জাতিসংঘে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাত্র কয়েক দিনের সফর হলেও কর্মসূচিতে থাকছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তিনি।
যেসব বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেঙ্কোভিচ এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গেও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নিউইয়র্ক সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক
রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গেও বৈঠক হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গেও আলোচনায় বসার কথা রয়েছে তাঁর। এতে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকটেও আন্তর্জাতিক সমর্থন চায় ঢাকা
জাতিসংঘ অধিবেশনের বাইরে রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সুযোগ হিসেবে নিউইয়র্ক সফরকে কাজে লাগাতে চাইবে ঢাকা।
সংক্ষিপ্ত সফর, ব্যস্ত কর্মসূচি
সূত্র অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী এবং ২৫ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা দেবেন। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকাও তুলনামূলক ছোট রাখা হচ্ছে।
এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। ফলে জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি মার্কিন নেতৃত্বের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগেরও একটি সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে সময়ের হিসাবে সফরটি সংক্ষিপ্ত হলেও বৈঠকের তালিকা বেশ বিস্তৃত। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উন্নয়ন অর্থায়ন এবং রোহিঙ্গা সংকট—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ থাকছে প্রধানমন্ত্রীর সামনে।
কালের আলো/এম/এএইচ

আপনার মতামত লিখুন
Array