খুঁজুন
                               
, ,
           

যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন আর নেই

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি গায়িকা, গীতিকার, অভিনেত্রী ও মানবহিতৈষী ডলি পার্টন আর নেই। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ৮০ বছর বয়সে ন্যাশভিলে মারা গেছেন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই শিল্পী। তার মৃত্যুর খবর পরিবার ও প্রতিনিধির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিনিধির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ের পর ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্ট-ইনগ্রাম ক্যানসার সেন্টারে প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডলি পার্টন। তার মৃত্যুতে কান্ট্রি সংগীতসহ বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ছয় দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ডলি পার্টন শুধু সংগীতশিল্পী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেননি; চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ব্যবসা, সাহিত্য ও মানবসেবাতেও তৈরি করেছেন নিজের আলাদা অবস্থান। ‘Jolene’, ‘9 to 5’, ‘Coat of Many Colors’ এবং ‘I Will Always Love You’-এর মতো গান তাকে পরিণত করেছিল বিশ্ব সংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখে। তার গান ও কণ্ঠ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে আছে।

১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির সেভিয়ার কাউন্টির দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম ডলি পার্টনের। ১২ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। পাহাড়ি এলাকায় বেড়ে ওঠা ডলির শৈশব ছিল আর্থিক সংকটে ভরা। তবে ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তার গভীর টান।

শিশুকালেই গির্জায় গান গাইতেন তিনি। মাত্র ১০ বছর বয়সে গিটার শেখা ও স্থানীয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৩ বছর বয়সে ন্যাশভিলের বিখ্যাত ‘গ্র্যান্ড ওলে অপ্রি’তে গান পরিবেশনের সুযোগ পান। সেখান থেকেই তার পেশাদার সংগীতজীবনের পথ আরও প্রশস্ত হয়।

১৯৬০-এর দশকে ন্যাশভিলে গিয়ে পেশাদারভাবে সংগীতচর্চা শুরু করেন ডলি। ১৯৬৭ সালে ‘Hello, I’m Dolly’ অ্যালবামের মাধ্যমে একক শিল্পী হিসেবে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর দ্রুতই কান্ট্রি সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত হন।

ডলির ক্যারিয়ারে একের পর এক যোগ হতে থাকে জনপ্রিয় গান। ১৯৭০ সালে ‘Joshua’ গান দিয়ে প্রথমবার কান্ট্রি চার্টের শীর্ষে ওঠেন তিনি। তবে ১৯৭৩ সালের ‘Jolene’ তাকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও বড় পরিচিতি এনে দেয়।

‘Jolene’ শুধু একটি জনপ্রিয় গানই নয়, কান্ট্রি সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রেম, ঈর্ষা ও হারানোর ভয়কে অত্যন্ত সহজ অথচ আবেগপূর্ণ ভাষায় তুলে ধরেছিলেন ডলি। গানটি পরবর্তী সময়ে অসংখ্য শিল্পী নতুন করে পরিবেশন করেছেন।

ডলির লেখা আরেকটি কালজয়ী গান ‘I Will Always Love You’। ১৯৭৪ সালে নিজের কণ্ঠে গানটি প্রকাশ করেন তিনি। প্রায় দুই দশক পর ১৯৯২ সালে হুইটনি হিউস্টন ‘The Bodyguard’ চলচ্চিত্রের জন্য গানটির নতুন সংস্করণ গেয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাফল্য পান। হিউস্টনের সংস্করণটি গানটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয় এবং ডলির গীতিকার হিসেবে অসাধারণ প্রতিভাকেও আরও প্রতিষ্ঠিত করে।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে ডলি পার্টন প্রায় তিন হাজার গান লিখেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার রেকর্ড বিক্রি হয়েছে ১০ কোটিরও বেশি। ফলে তিনি বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া নারী সংগীতশিল্পীদের অন্যতম হয়ে ওঠেন।

কান্ট্রি সংগীতের পাশাপাশি পপ ও অন্যান্য ধারার শ্রোতাদের কাছেও তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। কেনি রজার্স, এমিলু হ্যারিস, লিন্ডা রনস্ট্যাড, লরেটা লিন ও উইলি নেলসনসহ বহু কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।

১৯৮৩ সালে কেনি রজার্সের সঙ্গে গাওয়া ‘Islands in the Stream’ গানটি বিলবোর্ড হট ১০০-এর শীর্ষে ওঠে। গানটি ডলির সংগীতজীবনের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন ডলি পার্টন। ১৯৮০ সালে জেন ফন্ডা ও লিলি টমলিনের সঙ্গে ‘9 to 5’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। চলচ্চিত্রটির জন্য লেখা ‘9 to 5’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয় হয় এবং অস্কারে সেরা মৌলিক গানের জন্য মনোনয়ন পায়।

এরপর ‘The Best Little Whorehouse in Texas’, ‘Steel Magnolias’সহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন ডলি। তার অভিনয় ছিল সংগীতজীবনের স্বাভাবিক সম্প্রসারণের মতো—হাস্যরস, আবেগ ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়ে তিনি দর্শকদের কাছে আলাদা জায়গা করে নেন।

ডলি পার্টনের ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। তিনি একাধিক গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন এবং পেয়েছেন গ্র্যামি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ডও। সংগীত রচনার অসাধারণ দক্ষতার জন্য তিনি ‘Songwriters Hall of Fame’-এও জায়গা করে নেন।

২০২২ সালে রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাকে। প্রথমদিকে এই সম্মাননা গ্রহণ নিয়ে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও পরে তিনি সম্মানটি গ্রহণ করেন এবং এর পরই রক সংগীত নিয়ে কাজ করার নতুন আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শুধু গান ও অভিনয় নয়, ব্যবসায়ও অসাধারণ সফল ছিলেন ডলি। টেনেসির গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনস অঞ্চলের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। ১৯৮০-এর দশকে একটি স্থানীয় থিম পার্কে বিনিয়োগের পর সেটি পরবর্তীতে ‘Dollywood’ নামে পরিচিতি পায়।

ডলিউড পরবর্তীতে টেনেসির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়। নিজের শিকড়, অ্যাপালাচিয়ান সংস্কৃতি ও শৈশবের স্মৃতিকে ঘিরে ডলি পার্টন এই উদ্যোগকে গড়ে তুলেছিলেন।

ডলি পার্টনের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তার মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড। শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে তার প্রতিষ্ঠিত ‘Imagination Library’ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুদের বিনামূল্যে বই দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার কাজ তাকে সংগীতের বাইরেও ব্যাপক সম্মান এনে দেয়।

করোনাভাইরাস মহামারির সময় ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির চিকিৎসা গবেষণায় ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন ডলি। ওই গবেষণা পরবর্তীতে মডার্নার কোভিড-১৯ টিকা তৈরির গবেষণার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

তার দাতব্য কর্মকাণ্ডের পরিধি ছিল আরও বিস্তৃত। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা, শিশুদের শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে নিয়মিত অর্থ ও সহায়তা দিয়েছেন তিনি। খ্যাতির পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করাকে নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখতেন ডলি।

ডলি পার্টনের স্বামী কার্ল ডিন ২০২৫ সালের মার্চে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। প্রায় ছয় দশকের দাম্পত্যজীবন কাটিয়েছেন তারা। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।

ব্যক্তিগত জীবনকে সাধারণত প্রচারের আড়ালে রাখলেও ডলি বিভিন্ন সময় তার স্বামী ও পরিবারের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা বলেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নানা পর্যায়ে তিনি পরিবার ও নিজের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন।

ডলি পার্টনের মৃত্যু শুধু একজন জনপ্রিয় শিল্পীর বিদায় নয়; এটি আমেরিকান কান্ট্রি সংগীতের একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি। দরিদ্র টেনেসির পরিবার থেকে উঠে এসে বিশ্ব সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পী হয়ে ওঠার গল্পটি নিজেই এক অনুপ্রেরণার ইতিহাস।

গান লিখেছেন, গেয়েছেন, অভিনয় করেছেন, ব্যবসা করেছেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—সব ক্ষেত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন ডলি পার্টন। তার গান যেমন প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার কাছে বেঁচে থাকবে, তেমনি শিক্ষা, শিশু কল্যাণ ও মানবসেবায় তার উদ্যোগও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

৮০ বছর বয়সে তার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিদায় নিলেন এমন এক শিল্পী, যিনি শুধু কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ছিলেন না—তিনি ছিলেন আমেরিকান সংস্কৃতিরই এক অনন্য প্রতীক। তার সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বহুদিন বিশ্বজুড়ে বেঁচে থাকবে ডলি পার্টনের নাম।

কালের আলো/এসএ

মিরপুরে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
মিরপুরে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) মিরপুর শাহ আলী মাজার এলাকা থেকে এ জশনে জুলুস বের হয়। এতে আহলা দরবার শরীফের পীর-মুর্শিদ ও মুরিদানসহ হাজারো আশেকে রাসূল অংশ নেন।

আঞ্জুমানে আসাদীয়া নূরীয়া সেহাবীয়ার ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত জশনে জুলুসের নেতৃত্ব দেন হাদীয়েজামান হজরত শাহসূফী সৈয়দ আবু জাফর মোহাম্মদ সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-কাদেরী আল-চিশতী (রহ.)-এর উত্তরসূরি শাহসূফী সৈয়দ আবরার ইবনে সেহাব আল-কাদেরী আল-চিশতী। তার সঙ্গে ছিলেন শাহজাদা শাহসূফী সৈয়দ হোসেইন রাইফ নূরুল ইসলাম (রুবাব) মাইজভাণ্ডারী।

সকাল থেকেই জশনে জুলুসে অংশ নিতে মিরপুর শাহ আলী মাজার এলাকায় আশেকান ও মুরিদানেরা জড়ো হতে থাকেন। পরে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে জুলুসটি মাজার এলাকা থেকে বের হয়। জুলুসে অংশ নেওয়া মানুষের হাতে বিভিন্ন ব্যানার ও পতাকা দেখা যায়। তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

জুলুসে অংশ নেওয়া আশেকানদের কণ্ঠে নাতে রাসুল ও দরুদ পাঠে মিরপুরের পরিবেশ মুখর হয়ে ওঠে। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। বিভিন্ন বয়সী মানুষ এ আয়োজনে অংশ নেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন উপলক্ষে এ জশনে জুলুসের আয়োজন করা হয়েছে। মহানবীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ এবং তার জীবন ও আদর্শ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

জশনে জুলুসটি মিরপুর শাহ আলী মাজার থেকে শুরু হয়ে মিরপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলুসটি মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১২ এলাকার বিভিন্ন সড়ক দিয়ে অতিক্রম করে।

জুলুসে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, মহানবী (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকেই তারা এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিবছর ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে তারা এ ধরনের ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। মহানবীর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতির সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তারা।

আয়োজকেরা বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবতার জন্য শান্তি, ভালোবাসা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তাঁর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করলে সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করা সম্ভব। জশনে জুলুসের মাধ্যমে মহানবীর সেই শিক্ষা ও আদর্শ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবকেরাও জুলুসের শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
দেশজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা, কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচদিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৬ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

২৭ ও ২৮ আগস্ট রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৯ ও ৩০ আগস্ট দেশের আট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

২৯ আগস্ট সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। ৩০ আগস্ট তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পাশাপাশি অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় জনসাধারণকে প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

পার্বত্য জেলা পরিষদকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবি এনসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
পার্বত্য জেলা পরিষদকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার দাবি এনসিপির

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অধিকার, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং ন্যায়সংগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকে কার্যকর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এনসিপির অভিযোগ, ২০ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদে বিএনপি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক মত, সামাজিক শক্তি এবং দলীয় পরিচয়ের বাইরে থাকা মানুষের প্রতিনিধিত্ব কার্যত অনুপস্থিত।

দলটির মতে, এ ধরনের একতরফা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব জেলা পরিষদগুলোর নিরপেক্ষতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র ও জনগণের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এসব পরিষদ পরিচালনা করা উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এনসিপি আরও বলেছে, পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠান নয়, এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান। তাই দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে স্থানীয় বাস্তবতা ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিবৃতিতে পার্বত্য জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত নির্বাচন না হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। দলটি বলছে, ১৯৮৯ সালে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন প্রণয়নের পর ওই বছর একবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে সরকার মনোনীত বা অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে।

‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান’-পরবর্তী বাংলাদেশে অনির্বাচিত ও দলীয়ভাবে প্রভাবিত স্থানীয় প্রতিষ্ঠান আর দেখতে চায় না এনসিপি। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হতে পারে, তবে এটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বের বিকল্প নয়।

এনসিপি খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সরাসরি, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত যেকোনো অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতা, নিরপেক্ষতা, স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি