খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

স্বপ্ন অ্যাটাক হেলিকপ্টার; নতুন সংযোজন হচ্ছে ৬ হেলিকপ্টার : সেনাপ্রধান (ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২০, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
স্বপ্ন অ্যাটাক হেলিকপ্টার; নতুন সংযোজন হচ্ছে ৬ হেলিকপ্টার : সেনাপ্রধান (ভিডিও)

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো, লালমনিরহাট থেকে ফিরে :

আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ভিশন ২০৩০’কে সামনে রেখে অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পুরনো অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার ইচ্ছা না থাকলেও নতুন অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়টি এখনও পরিকল্পনার মধ্যেই রয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাফিক জটমুক্ত লালমনিরহাটের আকাশ; আনন্দমুখরতায় উদ্বোধন আর্মি এভিয়েশন স্কুলের (ভিডিও)

তবে সুসংবাদ হচ্ছে, বর্তমানে অত্যাধুনিক ওয়ান সেভেন ওয়ান হেলিকপ্টার ব্যবহার করা সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে সংযোজন হচ্ছে আরও ৬টি হেলিকপ্টারের। ইতোমধ্যেই সরকার থেকে এই ৬ টি হেলিকপ্টারের অনুমোদন মিলেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘এই হেলিকপ্টারগুলো আসতে আরও এক থেকে দুই বছর লেগে যাবে।’

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্টে আর্মি এভিয়েশন স্কুল, অফিসার্স মেস, এসএম ব্যারাক ও মিলিটারি ফার্মের মিল্কিং পার্লার উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আধুনিকায়নের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিক। আজকে আপনারা আর্মি এভিয়েশন গ্রুপকে যে পর্যায়ে দেখছেন এটার মূল কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।’

ভিশন ২০৩০’র আলোকে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘ভিশন ২০৩০’র আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন হচ্ছে। এই ভিশন ২০৩০ আমরা প্রণয়ন করেছি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে আমাদের ডিফেন্স পলিসির যে কনসেপ্টটা দিয়ে গেছেন সেটার আঙ্গিকেই আমাদের ভিশন ২০৩০ করা হয়েছে।

ছেচনা দিয়ে শুরু আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের
‘আজকে আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে যা আছে, সেটা কিন্তু একদিনে হয়নি। প্রথম আমরা ছেচনা হেলিকপ্টার দিয়ে শুরু করি। তারপর আসতে আসতে কারাবেন সংযুক্ত হয়। ফ্রিক্সড উইং থেকে রোটার উইংয়ে যাই। সেখানে আমাদের বিভিন্ন ধরণের রোটার উইং আসে’ বলছিলেন সেনাপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের ওয়ান সেভেন ওয়ান অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার যেটা দেখেছেন এই হেলিকপ্টার সংযোজিত হয়েছে। আমাদের আরও ৬টি হেলিকপ্টার সংযোজনের জন্য সরকারের সদয় সম্মতি দিয়েছে। আগামী বছরগুলোতে সেগুলো আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে সংযুক্ত হবে।’

অ্যাসেট বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে দায়িত্ব
আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের অ্যাসেট বাড়ার সাথে সাথে দায়িত্ব অনেক বেড়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এই দায়িত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে কিন্তু আমাদের নতুন নতুন প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিচ্ছে। কোন এক সময় শুধুমাত্র কীভাবে তারা ফ্লাই করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাবে বা পেশেন্ট নিয়ে আসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

ক্রমান্বয়ে এখন আমরা চিটাগাং হিল ট্রাকসে আমাদের প্রচুর কাউন্টার ইনসারজেন্সি অপারেশন পরিচালিত হয়। সেই ক্যাম্পগুলোতে রেশন সাপোর্ট দেওয়া ও অন্যান্য অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ সাপোর্ট দেওয়া শুরু করেছি আমাদের এভিয়েশন থেকে।

যে কাজগুলো আমরা সব সময় আমাদের এয়ার ফোর্সের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। এখন ক্রমান্বয়ে আমাদের কর্মকান্ড সেক্ষেত্রে বৃদ্ধি করছি। এই যে তারা অ্যাডমিনস্ট্রিটিভ ও অন্যান্য অপারেশনাল সাপোর্টগুলো দিচ্ছে, যোগ করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘এমনকি কখনও কখনও যদি আমাদের কোন বিশেষ অপারেশন কনডাক্ট করা হয় বর্ডারিং এরিয়াতে। বিশেষ করে আমাদের বন্ধু প্রতিম দেশ মায়ানমার ও ভারত থেকে বিশেষ কোন রিকোয়েস্ট পাই তাদের বর্ডারিং এলাকাতে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।

এবং আমাদের সৈন্য সেই বর্ডারিং এরিয়াতে পাঠানোর প্রয়োজন হয়, তখন আমরা আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের এই হেলিকপ্টারগুলো ব্যবহার করি। তাদের দিয়ে আমরা কমান্ডো পাঠাই, রেগুলার আর্মি পাঠাই। আমাদের কিন্তু এরকম দায়িত্ব বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের নতুন নতুন প্রশিক্ষণেরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।’

একদিন অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি জিনিস শিখিয়েছেন যে স্বপ্ন দেখা।

স্বপ্ন দেখলে কিন্তু সেটা বাস্তবায়নের প্রশ্ন আসে। আমাদেরও ভিশন ২০৩০ অনুযায়ী আমরাও স্বপ্ন দেখছি যে- আমাদের বাংলাদেশ আর্মির অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে আমাদের আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের। আমরা সেটা দেখেছি সেটা নিয়ে কাজ করছি এবং সরকারের কাছেও আমাদের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছি।

তবে কোন কিছুই কিন্তু ওভার নাইট হয়না; সময় লাগে। বাট আজ না হোক একদিন আমাদের এই আর্মি এভিয়েশন গ্রুপে অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে। সেটা আমাদের পরিকল্পনায় আছে।’

অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এই অ্যাটাক হেলিকপ্টারগুলো বিশ্বের প্রতিটি দেশেই সেনাবাহিনীর একটি এলিভেটেড প্ল্যাটফর্ম। সেনাবাহিনীকে যদি দিনের বেলা মুভ করতে হয় ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট হয়তো আমাদের অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হবেনা।

সেক্ষেত্রে ইন্টেরিয়েক্ট ক্লোজ এয়ার সাপোর্টের মাধ্যমে এলিভেটেট প্লাটফর্মটি অ্যাটাক হেলিকপ্টারের প্রতিটি দেশের সেনাবাহিনীরই আছে।

তখন তাদের দিয়ে সেনানায়ক যারা থাকে তারা খুব ক্লোজলি ব্যবহার করতে পারেন। সেনাবাহিনীর এটা খুব প্রয়োজন। যেহেতু আমাদের সবকিছুই আধুনিকায়ন হচ্ছে আমাদের আধুনিক সরঞ্জামাদি যুক্ত হচ্ছে। একদিন দেখবেন যে অ্যাটাক হেলিকপ্টারও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আসবে।

এই মুহুর্তে আপনারা যেগুলো দেখছেন এবং আমরাও চেষ্টা করছি, আমাদের এয়ার ফোর্সও চেষ্টা করছে সরকার হয়তো অগ্রগণ্যতার ভিত্তিতে কাকে আগে দিবে, কাকে পরে দিবে সেটা হয়তো সরকার সিদ্ধান্ত নিবে। বাট আমার দৃঢ় বিশ্বাস একদিন সবারই অ্যাটাক হেলিকপ্টার হবে।’

আমরা কেন পুরনো অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনতে যাবো?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পুরনো অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজকে সরকার যদি আমাদের অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার অনুমোদনও দেয় এবং আমি যদি ডিমান্ড প্লেস করি সেটা কিন্তু আসতেও কয়েক বছর লেগে যাবে।

এটা কোন দিন সম্ভব হবে না যে, এই বছরের মধ্যে অ্যাটাক হেলিকপ্টার চলে আসবে। আনলেস কেউ যদি পুরোনো কিছু কিনতে না চায়, আমরা পুরোনো কেন কিনতে যাবো। সেটা সম্ভব না যে, এই বছরের মধ্যে। আমাদের অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনার মধ্যে আছে। বাস্তবায়ন তো অনেক কিছুর উপরে ডিপেন্ড করে। আমাদের চিন্তায় আছে, আমাদের পরিকল্পনায় এটি আছে।’

এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক, এভিয়েশন গ্রুপ কমান্ডার মেজর জেনারেল আলমগীর হোসেন, মাস্টার জেনারেল অব অর্ডন্যন্স মেজর জেনারেল মো. আবু সাঈদ সিদ্দিক, রংপুর সেনানিবাসের ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ সেনাপ্রধানের সঙ্গে ছিলেন।

অনুষ্ঠানে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু জাফর, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
ছুটির দিনে ৩ কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি

সরকারি ছুটির দিনে সরকারের তিনজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান একজন সচিবকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) সচিব এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) করা হয়েছে।

পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি