খুঁজুন
                               
, ,
           

আজকের সঞ্চয়ে আগামী দিনের নিশ্চয়তা, সর্বজনীন পেনশনে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের জোর

নিজস্ব ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
আজকের সঞ্চয়ে আগামী দিনের নিশ্চয়তা, সর্বজনীন পেনশনে প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের জোর

অবসরের পর কী হবে—এই অনিশ্চয়তাকে কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে গিয়ে নয়, কর্মক্ষম থাকতেই মোকাবিলার বার্তা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। তাঁর বক্তব্যে সর্বজনীন পেনশন উঠে এসেছে কেবলমাত্র মাসিক আর্থিক সুবিধার কাঠামো হিসেবে নয়, বরং কর্মজীবনের সঞ্চয়কে জীবনের পরবর্তী নিরাপত্তায় রূপ দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে। অর্থাৎ আজকের নিয়মিত অবদানই হতে পারে আগামী দিনের আর্থিক ভরসা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সর্বজনীন পেনশন মেলা ২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মর্যাদাপূর্ণ ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন, কর্মজীবন শেষে অধিকাংশ চাকরিজীবী ও পেশাজীবীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় রাষ্ট্রীয়ভাবে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই।

  • কর্মজীবনেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রস্তুতির আহ্বান ইয়াসের খান চৌধুরীর
  • রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশনকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা বললেন আবু ওয়াহাব আকন্দ

প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী যেখানে কর্মক্ষম সময়ে নিয়মিত অবদানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা বলেছেন তেমনি সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ সর্বজনীন পেনশনকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। দুই বক্তব্যের মধ্যে একটি অভিন্ন জায়গা রয়েছে—ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কোনো আকস্মিক সুবিধা নয়। এটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করতে হয়। আর সেই পরিকল্পনায় ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র—তিন পক্ষের অংশগ্রহণ যত সুসংহত হবে, সর্বজনীন পেনশনের সামাজিক গুরুত্বও তত গভীর হবে।

অবসর নয়, ভবিষ্যৎকে ঘিরেই পরিকল্পনা

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শুধু অবসরকালীন একটি আর্থিক সুবিধা নয়; এটি মানুষের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় একজন নাগরিক নিয়মিত অবদান রাখবেন এবং জীবনের পরবর্তী সময়ে সেই সঞ্চয়ের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এই বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—পেনশনকে তিনি কর্মজীবন-পরবর্তী প্রাপ্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং কর্মজীবনের পরিকল্পনার সঙ্গেই যুক্ত করেছেন। ফলে সর্বজনীন পেনশনের মূল দর্শন দাঁড়াচ্ছে আগাম প্রস্তুতি, নিয়মিত অবদান এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার সমন্বয়ে।

চার স্কিমে অংশগ্রহণের সুযোগ

ইয়াসের খান চৌধুরী জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় রয়েছে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা—চারটি স্কিম। যে নাগরিকের জন্য যে স্কিম প্রযোজ্য, তিনি সে অনুযায়ী তা বেছে নিতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই ব্যবস্থার সুবিধা কেবল ব্যক্তিকে ঘিরে নয়। এর মাধ্যমে নিজের ভবিষ্যতের পাশাপাশি সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার সুযোগও রয়েছে। অর্থাৎ পেনশনকে তিনি ব্যক্তি থেকে পরিবার এবং পরিবার থেকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তার বৃহত্তর পরিসরে দেখেছেন।

‘নিজের জন্য’ থেকে ‘পরিবারের জন্য’

সর্বজনীন পেনশনের পরিধি বাড়াতে পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদেরও সরকারি পেনশন স্কিমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি সুন্দর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তার জন্য এটি খুব জরুরি। এই আহ্বানের মধ্যে কেবল সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তার সংস্কৃতি গড়ে তোলার একটি বার্তা রয়েছে। কর্মজীবনে নিয়মিত সঞ্চয় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে পারিবারিক সিদ্ধান্তে পরিণত করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিক পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে।

পেনশন ব্যবস্থার ‘রাষ্ট্রীয়’ গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ সর্বজনীন পেনশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে অধিকাংশ চাকরিজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মজীবন শেষে পেনশনসহ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু ক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে অংশগ্রহণ করলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা—এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ বক্তব্য মূলত সর্বজনীন পেনশনের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বকে সামনে এনেছে। কারণ কর্মজীবন শেষে আয় কমে যাওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বাস্তবতায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা কাঠামো নাগরিকের আর্থিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আবু ওয়াহাব আকন্দের বক্তব্যে সেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বিষয়টিই স্পষ্ট হয়েছে।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামান। মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান। অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি এ আয়োজনকে শুধু প্রচারমূলক কর্মসূচি নয়, নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবেও সামনে এনেছে।

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও জাতীয় পেনশন স্কিমের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভার আগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে র‌্যালিটি সার্কিট হাউজ মাঠে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালি ও মেলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে সর্বজনীন পেনশন সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও দৃশ্যমান হয়েছে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

সরকারি খরচে হজ ও মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি খরচে হজ ও মসজিদে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ

সরকারি খরচে হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশের মসজিদগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামালের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি কমিটির সদস্যদের সঙ্গে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। এর মধ্যে হজ ব্যবস্থাপনা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রমও ছিল।

এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, জনবল, বাজেট, দপ্তর-সংস্থার ভিশন ও মিশন, উল্লেখযোগ্য অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটিকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অবহিত করা হয়।

আলোচনা শেষে কমিটির সদস্যরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেন। এর মধ্যে দেশের মসজিদগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া সরকারি খরচে যেসব ব্যক্তি হজে যান, তাদের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।

সাধারণ মানুষের সুষ্ঠু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতাল ও মিশনে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত বদলিরও সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, মো. জাহিদুর রহমান, নুরুল আমিন, সুবর্ণা সিকদার, মো. নুরুল আমীন, মোহাম্মদ আবুল হাসান ও মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক অংশ নেন।

এ সময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা, ট্রাস্ট ও ফাউন্ডেশনের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বাংলা একাডেমির জন্য তৈরি হলো মুদ্রণ উপযোগী ইউনিকোড ফন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
বাংলা একাডেমির জন্য তৈরি হলো মুদ্রণ উপযোগী ইউনিকোড ফন্ট

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার আরও সহজ ও সমৃদ্ধ করতে তৈরি করা ইউনিকোড ‘বাংলা একাডেমি’ ফন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা একাডেমির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের কাছে ফন্টটি হস্তান্তর করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের আগেই বাংলা একাডেমি বই ও পত্রিকা প্রকাশে ফন্টটি ব্যবহার করেছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ফন্টটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রকল্পের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাকে একটি নেতৃস্থানীয় ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং ওয়েব, মোবাইল ও কম্পিউটারে বাংলা ব্যবহারে বিদ্যমান প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দুই যুগের বেশি সময় ধরে কম্পিউটারে বাংলা ফন্ট ব্যবহৃত হলেও ইউনিকোড মান অনুসরণের পরও এনকোডিং, ভাষাগত ও ভিজ্যুয়াল নানা সমস্যা রয়ে গেছে। বিদ্যমান বাংলা ইউনিকোড ফন্ট বিশ্লেষণ করে এসব সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের মাধ্যমে ‘বাংলা একাডেমি’ ফন্টটি তৈরি করা হয়েছে।

ফন্টটিতে বাংলা ও ইংরেজি বর্ণের সম-আকৃতি, উপযুক্ত বিরামচিহ্ন, য-ফলা ও র-ফলা ব্যবহারের সুবিধা, স্বয়ংক্রিয় পৃষ্ঠা নম্বর, বুলেট ও ফুটনোট, শিশু উপযোগী যুক্তবর্ণসহ মুদ্রণ ও ডিজিটাল প্রকাশনার বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে মাইক্রোসফট অফিস ও অ্যাডোবির পেশাদার প্রকাশনা সফটওয়্যারে ব্যবহারের উপযোগী করে এটি তৈরি করা হয়েছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ফন্টটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্বের দিক থেকে কোনো বাধা তৈরি করা হবে না। দীর্ঘদিন ধরে এর উন্নয়নকাজ চলছে এবং ব্যবহারের সময় তৈরি হওয়া সমস্যাগুলোও সমাধান করা হয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে কানাডাকে রাষ্ট্রপতির অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াতে কানাডাকে রাষ্ট্রপতির অনুরোধ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়াতে কানাডার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ অনুরোধ জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি কানাডার দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে কানাডার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় কানাডার হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের বেশি। এ বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তিনি কানাডার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টিও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, তথ্যপ্রযুক্তি ও আউটসোর্সিংসহ বিভিন্ন খাতে কানাডার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তি, নার্সিং ও চিকিৎসাসহ শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে হাইকমিশনার জানান, কানাডা সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। এ সহযোগিতার জন্য কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কানাডার কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কানাডার উন্নয়নে অবদান রাখছেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কানাডার পক্ষে রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিসও উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি