খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ
ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম সম্প্রতি নগর ভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই এলাকার মধ্যেই চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

তিনি বলেন, রিকশার সমস্যাটা কোত্থেকে আসলো, কীভাবে আসলো- সেটা বের করে সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাটাও আমাদেরই, আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকেই সমাধান করতে হবে।

আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের রাস্তায় বর্তমানে এদিক-সেদিক, উল্টো দিকসহ বিভিন্নভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশা চালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন ও চলাচলের শৃঙ্খলা মানছে না। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অযাচিত যানজট আরও বাড়ছে।

রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে ফুটপাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিচ্ছে।

কেউ রিকশা চালাচ্ছে, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছে। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের ঢাকামুখী প্রবেশ নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশের মানুষকে কি আমরা ঢাকা শহরে জায়গা দিতে পারব? এটাও তো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ কারণে রিকশা ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন আব্দুস সালাম।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এসব রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। এজন্য ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ডেমরার একটা রিকশা কোনোভাবেই নিউ মার্কেটে যেতে পারবে না। অঞ্চলভিত্তিক আমরা ভাগ করে দেব। ভাগ করে দিয়ে তাদেরকে হয়তো দিনও ভাগ করে দেব। কিছু কিছু রাস্তা ভাগ করে দেব, কিছু কিছু রাস্তায় যাতে তারা একেবারেই চলাচল করতে না পারে-সেই জায়গাটা ঠিক করে দেব।

তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে রিকশা চালাতে পারবে না। কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে চলাচল করা কিংবা ডেমরা থেকে নদী পার হয়ে রিকশা নিয়ে অন্য এলাকায় চলে আসার কোন সুযোগ থাকবে না। একইভাবে উত্তর সিটির রিকশাও নির্বিচারে এই এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।

আব্দুস সালাম বলেন, আমরা অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে দেব। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আমরা এই বিষয়টিকে একটি পদ্ধতির মধ্যে আনতে চাই। সেটার জন্য তো কিছুটা সময় লাগবে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা চাই।

তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আইন প্রণয়ন করে সিটি কর্পোরেশনের কাছে পাঠানোর পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।

রিকশার পাশাপাশি বাস চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ঈদের আগে যত্রতত্র বাস থামানো এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যত্রতত্র যাতে বাস থামাতে না পারে, যত্রতত্র যেখান সেখান থেকে যাতে যাত্রী উঠাতে না পারে-এটাও একটা সিস্টেমে আনতে হবে।

আব্দুস সালাম বলেন, পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কিছু সময় দেওয়া হয়েছে এবং এখন পরিবহন ব্যবস্থাকেও একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কাজ চলছে। আশা করি, কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা পদ্ধতির মধ্যে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ।

নগরীর যানজট ও অব্যবস্থাপনার জন্য শুধু প্রশাসন বা সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী না করে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হওয়ারও আহ্বান জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য, সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, এ নীতিমালা সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন কার্যক্রমের ফলে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে।

তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালা সময়োপযোগী করে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রচলিত বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কালের আলো/এসএকে

সরকারি কর্মকর্তা সেজে চাকরির নামে প্রতারণা, বাবলু কাজী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
সরকারি কর্মকর্তা সেজে চাকরির নামে প্রতারণা, বাবলু কাজী গ্রেপ্তার

সরকারি কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও প্রজ্ঞাপন তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. বাবলু কাজী (৬০)। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানান, বাবলু কাজী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তারা উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র ও প্রজ্ঞাপন তৈরি করে চাকরিপ্রার্থীদের দিতেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার মো. সবুজ সরকারের কাছ থেকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৩ লাখ টাকা নেয় চক্রটি। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নেমে বাবলু কাজীর সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করে ডিবি।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সিলযুক্ত ও জাল স্বাক্ষর করা ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র, প্রজ্ঞাপন এবং নকল হাজিরা খাতা উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, চক্রটি সরকারি অফিসে সাধারণ মানুষের আনাগোনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করত। চক্রের একজন নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং অন্যরা তার গাড়িচালক বা অফিস সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি অফিসে চলাফেরা করত। এতে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে তারা নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলত।

কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হতো। এমনকি চাকরিতে যোগদানের পর টাকা পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হতো। ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস অর্জনের পর তাদের হাতে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন তুলে দেওয়া এবং নকল হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করানো হতো।

প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে চাকরিতে যোগদানের পর প্রথম এক-দুই মাস নিজেদের পকেট থেকে কিছু টাকা ‘বেতন’ হিসেবেও দেওয়া হতো। পরে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যেত চক্রের সদস্যরা।

এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার বাবলু কাজীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

রাজধানীর প্রবেশপথে চেকপোস্ট, ৩২ নম্বরে অতিরিক্ত পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
রাজধানীর প্রবেশপথে চেকপোস্ট, ৩২ নম্বরে অতিরিক্ত পুলিশ

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে আনা হয়েছে জলকামান। সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন শতাধিক পুলিশ সদস্য। মোতায়েন করা হয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদেরও।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে দায়িত্ব পালনরত এপিবিএনের এসআই জহুরুল জানান, ভোর থেকেই তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। রমনা জোনের পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সকাল থেকে এপিবিএনের ৩৩ সদস্য সড়কের দুপাশে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

এর আগে শুক্রবার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মোকাবিলায় পুরো রাজধানীকে কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

রাজধানীজুড়ে পিকেট ও চেকপোস্ট ডিউটি পরিচালনা করা হচ্ছে। নগরের বিভিন্ন প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যদেরও মাঠে রাখা হয়েছে।

ডিএমপি জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি/

কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না: প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য কোনো নাগরিককে দেশের বাইরে যেতে হবে না, কিংবা কেউ অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট ‘ভবন-২’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই বিশেষায়িত হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজনে আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে হাসপাতালটি আজ বড় রূপ ধারণ করেছে।

গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাছে চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগীকে যাতে সাধারণ চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়, সেজন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে।

এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুস্থ আগামী’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী অক্টোবর মাসেই হাসপাতালগুলো একযোগে চালু করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক আচরণের তাগিদ দিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয় ও মানসিক কষ্ট বুঝে চিকিৎসকদের সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ সেবার মান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

একই সঙ্গে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগীরা যদি চিকিৎসকদের ওপর আস্থা রাখতে না পারেন, তবে কেবল হাসপাতাল ভবনের উন্নয়ন করে বিদেশে চিকিৎসাকেন্দ্রিক নির্ভরতা বন্ধ করা যাবে না।

জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গঠন কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি বাস্তব ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ধারাবাহিক পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ