খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বপ্ন অ্যাটাক হেলিকপ্টার; নতুন সংযোজন হচ্ছে ৬ হেলিকপ্টার : সেনাপ্রধান (ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
স্বপ্ন অ্যাটাক হেলিকপ্টার; নতুন সংযোজন হচ্ছে ৬ হেলিকপ্টার : সেনাপ্রধান (ভিডিও)

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো, লালমনিরহাট থেকে ফিরে :

আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ভিশন ২০৩০’কে সামনে রেখে অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পুরনো অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার ইচ্ছা না থাকলেও নতুন অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়টি এখনও পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাফিক জটমুক্ত লালমনিরহাটের আকাশ; আনন্দমুখরতায় উদ্বোধন আর্মি এভিয়েশন স্কুলের (ভিডিও)

তবে সুসংবাদ হচ্ছে, বর্তমানে অত্যাধুনিক ওয়ান সেভেন ওয়ান হেলিকপ্টার ব্যবহার করা সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে সংযোজন হচ্ছে আরও ৬টি হেলিকপ্টারের। ইতোমধ্যেই সরকার থেকে এই ৬ টি হেলিকপ্টারের অনুমোদন মিলেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘এই হেলিকপ্টারগুলো আসতে আরও এক থেকে দুই বছর লেগে যাবে।’

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্টে আর্মি এভিয়েশন স্কুল, অফিসার্স মেস, এসএম ব্যারাক ও মিলিটারি ফার্মের মিল্কিং পার্লার উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আধুনিকায়নের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। আজকে আপনারা আর্মি এভিয়েশন গ্রুপকে যে পর্যায়ে দেখছেন এটার মূল কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।’

ভিশন ২০৩০’র আলোকে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ভিশন ২০৩০’র আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন হচ্ছে। এই ভিশন ২০৩০ আমরা প্রণয়ন করেছি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে আমাদের ডিফেন্স পলিসির যে কনসেপ্টটা দিয়ে গেছেন সেটার আঙ্গিকেই আমাদের ভিশন ২০৩০ করা হয়েছে।

ছেচনা দিয়ে শুরু আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের
‘আজকে আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে যা আছে, সেটা কিন্তু একদিনে হয়নি। প্রথম আমরা ছেচনা হেলিকপ্টার দিয়ে শুরু করি। তারপর আসতে আসতে কারাবেন সংযুক্ত হয়। ফ্রিক্সড উইং থেকে রোটার উইংয়ে যাই। সেখানে আমাদের বিভিন্ন ধরণের রোটার উইং আসে’ বলছিলেন সেনাপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ওয়ান সেভেন ওয়ান অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার যেটা দেখেছেন এই হেলিকপ্টার সংযোজিত হয়েছে। আমাদের আরও ৬টি হেলিকপ্টার সংযোজনের জন্য সরকারের সদয় সম্মতি দিয়েছে। আগামী বছরগুলোতে সেগুলো আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে সংযুক্ত হবে।’

অ্যাসেট বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে দায়িত্ব
আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের অ্যাসেট বাড়ার সাথে সাথে দায়িত্ব অনেক বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এই দায়িত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে কিন্তু আমাদের নতুন নতুন প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। কোন এক সময় শুধুমাত্র কীভাবে তারা ফ্লাই করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবে বা পেশেন্ট নিয়ে আসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্রমান্বয়ে এখন আমরা চিটাগাং হিল ট্রাকসে আমাদের প্রচুর কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশন পরিচালিত হয়। সেই ক্যাম্পগুলোতে রেশন সাপোর্ট দেওয়া ও অন্যান্য অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সাপোর্ট দেওয়া শুরু করেছি আমাদের এভিয়েশন থেকে।

যে কাজগুলো আমরা সব সময় আমাদের এয়ার ফোর্সের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। এখন ক্রমান্বয়ে আমাদের কর্মকান্ড সেক্ষেত্রে বৃদ্ধি করছি। এই যে তারা অ্যাডমিনস্ট্রিটিভ ও অন্যান্য অপারেশনাল সাপোর্টগুলো দিচ্ছে, যোগ করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘এমনকি কখনও কখনও যদি আমাদের কোন বিশেষ অপারেশন কনডাক্ট করা হয় বর্ডারিং এরিয়াতে। বিশেষ করে আমাদের বন্ধু প্রতিম দেশ মায়ানমার ও ভারত থেকে বিশেষ কোন রিকোয়েস্ট পাই তাদের বর্ডারিং এলাকাতে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।

এবং আমাদের সৈন্য সেই বর্ডারিং এরিয়াতে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তখন আমরা আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের এই হেলিকপ্টারগুলো ব্যবহার করি। তাদের দিয়ে আমরা কমান্ডো পাঠাই, রেগুলার আর্মি পাঠাই। আমাদের কিন্তু এরকম দায়িত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের নতুন নতুন প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’

একদিন অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি জিনিস শিখিয়েছেন যে স্বপ্ন দেখা।

স্বপ্ন দেখলে কিন্তু সেটা বাস্তবায়নের প্রশ্ন আসে। আমাদেরও ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী আমরাও স্বপ্ন দেখছি যে- আমাদের বাংলাদেশ আর্মির অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের। আমরা সেটা দেখেছি সেটা নিয়ে কাজ করছি এবং সরকারের কাছেও আমাদের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছি।

তবে কোন কিছুই কিন্তু ওভার নাইট হয়না; সময় লাগে। বাট আজ না হোক একদিন আমাদের এই আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে। সেটা আমাদের পরিকল্পনায় আছে।’

অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এই অ্যাটাক হেলিকপ্টারগুলো বিশ্বের প্রতিটি দেশেই সেনাবাহিনীর একটি এলিভেটেড প্ল্যাটফর্ম। সেনাবাহিনীকে যদি দিনের বেলা মুভ করতে হয় ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট হয়তো আমাদের অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হবেনা।

সেক্ষেত্রে ইন্টেরিয়েক্ট ক্লোজ এয়ার সাপোর্টের মাধ্যমে এলিভেটেট প্লাটফর্মটি অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রতিটি দেশের সেনাবাহিনীরই আছে।

তখন তাদের দিয়ে সেনানায়ক যারা থাকে তারা খুব ক্লোজলি ব্যবহার করতে পারেন। সেনাবাহিনীর এটা খুব প্রয়োজন। যেহেতু আমাদের সবকিছুই আধুনিকায়ন হচ্ছে আমাদের আধুনিক সরঞ্জামাদি যুক্ত হচ্ছে। একদিন দেখবেন যে অ্যাটাক হেলিকপ্টারও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আসবে।

এই মুহুর্তে আপনারা যেগুলো দেখছেন এবং আমরাও চেষ্টা করছি, আমাদের এয়ার ফোর্সও চেষ্টা করছে সরকার হয়তো অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে কাকে আগে দিবে, কাকে পরে দিবে সেটা হয়তো সরকার সিদ্ধান্ত নিবে। বাট আমার দৃঢ় বিশ্বাস একদিন সবারই অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে।’

আমরা কেন পুরনো অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনতে যাবো?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পুরনো অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজকে সরকার যদি আমাদের অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার অনুমোদনও দেয় এবং আমি যদি ডিমান্ড প্লেস করি সেটা কিন্তু আসতেও কয়েক বছর লেগে যাবে।

এটা কোন দিন সম্ভব হবে না যে, এই বছরের মধ্যে অ্যাটাক হেলিকপ্টার চলে আসবে। আনলেস কেউ যদি পুরোনো কিছু কিনতে না চায়, আমরা পুরোনো কেন কিনতে যাবো। সেটা সম্ভব না যে, এই বছরের মধ্যে। আমাদের অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনার মধ্যে আছে। বাস্তবায়ন তো অনেক কিছুর উপরে ডিপেন্ড করে। আমাদের চিন্তায় আছে, আমাদের পরিকল্পনায় এটি আছে।’

এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক, এভিয়েশন গ্রুপ কমান্ডার মেজর জেনারেল আলমগীর হোসেন, মাস্টার জেনারেল অব অর্ডন্যন্স মেজর জেনারেল মো. আবু সাঈদ সিদ্দিক, রংপুর সেনানিবাসের ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ সেনাপ্রধানের সঙ্গে ছিলেন।

অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘে সমন্বিত উদ্যোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘে সমন্বিত উদ্যোগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ আয়োজিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের ফাঁকে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এ বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর ওপর নেমে আসা বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবন, জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বহুমাত্রিক ও অস্তিত্বগত হুমকি।

বাংলাদেশসহ উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই কার্যকর ভূমিকা না নিলে এই মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির দায় সমগ্র বিশ্বকে বহন করতে হবে।

সংকট মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের সামনে কয়েকটি মৌলিক দাবির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় (লস অ্যান্ড ড্যামেজ) তহবিলসহ সহজ শর্তে ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এ বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, বিশ্বনেতা এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট উত্তরণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের, হাসপাতালে ১৭৮২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৮ জনের, হাসপাতালে ১৭৮২

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা মহানগরে ৩৪৫ জন, ঢাকা বিভাগে (মহানগরের বাইরে) ৩৭১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৮ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬৪ জন, খুলনা বিভাগে ২৭৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩০ জন, সিলেট বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে ৭৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০৮ জন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৫ হাজার ৬৬ জন।

২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৬৯ হাজার ১৪৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি সেপ্টেম্বরেই আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৩০৩ জন, যা এ বছরের এক মাসে সর্বোচ্চ।

এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী। আর মৃতদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ নারী। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ২০৯ জন।

এর আগে ২০২৫ সালে দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং মারা যান ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন, মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আকাশসীমার পর কমান্ডের ময়দান, বিমান বাহিনীতে প্রস্তুত ৫৮ কর্মকর্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
আকাশসীমার পর কমান্ডের ময়দান, বিমান বাহিনীতে প্রস্তুত ৫৮ কর্মকর্তা

শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, ভবিষ্যৎ কমান্ড কাঠামোর জন্য দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৩২তম জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ কোর্স (জেসিএসসি) সম্পন্ন করেছেন দেশ-বিদেশের ৫৮ কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে আয়োজিত সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় কোর্সটির আনুষ্ঠানিক পর্ব।

  • কক্সবাজারে শেষ হলো বিমান বাহিনীর ১৩২তম জেসিএসসি
  • নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা অর্জনে বিশেষ প্রশিক্ষণ
  • সেরা নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হাসিন তানভীরের

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের হাতে সনদপত্র ও ট্রফি তুলে দেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, কোর্সে সেরা নৈপুণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট হাসিন তানভীর, জিডি (পি) অর্জন করেন ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’। সনদ বিতরণের পাশাপাশি উত্তীর্ণ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন বিমান বাহিনী প্রধান।

এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়; প্রশিক্ষণের কাঙ্ক্ষিত ফল—পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে উৎকর্ষ—কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তারও একটি প্রতিফলন।

শ্রেণিকক্ষ থেকে কমান্ড কাঠামোয়
জেসিএসসি এমন একটি প্রশিক্ষণ কাঠামো, যেখানে কর্মকর্তাদের অর্জিত জ্ঞান ও কর্মঅভিজ্ঞতাকে পরবর্তী পর্যায়ের দায়িত্বের সঙ্গে সমন্বয় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোর্সের মূল উদ্দেশ্য হলো সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে কমান্ড, স্টাফ ও নির্দেশনামূলক দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা।

আধুনিক সামরিক ব্যবস্থাপনায় শুধু নির্দেশ দেওয়ার সক্ষমতা যথেষ্ট নয়; পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বয় এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই জুনিয়র কমান্ড ও স্টাফ পর্যায়ের প্রশিক্ষণকে ভবিষ্যৎ দায়িত্বের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হয়।

আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে বিস্তৃত পরিসর
এবারের কোর্সে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বিদেশি বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারাও অংশ নেন। ৫৮ কর্মকর্তার এই অংশগ্রহণ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি বহুপাক্ষিক পরিসর দিয়েছে। ভিন্ন পেশাগত অভিজ্ঞতা ও সামরিক পরিবেশ থেকে আসা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও তৈরি করে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের এয়ার অধিনায়ক, বিমান সদর ও ঘাঁটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (সিএসটিআই) প্রশিক্ষক এবং কক্সবাজারের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে