খুঁজুন
                               
, ,
           

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০, ৯:৩০ অপরাহ্ণ
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

অলিখিত ‘লক ডাউনে’ গোটা দেশ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা বা বিভাগীয় শহরগুলোর প্রধান সড়ক, অলিগিলি সুনসান নীরবতা। ফাঁকা সব শহর যেন জনমানবশুন্য। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছে না কেউ।

আরও পড়ুন: পথে পথে সেনাবাহিনীর জীবাণু নাশক স্প্রে কার্যক্রম (ভিডিও)

গণপরিবহন ও রেল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। কার্যত অচল ৫৬ হাজার বর্গমাইলের লাল-সবুজের দেশ। করোনার প্রভাব ঠেকাতে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে ‘ঘরবন্দি’ সবাই।

আবার, জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া লোকজনকে তল্লাশি চৌকিতে দিতে হচ্ছে কৌফিয়ত। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে জনসাধারণকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত; করোনাভাইরাস মোকাবেলায় মাঠে সেনাবাহিনী

নিত্যদিন সকাল থেকেই চলছে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জীবাণু নাশক পানি ছিটানোর কার্যক্রম। করোনার ভয়াল থাবা ঠেকাতে এমন পরিবেশকেই যথার্থই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।  

আরও পড়ুন: করোনা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর কর্মপরিকল্পনা, ডিসিরা রিকুইজিশন দিলে হবে ‘ক্যাম্প’ স্থাপন

এই প্রেক্ষাপটে করোনা সতর্কতার মধ্যেও সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি উপলব্ধি করেই ব্যতিক্রমী এক পন্থা চালু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

নিত্যপণ্যের বাজার ও দোকানের সামনে দূরত্ব রেখা দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) থেকে কুমিল্লায় কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকানগুলোতে সর্বপ্রথম বেচাকেনার এই পদ্ধতি চালু করে তারা।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

এরপর থেকেই গোটা দেশেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিত্যপণ্য ও ওষুধের দোকানের সামনে দাগ কাটে বৃত্ত তৈরি করছে। সেই বৃত্তে অবস্থান করে নির্দিষ্ট দূরত্বে পণ্য বেচাবিক্রি করছে ব্যবসায়ী-ক্রেতারা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী পুরো বিষয়টিই কঠোর নজরদারি করছে।

আরও পড়ুন: পথে পথে সেনাবাহিনীর জীবাণু নাশক স্প্রে কার্যক্রম (ভিডিও)

নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মডেল দেশজুড়েই সাড়া ফেলেছে। সেনাবাহিনীর এই কার্যকর উদ্যোগের বিষয়ে যারপরেনাই মিলছে প্রশংসাও।

টাঙ্গাইলে জরুরি প্রয়োজনে কাঁচাবাজারে আসা দিলরুবা আক্তার কালের আলোর স্থানীয় প্রতিবেদককে বলেন, ‘তিন ফিট বাই তিন ফিট দূরত্বে অবস্থান করে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এটা অবশ্যই ভালো একটি উদ্যোগ। এতে করে একজনের সঙ্গে আরেকজনের গা লাগছে না।’

রাজধানীর গুলশানের এক ওষুধ ব্যবসায়ী কালের আলোর নিজস্ব প্রতিবেদককে বলেন, ‘গোল দাগের ভেতরে দাঁড় করিয়ে ক্রেতারা ওষুধ নিচ্ছে। তাদেরকে আমরা ওষুধ দিচ্ছি। এতে উভয় পক্ষই নিজেদের নিরাপদ মনে করছে। এখন থেকে পুরো দেশেই এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন চাই।’

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দোকান ও বাজারে রেড মার্কিংসহ কোয়ারেন্টাইন মানতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জনবহুল বাজারে বড় ঝুঁকি ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখা। বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে দোকানের সামনে লাল বৃত্ত আঁকা হচ্ছে। কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ব্যতিক্রম এই পদ্ধতির বাস্তবায়ন করছেন।

বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করতে বের হওয়া সেনা সদস্যদের হাতে শোভা পাচ্ছে জনসচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড। সেখানে লেখা রয়েছে- ‘ভীড় জমায়েত এড়িয়ে চলি, দূরে থেকেই কথা বলি’, ‘বিদেশ ফেরত এলাম যারা কোয়ারেন্টাইন থাকবো তারা’ ও ‘করোনা যুদ্ধ করবো জয়, ঘরের বাইরে আর নয়’।

জেলা বা উপজেলার বাজারগুলোতেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চলছে এমন কার্যক্রম।  এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হলে দেশে করোনা মোকাবেলা তুলনামূলকভাবে সহজ হবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, শনিবারও (২৮ মার্চ) দেশের ৬২ টি জেলায় সেনাবাহিনীর ৩৭১টি দল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। পাঁচ হাজারের অধিক সেনাসদস্য এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীসহ সারা দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মানুষকে অযথা রাস্তায় ঘুরাফেরা না করে বাসায় থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। অপ্রয়োজনে কাউকে ঘর থেকে কাউকে বের না হওয়ার জন্য মাইকিং করছেন। পাশাপাশি প্রয়োজন শেষ করে দ্রুত ঘরে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছেন। প্ল্যাকার্ড নিয়েও মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছেন।

দেখা গেছে, মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার্যকর পদক্ষেপে লড়াইয়ে নামিয়েছেন ষোল কোটির বাংলাদেশকে। তার রাষ্ট্রনায়কোচিত ভাষণ, পদক্ষেপ, ঘোষণা, গণভবন থেকে সারা দেশ মনিটরিংয়ে রাখায় দেশের সাধারণ মানুষও ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করছেন।

মানবতার এই লড়াইয়ে একাত্তরের মতো এক মোহনায় দেশবাসী। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদও প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্র্রতি মুহুর্তের আপডেট পৌঁছে দিচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মানতে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের সমন্বয়ে দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যরা বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সতর্কতামূলক ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সাধারণ জনগণকে উৎসাহিত করছেন।

পাশাপাশি বিদেশ ফেরত মানুষজনদের বাধ্যতামূলক ঘরবন্দি থাকার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যারা বের হচ্ছেন তারা যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন কীনা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকছে কীনা তা নিশ্চিত করতে সড়কে সড়কে জোরদার করা হয়েছে টহল।

https://www.facebook.com/KalerAlo365/videos/2657255157890085/

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

নিজস্ব/কুমিল্লা সংবাদদাতা:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
প্রথমে তুহিন, পরে ফাহাদ-কামরুলের মাথায় আঘাত, দাবি পুলিশের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

  • মোবাইল ছিনিয়ে নিতে নির্জন বনে ডেকে নেওয়া
  • ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে লাঠির আঘাত
  • তিনজন গ্রেপ্তার, আরও একজন আটক

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমকে হত্যার আগে তার মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে অভিযুক্তদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রথমে সাইফুল ইসলাম তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিসিটিভিতে তুহিন, সেখান থেকেই তদন্তের সূত্র
পুলিশ সুপার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সাইফুল ইসলাম তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে যান। পরে ওই এলাকা থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তুহিনের তথ্যেই ফাহাদ, ফাহাদের পর কামরুল
পুলিশ জানায়, তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ নামে একজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ তার বন্ধু কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা জানান। পরে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, তুহিন প্রথমে তিনটি ভিন্ন স্থানে আইফোনটি থাকার কথা জানান। পরে সঠিক তথ্য দিলে তার বাসার তোশকের নিচ থেকে অপ্রতিমের মোবাইলফোনটি উদ্ধার করা হয়।

বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন বনে অপ্রতিমের মোবাইলফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তুহিনের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। এরপর ফাহাদ ও কামরুলও তাকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই অপ্রতিমের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

লাশ ফেলে মোবাইল নিয়ে চলে যায় তিনজন
পুলিশের দাবি, অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার মোবাইলফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলের সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)। এ ছাড়া সিয়াম (১৯) নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

অন্য কেউ জড়িত কি না, তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘে ‘নতুন বাংলাদেশ’, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কারের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে ‘নতুন বাংলাদেশ’, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কারের বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক—তারপর সরাসরি বিশ্বমঞ্চ। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণের দিকে এখন নজর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের।

  • বাবা জিয়া ও মা খালেদার পর একই পরিবারের তৃতীয় রাজনীতিকের জাতিসংঘ অভিষেক
  • গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক, একাধিক সাইডলাইন মিটিং

প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান কী বার্তা দেন, সেটিই এখন সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভাষণে সরকারের অগ্রাধিকার, সংস্কার কার্যক্রম, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর পরিকল্পনা তুলে ধরবেন তিনি। নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপরেখাও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেতে পারে।

গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক, একাধিক সাইডলাইন মিটিং
নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে অবস্থান করার কথা রয়েছে তাঁর। জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতিও রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণের মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এসব আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।

জিয়া-খালেদার পর তারেক রহমান
জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসও। একই পরিবারের তৃতীয় রাজনীতিক হিসেবে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি। ১৯৮০ সালের আগস্টে জাতিসংঘের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উন্নয়নশীল বিশ্বের সংকট, খাদ্য নিরাপত্তা ও বিশ্বশান্তির মতো বিষয় তুলে ধরেছিলেন। ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়াও জাতিসংঘের বিশ্ব সম্মেলনসহ একাধিক উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেন।

এবার সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বমঞ্চে উঠছেন তারেক রহমান। ফলে তাঁর বক্তব্যে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অবস্থান কীভাবে তুলে ধরা হয়, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ।

নিউইয়র্কে স্বাগত প্রস্তুতি
তারেক রহমানের সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নেতাকর্মীদের নিউইয়র্কে আসার কথা জানিয়েছে দলীয় সূত্র। এদিকে, ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ শুরু হয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর। সাধারণ বিতর্ক চলবে ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর। সব মিলিয়ে জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হতে যাচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর—যেদিন প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।

কালের আলো/এম/এএইচ

বিতর্কের পর হাফেজদের দেওয়া বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
বিতর্কের পর হাফেজদের দেওয়া বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া নোয়াহ হারারির ‘নেক্সাস’ বইয়ের বাংলা অনুবাদ বিতর্কের পর ফেরত নিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার তার দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন। এ সময় হাফেজদের পাশাপাশি তাদের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশি হাফেজদের কয়েকটি করে বই উপহার দেওয়া হয়। এসব বইয়ের মধ্যে ছিল ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’-এর বাংলা অনুবাদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের হাতে বইগুলো তুলে দেন। পরে বই দেওয়ার ছবি প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বই ফেরত নেওয়ার তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের পোস্টে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। দুপুরে প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর, সহায়তা ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সরকারি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি