্রমণে স্থানীয় সিম বা নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে রাখুন। পরিবারের সদস্য বা বিশ্বস্ত বন্ধুর সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ারিং চালু রাখা যেতে পারে।

এ ছাড়া যে দেশে যাচ্ছেন, সেখানকার জরুরি সেবা, পুলিশ এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যোগাযোগ নম্বর আগে থেকেই ফোনে সংরক্ষণ করে রাখা ভালো।

অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে কী করবেন?

একা ভ্রমণের সময় অপরিচিত মানুষের অনাহূত প্রশ্ন বা অতিরিক্ত মনোযোগের মুখোমুখি হতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে—

  • আত্মবিশ্বাসী আচরণ করুন এবং প্রয়োজন হলে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলুন।
  • হোটেলের রুম নম্বর, একা ভ্রমণ করছেন কি না—এ ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত কাউকে জানাবেন না।
  • অস্বস্তি বোধ করলে নির্জন জায়গা এড়িয়ে জনবহুল স্থানে চলে যান।
  • প্রয়োজন হলে কাছের দোকান, হোটেল, নিরাপত্তাকর্মী বা পুলিশের সাহায্য নিন।

সোলো ট্রাভেল কেন বাড়ছে?

নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা বৃদ্ধি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা শেয়ার করার প্রবণতা এবং সোলো ট্রাভেলকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটির কারণে নারী ভ্রমণকারীদের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে নারী ও সোলো পর্যটকদের জন্য বিশেষ কনটেন্ট, ট্যুর প্যাকেজ ও ভ্রমণসেবা তৈরি হচ্ছে।

সঠিক পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও সচেতনতা থাকলে একা ভ্রমণ শুধু আনন্দের অভিজ্ঞতাই নয়, নিজের আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোরও একটি দারুণ সুযোগ হতে পারে।

কালের আলো/এসএ

ইনফান্তিনোর সমর্থন প্রত্যাহার করেছে নিউজিল্যান্ড ফুটবল

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ইনফান্তিনোর সমর্থন প্রত্যাহার করেছে নিউজিল্যান্ড ফুটবল

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে নিউজিল্যান্ড ফুটবল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের একটি অংশ বিক্রির বাতিল হয়ে যাওয়া বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে নিউজিল্যান্ড ফুটবল বলেছে, ফিফার কিছু সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আস্থার সংকট ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আস্থা ও বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে স্বাধীন পর্যালোচনা প্রয়োজন।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রশাসনের ওপর আস্থা বজায় রাখতে সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিফার সব সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের জন্য আরও শক্তিশালী সুশাসন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে এমন অবস্থানের আগে চলতি সপ্তাহেই ফিফার তিন প্রভাবশালী কনফেডারেশন—ইউরোপের উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনক্যাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)—এক যৌথ খোলাচিঠিতে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে আস্থাভঙ্গের অভিযোগ তোলে। তাঁদের বক্তব্যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ আস্থা নষ্ট করার অভিযোগও উঠে আসে।

আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচনের আগে এসব কনফেডারেশন ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজিল্যান্ড ফুটবল হলো ইনফান্তিনোর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন প্রত্যাহার করা সর্বশেষ ফিফা সদস্য। এর আগে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনও তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিল।

বুধবার আঞ্চলিক সংস্থা ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশনের (ওএফসি) বৈঠকের পর নিউজিল্যান্ড ফুটবল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। তবে ওএফসি সরাসরি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করেনি। বরং বিশ্বকাপের বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তারা।

ওএফসি বলেছে, সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং প্রতিষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান ফুটবলের কার্যকর প্রশাসন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য মৌলিক বিষয়।

অন্যদিকে ইনফান্তিনো ও ফিফাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে সমালোচনার জবাব দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এর মধ্যেই ইনফান্তিনোর প্রতি নিজেদের ‘পূর্ণ সমর্থন’ ও ‘আস্থা’ প্রকাশ করেছেন ছয়টি আরব ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান। ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মরক্কোর পাশাপাশি কাতার, মিসর, মৌরিতানিয়া, লেবানন ও সুদানও ফিফা সভাপতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ফলে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ফিফার সদস্য দেশ ও আঞ্চলিক কনফেডারেশনগুলোর মধ্যে মতবিরোধ এখন আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। একদিকে ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর ও মধ্য আমেরিকার প্রভাবশালী কনফেডারেশনগুলোর সমালোচনা, অন্যদিকে আরব দেশগুলোর সমর্থন—সব মিলিয়ে আগামী মার্চের ফিফা সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের প্রশাসনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

জন্মদিনে স্মরণীয় নায়ক জসিম, খলনায়ক থেকে যিনি হয়ে উঠেছিলেন অ্যাকশন কিংবদন্তি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
জন্মদিনে স্মরণীয় নায়ক জসিম, খলনায়ক থেকে যিনি হয়ে উঠেছিলেন অ্যাকশন কিংবদন্তি

ঢাকাই সিনেমার অন্যতম সফল ও কালজয়ী নায়ক জসিমের জন্মদিন আজ। খলনায়ক থেকে নায়ক, মুক্তিযোদ্ধা থেকে প্রযোজক ও ফাইট পরিচালক—বহুমুখী প্রতিভার এই শিল্পী বাংলা চলচ্চিত্রে রেখে গেছেন অনন্য অবদান।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে রুপালি পর্দায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন জসিম। বিশেষ করে অ্যাকশনধারার সিনেমাকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দর্শকের কাছে তিনি মূলত নায়ক হিসেবে পরিচিত হলেও চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয়েছিল খলনায়ক হিসেবে।

নায়ক জসিমের আসল নাম আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন। ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

চলচ্চিত্রে আসার আগে জসিম ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের অধীনে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শুরু হয় তার চলচ্চিত্রজীবন।

১৯৭২ সালে ‘দেবর’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ১৯৭৭ সালে ‘দোস্ত দুশমন’ চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান।

খলনায়ক হিসেবে সাফল্যের পর ধীরে ধীরে নায়ক হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেন জসিম। **‘সবুজ সাথী’**সহ একাধিক সিনেমায় নায়ক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন তিনি।

৭০ ও ৮০-এর দশকে একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাকশন তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার অভিনয়ের পাশাপাশি অ্যাকশন দৃশ্যেও ছিল আলাদা আকর্ষণ।

অভিনয়ের বাইরে চলচ্চিত্রের অন্যান্য ক্ষেত্রেও কাজ করেছেন জসিম। তিনি ছিলেন প্রযোজক ও ফাইট পরিচালক। বাংলা সিনেমায় অ্যাকশনধারাকে জনপ্রিয় করে তুলতে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।

অল্প সময়ের ক্যারিয়ারেই নিজের অভিনয়শৈলী ও অ্যাকশননির্ভর চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন এই শিল্পী।

১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যান জসিম। তার আকস্মিক মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য ছিল বড় ক্ষতি।

তার স্মৃতি ধরে রাখতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) একটি শুটিং ফ্লোরের নামকরণ করা হয়েছে ‘জসিম ফ্লোর’।

মুক্তিযোদ্ধা, অভিনেতা, প্রযোজক ও ফাইট পরিচালক—বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী জসিম আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় এক নাম। তার অভিনয় ও অ্যাকশননির্ভর সিনেমার স্মৃতি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও তাকে পরিচিত করে রেখেছে।

কালের আলো/এসএ