খুঁজুন
                               
, ,
           

৩০ সেকেন্ডের আতঙ্ক, মাঝ আকাশে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল ১৭৪ প্রাণ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
৩০ সেকেন্ডের আতঙ্ক, মাঝ আকাশে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরল ১৭৪ প্রাণ

উড়োজাহাজটি তখন ৩৪ হাজার ফুটের কাছাকাছি উচ্চতায়। দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের দিকে স্বাভাবিক গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইট। বিমানে ছিলেন ১৭৪ যাত্রী ও ক্রু। কিন্তু মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু।

ককপিটের ভেতর শুরু হয় ভয়াবহ সংঘর্ষ। অভিযোগ উঠেছে, সহকারী পাইলট প্রধান পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন এবং উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপরই বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হাজার হাজার ফুট উচ্চতা হারিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো কেবিনে।

প্রধান পাইলট গুরুতর আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। একই বিমানে থাকা আরও দুই ফ্লাইদুবাই পাইলট নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। ১৭৪ মানুষের জীবন রক্ষা পেলেও এই ঘটনা এখন বিমান নিরাপত্তা, ককপিট সুরক্ষা এবং পাইলট যাচাই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এনেছে।

৩০ সেকেন্ডে বদলে গেল সব

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লাইটটি যখন আকাশে ছিল, তখন সহকারী পাইলট প্রধান পাইলটকে আক্রমণ করেন বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান। এরপর উড়োজাহাজটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায় ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে। অন্যদিকে CNN-এর ফ্লাইট ট্র্যাকিং বিশ্লেষণে আরও বড় উচ্চতা পতনের কথা উঠে এসেছে—প্রায় ২০ হাজার ফুট উচ্চতা হারানোর তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন উৎসে সময় ও উচ্চতার পরিমাণে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—বিমানটি স্বাভাবিক অবতরণের গতির চেয়ে অনেক দ্রুত নিচে নেমে আতঙ্ক তৈরি করেছিল।

এক যাত্রী বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মনে হচ্ছিল উড়োজাহাজটি যেন রোলারকোস্টারের মতো নিচে নেমে যাচ্ছে। শিশুদের কান্না, যাত্রীদের চিৎকার—কেবিনে তৈরি হয় চরম আতঙ্কের পরিবেশ।

রক্তাক্ত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত

এই ঘটনার কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছেন ভারতীয় প্রধান পাইলট স্মিত মচ্ছর। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, গুরুতর আহত হওয়ার পরও স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। ফলে যাত্রী ও ক্রুরা ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। একই সময় বিমানে থাকা আরও দুই পাইলট নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বিমানটি নিরাপদে তাবুকে নামানো হয়। সৌদি আরবে চিকিৎসাধীন স্মিতের অবস্থা স্থিতিশীল বলে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস।

‘নায়ক’ স্মিতের পাইলট হওয়ার গল্পও অন্যরকম

স্মিতের পেশাগত জীবনের গল্পও বেশ ভিন্ন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান চালানো তাঁর শৈশবের স্বপ্ন ছিল না। পরিবারের কাপড়ের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াশোনার সময় একটি এভিয়েশন সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর বিমান চলাচলের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। পরে পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ নেন। ভারতের স্পাইসজেটে কাজ করার পর ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। তাঁর বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতা এক দশকের বেশি। এখন সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই ভয়াবহ এক পরিস্থিতিতে কাজে লাগল—যদিও এই ঘটনার সময় তিনি নিজেই ছিলেন হামলার শিকার।

যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন: ককপিটে ঢুকে কাবু করেন হামলাকারীকে

শুধু পাইলট নয়, কয়েকজন যাত্রীর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁদের একজন ইয়ানিভ হায়ুন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, স্মিত ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার পর হায়ুন সেখানে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করেন। পরে আরও কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য সেখানে যোগ দেন। CNN-এর প্রতিবেদনে হায়ুনের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি হামলাকারীকে চেপে ধরে ককপিট থেকে সরিয়ে দেন। এমনকি বিমান নিয়ন্ত্রণে সহায়তার সময় তিনি আগে দেখা বিমান দুর্ঘটনার তথ্যচিত্র থেকে পাওয়া ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন। ঘটনার পর তাঁর পোশাকেও রক্তের দাগ দেখা যায়। ইসরায়েলে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।

কে সেই সহকারী পাইলট?

ঘটনার সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি এখনো এখানেই। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। তাঁকে সৌদি আরবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে প্রায় আট মাস ধরে কাজ করছিলেন। তবে তাঁর পূর্ণ পরিচয়, হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কিংবা তিনি একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফ্লাইদুবাই নিজেও ঘটনাটিকে আপাতত ‘ককপিটে সংঘর্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন। প্রতিষ্ঠানটি সবাইকে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে।

কুঠার, ছুরি—অস্ত্র নিয়েও ধোঁয়াশা

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, হামলায় কুঠার ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তার বক্তব্যে ছুরিকাঘাতের কথা এসেছে। তাই হামলায় ঠিক কী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে প্রধান পাইলটের ওপর হামলা এবং ককপিটে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা—এই দুটি বিষয়ই তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে।

সৌদি আরবেই কেন জরুরি অবতরণ?

বিমানটি ইসরায়েলের দিকে যাচ্ছিল। হামলার পর সেটি সৌদি আরবের তাবুকের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। এখানেও ছিল কূটনৈতিক জটিলতা। ইসরায়েল ও সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই ইসরায়েল যাত্রীদের ফিরিয়ে নিতে নিজেদের সামরিক উড়োজাহাজ পাঠাতে চাইলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। পরে ফ্লাইদুবাইয়ের বিকল্প উড়োজাহাজে করে যাত্রীদের ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাইয়ের বড় সিদ্ধান্ত

ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে পরিচালিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই রুটের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফ্লাইদুবাইয়ের নিজস্ব বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এফজেড১০৭৩ নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করেছে এবং যাত্রীদের সবাই নিরাপদ। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা কাজ করছে।

সন্ত্রাসী হামলা, নাকি ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্য?

ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কেন? ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটিকে সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা হিসেবে দেখছেন এবং ইরানের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, হামলাকারীর কোনো সহযোগী ছিল কি না, তা তদন্তের কথা বলেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এখানেই তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি সামনে আসে। একজন পাইলট কেন নিজের সহকর্মীকে আক্রমণ করলেন? কেন বিমান নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হলো? এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত কারণ ছিল, নাকি বৃহত্তর কোনো পরিকল্পনা—কোনোটিই এখনো নিশ্চিত নয়।

ফ্লাইদুবাইও কারণ ও উদ্দেশ্য নিয়ে আগাম সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। ফলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বক্তব্য এবং আনুষ্ঠানিক তদন্তের চূড়ান্ত ফল—দুটিকে আলাদা করে দেখা জরুরি।

‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয়’—নেতানিয়াহুর মন্তব্য কেন?

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয়’ এড়ানোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানটি যদি নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা না যেত, তাহলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত। তবে এটি নেতানিয়াহুর মূল্যায়ন; তদন্তের চূড়ান্ত ফল নয়। এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তদন্তে হামলার পেছনে কোনো রাষ্ট্র বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়নি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন প্রশ্ন

ঘটনাটি বিমান নিরাপত্তার একটি সংবেদনশীল জায়গা সামনে এনেছে—ককপিটের ভেতরের নিরাপত্তা। যে জায়গায় যাত্রীদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, সেখানেই যদি একজন ক্রু সদস্য আরেকজনকে আক্রমণ করেন, তাহলে প্রচলিত ককপিট নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

আরও একটি প্রশ্ন হলো, পাইলটদের নিয়োগ, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই, মানসিক ও পেশাগত মূল্যায়ন এবং চলমান নজরদারি ব্যবস্থায় এমন কোনো ঝুঁকির সংকেত আগে ধরা পড়েছিল কি না। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনই দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তদন্ত-তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

১৭৪ যাত্রীর জন্য কয়েক মিনিটের লড়াই

এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিমানটি শেষ পর্যন্ত বিধ্বস্ত হয়নি। একজন পাইলট গুরুতর আহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলেছেন, যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ককপিটে ঢুকেছেন, ক্রুরা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন এবং একই বিমানে থাকা প্রশিক্ষিত পাইলটরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। এরপর সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করা হয়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সব যাত্রী নিরাপদে আছেন। আর ঘটনাটি এখন পরিণত হয়েছে একাধিক দেশের তদন্তের বিষয়ে—বিমান সংস্থা, সৌদি কর্তৃপক্ষ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এতে যুক্ত হচ্ছে।

মাঝ আকাশে কয়েক মিনিটের সেই বিশৃঙ্খলা তাই শুধু একটি ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের ঘটনা নয়; এটি এখন ককপিট নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং আন্তঃদেশীয় তদন্ত—তিনটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/জেএন

মুহুরীর পাড়ে উন্নয়ন-বার্তার ঢেউ, অরাজকতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কড়া সতর্কবার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা/ফেনী প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
মুহুরীর পাড়ে উন্নয়ন-বার্তার ঢেউ, অরাজকতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কড়া সতর্কবার্তা

বৃষ্টিভেজা বিকেল। সামনে মুহুরী নদী। দুই পাড়ে মানুষের ভিড়। কারও হাতে দলীয় পতাকা, কারও হাতে ফুল; কারও চোখে কৌতূহল—নানাবাড়ির মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কী বলেন? সেই অপেক্ষার মধ্যেই ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় এসে পৌঁছালেন তিনি। ফলক উন্মোচন করলেন ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের। নদী খননের উদ্বোধন করলেন, রোপণ করলেন গাছের চারা। এরপর মঞ্চে উঠে একে একে বললেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, কৃষকের কথা, খেটে খাওয়া পরিবারের কথা, স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা। ‘ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এখন আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে এসেছি।’ মুহুরীর পাড়ে প্রধানমন্ত্রীর এই এক বাক্যেই যেন বৃহস্পতিবারের (০১ অক্টোবর) ফেনী সফরের সারাংশ—প্রতিশ্রুতি থেকে প্রকল্প, প্রকল্প থেকে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের প্রত্যাশা।

  • ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন
  • ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
  • বাঁধ পুনর্বাসন, নদী খনন ও সেচ অবকাঠামোয় বড় কর্মযজ্ঞ
  • কৃষক-ফ্যামিলি কার্ডে জনকল্যাণের নতুন কর্মসূচি

নদীর সঙ্গে যুদ্ধের নতুন অধ্যায়

পরশুরাম ও ফুলগাজীর মানুষের কাছে মুহুরী-কহুয়া নদী শুধু জলধারা নয়; কখনো আশীর্বাদ, কখনো আতঙ্ক। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে বাঁধের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। পানি উপচে পড়লে ডুবে যায় কৃষিজমি, ক্ষতিগ্রস্ত হয় বসতভিটা, থমকে যায় জনজীবন। সেই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের মোকাবিলায় এবার ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার বড় প্রকল্প। ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’—বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এর ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৬ জুন একনেকের সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। কাজ শেষ করার লক্ষ্য ২০৩০ সাল। পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতেও বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

‘এটি আমাদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি’

প্রকল্প উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভোটের আগে এই নদী খননের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটি বাস্তবায়ন করতেই তাঁরা এসেছেন। তিনি স্মরণ করেন, দুই-আড়াই বছর আগে বড় বন্যায় মুহুরী ব্রিজের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি যেন আর না হয়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চার থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা তৈরি হবে। বাড়বে কৃষি উৎপাদন। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের লাভ বাড়বে, বাজারে খাদ্যের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সহজ হবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।

নদী খনন থেকে কৃষকের গোলা

তারেক রহমানের বক্তব্যে নদী খনন কোনো বিচ্ছিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেছেন কৃষকের আয় ও খাদ্যনিরাপত্তার প্রশ্ন।তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানুষের উপকারের জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। বিএনপি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করে বলেই সেই কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কৃষকের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে সরকারের ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের মা, কৃষক কার্ডে কৃষক 

ফেনীর দ্বিতীয় পর্বে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি পরিবারের মায়েদের কাছে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। খেটে খাওয়া পরিবারের মায়েদের স্বাবলম্বী করে তোলাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। কৃষকদের জন্য চালু করা হচ্ছে কৃষক কার্ড। এদিন, ফেনীতে ৭ হাজার ৬৪৩ জনকে কৃষক কার্ড এবং ৫১০ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ২৩৮ জন ইমাম, পুরোহিত ও সেবায়েতকে সম্মানী দেওয়া হয়। অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও বিতরণ করা হয় সহায়তার চেক।

উন্নয়নের মঞ্চে রাজনীতির উত্তাপ

তবে ফেনীর মঞ্চ শুধু উন্নয়নের হিসাবেই থেমে থাকেনি। বক্তব্যের একপর্যায়ে রাজনৈতিক সুর তীব্র হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কিছু আসনে জয় পাওয়ার পর তারা নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—অন্যকে নসিহত করার আগে নিজেদের দিকে তাকাতে হবে।

‘আগে নিজের ঘরের দিকে নজর দিন’

একটি ‘গুপ্ত রাজনৈতিক দল’-এর নেতাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অন্যদের নসিহত করছেন, তাদের আগে নিজেদের ঘরের দিকে নজর দেওয়া উচিত। নারী নির্যাতন ও একটি মৃত্যুর অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না বলেও জানান।

‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার এক হয়েছে’

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে আরও কঠোর রাজনৈতিক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’ আবার এক হয়েছে এবং তারা মিলেমিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। যারা অরাজকতা তৈরি করে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ‘এক দফা’ নিয়ে রাজনীতি করা এবং দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রশ্ন—তাদের মানুষের জন্য কী কর্মসূচি আছে? খাল কাটা, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচি তাদের আছে কি না। তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি। বন্ধ কলকারখানাগুলো চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‘বেহেশতের টিকিট’ নিয়ে সমালোচনা

নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক দলের ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির প্রচারণার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বেহেশতের মালিক আল্লাহ—এ কথা উল্লেখ করে তিনি ওই প্রচারণাকে রাজনৈতিক প্রতারণা হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, তাদের ‘মুনাফেকি’ প্রকাশ হয়ে গেছে। স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার পর একটি ‘গুপ্ত বাহিনী’ তাদের ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

উপজেলা হাসপাতাল হবে ১৫০ শয্যার

ফেনীর জনসভায় স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনাও সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস, শিশু ও মাতৃসেবাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

নানাবাড়ির স্মৃতিতে ফিরে দেখা

রাজনীতির উত্তাপের মাঝেও ফেনীতে নিজের শিকড়ের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বহু বছর পর নানাবাড়িতে এসেছেন। সম্ভবত ১৯৮৪ সালে প্রথম এসেছিলেন, এরপর ১৯৯১ সালে। নানাবাড়ির স্মৃতিচারণ করে তাঁর বক্তব্য—‘দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে, নানাবাড়ির জন্যও কাজ করতে হবে।’ ফেনীর ফুলগাজীতে তাঁর নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি। ফুলগাজীসহ তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী-১ আসন থেকে খালেদা জিয়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মহাসড়কজুড়ে অভ্যর্থনা

ফেনী যাওয়ার পথও ছিল আলাদা এক দৃশ্যপট। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে বাসে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই ফুল, ব্যানার ও দলীয় পতাকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন বিএনপি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মানুষের ভিড় দেখা যায়। গাড়িবহর অতিক্রমের সময় স্লোগান, ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা—সব মিলিয়ে মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয় আলাদা আবহ।

নদীর পাড়ে সকাল থেকেই অপেক্ষা

পরশুরামের ঘাটঘর এলাকার দক্ষিণ কাউতলীতে মুহুরী নদীর পাড়ে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টার আগেই সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে আশপাশের সড়ক ও নদীর পাড়ে দিকে সেখানে আসেন। তাঁর কাছে এটি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়; পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন আপন—মুহুরী নদীর বাঁধ ঠিক হলে প্রতিবছরের বন্যা থেকে রক্ষা মিলবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পূর্ব সাহেবনগরের পঞ্চাশোর্ধ্ব নুরজাহান নাতিকে নিয়ে সকাল ৯টার দিকে সেখানে আসেন। তাঁর কাছে এটি শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীর সফর নয়; পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত একজন আপনজনকে দেখার সুযোগও স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব কৃষক আবদুল জলিলের প্রত্যাশা আরও বাস্তব—মুহুরী নদীর বাঁধ ঠিক হলে প্রতিবছরের বন্যা থেকে রক্ষা মিলবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গৃহায়নমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

ফুলগাজীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, কৃষিমন্ত্রী আমীনুর রশিদ, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম।

সূর্যের শক্তিও যাবে জাতীয় গ্রিডে

ফেনী সফরের আরেক কর্মসূচিতে ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার সরকারি ভবনে স্থাপিত রুফটপ সমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। তিন উপজেলায় মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে।

শেষ দৃশ্যে মুহুরীর পাড়

দিনের শেষে থেকে যায় মুহুরী নদী, বৃষ্টিভেজা মাঠ আর মানুষের প্রত্যাশা। একদিকে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প—বাঁধ মেরামত হবে, নদী খনন হবে, সেচের পানি বাড়বে। অন্যদিকে কৃষকের হাতে কার্ড, পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, অসহায় মানুষের হাতে সহায়তা। তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তা—অরাজকতার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে, উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

জুলাই-আগস্টের ভ্যাট রিটার্নে এনবিআরের সময় বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
জুলাই-আগস্টের ভ্যাট রিটার্নে এনবিআরের সময় বাড়ল

চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই এসব কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনবিআরের ভ্যাট মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয় শাখার জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর ভ্যাট রিটার্নসংক্রান্ত সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই ও আগস্ট কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করেনি।

এ পরিস্থিতিতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারার উপধারা (৩)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে রিটার্ন জমা না দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো জরিমানা আরোপ করা হবে না।

এনবিআরের আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন সিস্টেমে দাখিল করতে হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভারতীয় আধিপত্যবাদ অবসানের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ভারতীয় আধিপত্যবাদ অবসানের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি

বাংলাদেশে কোনো ধরনের ভারতীয় আধিপত্যবাদ বা দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদ অবসানের দাবিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও’ কর্মসূচির আগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

খোমেনী ইহসান বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো ধরনের দাবি বা হস্তক্ষেপ বিনা প্রতিরোধে মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ভারতীয় হাইকমিশনারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিকদের দায়িত্ব কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং স্বাগতিক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। তিনি ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাতায়াতের বিষয়টি উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন।

এ ছাড়া ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও তুলে ধরেন খোমেনী ইহসান। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের প্রত্যর্পণ না করে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাইকমিশনারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জনগণের জন্য অসম্মানজনক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি সার্বভৌম। এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। কোনোভাবেই বাংলাদেশকে ভারতের কোনো রাজ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।

সমাবেশে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্যসচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্যসচিব আব্দুস সালাম ও মো. সাইদুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মীর শওকত আমীন, মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিমসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি