খুঁজুন
                               
, ,
           

টার্গেটে চোখ, নিশানায় শ্রেষ্ঠত্ব

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
টার্গেটে চোখ, নিশানায় শ্রেষ্ঠত্ব

নিশানার নিখুঁততা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং চাপের মধ্যে স্থির থাকার দক্ষতার পরীক্ষা নিয়ে শেষ হলো চলতি বছরের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুটিং প্রতিযোগিতা। পাঁচ দিন ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় সাতটি ডিভিশনের ৮৪ জন শুটার ছয়টি ইভেন্টে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরেন। শেষ দিনের ফলাফলে চট্টগ্রাম সেনা শুটিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন এবং ঘাটাইল সেনা শুটিং ক্লাব রানারআপ হয়েছে।

  • সেনাবাহিনীর শুটিং প্রতিযোগিতায় সাত ডিভিশনের ৮৪ শুটারের লড়াই
  • ছয় ইভেন্টে সামর্থ্যের পরীক্ষা
  • চট্টগ্রামের বাজিমাত, শ্রেষ্ঠ শুটার ইউসুফ আলী

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি শুটিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এম খায়ের উদ্দীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

৬ ইভেন্টে দক্ষতার বহুমাত্রিক পরীক্ষা
গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় ৬টি ইভেন্টে অংশ নেন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশনের শুটাররা। ফলে প্রতিযোগিতাটি শুধুমাত্র নির্ভুল নিশানার পরীক্ষা ছিল না। এটি প্রশিক্ষণ, মনোসংযোগ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পারফরম্যান্স ধরে রাখার সক্ষমতারও মূল্যায়ন হয়েছে। সেনাবাহিনীর মতো একটি পেশাদার বাহিনীর জন্য শুটিং দক্ষতা মৌলিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেই দক্ষতাকে পরিমাপ ও উন্নত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের শুটারদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও তৈরি হয়।

চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম, ব্যক্তিগত সাফল্য ইউসুফের
দলগত লড়াইয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে চট্টগ্রাম সেনা শুটিং ক্লাব। ঘাটাইল সেনা শুটিং ক্লাব পেয়েছে রানারআপের স্বীকৃতি।
দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও নজর কেড়েছেন যশোর সেনা শুটিং ক্লাবের সৈনিক মো. ইউসুফ আলী। প্রতিযোগিতায় সামগ্রিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ শুটার। দলগত সমন্বয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই ব্যবস্থা প্রতিযোগিতার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও অর্থবহ করেছে।
প্রশিক্ষণ থেকে প্রতিযোগিতা, সক্ষমতার যাচাই

সেনাবাহিনীর শুটিং প্রতিযোগিতা নিয়মিত প্রশিক্ষণকে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে যাচাই করার একটি কার্যকর ক্ষেত্র। প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক অনুশীলনে অর্জিত দক্ষতা বাস্তব প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে কতটা কার্যকর থাকে, এ ধরনের আয়োজন তার একটি বাস্তব মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করে।

একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রশিক্ষণের কোন জায়গাগুলো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, তা শনাক্ত করতেও সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা ও পেশাগত দায়িত্বে শুটারদের প্রস্তুতি আরও ধারালো করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজনের ভূমিকা রয়েছে।

সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ক্রীড়া সংস্কৃতি
প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থার সদস্য এবং অংশগ্রহণকারী শুটাররা উপস্থিত ছিলেন। সুশৃঙ্খল প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত মানদণ্ডে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং দক্ষতার স্বীকৃতি—এই তিন উপাদান সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একটি প্রতিযোগিতামুখী সংস্কৃতিও গড়ে তোলে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শুটিং প্রতিযোগিতায় সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি পর্ব। এখানে লক্ষ্যভেদী দক্ষতার পাশাপাশি পেশাদারিত্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানও উপস্থাপিত হয়েছে মোটা দাগে।

কালের আলো/এমএএএমকে

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উজবেকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৭ মেয়েরা

যোগ করা সময়ের গোলে স্বাগতিক উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল করেছে বাংলাদেশ। তাসখন্দে বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে রুনা আক্তারের গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সাইফুল বারী টিটুর দল। এর ফলও আসে দ্রুত। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ফাতেমা আক্তারের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে ডান প্রান্তের পূর্ণিমা মারমা উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করে চিপ শটে বল জালে পাঠান। তাতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন উজবেকিস্তানের লারাঙ্গিজ লাকায়েভা। এতে ১-১ গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।

বিরতির পর দুই দলই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে গোলের চেষ্টা চালায়। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে আলপি আক্তার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও উজবেক গোলরক্ষক তা আটকে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে স্বাগতিকরা চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ দৃঢ়তা দেখায়।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে, অর্থাৎ ৯০+৩ মিনিটে, সুরভী রানির থ্রু পাস ধরে উজবেকিস্তানের বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান রুনা আক্তার। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই হারে বাছাইপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে উজবেকিস্তান। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল দলটি।

আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পেতে বাছাইপর্বের আটটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হতে হবে দলগুলোকে। ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ ফিলিপাইন। আগামী রোববারের ম্যাচে জয় পেলেই মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন ব্যারিস্টার গিয়াসউদ্দিন রিমন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন ব্যারিস্টার গিয়াসউদ্দিন রিমন

সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার গিয়াসউদ্দিন রিমন। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে কাজ করবেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তাকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে—যেটি আগে ঘটে—সে পর্যন্ত তার এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আল-বশিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ইংল্যান্ডে বড় স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলার ফারহান

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
ইংল্যান্ডে বড় স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলার ফারহান

বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন তরুণ উইঙ্গার ফারহান আলী ওয়াহিদ। ইংলিশ ক্লাব ফুলহামের ২০২৬ সালের বর্ষসেরা একাডেমি খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সতীর্থদের ভোটে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশের এই ফুটবলার।

বর্তমানে ধারে ইংল্যান্ডের পঞ্চম স্তরের ক্লাব বোরহামউডে খেলছেন ফারহান। চলতি সপ্তাহে ফুলহামের অনুশীলন কেন্দ্র মটস্পার পার্কে গিয়ে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেয় ফুলহাম সাপোর্টার্স ট্রাস্ট।

ফুলহামের হয়ে গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন ফারহান। ক্লাবটির অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে ২১ ম্যাচে ১৭ গোলে অবদান রাখেন তিনি। গত বছরের নভেম্বরে জেতেন মাসের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। মৌসুম শেষে ক্লাবের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারের জন্যও মনোনয়ন পেয়েছিলেন এই তরুণ।

তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে চলতি মৌসুমে তাকে ধারে দলে নেয় বোরহামউড। ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচে শুরু থেকে মাঠে নেমেছেন ফারহান। ১২ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে বোরহামউড, দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের চেয়ে সাত পয়েন্ট এগিয়ে আছে তারা।

ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় দলেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ফারহান। গত মাসে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় তার। এরপর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে বাংলাদেশের হয়ে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন এই তরুণ উইঙ্গার।

সতীর্থদের ভোটে পাওয়া জনি হেইনস ট্রফি জিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ফারহান। ফুলহামের ওয়েবসাইটে তিনি বলেন, সতীর্থদের ভোটে এই পুরস্কার জেতা তার জন্য দারুণ আনন্দের। সতীর্থদের সমর্থন, অনুপ্রেরণা এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তাকে আরও ভালো খেলোয়াড় হতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি।

ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে এমন স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে গোল—দুই অর্জনই ফারহানের ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি