খুঁজুন
                               
, ,
           

ভাঙচুরের ক্ষত পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৩ অপরাহ্ণ
ভাঙচুরের ক্ষত পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র

মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কয়েক দিন আগেও ছিল ভাঙচুরের ক্ষতচিহ্ন। এখন সেখানে দৃশ্যপট বদলাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত দেয়ালে নতুন ইটের গাঁথুনি, প্লাস্টার ও রং; বসানো হচ্ছে দরজা-জানালা ও লোহার গ্রিল। পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে, শৌচাগারগুলোও ব্যবহার উপযোগী করার কাজ চলছে। অর্থাৎ হামলার ধাক্কা সামলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ধীরে ধীরে তার অবকাঠামোগত রূপ ফিরে পাচ্ছে।

তবে এই পুনরুদ্ধারের গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি ভবন নয়, সেবা। হামলার আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ মানুষ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিতেন, এখন সেখানে সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হচ্ছে। টিনের ছাউনির নিচে শিশুদের টিকা এবং নারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা চালু রয়েছে। এই সীমিত কার্যক্রমই দেখাচ্ছে—পুরো অবকাঠামো প্রস্তুত না হলেও সেবা বন্ধ না রাখার চেষ্টা চলছে।

  • দ্রুত সংস্কারে বদলেছে দৃশ্যপট
  • টিকা ও নারীস্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত
  • পূর্ণ কার্যক্রম ফেরাতে নজর চিকিৎসা সরঞ্জামে

সংস্কারের গতি: ক্ষত সারছে দ্রুত

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সামনের ও পেছনের বারান্দার দেয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও টিকা লুটের পাশাপাশি ভবনের কিছু অংশ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এরপর শুরু হয় পুনর্গঠন। বর্তমানে দেয়াল মেরামত, প্লাস্টার ও রঙের কাজ এগিয়ে চলছে। নতুন দরজা-জানালা ও গ্রিল বসানোর কাজও শেষ হয়েছে। প্রশাসনিক ভবন, কর্মীদের বসার জায়গা এবং খাবার কক্ষেও সংস্কার হচ্ছে। পেছনের সীমানাদেয়ালের কাজ শেষ করে এখন রঙের প্রস্তুতি চলছে। এই অগ্রগতির একটি তাৎপর্য রয়েছে। হামলার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন হয়ে থাকেনি; দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগের কারণে সেটি আবার একটি সচল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ফেরার প্রক্রিয়ায় ঢুকেছে।

৫৬ জনের সেবা: ছোট পরিসরে বড় বার্তা

সংস্কার চললেও স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত শনিবার (০৩ অক্টোবর) ৫৬ জন সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ শিশু টিকা পেয়েছে এবং ২১ নারী স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। সংখ্যাটি আগের দৈনিক গড় ৪০০ রোগীর তুলনায় অনেক কম। কিন্তু এটিকে কেবল ঘাটতির হিসাব হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। ভবনের কাজ চলার মধ্যেও টিকাদান ও নারীস্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে। অর্থাৎ পুনর্গঠনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সেবাগুলো ধরে রাখার একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। বিশেষ করে টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টিকা নির্ধারিত সময়ে না পেলে শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হতে পারে। একইভাবে নারীদের প্রাথমিক সেবা চালু থাকায় পুরো কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েনি।

ভবন প্রস্তুত হলেই যে সেবা প্রস্তুত—তা নয়

রাড্ডার পুনর্গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় এখন সামনে। ভবনের কাঠামোগত কাজ দ্রুত শেষ করা গেলেও পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালুর জন্য প্রয়োজন চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কার্যকর কর্মপরিবেশ।

হামলায় দুটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন, কালার প্রিন্টার, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ফ্রিজ, জেনারেটর এবং তিনটি বড় এসি লুট হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা সেবার উপকরণ, বিশেষ বিছানা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্রপাতি ও অটোক্লেভ মেশিনও ক্ষতিগ্রস্ত বা লুট হয়েছে। চিকিৎসকদের বসার ব্যবস্থা, টেবিল, চেয়ার, ফাইল ক্যাবিনেট, স্টিলের আলমারি ও ওষুধ সংরক্ষণের আসবাবও ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। তাই পুনরুদ্ধারের দ্বিতীয় ধাপটি হবে ‘সরঞ্জাম পুনঃস্থাপন’। কোন সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, কোনটি ব্যবহারযোগ্য এবং কোনটি নতুন করে সংগ্রহ করতে হবে—এটি নির্ধারণ করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি।

উদ্ধার হওয়া দুই ট্রাক সামগ্রী

লুট হওয়া দুই ট্রাক পণ্য উদ্ধার করে পুলিশ প্রশাসনের জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেগুলো স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এখানেই পুনর্গঠনের একটি সম্ভাবনাময় দিক তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা উপকরণ থাকে, তাহলে নতুন করে সংগ্রহের চাপ কিছুটা কমতে পারে। আবার কী কী সামগ্রী নেই, সেটিও দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ উদ্ধার হওয়া পণ্য শুধু হারানো সম্পদ ফেরত পাওয়ার বিষয় নয়; এটি পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর প্রয়োজনীয়তা নিরূপণের ভিত্তিও তৈরি করতে পারে।

সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে পুনর্গঠনের সুযোগ

স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেবা চালুর বিষয়ে রাড্ডা ট্রাস্টের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পরিবার পরিকল্পনা সেবার চিকিৎসা উপকরণ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এবং টিকা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের জন্য সরকারের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা চলছে।

এখানে একটি সমন্বিত পুনর্গঠন কাঠামোর সুযোগ রয়েছে। ভবনের সংস্কার এক পক্ষ করছে, টিকা ও পরিবার পরিকল্পনা উপকরণ আসছে সরকারি ব্যবস্থাপনায়, আর কেন্দ্রের নিজস্ব কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের তালিকা প্রস্তুত করছে। এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে এগোলে পুনরুদ্ধারের সময় কমানো সম্ভব হতে পারে।

বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাঠামো

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের অর্থায়নে চলা সংস্কারকাজ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এটি পূরণ হলে পুনর্গঠনের একটি দৃশ্যমান ধাপ শেষ হবে। কিন্তু প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি হবে অন্য জায়গায়—কত দ্রুত আগের সেবার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যায়। শুধু রঙ করা দেয়াল বা নতুন দরজা-জানালা দিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ হবে না। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কক্ষ, আসবাব ও সেবা-ব্যবস্থা প্রস্তুত করতে হবে।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বর্তমান অগ্রগতি তাই একটি পুনর্গঠনের মাঝপথের ছবি। ভাঙচুরের ক্ষত দ্রুত মেরামত হচ্ছে, সীমিত সেবা চালু রয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ নিয়েও আলোচনা চলছে। এখন এসব উদ্যোগকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনায় এনে দ্রুত বাস্তবায়ন করাই হবে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে সফরসঙ্গী হচ্ছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাপানে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ভালোবাসা সবাইকে।’

পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এ সফরে জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাত সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

চার দিনের সফর শেষে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি এবং শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তিনি ঢাকা ছাড়েন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের পাশাপাশি জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সফরসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

  • জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থেকে ইউনিক্লো ও টয়োটার সঙ্গে যোগাযোগ
  • বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব

আজ টোকিও পৌঁছানোর কথা
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। সফরকালে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম দিনে রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক
সফরের প্রথম দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারেক রহমান। বিকেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদানের পর দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প খাতে সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে এ বৈঠক। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশের বাজার ও উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একই দিন চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। জ্বালানি অবকাঠামো ও আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি এসব খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণের সুযোগ তৈরি হবে এ পরিদর্শনে।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় থাকবে শিল্পায়নের সম্ভাবনা
সফরের তৃতীয় দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এরপর জাপানের পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন তিনি।

এ ছাড়া জাপানের আরও ১৪টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকের আয়োজন রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ধারাবাহিক যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনার প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব কতটা বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, তার ওপর।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে টোকিওতে জেট্রোর কার্যালয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ফোরামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

শেষ দিনে টয়োটার উৎপাদনব্যবস্থা দেখবেন প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সফরের শেষ দিনে শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া, দক্ষতা উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। নাগোয়া থেকে বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে