খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ
দেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত ক্ষমতাবানই হোক, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।’

তিনি বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের-তারা যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন-বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ এমন এক দিন, যা আমাদের বুকফাটা হাহাকার আর তীব্র বেদনার অতল গহ্বরে নিয়ে যায়। বক্তব্যের শুরুতে আমি তীব্র কষ্ট-বেদনা নিয়ে এবং গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছ, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জোরপূর্বক গুমের শিকার সকল মানুষকে। স্মরণ করছি, সেইসব মা-বাবা, ভাই-বোনদের যারা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন-এই বুঝি তাঁদের সন্তান, স্বজন ফিরে এলো। স্মরণ করছি সেই স্ত্রীকে, যিনি প্রিয় স্বামীকে হারিয়ে একা জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। স্মরণ করছি সেই সন্তানকে, যার শৈশব পেরিয়ে গেছে বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায়। কিন্তু বাবা তাকে কোলে তুলে নিতে আর ফিরে আসেননি।

গুমের শিকার সকল ব্যক্তি, পরিবার, স্বজন ও সহযোদ্ধার প্রতি জানাই আমার গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা। গুম-খুনের শিকার সকল মানুষের পবিত্র স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। আমি তাদের রূহের চিরশান্তি ও মাগফিরাত কামনা করি।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুম শুধু একটা মানুষকে কেড়ে নেয় না। কেড়ে নেয় প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক স্বস্তি। এ এক জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন।

আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-খুনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকটিকেই একসঙ্গে ভুলুণ্ঠিত করা হয়।

বিগত দেড় দশকে গুম ও গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’-এর প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য যখনই আন্দোলন করেছেন, তখনই তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে, গোপনে খুন করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুরুতর অপরাধকে সর্বদা অস্বীকার করে গেছে। আমরা ভুলে যাইনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, একটি ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অগণিত মানুষকে। যাদের পরিবারের প্রতিটি রাত কাটছে বুকভরা বেদনা, অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষা নিয়ে।

আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিককে বছরের পর বছর অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে, আলো-বাতাসহীন আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে ভিনদেশে ফেলে আসা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সৌভাগ্যক্রমে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। এ দেশে আজও এমন বহু মানুষ আছেন, যারা আজ পর্যন্ত আর ফিরে আসেননি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘যে গণতন্ত্র, সাম্য, বাকস্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ১৯৭১ সালে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই স্বাধীন দেশে গুম-খুনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চূড়ান্ত অন্যায় আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে একটা ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অপমানজনক অধ্যায়।’

প্রয়াত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই সময়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, যিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-খুনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই হবে। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক শক্তি, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণকে, যাদের অনেকে গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আজ এখানে গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত আছেন। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যে সত্য বেরিয়ে এসেছে, তা শুধু বেদনাদায়কই নয়, অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়াবহ। কমিশন ১,৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত। এই প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া, বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের জোরপূর্বক গুম ও গোপনে খুন করার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতেই দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে এই বর্বর, পৈশাচিক ও ঘৃণ্য কাজগুলো বেশি করা হয়েছে।’

কমিশনের প্রতিবেদন আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে, কিন্তু পথ এখনো অনেক দীর্ঘ। এবারের আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘Victims first, Action now’। গুমের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারকে রক্ষা এবং গুমকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ আর্ন্তজাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারের কাজ স্বচ্ছ ও আর্ন্তজাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে।’

গুমের শিকার পরিবারগুলোর দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। যেসব পরিবার বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় সীমাহীন অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা বহন করেছে, তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে-কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে-কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে—কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে-কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ। মনে রাখতে হবে, একটি দেশের উন্নয়ন ও সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী, কতটা ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করে-সেটি একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। আর এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না। প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের-তা সে যতো বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন- বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে। এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সকল পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ইউএনডিপির সহযোগিতা চান ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ইউএনডিপির সহযোগিতা চান ভূমিমন্ত্রী

ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু এবং ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতা চেয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

রোববার (৩০ আগস্ট) ভূমি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দফতরে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা চান। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনগণের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এক্ষেত্রে ইউএনডিপিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ইউএনডিপির প্রতি আহ্বান জানান ভূমিমন্ত্রী।

এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও এর ডিজিটালাইজেশনের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধিকে অবহিত করেন।

ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন বাংলাদেশের একটি অসাধারণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবা ডিজিটালাইজেশনের ফলে জনগণ আরও বেশি ক্ষমতায়িত হচ্ছে এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ভূমিসেবায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও অনেকাংশে কমে এসেছে।

সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেজ বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, দুর্যোগ সহনশীলতা জোরদার করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় অবদান রাখার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। বাংলাদেশ সরকার, জনগণ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে আগের অর্জনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নতুন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান তৈরি করতে হবে।

সাক্ষাৎকালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এবং ইউএনডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত দিনে আমরা যারা গুম ছিলাম, প্রতি মুহূর্তে আমাদের মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়েছে। অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময়ে তাদের স্বজনরা কীভাবে সময় কাটিয়েছে, সেটি তারা ছাড়া কেউ বুঝবেন না।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দুই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। বহু মরদেহ গায়েব করেছে। আমরা মনে করি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুমের শিকার হওয়া মানুষের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গুমের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সুমনের মায়ের মানসিক অবস্থা কেউ বুঝবেন না। তার নিজের স্ত্রী-সন্তানদের কী অবস্থা হয়েছিল, সেটিও অন্য কেউ বোঝার কথা নয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ৭০৯ জন গুমের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫ জন ফিরে এসেছেন। আর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুমের বিষয়ে ১ হাজার ৮৫০টি আবেদন পড়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ ধরনের গুম-খুনের কথা ছিল না।’ ব্রিগেডিয়ার আযমীর মতো অনেকে ফিরে এলেও পরিবারের কাউকে পাননি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ মারা গেছেন। তবে তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারণ বহু মরদেহ গায়েব করা হয়েছে এবং পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দুই বিল সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৫ অপরাহ্ণ
দুই বিল সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ ও ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বিল দুটি পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের জন্য বৈঠকে সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা, মো. মনজুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং আলফারুক আব্দুল লতীফ অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ