খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্যাসের চাপে থমকে যাচ্ছে শিল্পের চাকা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ
গ্যাসের চাপে থমকে যাচ্ছে শিল্পের চাকা

দেশের শিল্প খাত যেন একসঙ্গে কয়েকটি সংকটের ভারে নুয়ে পড়েছে। ডলার সংকট, উচ্চ সুদহার, কাঁচামাল আমদানিতে বাধা, রপ্তানি অর্ডার কমে যাওয়া—এসবের সঙ্গে নতুন করে সবচেয়ে বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। জ্বালানির অনিশ্চয়তায় শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়, কমছে রপ্তানি সক্ষমতা। ফলে বিনিয়োগের বদলে উদ্যোক্তাদের এখন টিকে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে।

শিল্প মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিল্পাঞ্চলগুলোতে দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, সিরামিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে উদ্যোক্তাদের জেনারেটর ও এলপিজির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।

শিল্পের জন্য সংকটটি শুধু বাড়তি খরচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গ্যাসের সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় উৎপাদন পরিকল্পনা ভেঙে পড়ছে। একটি কারখানা নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন করতে না পারলে তার প্রভাব পড়ে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায়। কাঁচামাল থেকে শুরু করে শ্রম, পরিবহন, শিপমেন্ট—সবকিছুর সময়সূচি বদলে যায়। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাঠাতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে জরিমানা গুনতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের, আবার ভবিষ্যৎ অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে।

টেক্সটাইল খাতের পরিস্থিতি এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, স্পিনিং মিলগুলোর একটি বড় অংশ কাঁচামালের সংকটে অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। অর্থাৎ কারখানা আছে, যন্ত্রপাতি আছে, শ্রমিক আছে—কিন্তু উৎপাদন করার মতো পর্যাপ্ত কাঁচামাল ও জ্বালানি নেই। শিল্পের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের অপচয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডলার সংকট। কাঁচামাল, রাসায়নিক, তুলা, সুতা ও মেশিনারিজ আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় এলসি খুলতে অনেক উদ্যোক্তাই সমস্যায় পড়ছেন। ফলে গ্যাস সংকটের কারণে যে উৎপাদন কমছে, ডলার সংকট সেই উৎপাদন পুনরুদ্ধারের পথও সংকুচিত করছে। অর্থাৎ শিল্পের একটি সংকট আরেকটি সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।

এই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে উচ্চ সুদহার। বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণের সুদহার ১৪ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছানোয় শিল্প উদ্যোক্তাদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বেশি চাপে পড়েছেন। উৎপাদন কমলেও ঋণের সুদ ও অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় কমে না। ফলে আয় কমার বিপরীতে ব্যয় বাড়তে থাকায় অনেক উদ্যোক্তা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ছেন।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বস্তি নেই। মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল চাহিদার কারণে তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অর্ডার কমেছে। উদ্যোক্তাদের হিসাবে, নতুন অর্ডার গত বছরের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে জ্বালানি সংকটে, অন্যদিকে উৎপাদিত পণ্যের বাজারও সংকুচিত হচ্ছে। তার ওপর ডলারের উচ্চমূল্য, কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিপিং খরচের চাপ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, উৎপাদন কমে যাওয়ার এই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত রপ্তানি আয়েও প্রভাব ফেলতে পারে। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কমবে, উৎপাদন কমলে রপ্তানির জন্য পণ্য কম তৈরি হবে, রপ্তানি কমলে দেশে ডলারের প্রবাহও কমবে। আবার ডলারের সংকটের কারণে কাঁচামাল আমদানি কমলে উৎপাদন আরও কমবে। এভাবে গ্যাস, উৎপাদন, রপ্তানি ও ডলার সংকট একটি পারস্পরিক নির্ভরশীল চক্র তৈরি করছে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের বক্তব্যেও এই আন্তঃসম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, শিল্প খাতের বর্তমান সংকটগুলো আলাদা নয়; একটি সংকট আরেকটিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কমছে, উৎপাদন কমলে রপ্তানি কমছে, রপ্তানি কমলে ডলার আসা কমছে এবং ডলার সংকট আবার কাঁচামাল আমদানিতে বাধা তৈরি করছে।

ফলে বর্তমান সংকটকে শুধু ‘গ্যাসের সমস্যা’ হিসেবে দেখলে এর গভীরতা বোঝা যাবে না। এটি এখন শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান এবং বিনিয়োগের পরিবেশ—তিনটিকেই প্রভাবিত করছে। একজন উদ্যোক্তার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অনিশ্চয়তা। কখন গ্যাস থাকবে, কখন বিদ্যুৎ থাকবে, কবে এলসি খোলা যাবে, কত সুদে ঋণ পাওয়া যাবে—এসব প্রশ্নের উত্তর অনিশ্চিত থাকলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে অনেক কারখানা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে পারে। এতে শুধু শিল্প মালিক নয়, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট বিপুলসংখ্যক ছোট-বড় ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একটি বড় কারখানার উৎপাদন বন্ধ হলে তার সঙ্গে যুক্ত কাঁচামাল সরবরাহকারী, পরিবহন ব্যবসা, প্যাকেজিং, ব্যাংকিং ও অন্যান্য সেবা খাতেও এর প্রভাব পড়ে।

সরকার অবশ্য পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশীয় উৎস থেকে নতুন গ্যাস পাওয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ফলে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও আমদানিনির্ভরতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে ডলার সরবরাহ, এলসি খোলা এবং শিল্পঋণের সুদহার নিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বাস্তবতা হলো, শিল্প খাতকে এখন একদিকে উৎপাদন বাড়াতে হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি ব্যয় সামলাতে হচ্ছে; আবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতাও ধরে রাখতে হচ্ছে। এই অবস্থায় জ্বালানি সংকটের সমাধান ছাড়া শিল্পের অন্যান্য সংকটও স্থায়ীভাবে কাটিয়ে ওঠা কঠিন।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি শিল্প ও রপ্তানি খাত। তাই শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়া মানে শুধু কয়েকটি কারখানার সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, ব্যাংকঋণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। গ্যাস-বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা তাই এখন শিল্পের জন্য কোনো বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার মৌলিক শর্ত।

শিল্প উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশার জায়গায় যদি অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে, তাহলে বিনিয়োগের গতি থেমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান শিল্প সক্ষমতাও ক্ষয়ে যেতে পারে। তাই গ্যাস সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন শিল্প খাতের সবচেয়ে জরুরি দাবি। নইলে গ্যাসের সংকট ধীরে ধীরে শুধু কারখানার উৎপাদন নয়, পুরো অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চাকার গতিকেই থামিয়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
জলবায়ু অর্থায়নে কার্যকর বিনিয়োগ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব মঈন খানের, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উন্মুক্ত সরকার

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও দেশের মানুষের কল্যাণকে একই উন্নয়ন কাঠামোয় যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে অর্থের সঠিক ব্যবহার, স্বচ্ছতা এবং বাস্তবভিত্তিক নীতি প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ গ্রহণে সরকার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে বেসরকারি সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: প্রকৃতির জন্য জলবায়ু অর্থায়নের পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপে দেশীয় জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

  • জনকল্যাণমুখী নীতি প্রণয়নে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ গ্রহণে সরকারের প্রস্তুতির কথা জানালেন মন্ত্রী
  • ঋণের স্বচ্ছ ব্যবহার, উন্নয়ন ও পরিবেশের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে জলবায়ু সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান জনগণ দ্বারা নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার সুশীল সমাজ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সুপারিশ গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। আমরা এমন একটি নীতি প্রণয়ন করতে চাই যা সত্যিই দেশের মানুষের কল্যাণে আসবে।’

জলবায়ু অর্থায়নে জনস্বার্থ ও বিশেষজ্ঞ মতামতের গুরুত্ব
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং অর্থায়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি সংলাপে গুরুত্ব পায়। মন্ত্রীর বক্তব্যে বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, সুশীল সমাজের সুপারিশ এবং জনস্বার্থকে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্ব উঠে আসে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থের সংস্থান যেমন প্রয়োজন, তেমনি সেই অর্থের ব্যবহারও হতে হবে পরিকল্পিত ও জনকল্যাণমুখী। পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুফল বিবেচনায় নিয়ে নীতি প্রণয়ন করলে জলবায়ু অর্থায়নকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়।

জলবায়ু সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দায়বদ্ধতার ওপর জোর
বৈশ্বিক জলবায়ু পদক্ষেপের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ড. মঈন খান জাতিসংঘে পরিবেশবিষয়ক তাঁর ৩৫ বছর আগের একটি ভাষণের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সে সময় পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে যেসব মৌলিক বিষয় আলোচনায় এসেছিল, তার মধ্যে দূষণকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিও ছিল। বিষয়টি এখনো আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয়, আজ আমরা অনুভব করছি যে, ৩৫ বছর আগে আমরা জাতিসংঘে যেসব পরিবেশগত শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছিলাম, আজও আমরা সেগুলোই পুনর্ব্যক্ত করছি। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবে তাদের দায়ভার গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে আমাদের সামগ্রিক বৈশ্বিক পরিবেশ প্রতিনিয়ত সংকটাপন্ন হচ্ছে।’ তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা, অর্থায়ন এবং পরিবেশগত দায়িত্ব পালনের সমন্বয় বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয়ে টেকসই ভবিষ্যৎ
উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিনির্ধারণী বাস্তবতা তুলে ধরে ড. মঈন খান বলেন, জনগণ রাস্তাঘাট, অবকাঠামো ও শিল্পের উন্নয়ন প্রত্যাশা করে। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি জনগণের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্মুক্ত মনোভাবের উল্লেখ করে বলেন, ‘তাঁর উদাহরণ এ দেশের মানুষের জন্য শিক্ষণীয়।’ দেশের মানুষের কল্যাণে কার্যকর নীতি প্রণয়নে পরামর্শ গ্রহণে সরকারের উন্মুক্ত থাকার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে অংশীজনদের মতবিনিময় ও সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

ঋণের অর্থ সঠিক খাতে বিনিয়োগই উন্নয়নের মূল বিবেচনা
জলবায়ু অর্থায়ন ও জাতীয় ঋণ প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, ঋণ গ্রহণ নিজেই বড় সমস্যা নয়; বরং সেই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করলেও আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশের তালিকায় পড়েনি। তাঁর মতে, ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশের শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট অর্থনীতির আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, যা কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে সচল রাখতে সহায়তা করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির পুনর্গঠনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা হলে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন করা একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল হতে পারে, যদি তা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।’ এখানে উন্নয়ন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব উঠে এসেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ভাষ্যে। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অভিযোজনমূলক উদ্যোগে অর্থের পরিকল্পিত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদি সুফল অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা ও স্থানীয় অংশগ্রহণ
প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতার ভূমিকা তুলে ধরে ড. মঈন খান নেপালের একটি ঐতিহাসিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি দেখান, জনসচেতনতা ও পরিবেশগত আন্দোলন প্রকৃতি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় গোষ্ঠীগুলোকে শুধু তারকা হোটেলের বলরুমে আয়োজিত আলোচনা বা প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় সংলাপে ড. মঈন খানের বক্তব্যে জলবায়ু অর্থায়ন, স্বচ্ছ বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর প্রাসাদে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইয়েমেনের অস্থায়ী রাজধানী এডেনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতি। তবে হামলার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী শায়া মোহসেন জিনদানি ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা নিরাপদে ছিলেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেন সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মুয়াম্মার আল-এরিয়ানি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এডেনের আল-মাশিক প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়।

এর আগে প্রাসাদের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার সংবাদদাতারা।

তবে এ হামলায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না কিংবা কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
পঞ্চবটি–মুক্তারপুর দোতলা সড়ক নির্মাণে মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিতে কঠোর মন্ত্রী

পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও নির্মাণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে চান না সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। আধুনিক, টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণে কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকল্পের চলমান নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখা এবং পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নির্মাণকাজে প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন। তাঁর এ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি অবকাঠামোর মান, স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • পরিদর্শনে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
  • দোতলা সড়কের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ
  • সুরক্ষা দেয়াল, শাটারিং ও ফিনিশিংয়ের মান নিশ্চিত করার তাগিদ

‘অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়’
নির্মাণশৈলী, গুণগত মান ও নান্দনিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণশৈলী একটি দেশের সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতার পরিচায়ক। তাই অবকাঠামো নির্মাণে শুধু কাজ সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়; এর গুণগত মান, স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য ও সামগ্রিক নির্মাণশৈলীও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।’ মন্ত্রীর এই বক্তব্যে অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে মান ও সৌন্দর্যের সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি প্রকল্পের সুরক্ষা দেয়াল ও শাটারিংয়ের কাজের মান যথাযথভাবে বজায় রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেয়ালের ফিনিশিং আরও সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এ সময় নির্ধারিত মান অনুসরণ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিকতার সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপর তাঁর বিশেষ গুরুত্বারোপ প্রকল্পের সামগ্রিক নির্মাণমান ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ, আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৯৮.৫০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৮২.৮৬ শতাংশ। প্রকল্পটির আওতায় পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণের পাশাপাশি দোতলা সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের এই অগ্রগতি নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সড়কের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ অঞ্চলে যানবাহন চলাচল আরও সহজ করা এবং যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ মন্ত্রীকে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন নির্মাণকাজের বর্তমান অবস্থা এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

নারায়ণগঞ্জ–মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগে বাড়বে গতি
পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক করিডর নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ, নির্বিঘ্ন ও সময়সাশ্রয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যানজট হ্রাস এবং শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা বৃদ্ধিতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পণ্য পরিবহনে সময় সাশ্রয় হলে সরবরাহব্যবস্থা আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ বিবেচনায় পঞ্চবটি–মুক্তারপুর সড়কের উন্নয়ন আঞ্চলিক যোগাযোগের পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

দোতলা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানোর এ উদ্যোগ এ অঞ্চলের পরিবহন চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে সড়ক যোগাযোগের সুবিধা বৃদ্ধি, যাতায়াতের সময় কমানো এবং শিল্পপণ্য পরিবহনে গতি সঞ্চারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা, প্রকৌশলী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে