খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যাংকে টাকা, ঋণে ভাটা বিনিয়োগহীনতার নতুন সংকেত

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংকে টাকা, ঋণে ভাটা বিনিয়োগহীনতার নতুন সংকেত

ব্যাংকিং খাতে এখন এক অদ্ভুত বিপরীত চিত্র। ব্যাংকগুলোর হাতে টাকার ঘাটতি নেই; বরং বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য। অথচ সেই অর্থ নেওয়ার মতো ঋণের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদি তারল্য ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অন্য ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ধার নেওয়ার প্রয়োজনও কমছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের একটি বড় সংকেত—বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুলাইয়ে কলমানি, আন্তঃব্যাংক রেপো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো—এই তিন উৎস থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট ধার ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। জুনে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে এসব উৎস থেকে ব্যাংকগুলোর ধার কমেছে প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা।

শুধু সাম্প্রতিক এক মাসের চিত্র নয়, সময়ের ব্যবধানেও এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই তিন উৎস থেকে ব্যাংকগুলোর মোট ধার ছিল প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা। আর ওই বছরের জুনে ছিল প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকের তারল্য চাহিদা কখনো বেড়েছে, আবার এখন তা কমে এসেছে। এর পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়া।

ঋণ কমছে, কারণ বিনিয়োগের গতি কম
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এখন ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। মে মাসে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

একটি অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ সাধারণত বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ, ব্যবসা পরিচালনা, আমদানি ও নতুন কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে ঋণপ্রবাহ যখন ধারাবাহিকভাবে দুর্বল থাকে, তখন শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, বাস্তব অর্থনীতির গতিও মন্থর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তারা নতুন কারখানা স্থাপন, বিদ্যমান শিল্প সম্প্রসারণ কিংবা বড় ধরনের বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। শিল্প উৎপাদনে ধীরগতি, জ্বালানি সংকট, ডলার ও আমদানি-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদহার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে নতুন ঋণের প্রয়োজনই অনেক ক্ষেত্রে তৈরি হচ্ছে না।

অর্থাৎ ব্যাংক ঋণ দিতে প্রস্তুত থাকলেও উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ ঋণ নিতে চাইছেন না বা ঝুঁকি নিতে পারছেন না। ফলে অর্থনীতিতে অর্থের সরবরাহ থাকলেও তার ব্যবহার হচ্ছে না উৎপাদনশীল বিনিয়োগে।

বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য
ঋণের চাহিদা কমার প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্যে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক মাসে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়েছে প্রায় ৭১ হাজার কোটি টাকা।

এই পরিস্থিতি ব্যাংকের জন্য একদিকে স্বস্তির, অন্যদিকে উদ্বেগের। স্বস্তির কারণ হলো ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে এবং সাময়িক তারল্য সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ধার করার প্রয়োজন কমছে। কিন্তু উদ্বেগের জায়গা হলো, ব্যাংকের সেই অর্থ যদি ঋণ হিসেবে ব্যবসা ও বিনিয়োগে না যায়, তাহলে তা অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত গতি তৈরি করতে পারবে না।

ব্যাংকের অর্থের একটি বড় অংশ যদি অলস বা কম ব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে আমানত সংগ্রহের পর সেই অর্থের উৎপাদনশীল ব্যবহার হচ্ছে না। এতে ব্যাংকের আয় ও ঋণ ব্যবসার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

ধার কমার পেছনে স্বস্তি কতটা?
ব্যাংকগুলোর কলমানি, আন্তঃব্যাংক রেপো ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপো থেকে ধার কমে যাওয়াকে শুধু তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। কারণ একটি ব্যাংক সাধারণত যখন নিজের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ পায়, তখন স্বল্পমেয়াদি ধার নেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়। কিন্তু ব্যাংকগুলোর হাতে এই অর্থ এসেছে কেন—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

যদি আমানত বাড়ে, কিন্তু সেই আমানতের বিপরীতে ঋণের চাহিদা না বাড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ জমতে থাকবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ঠিক সেটিই ঘটছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদও মনে করেন, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগবিহীন তারল্যের ক্রমবর্ধমান মজুদ এখন অনেক ব্যাংকের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকের ধার কমার পেছনে শুধু ব্যাংকের শক্তিশালী তারল্য অবস্থান নয়, বরং ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

আমানত বাড়ছে, কিন্তু ঋণ যাচ্ছে না
বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য হচ্ছে আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধির মধ্যে বড় ব্যবধান। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক এজাজুল ইসলামের মতে, ব্যাংকিং খাতে বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে থাকলেও আমানত প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি। ফলে ব্যাংকগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। এখানে অর্থনীতির জন্য মূল প্রশ্ন হলো—এই বাড়তি অর্থ কোথায় যাবে?

ব্যাংকে আমানত বাড়া সাধারণত ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু আমানতের অর্থ যদি ঋণ হিসেবে শিল্প, ব্যবসা ও বিনিয়োগে না যায়, তাহলে অর্থনীতির উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে এর প্রত্যাশিত প্রভাব তৈরি হবে না। একদিকে মানুষের সঞ্চয় ও ব্যাংক আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের ঋণ চাহিদা কমছে। এই ব্যবধান যত বাড়বে, ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর তত বেশি চাপ তৈরি হবে।

উচ্চ সুদ ও অনিশ্চয়তা বড় বাধা
ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে শুধু উদ্যোক্তাদের অনীহা নয়, ঋণের খরচও একটি বড় কারণ। সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকায় ব্যবসায়িক বিনিয়োগের সম্ভাব্য মুনাফা ও ঋণের খরচের মধ্যে ব্যবধান কমে যাচ্ছে। কোনো উদ্যোক্তা যদি মনে করেন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করলে প্রত্যাশিত মুনাফা পাওয়া কঠিন হবে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই তিনি নতুন ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেবেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও ডলার সংকট। শিল্প উদ্যোক্তার কাছে উৎপাদন বাড়ানোর নিশ্চয়তা না থাকলে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ। আবার আমদানি করতে প্রয়োজনীয় ডলার পাওয়া যাবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত হলে নতুন ঋণের চাহিদা কমে যাওয়াই স্বাভাবিক। ফলে বর্তমান ঋণবাজারের দুর্বলতা আসলে শুধু ব্যাংকের সমস্যা নয়; এটি বিনিয়োগ পরিবেশের দুর্বলতারও প্রতিফলন।

কলমানির সুদেও মিলছে তারল্যের ইঙ্গিত
বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকার আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় স্বল্পমেয়াদি অর্থবাজারে। ১৯ আগস্ট কলমানি বাজারে ভারিত গড় সুদহার ছিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির (এসডিএফ) সুদহার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

তারল্য উদ্বৃত্ত থাকা ব্যাংকগুলো একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার করতে পারে, অন্যদিকে আন্তঃব্যাংক বাজারেও অর্থ রাখতে পারে। বিপরীতে যেসব ব্যাংকের তারল্য ঘাটতি রয়েছে, তারা এখনো কলমানি, আন্তঃব্যাংক ধার ও রেপোর মতো উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।

অর্থাৎ পুরো ব্যাংকিং খাতে তারল্য পরিস্থিতি একই রকম নয়। কিছু ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, আবার কিছু ব্যাংকের স্বল্পমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে সামগ্রিকভাবে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর ওপর ধার করার চাপ কমেছে।

অর্থনীতির জন্য বড় প্রশ্ন বিনিয়োগ
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংকে পড়ে থাকা এই বিপুল অর্থ কীভাবে উৎপাদনশীল খাতে ফিরবে। শুধু ব্যাংকিং খাতে তারল্য বাড়লেই অর্থনীতি গতিশীল হবে না। সেই অর্থ শিল্প, ব্যবসা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগে যেতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋণের চাহিদা বাড়ানোর জন্য শুধু সুদহার কমানো যথেষ্ট নাও হতে পারে। উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, আমদানির জন্য ডলারপ্রাপ্তি সহজ করা, ব্যবসায়িক নীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ সমস্যা মোকাবিলা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

কারণ উদ্যোক্তার কাছে ব্যবসার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকলে কম সুদের ঋণও আকর্ষণীয় নাও হতে পারে। বিপরীতে ব্যবসার পরিবেশ স্থিতিশীল হলে ঋণের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে পারে।

স্বস্তির তারল্যের আড়ালে মন্থর অর্থনীতি
ব্যাংকগুলোর ধার কমে যাওয়া এবং উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে যাওয়াকে তাই একমাত্র ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ব্যাংকিং খাতের তারল্য পরিস্থিতির স্বস্তি যেমন প্রকাশ করছে, তেমনি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে মন্থরতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একটি অর্থনীতিতে ব্যাংকের হাতে টাকা থাকবে—এটাই যথেষ্ট নয়। সেই টাকা উদ্যোক্তার হাতে গিয়ে কারখানা চালাবে, নতুন প্রকল্প তৈরি করবে, আমদানি করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উৎপাদন বাড়াবে—অর্থনীতির জন্য সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান চিত্রে সেই দ্বিতীয় ধাপটিই দুর্বল। ব্যাংকে অর্থ আছে, কিন্তু ঋণগ্রহীতা কম। ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা আছে, কিন্তু বিনিয়োগের আগ্রহ কম। ফলে ব্যাংকের তারল্য বাড়ছে, অথচ অর্থনীতির উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে তার প্রবাহ কমছে।

এই বাস্তবতা বদলাতে না পারলে ব্যাংকিং খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য আরও বাড়তে পারে। আর সেটি তখন শুধু ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনার সমস্যা থাকবে না; বরং বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দুর্বলতার একটি বড় সূচক হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ঢাকার দুই স্টেডিয়াম পরিদর্শন ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
ঢাকার দুই স্টেডিয়াম পরিদর্শন ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের

ব্রাজিলের জাতীয় দল কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক দলের ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকায় পৌঁছে প্রতিনিধিদলটি স্টেডিয়ামটির অবকাঠামো পর্যালোচনা করে।

ব্রাজিল পুরুষ জাতীয় দলের জেনারেল সুপারভাইজার সার্জিও ডিমাস দে অলিভেইরার নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি স্টেডিয়ামে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থান করে। পরিদর্শনের সময় তাঁরা মাঠের পিচ, ড্রেসিংরুম, গ্যালারি এবং ড্রেনেজ ও পানি সেচ ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। মূলতঃ ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য স্টেডিয়ামটিকে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা যাচাই করা ছিল এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন জানান, প্রতিনিধিদলটি ভেন্যু নিয়ে আগ্রহ দেখালেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, তারা আমাদের জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তারা আমাদের এই স্টেডিয়াম নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করতে পারে কিংবা বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পারে। আমরা তাদের জানিয়েছি যে মাঠের সংস্কার কাজ চলছে এবং তা পুরোপুরি শেষ হতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে।

উল্লেখ্য, আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে ভারতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ব্রাজিল দল। সেই ম্যাচ উপলক্ষে কলকাতায় ভেন্যু পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটি সরাসরি ঢাকায় আসে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ব্রাজিল দল ঢাকায় অনুশীলন করবে কি না, এমন প্রশ্নে বাফুফে জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। একই সাথে বাংলাদেশের বিপক্ষে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলা নিয়ে কথা উঠলেও এখনই কোনো কিছু নিশ্চিত হয়নি বলে জানা গেছে।

জাতীয় স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পর বিকেলে তারা পরিদর্শন করেন বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, সেখানকার অনুশীলন মাঠ ও গোল্ডস জিম।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ

নারী ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৯ শতাংশ হলেও জনপ্রতিনিধিত্বে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করতে রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে রাজনীতিকে খারাপ বিষয় হিসেবে না দেখে ভালো মানুষের রাজনীতিতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএন উইমেন ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল মাল্টি স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন অন দ্য ডেভেলপমেন্ট অব আ জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি স্ট্র্যাটেজি ফর দ্য বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় হচ্ছে, নারী ভোটারের সংখ্যা ৪৯ দশমিক ২৭ শতাংশ হলেও নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ভোটারের সংখ্যাগত দিক থেকে নারীরা শক্তিশালী হলেও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তা নেই বললেই চলে। এটি আমাদের বাস্তবতা।

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, মূল সমস্যাটা হচ্ছে আমরা সামাজিক জীব হিসেবে রাজনীতির বাইরে থাকতে পারছি না, আবার রাজনীতিকে ইতিবাচকভাবেও দেখছি না।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তার নিজের সন্তান, বোন, মেয়ে বা নারী আত্মীয়স্বজন কাউকেই রাজনীতিতে যেতে উৎসাহিত করেন না। শুধু নারী নয়, সামগ্রিকভাবেই পরিবার থেকে ছেলে-মেয়েদের রাজনীতিতে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয় না।

রাজনীতির পরিবেশ, আর্থসামাজিক অবস্থা, সংস্কৃতি ও মানসিকতাই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, নির্বাচনী চক্রের প্রথম গ্রুপ হচ্ছে সাধারণ জনগণ। ১৮ কোটি মানুষের দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় ১৮ বছরের নিচের কিশোররাও বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করে। কিন্তু সেই কিশোর যখন বাড়িতে আসে, তার মা তাকে বলে রাজনীতির ধারে কাছেও যেও না। নারী হোক বা পুরুষ, পরিবার থেকেই রাজনীতিকে দূরে রাখার প্রবণতা রয়েছে।

নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে রাজনৈতিক দলের ভেতরে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ইনপুট থেকেই আউটপুট আসে। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নারী যদি সংখ্যায় বেশি থাকেন, তাহলে নারী প্রার্থীও বেশি আসবেন। এটাই স্বাভাবিক। পরিস্থিতিগত কারণে রাজনৈতিক দলে যদি ৫০ শতাংশ নারী কর্মী থাকতেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোও ৫০ শতাংশ মনোনয়ন নারীদের না দিয়ে পারত না।

তিনি আরও বলেন, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক মানসিকতা ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে।

নিজের চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ১৯৮৮ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় একজনও নারী ডেপুটি কমিশনার বা রিটার্নিং অফিসার ছিলেন না। এখন ১৮ থেকে ১৯ জন নারী রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের ক্ষেত্রেও প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। বাংলাদেশে নির্বাচনে এত সংখ্যক নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন, এটা একসময় কল্পনাও করা যেত না।

নির্বাচন কমিশন একা অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে পারে না বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করছেন, তাদের অধিকাংশই আগের নির্বাচনগুলোতেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শুধু কমিশনাররা পরিবর্তিত হয়েছেন। আগের কমিশনে যারা ছিলেন, তারা অযোগ্য ছিলেন এমন নয়। তাদেরও যথেষ্ট যোগ্যতা ছিল। কিন্তু শুধু নির্বাচন কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করে একটি নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করা সম্ভব নয়।

তার মতে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য যদি সবার হয় এবং সবার ইচ্ছা ও সংকল্পকে এক বিন্দুতে আনা সম্ভব হয়, তাহলেই সেই ব্যবস্থা টেকসই হবে।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দুটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান আনোয়ারুল ইসলাম। প্রথমত, রাজনীতি খারাপ নয় এবং রাজনীতিতে ভালো মানুষের প্রবেশ জরুরি এই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলের ভেতরে নারীর অধিকার ও মনোনয়ন নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা রাজনৈতিক দলে যত বেশি সংখ্যায় যুক্ত হবেন, তাদের কণ্ঠ তত বেশি শক্তিশালী হবে। তাদের নেতৃত্বও তত মজবুত হবে এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্য দূর করার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফল হিসেবে অনেকের অবস্থান তৈরি হয়েছে। তাই আবার যেন বৈষম্যের দিকে ফিরে যাওয়া না হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তারা ভালো করছেন। নারী কর্মকর্তাদের সংগঠিত নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কেন্দ্রীয়ভাবে থাকা ওমেন নেটওয়ার্ক নারী কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তারা দলবদ্ধভাবে সচিবের কাছে গিয়ে কোনো দাবি জানালে সেটি উপেক্ষা করা কঠিন। ঐক্য ও চাপ সৃষ্টিকারী শক্তিশালী গ্রুপ থাকলে কাজ হতেই হবে।

নারী কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রে নারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করলে সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার। ২১ হাজার নারী প্রিজাইডিং অফিসার পাওয়া সম্ভব না হলেও এর অর্ধেক করার চেষ্টা করতে হবে। ভোটকেন্দ্রগুলোকে নারী বান্ধব করতে হবে। প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালনে নারীদের উৎসাহিত করতে হবে।

শুধু কথায় নয়, বাস্তবে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কথার সঙ্গে কাজের ফারাক থাকলে বাস্তবে এর প্রতিফলন হবে না। ৩৪ বছর ধরে চাকরি জীবনে নারীর অধিকার নিয়ে কথা শুনে আসছেন। টার্মিনোলজি হয়তো একেক সময় একেক রকম হয়েছে, কিন্তু মূল কথা একই। এখন বাস্তবে নারীর অংশগ্রহণ ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী চক্রের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর অর্ধেক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। জনগণ, ভোটার, রাজনৈতিক দল, মনোনয়ন প্রক্রিয়া, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে নারীর অধিকার সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

নারীদের উদ্দেশে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে এসব বিষয় আমলে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে প্রচেষ্টা থাকবে।

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব আব্দুল হালিম, উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সুখবর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মামলা শেষ হয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে কাজ চলছে। খুব বেশি দেরি না করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর করা হবে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তর ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বরিশালের অনেক স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। কয়েক হাজার স্কুলের এমন তথ্য দেখেছি।

তবে এটি শুধু বরিশালের বিষয় নয়, সারাদেশের চিত্রও এমন। মূল বিষয় হলো, বিগত কয়েক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি মামলাধীন ছিল।

এ কারণে গত কয়েক বছরে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এখন মামলা শেষ হয়েছে এবং পিএসসির সঙ্গে আমরা কাজ করছি, যাতে যত দ্রুত সম্ভব প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কার্যকর করা যায়। খুব বেশি দেরি করতে হবে না।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই তার অন্যতম প্রধান চিন্তার বিষয়। বিগত সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক জায়গায় মানসম্মত শিক্ষা দিতে ব্যর্থতা ছিল। এখন প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্ধারিত দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য। এর একটি হলো-পাঠদানের বয়সী কোনো শিশু বা শিক্ষার্থী যেন শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। দ্বিতীয়টি হলো-প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে শিক্ষা লাভ করে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের শিক্ষা কোনোভাবেই বিশ্বমান থেকে পিছিয়ে থাকবে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করতে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৫১টি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পাইলট প্রকল্প হিসেবে চলছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালের শুরু থেকে দেশব্যাপী সব স্কুলে এ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক স্কুলের অবকাঠামোগত অবস্থা ভালো নয়। এসব সমস্যা সমাধানে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের উপপরিচালক মিজ নিলুফার ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মিরাজুল ইসলাম উকিল, এনডিসি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-১) মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন সরকার।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ