খুঁজুন
                               
, ,
           

ডলারের বাজারে অস্বাভাবিক বৈপরীত্য

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
ডলারের বাজারে অস্বাভাবিক বৈপরীত্য

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে দেখা দিয়েছে এক অস্বাভাবিক বৈপরীত্য। ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দাম ধারাবাহিকভাবে কমলেও খোলা বাজারে ঠিক তার উল্টো চিত্র। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে যেখানে প্রতি ডলারের দাম নেমে এসেছে ১২২ টাকায়, সেখানে খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। অর্থাৎ ব্যাংক ও খোলা বাজারের মধ্যে প্রতি ডলারে দামের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ টাকা ৪০ পয়সা। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে এই বড় ব্যবধান শুধু বাজারের দুই অংশের ভিন্ন বাস্তবতাই তুলে ধরছে না, বরং ডলারের সরবরাহ, চাহিদা এবং বৈদেশিক লেনদেনের প্রবাহ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দর আরও পড়ে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যাংকাররা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাজারে ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে আবারও ডলার কেনার চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, বাজার থেকে অতিরিক্ত ডলার কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রয়োজন মনে করলে আগের মতো ব্যাংকগুলোর কাছে থাকা অতিরিক্ত ডলার নিলামের মাধ্যমে কিনতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রেমিট্যান্স বাড়ায় ব্যাংকে ডলারের ‘জোয়ার’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যায়, আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর কমার প্রধান কারণ সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধির ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। একই সময়ে জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি বিভিন্ন আমদানি ও কেনাকাটার বিপরীতে ডলারের পরিশোধও তুলনামূলক কম হয়েছে। ফলে একদিকে ডলারের জোগান বেড়েছে, অন্যদিকে চাহিদা কমেছে। স্বাভাবিক বাজারনীতিতে এর প্রভাব পড়েছে দামে।

গত ৬ আগস্ট আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দাম ছিল ১২৩ টাকা ৮১ পয়সা। দুই সপ্তাহ পর বুধবার তা নেমে এসেছে ১২২ টাকায়। অর্থাৎ এই সময়ে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকা ৮১ পয়সা বা ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। তবে এই পতনকে নিছক ‘টাকার শক্তিশালী হওয়া’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। কারণ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হওয়ার পেছনে রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন যেমন ভূমিকা রাখছে, তেমনি আমদানি ও সরকারি বৈদেশিক পরিশোধের সাময়িক কমে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অথচ খোলা বাজারে কেন ১২৮ টাকা?
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই। ব্যাংকে ডলারের সরবরাহ বাড়লেও খোলা বাজারে তার উল্টো চিত্র কেন? বুধবার খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা পর্যন্ত। কেনা হয়েছে ১২৮ টাকায়। মতিঝিলের এক ডলার ব্যবসায়ীর ভাষ্য, খোলা বাজারে ডলারের সরবরাহ কমে গেছে। বিক্রেতা কম, কিন্তু ক্রেতার চাপ রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ছে। এর অর্থ হলো, দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারকে এখন একক একটি বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে যে ডলার প্রবাহিত হচ্ছে, তার সবটা খোলা বাজারে যাচ্ছে না। আবার খোলা বাজারে যে চাহিদা তৈরি হচ্ছে, সেটিও আন্তঃব্যাংক বাজারের চাহিদার সঙ্গে সরাসরি মিলে যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও মনে করেন, আন্তঃব্যাংক বাজারের সঙ্গে খোলা বাজারের দর সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ খোলা বাজারে ডলারের দাম ব্যবসায়ীদের নিজস্ব চাহিদা-জোগানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

বড় ব্যবধানের অর্থ কী?
দুই বাজারে ডলারের দামের ব্যবধান যত বাড়ে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে তত বেশি বিকৃতির ঝুঁকি তৈরি হয়। ব্যাংকে ১২২ টাকায় পাওয়া ডলার খোলা বাজারে প্রায় ১২৮ টাকা—এই ব্যবধান বাজারে মধ্যস্থতাকারী ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের জন্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। আর এখানেই রেমিট্যান্সের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসীরা সাধারণত বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে যে বিনিময় হার পান, সেটি যদি খোলা বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়, তাহলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর আকর্ষণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। একইভাবে রপ্তানিকারকরাও তাদের রপ্তানি আয়ের বিপরীতে তুলনামূলক কম টাকা পেলে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রও স্বীকার করেছেন, ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে এখন কঠিন ভারসাম্য
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য পরিস্থিতিটি তাই কিছুটা ‘দুই দিকের চাপ’-এর মতো। একদিকে রেমিট্যান্স বাড়ায় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এর ফলে ডলারের দাম কমছে এবং টাকার মূল্য তুলনামূলক শক্তিশালী হচ্ছে। অন্যদিকে ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে গেলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই জায়গাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সবশেষ গত ৮ জুন ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ১ কোটি ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কোনো ডলার কেনেনি। এখন বাজারে আবার ডলার কেনা হলে এর মূল উদ্দেশ্য হবে শুধু রিজার্ভ বাড়ানো নয়; বরং বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ শোষণ করে ডলারের দরকে একটি সহনীয় পর্যায়ে ধরে রাখা।

ডলারের দরপতন কি টাকার শক্তি, নাকি সাময়িক ভারসাম্য?
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আন্তঃব্যাংক বাজারে ১২২ টাকার ডলার কি নতুন স্থায়ী বাস্তবতা, নাকি এটি সাময়িক সরবরাহজনিত পতন? বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ৩০ জুন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট, এই হার ছিল ১২১ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে টাকার মূল্য খুব বেশি শক্তিশালী হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ সীমিত। বরং সাম্প্রতিক দরপতনকে রেমিট্যান্সের বাড়তি প্রবাহ, আমদানি ও সরকারি পরিশোধের সাময়িক পরিবর্তন এবং বাজারের চাহিদা-জোগানের ভারসাম্যের ফল হিসেবে দেখাই বেশি যৌক্তিক।

ব্যাংক বনাম খোলা বাজার—দুই দামের বার্তা
বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক স্পট মার্কেটে ডলার বিক্রি করেছে ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সায় এবং কিনেছে ১২২ টাকা ৫০ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৪ টাকায়। জনতা ব্যাংক স্পট মার্কেটে বিক্রি করেছে ১২৩ টাকা ৬০ পয়সায় এবং কিনেছে ১২২ টাকা ৬০ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রির দর ছিল ১২৪ টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক স্পট মার্কেটে ডলার বিক্রি করেছে ১২২ টাকা ৭২ পয়সায় এবং কিনেছে ১২১ টাকা ৭২ পয়সায়। নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৫ টাকা ২৫ পয়সায়। অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর নগদ ও স্পট বাজারের মধ্যেও কিছুটা ব্যবধান রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যবধানটি তৈরি হয়েছে ব্যাংকিং চ্যানেল এবং খোলা বাজারের মধ্যে।

এখন নজর তিন জায়গায়
এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে তিনটি সূচকের দিকে নজর থাকবে—রেমিট্যান্সের প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার কেনার নীতি। রেমিট্যান্সের প্রবাহ শক্তিশালী থাকলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডলারের সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। আবার আমদানি চাহিদা বাড়লে সেই অতিরিক্ত ডলার দ্রুত শোষিতও হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করলে সরবরাহের একটি অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে চলে যাবে এবং বাজারে ডলারের অতিরিক্ত চাপ কমবে।

সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে একটি নতুন বৈপরীত্য সামনে এনেছে—ব্যাংকে ডলার যত সস্তা হচ্ছে, খোলা বাজারে ততই দাম বাড়ছে। এই দুই বাজারের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত কতটা কমানো যায়, সেটিই এখন বড় পরীক্ষা। কারণ ডলারের দাম শুধু একটি মুদ্রার বিনিময় হার নয়; এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে প্রবাসী আয়, রপ্তানি, আমদানি ব্যয়, রিজার্ভ এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের স্থিতিশীলতা।

কালের আলো/এম/এএইচ

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।

নতুন দামে ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সর্বশেষ বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত এ দাম সমন্বয় করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি