খুঁজুন
                               
, ,
           

টার্গেটে চোখ, নিশানায় শ্রেষ্ঠত্ব

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
টার্গেটে চোখ, নিশানায় শ্রেষ্ঠত্ব

নিশানার নিখুঁততা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং চাপের মধ্যে স্থির থাকার দক্ষতার পরীক্ষা নিয়ে শেষ হলো চলতি বছরের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুটিং প্রতিযোগিতা। পাঁচ দিন ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় সাতটি ডিভিশনের ৮৪ জন শুটার ছয়টি ইভেন্টে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরেন। শেষ দিনের ফলাফলে চট্টগ্রাম সেনা শুটিং ক্লাব চ্যাম্পিয়ন এবং ঘাটাইল সেনা শুটিং ক্লাব রানারআপ হয়েছে।

  • সেনাবাহিনীর শুটিং প্রতিযোগিতায় সাত ডিভিশনের ৮৪ শুটারের লড়াই
  • ছয় ইভেন্টে সামর্থ্যের পরীক্ষা
  • চট্টগ্রামের বাজিমাত, শ্রেষ্ঠ শুটার ইউসুফ আলী

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি শুটিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এম খায়ের উদ্দীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

৬ ইভেন্টে দক্ষতার বহুমাত্রিক পরীক্ষা
গত ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় ৬টি ইভেন্টে অংশ নেন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশনের শুটাররা। ফলে প্রতিযোগিতাটি শুধুমাত্র নির্ভুল নিশানার পরীক্ষা ছিল না। এটি প্রশিক্ষণ, মনোসংযোগ, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পারফরম্যান্স ধরে রাখার সক্ষমতারও মূল্যায়ন হয়েছে। সেনাবাহিনীর মতো একটি পেশাদার বাহিনীর জন্য শুটিং দক্ষতা মৌলিক প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিয়মিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেই দক্ষতাকে পরিমাপ ও উন্নত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের শুটারদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও তৈরি হয়।

চ্যাম্পিয়ন চট্টগ্রাম, ব্যক্তিগত সাফল্য ইউসুফের
দলগত লড়াইয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ফল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে চট্টগ্রাম সেনা শুটিং ক্লাব। ঘাটাইল সেনা শুটিং ক্লাব পেয়েছে রানারআপের স্বীকৃতি।
দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও নজর কেড়েছেন যশোর সেনা শুটিং ক্লাবের সৈনিক মো. ইউসুফ আলী। প্রতিযোগিতায় সামগ্রিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন শ্রেষ্ঠ শুটার। দলগত সমন্বয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত দক্ষতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই ব্যবস্থা প্রতিযোগিতার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও অর্থবহ করেছে।
প্রশিক্ষণ থেকে প্রতিযোগিতা, সক্ষমতার যাচাই

সেনাবাহিনীর শুটিং প্রতিযোগিতা নিয়মিত প্রশিক্ষণকে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে যাচাই করার একটি কার্যকর ক্ষেত্র। প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক অনুশীলনে অর্জিত দক্ষতা বাস্তব প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে কতটা কার্যকর থাকে, এ ধরনের আয়োজন তার একটি বাস্তব মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করে।

একই সঙ্গে প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রশিক্ষণের কোন জায়গাগুলো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, তা শনাক্ত করতেও সহায়ক হতে পারে। ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা ও পেশাগত দায়িত্বে শুটারদের প্রস্তুতি আরও ধারালো করার ক্ষেত্রেও এ ধরনের আয়োজনের ভূমিকা রয়েছে।

সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি ক্রীড়া সংস্কৃতি
প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিট ও সংস্থার সদস্য এবং অংশগ্রহণকারী শুটাররা উপস্থিত ছিলেন। সুশৃঙ্খল প্রতিযোগিতা, নির্ধারিত মানদণ্ডে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন এবং দক্ষতার স্বীকৃতি—এই তিন উপাদান সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি একটি প্রতিযোগিতামুখী সংস্কৃতিও গড়ে তোলে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শুটিং প্রতিযোগিতায় সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি পর্ব। এখানে লক্ষ্যভেদী দক্ষতার পাশাপাশি পেশাদারিত্ব ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানও উপস্থাপিত হয়েছে মোটা দাগে।

কালের আলো/এমএএএমকে

উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে (বিএসি) আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় রাষ্ট্রপতি কাউন্সিলের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠায় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। উচ্চশিক্ষার মান যাচাই, স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে কাউন্সিলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় কাউন্সিলের স্থায়ী নিজস্ব ভবন প্রাপ্তির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

চেয়ারম্যান জানান, বিদেশে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের স্বীকৃতি এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সনদ বিশেষভাবে সহায়ক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার গ্রহণযোগ্যতা এবং দক্ষ জনশক্তির পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে মান নিশ্চিতকরণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান ও সনদের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সাক্ষাৎকালে কাউন্সিলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আরও উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বাস দেন তিনি। কাউন্সিলের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য মো. এমদাদুল হক, অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল, অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান এবং অধ্যাপক ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিব, সহকারী সামরিক সচিব এবং রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিবও উপস্থিত ছিলেন। উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো এ সাক্ষাতে গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সিলেটের সীমান্তে প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য লক্ষণছড়া

সিলেট সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
সিলেটের সীমান্তে প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য লক্ষণছড়া

সিলেট মানেই জাফলং কিংবা বিছনাকান্দি নয়। সীমান্তঘেঁষা এ জেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির এমন কিছু অপরূপ সৌন্দর্যের ঠিকানা, যেখানে শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিরিবিলি সময় কাটানো যায়। শীতের আগমনে পাহাড়ের পাদদেশে হালকা কুয়াশা, শীতল বাতাস আর সবুজের সমারোহে তেমনই এক আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে গোয়াইনঘাট উপজেলার লক্ষণছড়া।

পাহাড়, পিয়াইন নদী, স্বচ্ছ জলধারা আর সীমান্তের সবুজ প্রকৃতির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা লক্ষণছড়া প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক শান্ত আশ্রয়। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ভিড় এড়িয়ে যারা পাহাড়ি প্রকৃতির স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য শীতকাল হতে পারে এখানে ঘুরে যাওয়ার দারুণ সময়।

শীতের সকালে লক্ষণছড়ার চারপাশে তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ। হালকা কুয়াশার আবরণে দূরের পাহাড় কখনো অস্পষ্ট, আবার সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে সবুজ পাহাড়ের সারি। ঠান্ডা বাতাস, গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশ আর ছড়ার পানির শব্দ মিলিয়ে জায়গাটিতে তৈরি হয় অন্যরকম প্রশান্তি। সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় শীতের আবহাওয়া সাধারণত ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। বর্ষার তুলনায় এ সময়ে পাহাড়ি ছড়ার পানির প্রবাহ কমে আসতে পারে। তবে পাথুরে তলদেশ, স্বচ্ছ জলধারা এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি লক্ষণছড়ার সৌন্দর্য ধরে রাখে।

যারা প্রকৃতির ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য সকালের আলো ও কুয়াশার মেলবন্ধন হতে পারে বিশেষ আকর্ষণ। তবে দৃশ্যের সৌন্দর্য আবহাওয়া ও পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করতে পারে। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নে অবস্থিত লক্ষণছড়া। সিলেট শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা পাহাড়ি জলধারা সীমান্ত পেরিয়ে এ অঞ্চলের প্রকৃতিকে করেছে আরও প্রাণবন্ত।

লক্ষণছড়ার অন্যতম আকর্ষণ এর পাথুরে তলদেশ ও স্বচ্ছ পানি। কোথাও পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলে জলধারা, কোথাও ছোট ছোট পানির প্রবাহের পাশে দেখা যায় সবুজ প্রকৃতি। চারপাশের পাহাড়, শীতল বাতাস এবং শান্ত পরিবেশ ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। সীমান্তের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে দূরের সবুজ পাহাড়ের সারি দেখার অভিজ্ঞতাও আলাদা। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসা যায় পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে।

লক্ষণছড়ায় যাওয়ার পথটিও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। পূর্ব রুস্তমপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে পিয়াইন নদীর তীর ধরে এগোতে হয়। গ্রামের মেঠোপথ, সবুজ মাঠ, নদীর প্রবাহ এবং সীমান্তঘেঁষা শান্ত পরিবেশ যাত্রাপথকে করে তোলে উপভোগ্য। শীতের সকালে গ্রামের পথ ধরে এগিয়ে গেলে কুয়াশার আবেশ আর ঠান্ডা বাতাস ভ্রমণে যোগ করে বাড়তি আনন্দ। দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের পাহাড় ও প্রকৃতির দৃশ্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এখানে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোই নয়, পথের সৌন্দর্য উপভোগ করাও ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহুরে ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে গ্রামের স্বাভাবিক জীবন ও প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। গোয়াইনঘাট এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে লক্ষণছড়ার পাশাপাশি পান্তুমাইও রাখা যেতে পারে তালিকায়। দুটি স্থান কাছাকাছি হওয়ায় যাতায়াতের পরিস্থিতি ও হাতে থাকা সময় বিবেচনা করে একই দিনে ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করা সম্ভব।

পান্তুমাইয়ের ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগের পর লক্ষণছড়ার পাহাড়ি পরিবেশ ও স্বচ্ছ জলধারা দেখতে যাওয়া যেতে পারে। এতে এক ভ্রমণেই পাহাড়, ঝরনা, নদী ও ছড়ার ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে। তবে যাত্রার আগে স্থানীয় রাস্তার অবস্থা, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং দুই স্থানের মধ্যে চলাচলে কতটা সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া ভালো।

সিলেট শহর থেকে গোয়াইনঘাটের দিকে যাত্রা করে পান্তুমাই ও পূর্ব রুস্তমপুর এলাকার পথে যেতে হবে। এরপর স্থানীয় সড়ক ও পথ ধরে লক্ষণছড়ার কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। শেষ অংশের যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছ থেকে আগেই জেনে নেওয়া সুবিধাজনক। শীতকালে সকালে কুয়াশা থাকলে সড়কে দৃশ্যমানতা কমতে পারে। তাই পর্যাপ্ত দিনের আলো থাকতে যাত্রা করা এবং স্থানীয় আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা বিবেচনায় রাখা উচিত।

লক্ষণছড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ভ্রমণের সময় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি। সীমান্ত পিলার, সীমারেখা কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর নির্ধারিত এলাকার দিকে না গিয়ে বাংলাদেশের অংশ থেকেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে ছড়ার পানির প্রবাহ কম থাকলেও পাথর পিচ্ছিল হতে পারে। তাই পাথরের ওপর হাঁটার সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পানিতে নামা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুদের সঙ্গে থাকলে তাদের প্রতি বাড়তি নজর রাখা প্রয়োজন।

ভ্রমণের সময় হালকা শীতের পোশাক সঙ্গে রাখা ভালো। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট ও পানির বোতল যত্রতত্র ফেলে আসা উচিত নয়। লক্ষণছড়া হয়তো সিলেটের সবচেয়ে আলোচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি নয়। কিন্তু যারা ভিড়ের বাইরে গিয়ে পাহাড়, নদী ও ছড়ার স্বাভাবিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। শীতের সকালের কুয়াশা, পাহাড়ের নীরবতা, স্বচ্ছ জলধারা, পিয়াইন নদীর প্রবাহ আর সীমান্তের সবুজ দৃশ্য—সব মিলিয়ে লক্ষণছড়া প্রকৃতির এক শান্ত ছবি তুলে ধরে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, খাদ্যশস্য সংরক্ষণে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়লে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী তাঁকে স্বাগত জানান। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা। আলোচনায় খাদ্যশস্য আমদানি, দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য সংরক্ষণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিক্ষা এবং যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উঠে আসে।

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে উভয় দেশের জনগণ লাভবান হতে পারেন। এ ধরনের সহযোগিতা শুধু পণ্য আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় ও বিভিন্ন খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করতে পারে বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের খাদ্যশস্য আমদানির প্রসঙ্গ তুলে খাদ্যমন্ত্রী জানান, গত অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছিল। চাল নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল এবং এর মানও সন্তোষজনক ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় পাকিস্তানের বাসমতী চালের প্রশংসা করেন খাদ্যমন্ত্রী। খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে সরবরাহের সময়সূচি ও পণ্যের মান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় এ অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

তবে ভবিষ্যতে পাকিস্তান থেকে কী পরিমাণ চাল আমদানি করা হবে, সে বিষয়ে বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রেখে সংরক্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খাদ্যশস্য সংরক্ষণে উপযুক্ত প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময় বাংলাদেশের খাদ্য সংরক্ষণব্যবস্থা আরও উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সহযোগিতা কামনা করেন খাদ্যমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় কার্যকর হলে দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। তিনি বাংলাদেশি পণ্যের জন্য পাকিস্তানের বাজারে সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেন। হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও আনারসের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চাহিদাকে কাজে লাগানো গেলে রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব পণ্যের রপ্তানি কতটা বাড়বে বা এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, তা বৈঠকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। বাণিজ্যের পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগও রয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়তে পারে। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ এবং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাশে ওয়াকাস ইয়াসিন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে খাদ্যসচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি