খুঁজুন
                               
, ,
           

রোনালদোর রেকর্ড গোল, আল নাসরের টানা চতুর্থ জয়

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
রোনালদোর রেকর্ড গোল, আল নাসরের টানা চতুর্থ জয়

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মাঠে নামবেন আর কোনো রেকর্ড হবে না—এমনটা যেন এখন আর ভাবাই যায় না। সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে আরও একটি মাইলফলক ছুঁলেন পর্তুগিজ এই মহাতারকা।

আল তাওয়ুনের বিপক্ষে গোল করে আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগে সর্বোচ্চ গোলের মালিক হয়েছেন রোনালদো। ট্রান্সফারমার্কেটের হিসাবে, আল নাসরের হয়ে লিগে তার গোলসংখ্যা এখন ১০৪। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল সৌদি আরবের সাবেক তারকা মোহাম্মদ আল সাহলাউইর দখলে। তার গোলসংখ্যা ছিল ১০৩।

রেকর্ড গড়ার রাতেই দলকে গুরুত্বপূর্ণ জয়ও এনে দিয়েছেন রোনালদো। আল তাওয়ুনকে ২-১ গোলে হারিয়ে লিগে টানা চতুর্থ জয় পেয়েছে আল নাসর।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি আল নাসরের। ১১ মিনিটে বাসেম মোহাম্মদ আলহুরাইজির গোলে এগিয়ে যায় আল তাওয়ুন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সমতায় ফেরে আল নাসর। রোনালদোর স্বদেশি সামু কস্তার গোলে ম্যাচে ফিরে আসে দলটি।

বিরতির পর ৫০ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন রোনালদো। আর সেই গোলই এনে দেয় তাকে নতুন রেকর্ড।

আল তাওয়ুনের বিপক্ষে গোলটি রোনালদোর পেশাদার ক্যারিয়ারে মোট গোলসংখ্যা নিয়ে গেছে ৯৭৮-এ। অর্থাৎ ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ১ হাজার পেশাদার গোলের মাইলফলক ছুঁতে এখন তার প্রয়োজন আর মাত্র ২২ গোল।

৪১ বছর বয়সেও গোলের পর গোল করে চলেছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। চলতি মৌসুমে আল নাসরের হয়ে এটি তার দ্বিতীয় গোল। এর আগে আল রিয়াদের বিপক্ষে গোল করেছিলেন তিনি।

রেকর্ড আর গোলের এই দৌড়ে রোনালদো যে এখনো থামতে রাজি নন, আল তাওয়ুনের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স যেন সেটিই আরও একবার প্রমাণ করল।

কালের আলো/এসএ

নেপালে বন্যায় উদ্ধার মরদেহের বেশির ভাগই অশনাক্ত, খাবার-পানির সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
নেপালে বন্যায় উদ্ধার মরদেহের বেশির ভাগই অশনাক্ত, খাবার-পানির সংকট

নেপালের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের তরাই এলাকার চিতওয়ান জেলায় ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার করা মরদেহগুলোর বেশির ভাগই এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। জেলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত মাত্র চারটি মরদেহ শনাক্ত করা গেছে।

চিতওয়ান জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও নদীর তীর থেকে উদ্ধার করা মরদেহগুলো পচে যাওয়ায় শনাক্তকরণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে মরদেহগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করার কাজ চলছে।

ভয়াবহ বন্যার পর নেপালে জরুরি ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকার। দেশটিতে এখনো হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ নেপালে জরুরি ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

জাতিসংঘের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেপালের কয়েক হাজার পরিবার খাবার ও নিরাপদ পানীয় জলের সংকটে রয়েছে। নেপালের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পর প্রায় ৪ হাজার মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী চীনের তিব্বতেও বন্যার ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। সেখানে সাতজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে চীন।

নেপালে সামনে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এতে উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের সন্ধান কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে একদিকে যেমন নিখোঁজদের সন্ধান ও মরদেহ শনাক্তের কাজ চলছে, অন্যদিকে দুর্গত মানুষের জন্য খাবার ও নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কালের আলো/এসএ

ইউরোপে দায়িত্ব বাড়াতে ন্যাটো মিত্রদের চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৭ অপরাহ্ণ
ইউরোপে দায়িত্ব বাড়াতে ন্যাটো মিত্রদের চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইউরোপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে আরও বড় দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইউরোপে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টিও পর্যালোচনা করছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন দেশটি নিজ ভূখণ্ডের আশপাশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে চাইছে। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা কমানো হবে কি না এবং হলে কতটা কমানো হবে, তা এখন পর্যালোচনা করছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষকে মোকাবিলায় ন্যাটোর সামরিক সক্ষমতার জন্য ইউরোপে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওয়াশিংটনের নতুন পরিকল্পনায় ইউরোপের প্রচলিত প্রতিরক্ষার বড় অংশের দায়িত্ব ইউরোপীয় মিত্রদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করবে। এই কাঠামোর আওতায় পারমাণবিক প্রতিরক্ষার বিষয়টিও থাকবে।

বৃহস্পতিবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী এলব্রিজ কলবি জার্মানি, পোল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশগুলোর বিভিন্ন প্রতিরক্ষা উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের অন্য মিত্রদের কাছ থেকেও আরও বেশি উদ্যোগ আশা করছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর কাছ থেকে ওয়াশিংটন আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়ার প্রত্যাশা করছে।

কলবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ন্যাটোকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করা। একই সঙ্গে জোটের সামরিক দায়িত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে ভাগ করে দিতে চায় ওয়াশিংটন।

ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা কীভাবে পূরণ করতে পারে, তা জানতে প্রতিরক্ষা দপ্তর বিভিন্ন দেশের কাছে একটি প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে উত্তর দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কলবি। তবে কোন দেশগুলো উত্তর দিয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।

প্রশ্নপত্রে শুধু সামরিক সক্ষমতা বা প্রতিরক্ষা ব্যয়ের তথ্য চাওয়া হয়নি। কোনো সামরিক অভিযানের প্রয়োজন হলে মিত্র দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র পাবে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর সময় ইউরোপের কয়েকটি দেশ দ্বিধায় পড়ে যায়। কারণ ওয়াশিংটন মিত্রদের সঙ্গে আগাম আলোচনা না করেই অভিযান শুরু করেছিল। এরপর থেকে সামরিক অভিযানের প্রয়োজনে ইউরোপের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কলবি বলেন, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইউরোপেরও স্বার্থ রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা আগে থেকেই নিশ্চিত থাকা জরুরি।

ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক দায়িত্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, ইউরোপের প্রচলিত প্রতিরক্ষায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও বড় দায়িত্ব নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করবে, কিন্তু ইউরোপের নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব এককভাবে বহন করবে না।

ফলে ন্যাটোর সামরিক কাঠামোয় দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপে মোতায়েন প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনার সংখ্যা শেষ পর্যন্ত কতটা কমবে, সেটি অনেকটাই নির্ভর করবে ইউরোপীয় মিত্ররা ওয়াশিংটনের নতুন কাঠামোয় কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সাড়া দেয় তার ওপর।

কালের আলো/এসএ

বাবার জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই হাকনের বড় চ্যালেঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
বাবার জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই হাকনের বড় চ্যালেঞ্জ

রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর নরওয়ের সিংহাসনে বসেছেন তার ছেলে হাকন অষ্টম। নতুন রাজা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে-দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় বাবা হ্যারাল্ডের মতো মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা ধরে রাখা।

সাধারণ নরওয়েজীয়দের মধ্যে হ্যারাল্ড ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিভিন্ন জরিপেও দীর্ঘদিন ধরে তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর পর তাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আবেগও ছিল গভীর।

১৯০৫ সালে সুইডেনের কাছ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর নরওয়েতে আধুনিক রাজতন্ত্র চালু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় হাকন দেশটির রাজপরিবারের চতুর্থ রাজা। সিংহাসনে বসার পর প্রথম দিকের দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে নিজের রাজকীয় উপাধি ঘোষণা করার পাশাপাশি বাবার মূলমন্ত্র ‘নরওয়ের জন্য সবকিছু’ গ্রহণ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করার জন্য হাকন ভালো অবস্থানে রয়েছেন। যুবরাজ থাকাকালে তিনি বাবার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন রাজকীয় দায়িত্ব পালনে তাকে সহযোগিতা করেছেন।

হ্যারাল্ড অসুস্থ থাকলে কিংবা দেশের বাইরে থাকলে অনেক সময় তার প্রতিনিধিত্ব করেছেন হাকন। নিজের জীবনী দ্য কিং টেলস-এ ছেলের বিষয়ে হ্যারাল্ড লিখেছিলেন, যুবরাজ হাকনই তার দায়িত্ব এগিয়ে নিয়ে যাবেন—এতে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন।

ইতিহাসবিদ ট্রন্ড নোরেন ইসাকসেনের মতে, হাকন তার বাবার চেয়ে ভিন্ন ধরনের রাজা হবেন। হ্যারাল্ড ছিলেন অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও রসবোধসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে হাকন কিছুটা শান্ত ও চুপচাপ স্বভাবের। তবে গত কয়েক বছরে মানুষের সঙ্গে আরও খোলামেলা হয়েছেন এবং নিজের রসবোধও প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া হাকন ছিলেন হ্যারাল্ড ও রানি সোনিয়ার সবচেয়ে ছোট সন্তান। তার ২২ বছর বয়সী মেয়ে ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা এখন নরওয়ের সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী।

হাকনের শৈশবও পুরোপুরি রাজকীয় পরিবেশে কাটেনি। ২০২৩ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে তিনি জানান, সরকারি স্কুলে পড়ার সময় রাজপরিবারের সদস্য হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলতে তিনি স্বস্তি বোধ করতেন না।

১৯৯১ সালে তার দাদা রাজা ওলাভ পঞ্চম মারা গেলে মাত্র ১৭ বছর বয়সে যুবরাজ হন হাকন। পরে চার বছর নৌবাহিনীতে কাজ করেন এবং ১৯৯৫ সালে নরওয়ের নৌ একাডেমি থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলি ক্যাম্পাসে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেন।

১৯৯৯ সালে নরওয়েতে ফেরার পর একটি সংগীত উৎসবে মেতে-মারিতের সঙ্গে হাকনের পরিচয় হয়। সাধারণ পারিবারিক ও সামাজিক পটভূমি থেকে উঠে আসা মেতে-মারিতকে তখন সংবাদমাধ্যম ‘ক্রিস্টিয়ানস্যান্ডের সিন্ডারেলা’ নামে অভিহিত করেছিল।

২০০১ সালে তাদের বিয়ের আগে এই সম্পর্ক নিয়ে নরওয়েতে তীব্র আলোচনা হয়। মেতে-মারিতের আগের সম্পর্ক, তার সন্তানের বাবা এবং অতীত জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি কয়েকজন বিশ্লেষক আশঙ্কা করেছিলেন, এই সম্পর্ক নরওয়ের রাজতন্ত্রের জন্য সংকট তৈরি করতে পারে।

তবে বিয়ের আগে নিজের অতীত নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান মেতে-মারিত। সময়ের সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের ভালোবাসাও অর্জন করেন। পরে তাকে নরওয়ের আধুনিক ও পরিবর্তনশীল রাজতন্ত্রের অন্যতম প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

হাকনও স্ত্রীকে নিজের স্বভাবের ভারসাম্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, তিনি তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণধর্মী ও সামাজিকভাবে কিছুটা গুটিয়ে থাকা মানুষ। অন্যদিকে মেতে-মারিত সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন।

তবে অস্থির এক সময়ে সিংহাসনে বসেছেন হাকন। সাম্প্রতিক সময়ে নরওয়ের রাজপরিবার একাধিক বিতর্কের মুখে পড়েছে।

হাকনের স্ত্রী মেতে-মারিত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, এ ক্ষেত্রে তার বিচারবোধ ভালো ছিল না।

অন্যদিকে মেতে-মারিতের আগের সম্পর্কের ছেলে মারিয়ুস বর্গ হইবি ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। তিনি অবশ্য রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। যদিও হইবি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের সদস্য নন, ছোটবেলা থেকেই রাজপরিবারের সঙ্গে বেড়ে ওঠায় তার কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

এর পাশাপাশি মেতে-মারিত দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছেন। চলতি বছর তার ফুসফুস প্রতিস্থাপনও করা হয়েছে। ফলে নতুন রাজা হিসেবে দেশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসুস্থ স্ত্রীকে সমর্থন দেওয়ার দায়িত্বও হাকনকে সামলাতে হচ্ছে।

নানা বিতর্ক সত্ত্বেও নরওয়ের রাজপরিবারের প্রতি মানুষের সমর্থন এখনো রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে রাজতন্ত্রের জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত মিলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হাকন দায়িত্ব পালনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই প্রস্তুতি নিয়েছেন। বাবার কাছ থেকে তিনি রাজকীয় দায়িত্বের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন এবং বহু বছর ধরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কাজে অংশ নিয়েছেন।

এখন তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে হ্যারাল্ডের রেখে যাওয়া আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা। রাজপরিবারকে ঘিরে চলমান বিতর্ক, স্ত্রীর অসুস্থতা এবং পরিবারের সদস্যদের নানা কর্মকাণ্ডের মধ্যেই তাকে নরওয়ের রাজতন্ত্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের আশা, দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত হাকন শেষ পর্যন্ত তার পূর্বসূরিদের মতোই নরওয়েজীয়দের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারবেন।

কালের আলো/এসএ