খুঁজুন
                               
, ,
           

ডলারের বাজারে অস্বাভাবিক বৈপরীত্য

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
ডলারের বাজারে অস্বাভাবিক বৈপরীত্য

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে দেখা দিয়েছে এক অস্বাভাবিক বৈপরীত্য। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমলেও খোলা বাজারে ঠিক তার উল্টো চিত্র। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে যেখানে প্রতি ডলারের দাম নেমে এসেছে ১২২ টাকায়, সেখানে খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। অর্থাৎ ব্যাংক ও খোলা বাজারের মধ্যে প্রতি ডলারে দামের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ টাকা ৪০ পয়সা। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এই বড় ব্যবধান শুধু বাজারের দুই অংশের ভিন্ন বাস্তবতাই তুলে ধরছে না, বরং ডলারের সরবরাহ, চাহিদা এবং বৈদেশিক লেনদেনের প্রবাহ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর আরও পড়ে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যাংকাররা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজারে ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে আবারও ডলার কেনার চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বাজার থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন মনে করলে আগের মতো ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অতিরিক্ত ডলার নিলামের মাধ্যমে কিনতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রেমিট্যান্স বাড়ায় ব্যাংকে ডলারের ‘জোয়ার’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যায়, আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর কমার প্রধান কারণ সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধির ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। একই সময়ে জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি বিভিন্ন আমদানি ও কেনাকাটার বিপরীতে ডলারের পরিশোধও তুলনামূলক কম হয়েছে। ফলে একদিকে ডলারের জোগান বেড়েছে, অন্যদিকে চাহিদা কমেছে। স্বাভাবিক বাজারনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে দামে।

গত ৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা। দুই সপ্তাহ পর বুধবার তা নেমে এসেছে ১২২ টাকায়। অর্থাৎ এই সময়ে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকা ৮১ পয়সা বা ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তবে এই পতনকে নিছক ‘টাকার শক্তিশালী হওয়া’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হওয়ার পেছনে রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন যেমন ভূমিকা রাখছে, তেমনি আমদানি ও সরকারি বৈদেশিক পরিশোধের সাময়িক কমে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অথচ খোলা বাজারে কেন ১২৮ টাকা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই। ব্যাংকে ডলারের সরবরাহ বাড়লেও খোলা বাজারে তার উল্টো চিত্র কেন? বুধবার খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। কেনা হয়েছে ১২৮ টাকায়। মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ীর ভাষ্য, খোলা বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে। বিক্রেতা কম, কিন্তু ক্রেতার চাপ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ছে। এর অর্থ হলো, দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে এখন একক একটি বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে যে ডলার প্রবাহিত হচ্ছে, তার সবটা খোলা বাজারে যাচ্ছে না। আবার খোলা বাজারে যে চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেটিও আন্তঃব্যাংক বাজারের চাহিদার সঙ্গে সরাসরি মিলে যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও মনে করেন, আন্তঃব্যাংক বাজারের সঙ্গে খোলা বাজারের দর সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ খোলা বাজারে ডলারের দাম ব্যবসায়ীদের নিজস্ব চাহিদা-জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

বড় ব্যবধানের অর্থ কী?
দুই বাজারে ডলারের দামের ব্যবধান যত বাড়ে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তত বেশি বিকৃতির ঝুঁকি তৈরি হয়। ব্যাংকে ১২২ টাকায় পাওয়া ডলার খোলা বাজারে প্রায় ১২৮ টাকা—এই ব্যবধান বাজারে মধ্যস্থতাকারী ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের জন্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। আর এখানেই রেমিট্যান্সের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীরা সাধারণত বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে যে বিনিময় হার পান, সেটি যদি খোলা বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়, তাহলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর আকর্ষণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একইভাবে রপ্তানিকারকরাও তাদের রপ্তানি আয়ের বিপরীতে তুলনামূলক কম টাকা পেলে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও স্বীকার করেছেন, ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এখন কঠিন ভারসাম্য
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য পরিস্থিতিটি তাই কিছুটা ‘দুই দিকের চাপ’-এর মতো। একদিকে রেমিট্যান্স বাড়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলে ডলারের দাম কমছে এবং টাকার মূল্য তুলনামূলক শক্তিশালী হচ্ছে। অন্যদিকে ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই জায়গাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সবশেষ গত ৮ জুন ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ১ কোটি ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কোনো ডলার কেনেনি। এখন বাজারে আবার ডলার কেনা হলে এর মূল উদ্দেশ্য হবে শুধু রিজার্ভ বাড়ানো নয়; বরং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ শোষণ করে ডলারের দরকে একটি সহনীয় পর্যায়ে ধরে রাখা।

ডলারের দরপতন কি টাকার শক্তি, নাকি সাময়িক ভারসাম্য?
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আন্তঃব্যাংক বাজারে ১২২ টাকার ডলার কি নতুন স্থায়ী বাস্তবতা, নাকি এটি সাময়িক সরবরাহজনিত পতন? বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ৩০ জুন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট, এই হার ছিল ১২১ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে টাকার মূল্য খুব বেশি শক্তিশালী হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ সীমিত। বরং সাম্প্রতিক দরপতনকে রেমিট্যান্সের বাড়তি প্রবাহ, আমদানি ও সরকারি পরিশোধের সাময়িক পরিবর্তন এবং বাজারের চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যের ফল হিসেবে দেখাই বেশি যৌক্তিক।

ব্যাংক বনাম খোলা বাজার—দুই দামের বার্তা
বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক স্পট মার্কেটে ডলার বিক্রি করেছে ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সায় এবং কিনেছে ১২২ টাকা ৫০ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৪ টাকায়। জনতা ব্যাংক স্পট মার্কেটে বিক্রি করেছে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সায় এবং কিনেছে ১২২ টাকা ৬০ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রির দর ছিল ১২৪ টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক স্পট মার্কেটে ডলার বিক্রি করেছে ১২২ টাকা ৭২ পয়সায় এবং কিনেছে ১২১ টাকা ৭২ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৫ টাকা ২৫ পয়সায়। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর নগদ ও স্পট বাজারের মধ্যেও কিছুটা ব্যবধান রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যবধানটি তৈরি হয়েছে ব্যাংকিং চ্যানেল এবং খোলা বাজারের মধ্যে।

এখন নজর তিন জায়গায়
এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে তিনটি সূচকের দিকে নজর থাকবে—রেমিট্যান্সের প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার নীতি। রেমিট্যান্সের প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। আবার আমদানি চাহিদা বাড়লে সেই অতিরিক্ত ডলার দ্রুত শোষিতও হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করলে সরবরাহের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে চলে যাবে এবং বাজারে ডলারের অতিরিক্ত চাপ কমবে।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে একটি নতুন বৈপরীত্য সামনে এনেছে—ব্যাংকে ডলার যত সস্তা হচ্ছে, খোলা বাজারে ততই দাম বাড়ছে। এই দুই বাজারের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত কতটা কমানো যায়, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা। কারণ ডলারের দাম শুধু একটি মুদ্রার বিনিময় হার নয়; এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে প্রবাসী আয়, রপ্তানি, আমদানি ব্যয়, রিজার্ভ এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের স্থিতিশীলতা।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের ইঙ্গিত, আধা ঘণ্টার মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের ইঙ্গিত, আধা ঘণ্টার মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার ভারতের

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়ে জারিকৃত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই তা আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই সফর নিয়ে চলমান আলোচনা ও এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক মহলে বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে আগামীকাল শনিবার (২২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়মিত ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে না।

দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে একই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) এবং দেশটির বার্তা সংস্থা আইএএনএস। তবে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে দুপুর ৩টার দিকে সব জায়গা থেকেই বিজ্ঞপ্তিটি সরিয়ে ফেলা হয়।

এর কিছুক্ষণ পরই রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে নতুন আরেকটি বিবৃতির মাধ্যমে পূর্বের বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “নয়াদিল্লি বা ঢাকার পক্ষ থেকে এই হাই-প্রোফাইল সফরটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান হবে না বিষয়ে ২০২৬ সালের ২১শে আগস্ট জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হলো।”

প্রসঙ্গত, ভারতে রাষ্ট্রীয় সফরে আগত রাষ্ট্রপ্রধান এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য দেশটির রাষ্ট্রপতি ভবনে সামরিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্য হিসেবে এক জাঁকজমকপূর্ণ আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। এটি রাষ্ট্রপতি ভবনের সম্মুখ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে থাকে তিন-বাহিনীর আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার, জাতীয় সঙ্গীত এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় পর্ব।

এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং সম্প্রতি দিল্লিতে বসে তার রাজনৈতিক বক্তব্য ও গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণে দ্বিপাক্ষিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং অন্যান্য আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া এবং একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চূড়ান্ত হচ্ছে না।

যদিও ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের পাঠানো এই প্রত্যর্পণের আবেদনটি তাদের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার অধীনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের পর্দা উঠছে কাল, উদ্বোধনী ম্যাচে সিটি-বাগমারা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপের পর্দা উঠছে কাল, উদ্বোধনী ম্যাচে সিটি-বাগমারা

তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার, তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা অন্বেষণ এবং তরুণদের মাদক ও মোবাইল-ডিজিটাল আসক্তি থেকে মাঠমুখী করতে রাজশাহীতে শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

জেলা প্রশাসন ও রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে আগামীকাল শনিবার বিকেল ৩টায় রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।

টুর্নামেন্টে জেলার নয়টি উপজেলা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ মোট ১০টি দল অংশ নিচ্ছে। অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলো—মোহনপুর, গোদাগাড়ী, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর, তানোর, বাঘা, পুঠিয়া, চারঘাট উপজেলা এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন।

উদ্বোধনী ম্যাচে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ফুটবল দলের মুখোমুখি হবে বাগমারা উপজেলা ফুটবল দল। ম্যাচটি ঘিরে ইতোমধ্যে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন দলের প্রধান কোচ শ্যামল পারভেজ শিমুল জানান, এবারের টুর্নামেন্টের জন্য তারা শক্তিশালী দল গঠন করেছেন। দলের শক্তি বাড়াতে তিনজন নাইজেরিয়ান ফুটবলারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবেন।

তিনি জানান, সিটি করপোরেশন দল প্রায় এক মাস ধরে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে নিয়মিত অনুশীলন করছে। দলের সহকারী কোচ সোহাগ হোসেন পলাশও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে বাগমারা উপজেলা দলের কোচ জুয়েল জানান, টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে তারাও শক্তিশালী দল গঠন করেছেন। তবে দলে কোনো বিদেশি ফুটবলার নেই। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে বাগমারার একটি স্কুল মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করছে দলটি। তার মতে, উদ্বোধনী ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও জমজমাট হবে।

টুর্নামেন্ট উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের সভাকক্ষে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের প্রসার, প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করাই টুর্নামেন্টের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জেলা প্রশাসক জানান, টুর্নামেন্ট আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য স্টেডিয়ামে প্রেস বক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

এদিকে টুর্নামেন্ট সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামের মাঠের ঘাস কেটে খেলার উপযোগী করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্যালারিও রং করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা দু-এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা দু-এক মাসে দূর করা সম্ভব নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের স্বাস্থ্যসেবায় যে অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে, তা দু-এক মাসে ঠিক করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেছেন, চিকিৎসকের অবহেলায় কনিকা রানী মণ্ডলের (৩২) মৃত্যুর অভিযোগের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতাল ও চিকিৎসক লক্ষ্মী রানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে নিহত কনিকা রানীর বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর প্রসূতির পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার পর এই নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। অপারেশনের প্রায় ৫১ দিন পর ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তারা প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদন দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। এগুলো এখন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরে গড়ে ওঠা সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়।

দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য ৫০ শয্যা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এসব সেন্টারের কাজ শুরুর লক্ষ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন কনিকা মণ্ডল অসুস্থ হলে তাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনি সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে কনিকাকে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কনিকা কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরদিন তার পেট ফুলে যায় ও তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানানো হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এরপর তাকে রাজধানীর কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা কনিকার পেটে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করতে পারেন। ১৯ আগস্ট রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মণ্ডল মারা যান।

এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফরোজা পারভীন, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল হক, বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরি মুস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ