খুঁজুন
                               
, ,
           

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বান শি চিনপিংয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বান শি চিনপিংয়ের

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। একই সঙ্গে অঞ্চলটির জন্য নতুন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার মিসর সফরে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন শি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে চীনা প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

চার বছরের মধ্যে এটিই শি চিনপিংয়ের প্রথম মধ্যপ্রাচ্য সফর। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে অঞ্চলটির বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

কায়রোতে শি চিনপিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিজেদের ভবিষ্যৎ ও ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখা উচিত। একই সঙ্গে অঞ্চলটির জন্য একটি নতুন নিরাপত্তাকাঠামো তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।

সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব নৌপথের নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

শি ও সিসির বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগী দেশ মিসর। দেশটি প্রতি বছর ওয়াশিংটনের কাছ থেকে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা পায়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কায়রো চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কও দ্রুত বাড়াচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে নিজেদের কৌশলগত বিকল্প বাড়ানোর চেষ্টা করছে মিসর।

শি চিনপিংকে বুধবার সামরিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট সিসি। সফরের আগে এক নিবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্বে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মিসর ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে।

সাবেক মিসরীয় কূটনীতিক আইমান জেইনেলদিনের মতে, চীনসহ বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে চায় কায়রো। দুই দেশের স্বার্থ ও দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে মিল থাকায় এই সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বাড়াতে চায় বেইজিং। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের মার্কিন প্রভাবের বাইরে নিজেদের জন্য একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করাও চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক এইচ এ হেলিয়ারের মতে, চীনের জন্য মিসর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক প্রভাব রয়েছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতেও মিসরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভৌগোলিকভাবে কায়রোর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চীন ও মিসরের সম্পর্ক এখন আর শুধু অর্থনীতি ও কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতাও বাড়ছে।

গত মাসে মিসর ও চীন যৌথভাবে ‘সভ্যতার ঈগল’ নামে সামরিক মহড়া চালায়। এতে দুই দেশের যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। মহড়ায় চীনের তৈরি জে-১৬ এবং ফ্রান্সের তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমান দিয়ে বিমানযুদ্ধের অনুশীলনও করা হয়।

এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা যে নতুন মাত্রা পাচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মিসরের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতার অন্যতম প্রধান কারণ অর্থনীতি। ১১ কোটির বেশি জনসংখ্যার মিসর চীনের জন্য একটি বড় বাজার। একই সঙ্গে সুয়েজ খালের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যেও দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

চীনা কোম্পানিগুলো মিসরে কনটেইনার বন্দর, সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্প, লোহার পাইপ, গাড়ির টায়ার ও কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির কারখানাসহ বিভিন্ন খাতে কয়েক শ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

মিসরের মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, সুয়েজ খাল অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের বিনিয়োগ প্রায় ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বুধবার ওই অঞ্চলে চীনের তৈরি শিল্প এলাকা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া চীনের জেডসি রাবার গ্রুপ মিসরে ৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে একটি টায়ার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাথমিক চুক্তি করেছে।

শি চিনপিংয়ের মিসর সফর এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার আহ্বানকে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব থাকলেও সাম্প্রতিক সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে দেশগুলো নিজেদের কৌশলগত অংশীদারত্ব নতুন করে বিবেচনা করছে।

এই সুযোগে চীন অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, সামরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

শি চিনপিংয়ের সর্বশেষ বার্তায় তাই শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার কথা নয়, মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতের শক্তির ভারসাম্য কীভাবে বদলাতে পারে—তারও একটি ইঙ্গিত রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি