খুঁজুন
                               
, ,
           

যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন আর নেই

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি গায়িকা, গীতিকার, অভিনেত্রী ও মানবহিতৈষী ডলি পার্টন আর নেই। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ৮০ বছর বয়সে ন্যাশভিলে মারা গেছেন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই শিল্পী। তার মৃত্যুর খবর পরিবার ও প্রতিনিধির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিনিধির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ের পর ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্ট-ইনগ্রাম ক্যানসার সেন্টারে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডলি পার্টন। তার মৃত্যুতে কান্ট্রি সংগীতসহ বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ছয় দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ডলি পার্টন শুধু সংগীতশিল্পী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি; চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ব্যবসা, সাহিত্য ও মানবসেবাতেও তৈরি করেছেন নিজের আলাদা অবস্থান। ‘Jolene’, ‘9 to 5’, ‘Coat of Many Colors’ এবং ‘I Will Always Love You’-এর মতো গান তাকে পরিণত করেছিল বিশ্ব সংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখে। তার গান ও কণ্ঠ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে আছে।

১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির সেভিয়ার কাউন্টির দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম ডলি পার্টনের। ১২ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। পাহাড়ি এলাকায় বেড়ে ওঠা ডলির শৈশব ছিল আর্থিক সংকটে ভরা। তবে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তার গভীর টান।

শিশুকালেই গির্জায় গান গাইতেন তিনি। মাত্র ১০ বছর বয়সে গিটার শেখা ও স্থানীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৩ বছর বয়সে ন্যাশভিলের বিখ্যাত ‘গ্র্যান্ড ওলে অপ্রি’তে গান পরিবেশনের সুযোগ পান। সেখান থেকেই তার পেশাদার সংগীতজীবনের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

১৯৬০-এর দশকে ন্যাশভিলে গিয়ে পেশাদারভাবে সংগীতচর্চা শুরু করেন ডলি। ১৯৬৭ সালে ‘Hello, I’m Dolly’ অ্যালবামের মাধ্যমে একক শিল্পী হিসেবে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর দ্রুতই কান্ট্রি সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত হন।

ডলির ক্যারিয়ারে একের পর এক যোগ হতে থাকে জনপ্রিয় গান। ১৯৭০ সালে ‘Joshua’ গান দিয়ে প্রথমবার কান্ট্রি চার্টের শীর্ষে ওঠেন তিনি। তবে ১৯৭৩ সালের ‘Jolene’ তাকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বড় পরিচিতি এনে দেয়।

‘Jolene’ শুধু একটি জনপ্রিয় গানই নয়, কান্ট্রি সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রেম, ঈর্ষা ও হারানোর ভয়কে অত্যন্ত সহজ অথচ আবেগপূর্ণ ভাষায় তুলে ধরেছিলেন ডলি। গানটি পরবর্তী সময়ে অসংখ্য শিল্পী নতুন করে পরিবেশন করেছেন।

ডলির লেখা আরেকটি কালজয়ী গান ‘I Will Always Love You’। ১৯৭৪ সালে নিজের কণ্ঠে গানটি প্রকাশ করেন তিনি। প্রায় দুই দশক পর ১৯৯২ সালে হুইটনি হিউস্টন ‘The Bodyguard’ চলচ্চিত্রের জন্য গানটির নতুন সংস্করণ গেয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাফল্য পান। হিউস্টনের সংস্করণটি গানটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় এবং ডলির গীতিকার হিসেবে অসাধারণ প্রতিভাকেও আরও প্রতিষ্ঠিত করে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে ডলি পার্টন প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার রেকর্ড বিক্রি হয়েছে ১০ কোটিরও বেশি। ফলে তিনি বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া নারী সংগীতশিল্পীদের অন্যতম হয়ে ওঠেন।

কান্ট্রি সংগীতের পাশাপাশি পপ ও অন্যান্য ধারার শ্রোতাদের কাছেও তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। কেনি রজার্স, এমিলু হ্যারিস, লিন্ডা রনস্ট্যাড, লরেটা লিন ও উইলি নেলসনসহ বহু কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

১৯৮৩ সালে কেনি রজার্সের সঙ্গে গাওয়া ‘Islands in the Stream’ গানটি বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে ওঠে। গানটি ডলির সংগীতজীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন ডলি পার্টন। ১৯৮০ সালে জেন ফন্ডা ও লিলি টমলিনের সঙ্গে ‘9 to 5’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। চলচ্চিত্রটির জন্য লেখা ‘9 to 5’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং অস্কারে সেরা মৌলিক গানের জন্য মনোনয়ন পায়।

এরপর ‘The Best Little Whorehouse in Texas’, ‘Steel Magnolias’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন ডলি। তার অভিনয় ছিল সংগীতজীবনের স্বাভাবিক সম্প্রসারণের মতো—হাস্যরস, আবেগ ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা করে নেন।

ডলি পার্টনের ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। তিনি একাধিক গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন এবং পেয়েছেন গ্র্যামি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও। সংগীত রচনার অসাধারণ দক্ষতার জন্য তিনি ‘Songwriters Hall of Fame’-এও জায়গা করে নেন।

২০২২ সালে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাকে। প্রথমদিকে এই সম্মাননা গ্রহণ নিয়ে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও পরে তিনি সম্মানটি গ্রহণ করেন এবং এর পরই রক সংগীত নিয়ে কাজ করার নতুন আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শুধু গান ও অভিনয় নয়, ব্যবসায়ও অসাধারণ সফল ছিলেন ডলি। টেনেসির গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনস অঞ্চলের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। ১৯৮০-এর দশকে একটি স্থানীয় থিম পার্কে বিনিয়োগের পর সেটি পরবর্তীতে ‘Dollywood’ নামে পরিচিতি পায়।

ডলিউড পরবর্তীতে টেনেসির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। নিজের শিকড়, অ্যাপালাচিয়ান সংস্কৃতি ও শৈশবের স্মৃতিকে ঘিরে ডলি পার্টন এই উদ্যোগকে গড়ে তুলেছিলেন।

ডলি পার্টনের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তার মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তার প্রতিষ্ঠিত ‘Imagination Library’ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুদের বিনামূল্যে বই দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার কাজ তাকে সংগীতের বাইরেও ব্যাপক সম্মান এনে দেয়।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা গবেষণায় ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন ডলি। ওই গবেষণা পরবর্তীতে মডার্নার কোভিড-১৯ টিকা তৈরির গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

তার দাতব্য কর্মকাণ্ডের পরিধি ছিল আরও বিস্তৃত। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা, শিশুদের শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নিয়মিত অর্থ ও সহায়তা দিয়েছেন তিনি। খ্যাতির পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করাকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখতেন ডলি।

ডলি পার্টনের স্বামী কার্ল ডিন ২০২৫ সালের মার্চে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। প্রায় ছয় দশকের দাম্পত্যজীবন কাটিয়েছেন তারা। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।

ব্যক্তিগত জীবনকে সাধারণত প্রচারের আড়ালে রাখলেও ডলি বিভিন্ন সময় তার স্বামী ও পরিবারের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা বলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা পর্যায়ে তিনি পরিবার ও নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন।

ডলি পার্টনের মৃত্যু শুধু একজন জনপ্রিয় শিল্পীর বিদায় নয়; এটি আমেরিকান কান্ট্রি সংগীতের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। দরিদ্র টেনেসির পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্ব সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পটি নিজেই এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস।

গান লিখেছেন, গেয়েছেন, অভিনয় করেছেন, ব্যবসা করেছেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন ডলি পার্টন। তার গান যেমন প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার কাছে বেঁচে থাকবে, তেমনি শিক্ষা, শিশু কল্যাণ ও মানবসেবায় তার উদ্যোগও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৮০ বছর বয়সে তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিদায় নিলেন এমন এক শিল্পী, যিনি শুধু কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ছিলেন না—তিনি ছিলেন আমেরিকান সংস্কৃতিরই এক অনন্য প্রতীক। তার সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বহুদিন বিশ্বজুড়ে বেঁচে থাকবে ডলি পার্টনের নাম।

কালের আলো/এসএ

সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, পর্যটকদের ফিরতে হবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে

খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, পর্যটকদের ফিরতে হবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ছেড়ে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে রোববার সকাল ৬টা থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এর ফলে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেওয়ায় দুই দিক থেকে আসা পর্যটক ও যানবাহন মাঝপথে আটকা পড়ে।

সাধারণত খাগড়াছড়ি ও সাজেকের মধ্যে প্রতিদিন দুই দফায় সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। তবে অবরোধের কারণে রোববার যাতায়াত বিঘ্নিত হয়। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে যাওয়া পর্যটকেরা বাঘাইহাটের গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় আটকা পড়েন। অন্যদিকে, সাজেক থেকে বের হওয়া পর্যটকেরাও মাচালং এলাকায় আটকে যান।

পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও আশ্বাসের পর বিকেল ৫টার দিকে অবরোধকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এরপর সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় আটকে পড়া পর্যটকেরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

অবরোধ প্রত্যাহার হলেও জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাজেক ত্যাগ করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

স্থানীয় নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে বিএনপি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
স্থানীয় নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে বিএনপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় করে একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব ও অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান চিফ হুইপ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, সাধারণত স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উপযুক্ত সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জানান, নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। প্রকৃত জনসমর্থন রয়েছে, এমন প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একক প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করবে দল। এ ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগানো হবে। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি চায় নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হোক এবং স্থানীয় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন।

তৃণমূলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দল সিদ্ধান্ত নেবে। তবে এখনো এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান নুরুল ইসলাম মনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে কাজ করবেন।

দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে পার পাবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা না হলেও সরকার সচেতন রয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁদের সরিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও সরকারের রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বঙ্গোপসাগর ঘিরে নীল সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার, টেকসই উন্নয়নে অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রয়োগে জোর নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
বঙ্গোপসাগর ঘিরে নীল সমৃদ্ধির নতুন দুয়ার, টেকসই উন্নয়নে অভিজ্ঞতার বাস্তব প্রয়োগে জোর নৌবাহিনী প্রধানের

বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে লুকিয়ে আছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনাকে টেকসই অগ্রগতিতে রূপ দিতে প্রয়োজন সামুদ্রিক সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার, কার্যকর সমুদ্র শাসনব্যবস্থা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা। তবে সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্জনে পরিণত করার জন্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার কার্যকর প্রয়োগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টিই গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম।

তিনি বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।’ একই সঙ্গে অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা
  • অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে ফেলোদের প্রতি আহ্বান

রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিমরাড) সেমিনার হলে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস ফেলোশিপ ২০২৬-এর আওতায় ‘বঙ্গোপসাগরে টেকসই নীল অর্থনীতির বিকাশ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি পদাধিকারবলে বিমরাডের প্রধান পৃষ্ঠপোষকও।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার উপ-হাইকমিশনার ক্লিনটন পব। এ ছাড়া বিমরাডের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল ড. খোন্দকার আখতার হোসেন, অস্ট্রেলিয়ার উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বিভিন্ন দেশের ১৫ জন ফেলো অংশ নেন।

জ্ঞান বিনিময় থেকে বাস্তব প্রয়োগ, নৌবাহিনী প্রধানের বিশেষ গুরুত্বারোপ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম জ্ঞান বিনিময় এবং অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এই মূল্যবান সুযোগ লাভের জন্য ফেলোদের অভিনন্দন জানান। নৌবাহিনী প্রধাব বলেন, এ ফেলোশিপ বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ফেলোদের অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

নৌবাহিনী প্রধানের বক্তব্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে—অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্প্রসারণ। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, ফেলোশিপের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বও সামনে এনেছেন।

সম্পদ আহরণ নয়, টেকসই সমৃদ্ধিই লক্ষ্য
বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক বাণিজ্য, নৌপরিবহন ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই সমুদ্রের সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে সম্পদ আহরণের পাশাপাশি সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

নীল অর্থনীতির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সমুদ্রের সম্পদকে কতটা দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে তার ওপর। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা গেলে বঙ্গোপসাগর বর্তমান প্রজন্মের সমৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও সম্ভাবনার ভান্ডার হয়ে থাকবে। কর্মশালায় সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ এই লক্ষ্য অর্জনের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় বাড়বে সামুদ্রিক সক্ষমতা
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্যবিষয়ক বিভাগের পরিচালনায় এ ফেলোশিপের আয়োজন করেছে দেশটির উলংগং বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ট্রেলীয় জাতীয় সমুদ্রসম্পদ ও নিরাপত্তা কেন্দ্র। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সামুদ্রিক গবেষণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণের মানোন্নয়নে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পেশাজীবীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে গবেষণার ফল বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগও সম্প্রসারিত হতে পারে। এর ফলে সামুদ্রিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে ইতিবাচক অগ্রগতির ক্ষেত্র তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেকসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জ্ঞান, সহযোগিতা ও বাস্তব উদ্যোগেই টেকসই অগ্রগতি
বঙ্গোপসাগরের বিপুল সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে টেকসই সমৃদ্ধিতে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল, বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। এ ক্ষেত্রে নৌবাহিনী প্রধানের বক্তব্যে জ্ঞান বিনিময় ও বাস্তব প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

ফেলোশিপে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা গবেষণা, নীতিনির্ধারণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে কার্যকরভাবে যুক্ত করা গেলে সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হলে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নে রূপ দেওয়ার পথও প্রসারিত হবে।

নৌবাহিনী প্রধানের আহ্বানের মূল কথা
এই কর্মশালা বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদকে দায়িত্বশীলভাবে কাজে লাগানো এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। নৌবাহিনী প্রধানের আহ্বানের মূল কথা—অর্জিত জ্ঞান ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাস্তবসম্মত সামুদ্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই নীল অর্থনীতি বিকাশে অবদান রাখা। এই আহ্বান বাস্তব উদ্যোগে প্রতিফলিত হলে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ভিত্তি পেতে পারে।

কালের আলো/এমএএএমকে