খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বপ্ন অ্যাটাক হেলিকপ্টার; নতুন সংযোজন হচ্ছে ৬ হেলিকপ্টার : সেনাপ্রধান (ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
স্বপ্ন অ্যাটাক হেলিকপ্টার; নতুন সংযোজন হচ্ছে ৬ হেলিকপ্টার : সেনাপ্রধান (ভিডিও)

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো, লালমনিরহাট থেকে ফিরে :

আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ভিশন ২০৩০’কে সামনে রেখে অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পুরনো অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার ইচ্ছা না থাকলেও নতুন অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়টি এখনও পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাফিক জটমুক্ত লালমনিরহাটের আকাশ; আনন্দমুখরতায় উদ্বোধন আর্মি এভিয়েশন স্কুলের (ভিডিও)

তবে সুসংবাদ হচ্ছে, বর্তমানে অত্যাধুনিক ওয়ান সেভেন ওয়ান হেলিকপ্টার ব্যবহার করা সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে সংযোজন হচ্ছে আরও ৬টি হেলিকপ্টারের। ইতোমধ্যেই সরকার থেকে এই ৬ টি হেলিকপ্টারের অনুমোদন মিলেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘এই হেলিকপ্টারগুলো আসতে আরও এক থেকে দুই বছর লেগে যাবে।’

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্টে আর্মি এভিয়েশন স্কুল, অফিসার্স মেস, এসএম ব্যারাক ও মিলিটারি ফার্মের মিল্কিং পার্লার উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আধুনিকায়নের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। আজকে আপনারা আর্মি এভিয়েশন গ্রুপকে যে পর্যায়ে দেখছেন এটার মূল কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।’

ভিশন ২০৩০’র আলোকে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ভিশন ২০৩০’র আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন হচ্ছে। এই ভিশন ২০৩০ আমরা প্রণয়ন করেছি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে আমাদের ডিফেন্স পলিসির যে কনসেপ্টটা দিয়ে গেছেন সেটার আঙ্গিকেই আমাদের ভিশন ২০৩০ করা হয়েছে।

ছেচনা দিয়ে শুরু আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের
‘আজকে আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে যা আছে, সেটা কিন্তু একদিনে হয়নি। প্রথম আমরা ছেচনা হেলিকপ্টার দিয়ে শুরু করি। তারপর আসতে আসতে কারাবেন সংযুক্ত হয়। ফ্রিক্সড উইং থেকে রোটার উইংয়ে যাই। সেখানে আমাদের বিভিন্ন ধরণের রোটার উইং আসে’ বলছিলেন সেনাপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ওয়ান সেভেন ওয়ান অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার যেটা দেখেছেন এই হেলিকপ্টার সংযোজিত হয়েছে। আমাদের আরও ৬টি হেলিকপ্টার সংযোজনের জন্য সরকারের সদয় সম্মতি দিয়েছে। আগামী বছরগুলোতে সেগুলো আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে সংযুক্ত হবে।’

অ্যাসেট বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে দায়িত্ব
আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের অ্যাসেট বাড়ার সাথে সাথে দায়িত্ব অনেক বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এই দায়িত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে কিন্তু আমাদের নতুন নতুন প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। কোন এক সময় শুধুমাত্র কীভাবে তারা ফ্লাই করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবে বা পেশেন্ট নিয়ে আসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্রমান্বয়ে এখন আমরা চিটাগাং হিল ট্রাকসে আমাদের প্রচুর কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশন পরিচালিত হয়। সেই ক্যাম্পগুলোতে রেশন সাপোর্ট দেওয়া ও অন্যান্য অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সাপোর্ট দেওয়া শুরু করেছি আমাদের এভিয়েশন থেকে।

যে কাজগুলো আমরা সব সময় আমাদের এয়ার ফোর্সের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। এখন ক্রমান্বয়ে আমাদের কর্মকান্ড সেক্ষেত্রে বৃদ্ধি করছি। এই যে তারা অ্যাডমিনস্ট্রিটিভ ও অন্যান্য অপারেশনাল সাপোর্টগুলো দিচ্ছে, যোগ করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘এমনকি কখনও কখনও যদি আমাদের কোন বিশেষ অপারেশন কনডাক্ট করা হয় বর্ডারিং এরিয়াতে। বিশেষ করে আমাদের বন্ধু প্রতিম দেশ মায়ানমার ও ভারত থেকে বিশেষ কোন রিকোয়েস্ট পাই তাদের বর্ডারিং এলাকাতে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।

এবং আমাদের সৈন্য সেই বর্ডারিং এরিয়াতে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তখন আমরা আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের এই হেলিকপ্টারগুলো ব্যবহার করি। তাদের দিয়ে আমরা কমান্ডো পাঠাই, রেগুলার আর্মি পাঠাই। আমাদের কিন্তু এরকম দায়িত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের নতুন নতুন প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’

একদিন অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি জিনিস শিখিয়েছেন যে স্বপ্ন দেখা।

স্বপ্ন দেখলে কিন্তু সেটা বাস্তবায়নের প্রশ্ন আসে। আমাদেরও ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী আমরাও স্বপ্ন দেখছি যে- আমাদের বাংলাদেশ আর্মির অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের। আমরা সেটা দেখেছি সেটা নিয়ে কাজ করছি এবং সরকারের কাছেও আমাদের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছি।

তবে কোন কিছুই কিন্তু ওভার নাইট হয়না; সময় লাগে। বাট আজ না হোক একদিন আমাদের এই আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে। সেটা আমাদের পরিকল্পনায় আছে।’

অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এই অ্যাটাক হেলিকপ্টারগুলো বিশ্বের প্রতিটি দেশেই সেনাবাহিনীর একটি এলিভেটেড প্ল্যাটফর্ম। সেনাবাহিনীকে যদি দিনের বেলা মুভ করতে হয় ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট হয়তো আমাদের অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হবেনা।

সেক্ষেত্রে ইন্টেরিয়েক্ট ক্লোজ এয়ার সাপোর্টের মাধ্যমে এলিভেটেট প্লাটফর্মটি অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রতিটি দেশের সেনাবাহিনীরই আছে।

তখন তাদের দিয়ে সেনানায়ক যারা থাকে তারা খুব ক্লোজলি ব্যবহার করতে পারেন। সেনাবাহিনীর এটা খুব প্রয়োজন। যেহেতু আমাদের সবকিছুই আধুনিকায়ন হচ্ছে আমাদের আধুনিক সরঞ্জামাদি যুক্ত হচ্ছে। একদিন দেখবেন যে অ্যাটাক হেলিকপ্টারও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আসবে।

এই মুহুর্তে আপনারা যেগুলো দেখছেন এবং আমরাও চেষ্টা করছি, আমাদের এয়ার ফোর্সও চেষ্টা করছে সরকার হয়তো অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে কাকে আগে দিবে, কাকে পরে দিবে সেটা হয়তো সরকার সিদ্ধান্ত নিবে। বাট আমার দৃঢ় বিশ্বাস একদিন সবারই অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে।’

আমরা কেন পুরনো অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনতে যাবো?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পুরনো অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজকে সরকার যদি আমাদের অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার অনুমোদনও দেয় এবং আমি যদি ডিমান্ড প্লেস করি সেটা কিন্তু আসতেও কয়েক বছর লেগে যাবে।

এটা কোন দিন সম্ভব হবে না যে, এই বছরের মধ্যে অ্যাটাক হেলিকপ্টার চলে আসবে। আনলেস কেউ যদি পুরোনো কিছু কিনতে না চায়, আমরা পুরোনো কেন কিনতে যাবো। সেটা সম্ভব না যে, এই বছরের মধ্যে। আমাদের অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনার মধ্যে আছে। বাস্তবায়ন তো অনেক কিছুর উপরে ডিপেন্ড করে। আমাদের চিন্তায় আছে, আমাদের পরিকল্পনায় এটি আছে।’

এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক, এভিয়েশন গ্রুপ কমান্ডার মেজর জেনারেল আলমগীর হোসেন, মাস্টার জেনারেল অব অর্ডন্যন্স মেজর জেনারেল মো. আবু সাঈদ সিদ্দিক, রংপুর সেনানিবাসের ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ সেনাপ্রধানের সঙ্গে ছিলেন।

অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রাতের নগর ব্যবস্থাপনা যাচাই করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রাতের নগর ব্যবস্থাপনা যাচাই করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর নাগরিক সেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে দেখতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গভীর রাতে প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখেন।

জানা গেছে, রাজধানীর সড়ক, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফুটপাত, সড়কবাতি, যান চলাচল এবং নগরসেবার সামগ্রিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন স্থানে থেমে তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। রাতের নগর ব্যবস্থাপনা বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা দেখতেই এ আকস্মিক পরিদর্শন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নগরবাসীর দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাতে সেবার মান বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিচ্ছেন। সে কারণেই তিনি রাতে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে, তা সরাসরি দেখছেন।

এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার সময়ও একইভাবে রাতে রাজধানী পরিদর্শনে বের হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় কোরবানির পশুর বর্জ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপসারণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়। দায়িত্ব পালনে গাফিলতির বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের বার্তা হিসেবে সেই সিদ্ধান্ত ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

 

চীন-ভারত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
চীন-ভারত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকে চীন ও ভারতের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সুতরাং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ নেই বলেই তিনি মনে করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ আছে কি না, বিশেষ করে চীন ও ভারতের বিষয়ে।

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

সুতরাং আমি ধরে নেব, এ বিষয়ে তাদের কোনো উদ্বেগ নেই।’

বাংলাদেশের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ২১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়টি আলোচনায় ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, সেটা তো তাদের বলেছিই।

আমরা কেবল বিমানের (বাংলাদেশ বিমান) মাধ্যমেই বোয়িং কিনছি না, আমাদের বেসরকারি সংস্থাও কিনেছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে আমরা যে সাহায্য পাই, তার অর্ধেকের বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মিয়ানমারের ওপর চাপ ইত্যাদি বিষয়ে আমরা আলোচনা করিনি। তবে আমরা আশা করব, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য অব্যাহত থাকবে। এই সমস্যার সমাধানে আমরা যে বহুপাক্ষিক অ্যাপ্রোচ নিয়েছি, তাতে শুধু তারা নয়, অন্যান্য রাষ্ট্রও যুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা সফরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) মার্কিন বিশেষ দূত রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন। আগামী শনিবার সফরের শেষ দিন তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া সফরকালে আরও কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথমবারের মতো হচ্ছে নৌযান শুমারি

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
ময়মনসিংহ বিভাগে প্রথমবারের মতো হচ্ছে নৌযান শুমারি

সারা দেশের মতো ময়মনসিংহ বিভাগেও প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নৌযান শুমারি-২০২৬। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ‘নৌযান শুমারি-২০২৬’ বিষয়ক অংশীজন অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়, ময়মনসিংহ।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. আজাদ জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি এবং জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

সেমিনারে বিভাগীয় পরিসংখ্যান কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. ফিরোজ ইবনে ইউসুফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে শুমারির সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, নৌযান শুমারি-২০২৬-এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সমুদ্রগামী ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের সংখ্যা, ধরন এবং কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত একটি সমন্বিত জাতীয় তথ্যভাণ্ডার (ডেটাবেজ) তৈরি করা। এই তথ্যভাণ্ডার নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নৌ-দুর্ঘটনা হ্রাস এবং নৌ-শ্রমিকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) তাঁর বক্তব্যে বলেন, নৌযান শুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। এই ডেটাবেজের মাধ্যমে সরকার নৌখাতে আরও কার্যকরভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। এ কার্যক্রমে পুলিশ বিভাগের সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, নৌযান শুমারি-২০২৬ সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই শুমারি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

নৌযান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমিতির নেতৃবৃন্দ শুমারির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক শুমারির প্রচারণায় সার্বিক সহযোগিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ