খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যাংকে টাকা, ঋণে ভাটা বিনিয়োগহীনতার নতুন সংকেত

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংকে টাকা, ঋণে ভাটা বিনিয়োগহীনতার নতুন সংকেত

ব্যাংকিং খাতে এখন এক অদ্ভুত বিপরীত চিত্র। ব্যাংকগুলোর হাতে টাকার ঘাটতি নেই; বরং বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য। অথচ সেই অর্থ নেওয়ার মতো ঋণের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি তারল্য ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অন্য ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নেওয়ার প্রয়োজনও কমছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের একটি বড় সংকেত—বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুলাইয়ে কলমানি, আন্তঃব্যাংক রেপো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো—এই তিন উৎস থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ধার ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। জুনে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে এসব উৎস থেকে ব্যাংকগুলোর ধার কমেছে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা।

শুধু সাম্প্রতিক এক মাসের চিত্র নয়, সময়ের ব্যবধানেও এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই তিন উৎস থেকে ব্যাংকগুলোর মোট ধার ছিল প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। আর ওই বছরের জুনে ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকের তারল্য চাহিদা কখনো বেড়েছে, আবার এখন তা কমে এসেছে। এর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়া।

ঋণ কমছে, কারণ বিনিয়োগের গতি কম
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। মে মাসে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

একটি অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ সাধারণত বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ, ব্যবসা পরিচালনা, আমদানি ও নতুন কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে ঋণপ্রবাহ যখন ধারাবাহিকভাবে দুর্বল থাকে, তখন শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, বাস্তব অর্থনীতির গতিও মন্থর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা নতুন কারখানা স্থাপন, বিদ্যমান শিল্প সম্প্রসারণ কিংবা বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। শিল্প উৎপাদনে ধীরগতি, জ্বালানি সংকট, ডলার ও আমদানি-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদহার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে নতুন ঋণের প্রয়োজনই অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে না।

অর্থাৎ ব্যাংক ঋণ দিতে প্রস্তুত থাকলেও উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ ঋণ নিতে চাইছেন না বা ঝুঁকি নিতে পারছেন না। ফলে অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ থাকলেও তার ব্যবহার হচ্ছে না উৎপাদনশীল বিনিয়োগে।

বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য
ঋণের চাহিদা কমার প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্যে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতি ব্যাংকের জন্য একদিকে স্বস্তির, অন্যদিকে উদ্বেগের। স্বস্তির কারণ হলো ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে এবং সাময়িক তারল্য সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ধার করার প্রয়োজন কমছে। কিন্তু উদ্বেগের জায়গা হলো, ব্যাংকের সেই অর্থ যদি ঋণ হিসেবে ব্যবসা ও বিনিয়োগে না যায়, তাহলে তা অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি তৈরি করতে পারবে না।

ব্যাংকের অর্থের একটি বড় অংশ যদি অলস বা কম ব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে আমানত সংগ্রহের পর সেই অর্থের উৎপাদনশীল ব্যবহার হচ্ছে না। এতে ব্যাংকের আয় ও ঋণ ব্যবসার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

ধার কমার পেছনে স্বস্তি কতটা?
ব্যাংকগুলোর কলমানি, আন্তঃব্যাংক রেপো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো থেকে ধার কমে যাওয়াকে শুধু তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। কারণ একটি ব্যাংক সাধারণত যখন নিজের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ পায়, তখন স্বল্পমেয়াদি ধার নেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। কিন্তু ব্যাংকগুলোর হাতে এই অর্থ এসেছে কেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

যদি আমানত বাড়ে, কিন্তু সেই আমানতের বিপরীতে ঋণের চাহিদা না বাড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ জমতে থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঠিক সেটিই ঘটছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদও মনে করেন, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগবিহীন তারল্যের ক্রমবর্ধমান মজুদ এখন অনেক ব্যাংকের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকের ধার কমার পেছনে শুধু ব্যাংকের শক্তিশালী তারল্য অবস্থান নয়, বরং ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

আমানত বাড়ছে, কিন্তু ঋণ যাচ্ছে না
বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য হচ্ছে আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধির মধ্যে বড় ব্যবধান। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক এজাজুল ইসলামের মতে, ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে থাকলেও আমানত প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি। ফলে ব্যাংকগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। এখানে অর্থনীতির জন্য মূল প্রশ্ন হলো—এই বাড়তি অর্থ কোথায় যাবে?

ব্যাংকে আমানত বাড়া সাধারণত ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু আমানতের অর্থ যদি ঋণ হিসেবে শিল্প, ব্যবসা ও বিনিয়োগে না যায়, তাহলে অর্থনীতির উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে এর প্রত্যাশিত প্রভাব তৈরি হবে না। একদিকে মানুষের সঞ্চয় ও ব্যাংক আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের ঋণ চাহিদা কমছে। এই ব্যবধান যত বাড়বে, ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর তত বেশি চাপ তৈরি হবে।

উচ্চ সুদ ও অনিশ্চয়তা বড় বাধা
ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে শুধু উদ্যোক্তাদের অনীহা নয়, ঋণের খরচও একটি বড় কারণ। সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকায় ব্যবসায়িক বিনিয়োগের সম্ভাব্য মুনাফা ও ঋণের খরচের মধ্যে ব্যবধান কমে যাচ্ছে। কোনো উদ্যোক্তা যদি মনে করেন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া কঠিন হবে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি নতুন ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেবেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও ডলার সংকট। শিল্প উদ্যোক্তার কাছে উৎপাদন বাড়ানোর নিশ্চয়তা না থাকলে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। আবার আমদানি করতে প্রয়োজনীয় ডলার পাওয়া যাবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত হলে নতুন ঋণের চাহিদা কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। ফলে বর্তমান ঋণবাজারের দুর্বলতা আসলে শুধু ব্যাংকের সমস্যা নয়; এটি বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বলতারও প্রতিফলন।

কলমানির সুদেও মিলছে তারল্যের ইঙ্গিত
বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকার আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় স্বল্পমেয়াদি অর্থবাজারে। ১৯ আগস্ট কলমানি বাজারে ভারিত গড় সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) সুদহার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

তারল্য উদ্বৃত্ত থাকা ব্যাংকগুলো একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করতে পারে, অন্যদিকে আন্তঃব্যাংক বাজারেও অর্থ রাখতে পারে। বিপরীতে যেসব ব্যাংকের তারল্য ঘাটতি রয়েছে, তারা এখনো কলমানি, আন্তঃব্যাংক ধার ও রেপোর মতো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।

অর্থাৎ পুরো ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি একই রকম নয়। কিছু ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, আবার কিছু ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর ওপর ধার করার চাপ কমেছে।

অর্থনীতির জন্য বড় প্রশ্ন বিনিয়োগ
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংকে পড়ে থাকা এই বিপুল অর্থ কীভাবে উৎপাদনশীল খাতে ফিরবে। শুধু ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়লেই অর্থনীতি গতিশীল হবে না। সেই অর্থ শিল্প, ব্যবসা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগে যেতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণের চাহিদা বাড়ানোর জন্য শুধু সুদহার কমানো যথেষ্ট নাও হতে পারে। উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, আমদানির জন্য ডলারপ্রাপ্তি সহজ করা, ব্যবসায়িক নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ সমস্যা মোকাবিলা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কারণ উদ্যোক্তার কাছে ব্যবসার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকলে কম সুদের ঋণও আকর্ষণীয় নাও হতে পারে। বিপরীতে ব্যবসার পরিবেশ স্থিতিশীল হলে ঋণের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে।

স্বস্তির তারল্যের আড়ালে মন্থর অর্থনীতি
ব্যাংকগুলোর ধার কমে যাওয়া এবং উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে যাওয়াকে তাই একমাত্র ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতির স্বস্তি যেমন প্রকাশ করছে, তেমনি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে মন্থরতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একটি অর্থনীতিতে ব্যাংকের হাতে টাকা থাকবে—এটাই যথেষ্ট নয়। সেই টাকা উদ্যোক্তার হাতে গিয়ে কারখানা চালাবে, নতুন প্রকল্প তৈরি করবে, আমদানি করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উৎপাদন বাড়াবে—অর্থনীতির জন্য সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান চিত্রে সেই দ্বিতীয় ধাপটিই দুর্বল। ব্যাংকে অর্থ আছে, কিন্তু ঋণগ্রহীতা কম। ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা আছে, কিন্তু বিনিয়োগের আগ্রহ কম। ফলে ব্যাংকের তারল্য বাড়ছে, অথচ অর্থনীতির উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে তার প্রবাহ কমছে।

এই বাস্তবতা বদলাতে না পারলে ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য আরও বাড়তে পারে। আর সেটি তখন শুধু ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনার সমস্যা থাকবে না; বরং বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুর্বলতার একটি বড় সূচক হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।

নতুন দামে ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সর্বশেষ বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত এ দাম সমন্বয় করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি