খুঁজুন
                               
, ,
           

ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন রাষ্ট্রপতি

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে প্রায় এক ঘণ্টার অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।

এসময় রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের সুবিধাজনক সময়ে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জবাবে ভুটানের রাজাও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি শুভকামনা জ্ঞাপন করেন।

আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।

বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা, রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও শুভ কামনাও রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

ভুটানের রাজা তার দূরদর্শী ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এ উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

সৌজন্য সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভুটানের রাজাকে বহনকারী বিশেষ বিমানটি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভুটানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আকস্মিক বন্যায় নেপাল-তিব্বতে নিখোঁজ ১,৩৮৪, নিহত ১৬৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
আকস্মিক বন্যায় নেপাল-তিব্বতে নিখোঁজ ১,৩৮৪, নিহত ১৬৮

ভোতি কোশি নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ৮০০ জন বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে।

নেপালের সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিখোঁজ ৮২৬ জন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৭৭ জন ভারতীয়, ৬৩ জন মার্কিন, ৩৪ জন অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন ব্রিটিশ ও ২৫ জন কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন।

বন্যায় কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্তূপ থেকে এ পর্যন্ত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং জেলায় ৫৫৮ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। সেখানে ধ্বংসস্তূপ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ভয়াবহ এই বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে মানুষ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি নেপালের বাড়িঘর, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালের ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বরাল বন্যা থেকে প্রাণে বাঁচলেও তার স্ত্রীকে রক্ষা করতে পারেননি। তিনি জানান, আকস্মিক কাদার স্রোতে তার স্ত্রী ভেসে যান। পরে চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার এসে বাড়ির ছাদ থেকে তাকে উদ্ধার করে। এখনও কাদার নিচে স্ত্রীর সন্ধান করছেন তিনি।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এমএসআইপি 

একসঙ্গে দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ
একসঙ্গে দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির মাধ্যমে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে করা ১৫টি মামলায় খালাস পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদায়) মির্জা আব্বাস।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এই রায় দেন।

২০০৭ সালে ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলাগুলো করা হয়েছিল। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সরকারি ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি সাজানো দরপত্র ডেকে ‘অস্বাভাবিক কম দামে বিক্রির’ অভিযোগে ২০০৭ সালের মার্চে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা করে দুদক।

মামলায় ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাজানো দরপত্রের মাধ্যমে এবং প্রকৃত দামের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি করে আসামিরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অভিযোগপত্রে আরও ১৪ আসামির নাম যুক্ত হয়। তাদের বিরুদ্ধে সুবিধা আদায়ের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

পরে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ-৩ আদালতের তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন।

অভিযোগ গঠনের আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘পরিত্যক্ত বাড়ি নম্বর এনডব্লিউ (আই)-৬, রোড নম্বর-৫৩, গুলশান, ঢাকার নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়। বাড়ি নম্বর কে-৬, সড়ক নম্বর-৮৯, গুলশান, বাড়ি নম্বর সিএনজি-১৬,সড়ক-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর বি-৫, সড়ক নম্বর-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর-১২০, সড়ক-২, পুরাতন ধানমণ্ডি, বাড়ি নম্বর-১৩৯, সড়ক নম্বর-২, ধানমণ্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২, ধানমণ্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/বি (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১৪ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/বি, সড়ক নম্বর-১৪ ধানমণ্ডি, ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর ও ১৮ নম্বর কলেজ স্ট্রিট, বাড়ি নম্বর-৭/১, নওরতন কলোনি, শান্তিনগরসহ সর্বমোট ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি রাজউক কর্তৃক সাজানো দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের পাইয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে নিজে লাভবান হয়ে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার অর্থের ক্ষতি সাধন করেন।

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ‘দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডন্ড প্রপার্টি (কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ও ডিসপোজাল) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী উল্লিখিত ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা না করে লাভবান ও অন্যান্য প্রভাবশালীদের লাভবান করার জন্য গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দর বেশি হওয়া সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে রাজউক কর্তৃক সাজানো কম মূল্যের দরপত্রের মাধমে মূল্যায়ন না করে বিক্রির অনুমোদন করেন।

মির্জা আব্বাসসহ অপর আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ইরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী, যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ইরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী, যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে রাজধানী তেহরানে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরানে পৌঁছে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ও উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

কাতার এর আগেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। ফলে তেহরানে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সম্ভাব্য আলোচনার পথ তৈরির একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে একই সময়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক—দুই ধরনের চাপই কার্যকর হচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, তেহরানকে আলোচনায় ফেরাতে ওয়াশিংটন সময় নিয়ে এগোতে প্রস্তুত। অর্থাৎ একদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে কাতার সরাসরি তেহরানে গিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাতারের এই সফর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে একটি নতুন কূটনৈতিক চ্যানেল তৈরির সুযোগ করে দিতে পারে। তবে যুদ্ধ বন্ধে বাস্তব অগ্রগতি হবে কি না, তা নির্ভর করবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী অবস্থানের ওপর।

এদিকে তেহরানে বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চলমান সংঘাত, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার সুযোগ নিয়ে কথা বলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/এসএ