খুঁজুন
                               
, ,
           

বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২০, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

জরুরি সেবা সার্ভিসের গাড়ি ছাড়া সড়কে নেই কোন গণপরিবহন। স্বভাবতই সড়কগুলো ফাঁকা, জনমানবশুন্য। নেই চিরচেনা যানজট বা কর্মচাঞ্চল্য। কী রাজধানী বা দেশের মফস্বল এলাকার কোন শহর, অদ্ভুত নীরবতাই চারদিকে।

আরও পড়ুন: পথে পথে সেনাবাহিনীর জীবাণু নাশক স্প্রে কার্যক্রম (ভিডিও)

সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রাণঘাতী করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিততে নিজেদের ঘরে আটকে রাখতেই হচ্ছে মানুষজনকে।

আর হবেই বা না কেন? প্রতি মুহুর্তে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্ল্যাকার্ড ও মাইক হাতে সেনা সদস্যরা বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। একজনের সঙ্গে আরেকজনের নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে জানাচ্ছেন আহ্বান।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত; করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মাঠে সেনাবাহিনী

অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হলেই কড়াকড়ির মুখে পড়তে হচ্ছে। কখনও বুঝিয়ে ঘরে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে তেড়েমেড়ে নিয়ম মানতে বাধ্য করানোর মতো কোন দৃশ্য দেশের ৬১ জেলায় সেনাবাহিনীর তৎপরতায় দেখা যায়নি।

নিত্যপণ্য আর ওষুধের দোকান ছাড়া সব দোকান বন্ধ রয়েছে। ফলে বাজার আর নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতেই কেবল মানুষের খানিকটা আনাগোনা রয়েছে।

ফলে কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকানগুলোতে মানুষের উপস্থিতির বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এসব দোকানে কেনাবেচার ক্ষেত্রে কীভাবে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে সেই পদ্ধতিও বাতলে দিচ্ছেন সেনা সদস্যরা।

আরও পড়ুন: করোনা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর কর্মপরিকল্পনা, ডিসিরা রিকুইজিশন দিলে হবে ‘ক্যাম্প’ স্থাপন

আর এ ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লা জেলা শহরে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এই জেলার প্রধান প্রধান সড়কে মাইকিং’র পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সেনাবাহিনী।

এ সময় সেনা সদস্যরা রঙ তুলির আচড়ে প্রতিটি দোকানের সামনের সড়ক বা ফুটপাতে সাদা বৃত্ত আঁকেন।

ক্রেতার সঙ্গে বিক্রেতার এবং ক্রেতা টু ক্রেতার দূরত্ব নিরূপণ করে আঁকা এক একটি বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত করে দেওয়া হয়। এমন কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দেন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব আলম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শুভাশীষ ঘোষ।

মূলত এর মাধ্যমে একজনের সঙ্গে আরেকজনের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পদ্ধতি শেখানো হয় সবাইকে।

আরও পড়ুন: পথে পথে সেনাবাহিনীর জীবাণু নাশক স্প্রে কার্যক্রম (ভিডিও)

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর ওই টহল দলটি কুমিল্লা শহরের রাজগঞ্জ, চকবাজার, নিউ মার্কেট, কাঁসারিপট্টি চৌমুহনী, তেলিকোনা, ছাতিপট্টি, কান্দিরপাড় এলাকায় জরুরি প্রয়োজনে খোলা দোকানপাট, কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকানের সামনে এমন রঙ দিয়ে বৃত্ত এঁকে দেন।

পরবর্তী সময়ে এই নিয়ম অনুসরণ করা না হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সতর্ক সংকেতও দেওয়া হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে রীতিমতো থমকে দাঁড়িয়েছে ষোল কোটির বাংলাদেশ। এই লড়াইয়ে সরকারের নির্দেশে দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা জেলায় জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

প্রায় প্রতিটি জেলায় সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকা হ্যান্ড মাইকে আহ্বান জানাচ্ছেন সেনা সদস্যরা। কোথাও হাম কোয়ারেন্টিনে থাকা মানুষদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন ফলমূল। দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর এমন কর্মযজ্ঞে স্বস্তির সুবাতাস বইয়ে চলেছে। সেনা সদস্যদের নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপে দেশের সাধারণ মানুষের কন্ঠেও বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি।

সবাই একবাক্যে বলছেন, কেবল বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বেই করোনাভাইরাস এখন মহাআতঙ্কের আরেক নাম। ফলে বিচ্ছিন্নতার চর্চাই যে একমাত্র সমাধানের পথ।

নিয়মতান্ত্রিক ওপায়ে নিজেদের এই দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করে সেনা সদস্যরা সাধারণ মানুষের ভেতর বহমান আতঙ্ক, ভয়-ভীতি একেবারেই উবে দিয়েছেন। নিজেদের ঘরবন্দি রেখে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতির সত্যিকার অর্থেই এ যেন অন্য রকম এক লড়াই।

আমাদের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত  

রাঙ্গামাটিতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তদারকি করছেন। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

হাট-বাজার থেকে শুরু সব জায়গায় যাতে একের অধিক মানুষ এক সঙ্গে যেন থাকতে না পারে সে বিষয়ে কাজ করছে প্রশাসন।

শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন মাঠে। জেলার নড়িয়া উজেলায় ইতালী প্রবাসীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে দেওয়া হচ্ছে বাড়তি গুরুত্ব। কুড়িগ্রামেও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকে শহরের পৌর বাজার, শহিদ মিনার চত্বর, জিয়া বাজার, পুরাতন পোস্ট অফিস পাড়াসহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হ্যান্ড মাইকে জনগণকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয় তাদের পক্ষ থেকে।

শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে তিন-চার জনকে একসঙ্গে জড়ো হতে দেখলে তাদের সরিয়ে দিয়েছেন তারা। পুলিশ সদস্যরাও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

ঝালকাঠিতে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর টহল শুরু হয়। সকালে পটুয়াখালীর লেবুখালী শেখ হাসিনা সেনানিবাস থেকে দু’টি গাড়িতে করে ঝালকাঠিতে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর একটি দল। জেলা শহরের বাজার রোড, লঞ্চঘাট, ব্যাকমোড়, কলেজ মোড়, সাধনের মোড়, চাঁদকাঠী মোড়সহ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে টহল দেন সেনা সদস্যরা।

এছাড়া রাজশাহী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, নওগাঁ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কুষ্টিয়া, নড়াইল, মাগুরা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জসহ অন্যান্য জেলাগুলোতেও একই রকম তৎপরতা চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

https://www.facebook.com/KalerAlo365/videos/2631491200462089/

কালের আলো/এমএএএমকে

হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য ডলার রাখার নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
হোটেল-রেস্তোরাঁর জন্য ডলার রাখার নতুন সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রা (এফসি) হিসাবে রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, শপিংমলসহ বিদেশি পর্যটকদের পণ্য ও সেবা দেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকে পাঠিয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যু করা কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে বিদেশি পর্যটকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ব্যাংকগুলো অ্যাকোয়ারিং সেবার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে দেবে। এর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে রাখা যাবে। বাকি অর্থ বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করতে হবে।

এফসি হিসাবে রাখা বৈদেশিক মুদ্রা চলতি লেনদেনসংক্রান্ত বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার দায় পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধও অন্তর্ভুক্ত। এ ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এফইপিডি-১ সার্কুলার নং ৪০-এর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, প্রযোজ্য কর ও ভ্যাট কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বিষয়টি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক কার্ড ও অনুমোদিত অন্যান্য পেমেন্ট পদ্ধতিতে অর্থ গ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা রেখেছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দাখিলের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত গাইডলাইন্স, ২০১৮-এর ত্রয়োদশ অধ্যায়ের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে আগে কেবল ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যারহাউস বা শুল্কমুক্ত দোকানের নামে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব খোলার সুযোগ ছিল। নতুন সার্কুলারের মাধ্যমে এ সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হলো।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

অক্টোবরে ২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ
অক্টোবরে ২৪ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে ২১৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ২৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবরের প্রথম ২৪ দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থবছরের শুরু থেকেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ১ হাজার ৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসী আয়ে বছরওয়ারি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও রিজার্ভের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

শখের গাছেই বদলে গেল জীবন, মাসে লাখ লাখ টাকা আয় তানজিলার

মাদারীপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
শখের গাছেই বদলে গেল জীবন, মাসে লাখ লাখ টাকা আয় তানজিলার

শখ করে ঘরের বারান্দায় গড়ে তুলেছিলেন ইনডোর প্ল্যান্টের ছোট্ট বাগান। সেই শখই একসময় হয়ে ওঠে জীবিকার উৎস। নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে নিজের পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় গড়ে তুলেছেন ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। বর্তমানে এ বাগান থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় করছেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নারী উদ্যোক্তা তানজিলা আখি। কোনো কোনো মাসে তাঁর আয় তিন থেকে চার লাখ টাকায়ও পৌঁছায়।

তানজিলা একসময় ঢাকায় চাকরি করতেন। ২০১৯ সালের দিকে একটি ডিজাইনার হাউসে কাজ করার সময় গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে ঘরের বারান্দায় ইনডোর প্ল্যান্টের বাগান গড়ে তোলেন। তখন শখের বশে গাছ সংগ্রহ ও পরিচর্যা করলেও ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ যে তাঁর পেশা হয়ে উঠবে, তা ভাবেননি।

২০২০ সালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় তাঁকে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন সেই সময়ে বারান্দার গাছগুলো হয়ে ওঠে তাঁর সঙ্গী। গাছের পরিচর্যা করতে গিয়ে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়। বাড়তে থাকে বিভিন্ন জাতের গাছ সংগ্রহের আগ্রহ।

একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে নিজের সংগ্রহের গাছগুলো নিয়ে স্বামীর কর্মস্থল নরসিংদীতে চলে যান তানজিলা। সেখানে নতুন করে বাগান গড়ে তোলেন। ধীরে ধীরে শখের বাগানকে ব্যবসায় রূপ দেন। শুরু করেন গাছের চারা বিক্রি এবং বিভিন্ন বৃক্ষমেলায় ইনডোর প্ল্যান্টের স্টল দেওয়া।

তবে ব্যবসার পথ সহজ ছিল না। ২০২৪ সালে নরসিংদীতে ভাড়া বাসায় থাকার সময় বাগান নিয়ে প্রতিবেশীদের আপত্তির মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে সব গাছ নিয়ে শিবচরে ফিরে আসেন। নতুন করে শুরু করতে হয় সবকিছু।

পরিবারের সহযোগিতায় শিবচরে নিজেদের আট শতাংশ জমিতে গড়ে তোলেন ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে গাছের সংগ্রহ, ক্রেতার আগ্রহ এবং ব্যবসার পরিধি।

বাগানে এক হাজারের বেশি প্রজাতির গাছ

বর্তমানে তানজিলার বাগানে রয়েছে ফিলোডেনড্রন, মনস্টেরা, অ্যাগলোনিমা, সিঙ্গোনিয়াম, থাই লিলি, অর্কিড, ফিটোনিয়া, পারলার পাম, বেগোনিয়া ও পথোসসহ বিভিন্ন ধরনের ইনডোর প্ল্যান্ট। তাঁর দাবি, বাগানে এক হাজারের বেশি প্রজাতির গাছ রয়েছে। এসব গাছের চারার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা।

বর্তমানে তাঁর এই উদ্যোগে কাজ করছেন দুজন কর্মচারী। বাগানকে আরও বড় করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

নিজের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে তানজিলা আখি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গাছের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সেখান থেকেই গাছ সংগ্রহ শুরু করেন। ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ‘ওয়ান্ডার গার্ডেন বিডি’। ব্যবসা শুরু করার পর নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হলেও সেগুলো অতিক্রম করে এখন মাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করছেন। আগামী মাস থেকে আরও একটি বাগান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তানজিলার উদ্যোগে গর্বিত এলাকাবাসী

তানজিলার এই উদ্যোগে গর্বিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। প্রতিবেশী মিলন বলেন, একজন নারী নিজের পরিশ্রমে এত সুন্দর একটি বাগান গড়ে তুলেছেন, যা এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, বাগানটি অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে।

আরেক প্রতিবেশী সাজ্জাদ হোসেন খান বলেন, শিবচরের মতো এলাকায় এমন পরিবেশবান্ধব নার্সারি দেখে তিনি আনন্দিত। নতুন ও পুরোনো উদ্যোক্তাদের এ ধরনের উদ্যোগে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, কৃষি ও নার্সারিভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবে কৃষি বিভাগ।

বারান্দার ছোট্ট বাগান থেকে বাণিজ্যিক নার্সারি গড়ে তোলা তানজিলা আখির এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, ব্যক্তিগত শখও পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। নিজের বাগানকে আরও বড় করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন এই নারী উদ্যোক্তা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি