খুঁজুন
                               
, ,
           

ফ্লোরাল শাড়িতে নজর কাড়লেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
ফ্লোরাল শাড়িতে নজর কাড়লেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। পর্দায় গ্ল্যামারাস উপস্থিতি, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ও ফ্যাশন-সচেতনতার কারণে বরাবরই আলোচনায় থাকেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত সক্রিয় এই অভিনেত্রী। নিজের নতুন ছবি, ফটোশুট ও বিভিন্ন মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। এবার ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়িতে স্নিগ্ধ ও মার্জিত লুকে ধরা দিয়ে অনুরাগীদের নজর কেড়েছেন জ্যাকলিন।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কয়েকটি নতুন ছবি শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী। ছবিগুলোতে তাঁকে দেখা গেছে হালকা রঙের ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়িতে। পোশাকের নকশা, মানানসই গহনা ও পরিপাটি চুলের সাজে তাঁর উপস্থিতিতে ফুটে উঠেছে সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের মিশেল। চেনা গ্ল্যামারাস লুকের বাইরে এই সাজে জ্যাকলিনকে বেশ স্নিগ্ধ দেখাচ্ছে।

ছবির সঙ্গে ক্যাপশনে একটি ফুলের ইমোজি যুক্ত করেছেন অভিনেত্রী। ছোট্ট এই ইমোজি তাঁর ফুলেল সাজের সঙ্গে মানানসই একটি আবহ তৈরি করেছে। ছবিগুলো প্রকাশের পর ভক্তদের মধ্যে তাঁর নতুন লুক নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে।

ফ্লোরাল শাড়িতে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন

জ্যাকলিনের নতুন লুকের অন্যতম আকর্ষণ তাঁর ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়ি। ফুলের নকশা সাধারণত পোশাকে কোমলতা ও স্নিগ্ধতার আবহ তৈরি করে। আর শাড়ির সঙ্গে এই নকশার সমন্বয় এনে দেয় ঐতিহ্যবাহী সাজে আধুনিকতার ছোঁয়া। অভিনেত্রীর এবারের উপস্থাপনাতেও সেই বৈশিষ্ট্য চোখে পড়েছে।

শাড়ির সঙ্গে মানানসই গহনা ও পরিপাটি হেয়ারস্টাইল তাঁর সাজকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। অতিরিক্ত জমকালো আয়োজনের বদলে পোশাকের নকশা ও সামগ্রিক উপস্থিতির ওপরই গুরুত্ব পেয়েছে এই লুকে। ফলে সাজটি একই সঙ্গে মার্জিত ও ফ্যাশনেবল হয়ে উঠেছে।

তারকাদের ফ্যাশনে পোশাকের ধরন, রঙের ব্যবহার ও আনুষঙ্গিক উপকরণের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জ্যাকলিনের ছবিতেও শাড়ি, গহনা ও চুলের সাজের মধ্যে সামঞ্জস্য দেখা গেছে। তাঁর এই উপস্থিতি ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রতি ফ্যাশনপ্রেমীদের আগ্রহও নতুন করে সামনে এনেছে।

নতুন ছবিতে ভক্তদের প্রশংসা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নতুন ছবি প্রকাশিত হলে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। বিশেষ করে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল থাকে। জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি।

নতুন ছবিগুলোতে তাঁর স্নিগ্ধ উপস্থিতি ও ফ্লোরাল শাড়ির সৌন্দর্য ভক্তদের নজর কেড়েছে। মন্তব্যের ঘরে অনুরাগীরা তাঁর রূপ ও ফ্যাশন সেন্সের প্রশংসা করে ভালোবাসা জানিয়েছেন বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। তবে পোস্টটিতে ঠিক কতটি লাইক বা মন্তব্য এসেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

জ্যাকলিনের ফ্যাশন উপস্থাপনায় বৈচিত্র্য প্রায়ই দেখা যায়। কখনো পশ্চিমা পোশাকে আধুনিক গ্ল্যামার, আবার কখনো শাড়ি বা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ভিন্ন রূপে হাজির হন তিনি। এবারের ফ্লোরাল শাড়ির সাজেও সেই বৈচিত্র্যের প্রকাশ ঘটেছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি ফ্যাশনেও পরিচিত জ্যাকলিন

বলিউডে নিজের অভিনয় ও পর্দার উপস্থিতির মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। চলচ্চিত্রের বাইরেও ফ্যাশন ও সৌন্দর্যচর্চার বিভিন্ন আয়োজনে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করার মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে নিজের বিভিন্ন মুহূর্তও ভাগ করে নেন তিনি।

তারকাদের ব্যক্তিগত স্টাইল অনেক সময় তাঁদের দর্শক-অনুরাগীদের ফ্যাশন ভাবনায় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাককে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলে তা নতুন করে আলোচনায় আসে। জ্যাকলিনের ফ্লোরাল শাড়ির লুকেও ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশনের এমন একটি সমন্বয় দেখা গেছে।

সব মিলিয়ে ফ্লোরাল প্রিন্টের শাড়ি, মানানসই গহনা ও পরিপাটি সাজে নতুন ছবিতে স্নিগ্ধ সৌন্দর্য ছড়িয়েছেন জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ। তাঁর এই লুক ভক্তদের কাছে হয়ে উঠেছে অভিনেত্রীর ফ্যাশন বৈচিত্র্যের আরেকটি নজরকাড়া উদাহরণ।

কালের আলো/এসএ

১৫৯ রানের জুটিতে শান্ত-মুশফিকের প্রতিরোধ, বাংলাদেশের লিড ৩২৯

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
১৫৯ রানের জুটিতে শান্ত-মুশফিকের প্রতিরোধ, বাংলাদেশের লিড ৩২৯

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে তৃতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়েছে দলটি। দুজনই সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও আউট হয়েছেন অল্পের জন্য।

রোববার (১১ অক্টোবর) দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৩ রান করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে দলটির লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রানে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ৫৩ রানের মধ্যে সাজঘরে ফেরেন তিন ব্যাটার। সাদমান ইসলাম ১৩, মুমিনুল হক ৭ ও তানজিদ হাসান তামিম ৩১ রান করে আউট হন।

এরপর চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন অধিনায়ক শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিক। দুজনের ১৫৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে দুজনই তুলে নেন অর্ধশতক।

তবে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউ। ১৯১ বলে পাঁচটি চারের সাহায্যে ৮২ রান করে আউট হন শান্ত। অন্যদিকে ১৪৮ বলে নয়টি চারে ৮১ রান করেন মুশফিক।

শান্তকে ফিরিয়ে দেন কায়েস আহমেদ। মুশফিকের বিদায়ের পর হাসান মাহমুদও মাত্র ১ রান করে আউট হন। দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় ক্রিজে ছিলেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৩৪৬ রানের জবাবে ২৪০ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।

আফগানিস্তানের হয়ে রহমত শাহ সেঞ্চুরি করে প্রতিরোধ গড়লেও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ পায়নি দলটি। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন হাসান মাহমুদ। হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট নেন তিনি। ইবাদত হোসেন শিকার করেন চার উইকেট।

শান্ত-মুশফিকের সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও ম্যাচে এখন এগিয়ে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে বাকি ব্যাটাররা লিড আরও বাড়াতে পারলে আফগানিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করানোর সুযোগ পাবে স্বাগতিকরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মুশফিকের ফিফটিতে চাপ সামলে বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
মুশফিকের ফিফটিতে চাপ সামলে বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

আবুধাবি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৫৩ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল টাইগাররা। তবে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের অর্ধশতকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দল। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে বড় লিডের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের লিডসহ মোট ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২৪২ রানে।

শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে পাওয়া ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। তবে শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। দলীয় ৩১ রানে ২২ বলে ১৩ রান করে আউট হন ওপেনার সাদমান ইসলাম।

এরপর দলীয় সংগ্রহ ৫৩ রানে পৌঁছানোর আগেই আরও দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মুমিনুল হক ৭ রান করে ফিরে যান। অন্য ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম করেন ৩১ রান। দ্রুত তিন ব্যাটারের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

মুশফিকের ফিফটিতে ঘুরে দাঁড়ানো

ব্যাটিং বিপর্যয়ের শঙ্কার মধ্যে দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। দায়িত্বশীল ও সাবলীল ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক তুলে নিয়ে দলকে বিপদ থেকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এটি মুশফিকের ৩০তম অর্ধশতক।

অন্য প্রান্তে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও তাঁকে ভালো সঙ্গ দিচ্ছেন। দুজনের ব্যাটিংয়ে চাপ কাটিয়ে ধীরে ধীরে ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ।

বড় লিডের দিকে টাইগাররা

প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পাওয়ায় দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের লক্ষ্য ব্যবধান আরও বাড়ানো। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৩৬ রান সংগ্রহ করায় মোট লিড দাঁড়িয়েছে ২৪২ রানে।

মুশফিক ও শান্তের জুটি বড় হলে বাংলাদেশের লিড আরও বাড়বে। ফলে ম্যাচের পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই জুটির ব্যাটিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসএ

ওয়েব ফিল্মে আলোচনায় জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
ওয়েব ফিল্মে আলোচনায় জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী
পরিবারের রক্ষণশীল পরিবেশে অভিনয়ের স্বপ্ন দেখার সাহসই পাননি। স্কুল-কলেজে আবৃত্তি করলেও অভিনয়ের জগতে প্রবেশের কথা ছিল না তাঁর ভাবনায়। অথচ সময়ের সঙ্গে সেই তিনিই হয়ে উঠেছেন ছোট পর্দার পরিচিত মুখ। সম্প্রতি ফয়সাল আগুনের ওয়েব ফিল্ম ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’-তে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তরুণ অভিনেত্রী জিন্নাত ফারজানা চাঁদনী।

ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় দিয়ে শুরু। এরপর ধীরে ধীরে বড় চরিত্রে সুযোগ পাওয়া, পরিচিত অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ এবং দর্শকের প্রশংসা—সব মিলিয়ে অভিনয়জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করছেন তিনি। তবে এই পথচলা খুব একটা পরিকল্পিত ছিল না; বরং হঠাৎ করেই শুরু হয়েছিল তাঁর অভিনয়ের যাত্রা।

কাজিনের পোশাক চুরি করে শুটিং!

অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের একটি মজার ঘটনা রয়েছে চাঁদনীর ঝুলিতে। ঈদের নাটক ‘বউ বিভ্রাট’-এ তাঁকে অভিনয় করতে হয়েছিল গ্রামের এক মেয়ের চরিত্রে। ঢাকায় বেড়ে ওঠা চাঁদনীর কাছে চরিত্রটির উপযোগী পোশাক ছিল না। পরিচালকও জানিয়ে দিয়েছিলেন, শুটিংয়ের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা তাঁকেই করতে হবে।

কী করবেন বুঝতে না পেরে শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে বড় বোনের সঙ্গে মিলে চাচাতো বোনের পোশাক নিয়েই শুটিংয়ে চলে যান তিনি। কারণ, শুটিংয়ের কথা জানালে সেই বোন পোশাক দিতে রাজি হতেন না বলে আশঙ্কা ছিল তাঁর।

পরে টেলিভিশনে পরিবারের সঙ্গে বসে সেই নাটকই দেখছিলেন চাঁদনী। নিজের অভিনীত দৃশ্যের সময় আড়চোখে কাজিনের প্রতিক্রিয়া দেখছিলেন। তবে মোশাররফ করিমের সঙ্গে তাঁর দৃশ্য দেখে কাজিন আর কিছু বলেননি। বরং ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাসাহাসি হয়েছিল।

রক্ষণশীল পরিবার থেকে অভিনয়ের জগতে

ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ ছিল চাঁদনীর। স্কুল-কলেজে আবৃত্তি করতেন, পুরস্কারও পেয়েছেন। কিন্তু পরিবারের রক্ষণশীল পরিবেশের কারণে অভিনয়ে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবতেও সাহস পেতেন না।

ইডেন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বদলাতে শুরু করে তাঁর জীবন। ক্যাম্পাসের অনুষ্ঠান, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ে তাঁর। শাড়ি পরে ক্যাম্পাসে ঘোরাঘুরি ও ছবি তোলার অভ্যাস থেকেই আসে অভিনয়ের সুযোগ।

চাঁদনী জানান, ক্যাম্পাসে এক সিনিয়র আপু তাঁর ছবি দেখে মডেলের মতো দেখতে বলে মন্তব্য করেছিলেন। পরে সেই আপুই ছবিগুলো একজন পরিচালকের কাছে পৌঁছে দেন। সেখান থেকেই অভিনয়ের প্রস্তাব আসে। প্রথমে বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিলেও একসময় সত্যি সত্যিই নাটকে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যান তিনি।

ছোট চরিত্র থেকে প্রধান ভূমিকায়

২০২৩ সালে শামস করিমের ‘খোঁচা’ নাটকের মাধ্যমে পর্দায় অভিষেক হয় চাঁদনীর। নাটকটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মোশাররফ করিম ও নিশাত প্রিয়ম। সেখানে মোশাররফ করিমের সঙ্গে চাঁদনীর ছোট একটি দৃশ্য ছিল।

শুরুতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও ধীরে ধীরে বড় পরিসরের চরিত্রে সুযোগ পেতে থাকেন তিনি। দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র থেকে একসময় প্রধান চরিত্রেও অভিনয়ের সুযোগ আসে। ‘রঙিলা পুতুল’, ‘শাদি মোবারক’ ও ‘বিশ্বাস বনাম সরদার’-এর মতো ধারাবাহিকে কাজের মধ্য দিয়ে অভিনয়জগতে নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছেন এই তরুণ অভিনেত্রী।

তবে শুধু টেলিভিশন নাটকে সীমাবদ্ধ থাকতে চাননি চাঁদনী। তাঁর ইচ্ছা ছিল আরও বড় পরিসরের গল্প ও চরিত্রে কাজ করার। সেই আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটেছে প্রথম ওয়েব ফিল্ম ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’-তে।

যে চরিত্রে নতুন করে আলোচনায়

‘তোমাকে হলো না পাওয়া’ ওয়েব ফিল্মে প্রীতি নামের এক প্রাণবন্ত কলেজছাত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন চাঁদনী। বাবার সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক গভীর। কিন্তু আবির নামের এক ভয়ংকর স্থানীয় গ্যাংস্টারের নজরে আসার পর বদলে যায় তার শান্ত জীবন।

ওয়েব ফিল্মটিতে চাঁদনীর সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন জোনায়েদ বোগদাদী। গল্প, চরিত্র ও অভিনয়ের সুযোগ—সব মিলিয়ে কাজটি তাঁর জন্য বিশেষ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

চাঁদনীর মতে, টেলিভিশন ও ইউটিউবে অনেক নাটক প্রচারিত হওয়ায় দর্শকের নজরে সব কাজ সমানভাবে আসে না। ওয়েব ফিল্ম তুলনামূলক বড় পরিসরে নির্মিত হয়। এ কাজের গল্প ও নিজের চরিত্র দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পেরেছে বলেই তিনি মনে করেন।

পরিবার, সহকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা পাওয়াও তাঁর জন্য আনন্দের। নতুন এই কাজের মাধ্যমে অভিনয়জগতে নিজের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

মোশাররফ করিমকে দেখেই বড় হয়েছেন

অভিনয়জীবনের শুরু থেকেই মোশাররফ করিমের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন চাঁদনী। পরবর্তী সময়েও তাঁর সঙ্গে একাধিক কাজে যুক্ত হয়েছেন। চঞ্চল চৌধুরীর মতো জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীর সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। তবে মোশাররফ করিমের প্রতি তাঁর আলাদা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে।

চাঁদনী জানিয়েছেন, মোশাররফ করিমের অভিনয় দেখে বড় হয়েছেন তিনি। প্রথমবার তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বেশ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে মোশাররফ করিম গল্প করে এবং নানা কথার মধ্য দিয়ে তাঁকে সহজ করে দেন। প্রয়োজনে শাসনও করেছেন, যাতে তিনি স্বাভাবিকভাবে অভিনয় করতে পারেন।

শুধু সহশিল্পী হিসেবেই নন, মেন্টর হিসেবেও মোশাররফ করিমকে দেখেন চাঁদনী। অভিনয়ের বাইরেও নানা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। অভিনেতার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান তিনি। তাই ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে মোশাররফ করিমকে ‘জীবন্ত বই’ বলেও অভিহিত করেছেন এই তরুণী।

তারকাদের সঙ্গে কাজ বদলে দিয়েছে পারিবারিক পরিস্থিতি

শুরুতে পরিবারের কেউই চাঁদনীর অভিনয় করাকে সহজভাবে নেননি। রক্ষণশীল পরিবেশে বিনোদনজগতে কাজ করা নিয়ে আপত্তি ছিল। কিন্তু মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীর মতো পরিচিত তারকাদের সঙ্গে কাজ করার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।

চাঁদনী জানান, তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও এসব তারকার অভিনয় পছন্দ করেন। তাঁদের সঙ্গে মেয়ের কাজ করার বিষয়টি পরিবারকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে সাহায্য করেছে।

একসময় যে অভিনয়জগতে প্রবেশের কথা ভাবতেও ভয় পেতেন, সেই জগতই এখন তাঁর পেশা। পরিবারের সমর্থন পাওয়ার পথটিও তৈরি হয়েছে ধীরে ধীরে, কাজের অভিজ্ঞতা ও পরিচিত শিল্পীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে।

তিন বছরেই অনেক কিছু শেখার বাকি

অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রায় তিন বছর পর নিজের দক্ষতা নিয়ে আরও সচেতন হয়েছেন চাঁদনী। শুরুতে মনে হতো, তিনি ভালোই অভিনয় করতে পারেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নতুন নতুন চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে উপলব্ধি করেছেন, শেখার এখনও অনেক বাকি।

চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পেলেই নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়, নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে হয়—এমনটাই মনে করেন তিনি। সামনে একক নাটকের পাশাপাশি ওটিটির কয়েকটি প্রকল্পেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

চাঁদনীর লক্ষ্য শুধু পরিচিত অভিনেত্রী হয়ে ওঠা নয়; অভিনয়ের মান উন্নত করাও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একসময় যেমন মোশাররফ করিমের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, তেমনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো তরুণ অভিনয়শিল্পীও যেন তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হন—এমন প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর।

হঠাৎ পাওয়া একটি সুযোগ থেকে শুরু হওয়া যাত্রা এখন নতুন সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়েছে। ‘তোমাকে হলো না পাওয়া’ দিয়ে পাওয়া আলোচনাকে কাজে লাগিয়ে অভিনয়ে আরও পরিণত হয়ে ওঠাই এখন জিন্নাত ফারজানা চাঁদনীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এসএ