খুঁজুন
                               
, ,
           

রাষ্ট্র সংস্কারে সব পক্ষের সহযোগিতা চাইলেন আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্র সংস্কারে সব পক্ষের সহযোগিতা চাইলেন আইনমন্ত্রী

রাষ্ট্র সংস্কারের যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে এবং সেই অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দলগুলো কর্মসূচি পালন করবে এবং সরকারের সমালোচনা করবে—এটাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক অংশ।

সমাজে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলতে পারে উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মতপ্রকাশের কারণে লেখক, সাংবাদিক, কার্টুনিস্টসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে হয়রানি বা গ্রেপ্তারের অতীত সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইন ও নীতিমালার বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় মনে করে না জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো আইন বাস্তবে প্রয়োগের পর সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার তা সংশোধনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মানুষের প্রয়োজনেই আইন প্রণয়ন করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধন করা যায়।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদকে সামনে রেখে সরকার সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ প্রয়োজন। সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে যৌক্তিক প্রস্তাব ও মতামত বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে গঠনমূলকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান বিবেচনায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দক্ষতা ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কমিশন গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সরকারের দায়িত্ব পালনে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সংস্কারের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য সরকারের কার্যক্রম নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা ও যৌক্তিক পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে।

তিনি বলেন, “আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পিছনে ফিরতে চাই না।”

অনুষ্ঠানে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম ও আইন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। আলোচনায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, জনগণের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক জবাবদিহি, সুশাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছেন

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সমর্থন আরও কমেছে। নতুন রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদনের হারও রেকর্ড সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

চার দিনব্যাপী পরিচালিত এই জরিপের ফল সোমবার প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, মার্চে ইরান যুদ্ধের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের সমর্থন ছিল ৩৭ শতাংশ। চলতি মাসের শুরুতে তা কমে ৩৪ শতাংশে দাঁড়ায়। এবার আরও কমে ৩১ শতাংশ হয়েছে।

রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও যুদ্ধের সমর্থন কমেছে। মার্চে দলটির ৭৭ শতাংশ সমর্থক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিলেন। সর্বশেষ জরিপে এই হার কমে ৬৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ট্রাম্পের জনসমর্থনেও পড়ছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো রয়টার্স/ইপসোস জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন জানিয়েছেন। এটি তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদের রয়টার্স/ইপসোস জরিপগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন অনুমোদনের হার।

ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে আসছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বিরত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান সংঘাত শুরু হয়।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা।

যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ইরান অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির ওপর কার্যত অবরোধ বজায় রাখায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামও যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রতি গ্যালনে এক ডলারের বেশি বেড়েছে।

অথচ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত এড়িয়ে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ফলে জ্বালানির বাড়তি দাম ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো জরিমানা আরোপ করা হয়নি।

যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির প্রভাব আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে হবে দলটিকে।

জরিপে ভোটের পছন্দের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে। ‘আজ নির্বাচন হলে’ কাকে ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নিরপেক্ষ ভোটারদের ৩৩ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিলেন ১৯ শতাংশ।

রয়টার্স/ইপসোসের এই জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ২১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন। জরিপের সম্ভাব্য ভুলের সীমা প্রায় ৩ শতাংশ।

সূত্রঃরয়টার্স

কালের আলো/এসএ

কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ: বিদ্যুৎ বন্ধের হুঁশিয়ারি ডগ ফোর্ডের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ: বিদ্যুৎ বন্ধের হুঁশিয়ারি ডগ ফোর্ডের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির জবাবে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশটির অন্টারিও প্রদেশের সরকারপ্রধান ডগ ফোর্ড বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাম বাড়ানো কিংবা সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্প আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডায় তৈরি গাড়ি, ট্রাক, মোটর পার্টস ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেওয়ার পরই ফোর্ডের এই হুঁশিয়ারি আসে। এর আগে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফোর্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কানাডার উৎপাদনশিল্প ধ্বংসের চেষ্টা চালায়, তাহলে সব ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা বিবেচনায় রাখা হবে। তিনি বলেন, অন্টারিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। প্রয়োজনে এই সরবরাহের ওপরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ফোর্ড আরও সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্প যদি কানাডার শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে ‘একগাদা ব্যাটারি’ সঙ্গে রাখতে হবে।

ফোর্ডের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ফোর্ডের হুমকিকে ‘ফাঁকা বুলি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কানাডার নেতাদের তাঁর ভাষায় ‘সোজা লাইনে’ আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর কার্নি’ বলে সম্বোধন করেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার তুলনায় অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া কানাডার টিকে থাকা কঠিন হবে। তাঁর হুমকির জবাবে ফোর্ডও জানান, তিনি ট্রাম্পের চাপের কাছে মাথা নত করবেন না।

ফোর্ডের পাশাপাশি কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের ওপরও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়ছে। তাঁর মতে, প্রয়োজনে জ্বালানি তেল, পটাশ ও কৌশলগত খনিজ সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে কানাডার সব প্রদেশ একই মাত্রায় কঠোর অবস্থান নেয়নি। কুইবেকের সরকারপ্রধান ক্রিস্টিন ফ্রেচেট জানিয়েছেন, আপাতত তিনি ফোর্ডের মতো কঠোর পদক্ষেপে যাচ্ছেন না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করায় ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদের সরবরাহ সীমিত করার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করছেন না তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কানাডার বিদ্যুৎ সরবরাহ জাতীয় পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও সীমান্তবর্তী কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটার মতো অঙ্গরাজ্যগুলো বিশেষ করে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে কানাডার বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডেটা সেন্টারের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে এসব অঞ্চলের বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপরও চাপ বাড়ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে অন্টারিও নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটায় রপ্তানি করা বিদ্যুতের ওপর ২৫ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক বাড়ানোর হুমকি দিলে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।

এদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন কানাডার অটোমোবাইল শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু দাবি তুলেছিল, যা কানাডার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না।

কার্নির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ‘চেয়েছে অনেক বেশি, কিন্তু দিতে চেয়েছে খুব কম’। ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এখন আরও বড় সংঘাতের দিকে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকে পাল্টা চাপ হিসেবে ব্যবহার করার হুমকি কানাডার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডার নিজস্ব শিল্প ও প্রাদেশিক অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধ কতটা তীব্র হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

কালের আলো/এসএ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম সফর স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম সফর স্থগিত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে যাওয়ার কথা ছিল তার।

বুধবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক।

জেলা প্রশাসক বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও সফরের কথা ছিল। অনিবার্য কারণে সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে নতুন সফরসূচি নির্ধারণ করা হতে পারে।

এর আগে রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল জেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন, যানবাহনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

গত সোমবার (২৪ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগের প্রটোকল শাখা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। একই চিঠিতে রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সফরের বিস্তারিত সূচি ও সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের প্রথম সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ব্যাপক আগ্রহ। তার সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতরেও শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি। তবে শেষ পর্যন্ত অনিবার্য কারণে সফরটি স্থগিত করা হলো।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।

পরদিন ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ