খুঁজুন
                               
, ,
           

মানবতার পক্ষের লড়াইয়ে সেনারা : ত্রাণ যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি; নীরবে-নিভৃতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
মানবতার পক্ষের লড়াইয়ে সেনারা : ত্রাণ যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি; নীরবে-নিভৃতে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ঘরবন্দি জীবনে কর্মহীন, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও দুস্থদের টান পড়েছে পেটে। সামান্য আয় রোজগারেরও জো নেই। চরম বিপাকে হাসফাঁস অবস্থা খেটে খাওয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনায় সবজি উৎপাদন ‘স্বাভাবিক’ রাখতে সেনাবাহিনীর ভিন্নধর্মী উদ্যোগ!

তাদের দূয়ারে কান পাতলেই ভেসে আসে হাহাকার আর আর্তনাদ। প্রাণঘাতী করোনা যেন যাপিত জীবনে নিয়ে এসেছে ঘোর অমানিষার অন্ধকার।

সঙ্কটময় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে, আঁধার কাটাতে অতি দরিদ্র এসব মানুষের পাশে থাকার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। এগিয়ে আসছে সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনার যুদ্ধে সেনা সদস্যদের ১৬ দফা নির্দেশনা সেনাপ্রধানের

চরম অভাবের জীবনে নিম্নবিত্তের কাছে কাঙ্খিত ত্রাণই যেন আবির্ভূত হচ্ছে ত্রাতারূপে। অবশ্য এই ত্রাণ নিয়ে বিশৃঙ্খলা বা লঙ্কাকান্ডের শেষ নেই।

কোন স্থানে ত্রাণ বিতরণ হলেই পরোয়া করা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের রীতি-নীতির। খাদ্য সঙ্কটে কোথাও কোথাও বেঁধেছে লড়াই।

আরও পড়ুন: ‘করোনা যোদ্ধা’ সেনা সদস্যদের এ যেন মানবতারই জয়গান! (ভিডিও)

কঠিন এমন বাস্তবতায় কেবলমাত্র সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি সরকারের নির্দেশে দেশজুড়ে মাঠে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

করোনা জীবাণুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অশান্ত ও অস্থির সময়ে প্রতিনিয়তই স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন সেনা সদস্যরা। দিন যতো গড়াচ্ছে তাদের কাজের স্টাইলও যেন পাল্টে যাচ্ছে।

কোন জনসমাগম নয়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন গৃহবন্দী জীবন যাপনের শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াটাই এখন তাদের ‘রুটিন ওয়ার্ক’।

অদৃশ্য জীবাণু করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কার্যত এ যুদ্ধের পাশাপাশি মানবতার পক্ষের লড়াইয়েও নিজেদের অবতীর্ণ করেছেন দেশপ্রেমিক সেনারা।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

মানবিকতাবোধে জাগ্রত হয়ে দেশের ৬২ টি জেলাতেই কর্মহীন গরিব ও দুস্থদের বাঁচিয়ে রাখতে নিত্যপণ্য বিতরণের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।

হুড়োহুড়ি বা শোডাউন প্রবণতার বাইরে গিয়ে তারা গরিব ও দুস্থদের ত্রাণের প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। কোথাও কোথাও আবার নীরবে-নিভৃতে; গুটগুটে অন্ধকার রাতে।

কখনও কখনও আবার টহলের গাড়িতে থাকা ত্রাণ সামগ্রী দারিদ্র্য জর্জর মানুষজনকে সড়কেই দেওয়া হচ্ছে তুলে। দারিদ্র্য জর্জর জীবনে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন নিম্নবিত্ত আর কর্মহীনরা।

আর এসব খরচাপাতি হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে; নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত রেশনের টাকায়।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে থাকার সরকারি উদ্যোগে নিজেদের সহযাত্রী হিসেবে মানবিক নৈতিকতার মনোভাব নিয়ে পথচলার অঙ্গীকার করেছেন দেশপ্রেমিক অকুতোভয় সেনারা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার সংগ্রামের মূল চেতনাকে ধারণ করে পথচলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

অমিত দৃঢ়তায় তিনি উচ্চারণ করেছেন ‘আমরা সৈনিক, আমরা সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’ মাঠে থাকা সেনা সদস্যদের কার্যক্রম, রীতিনীতি এবং কঠোর মানসিকতার অগ্নিদেয়ালের পরিবর্তে মানবিক সারসত্যের নিগূঢ়তম বাস্তবতায় নিজেদের সমর্পণের ১৬ দফা কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

নিজের বহুমাত্রিক মেধার বিকিরণে, বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্বের আভায় নিজ বাহিনীর সদস্যদের এসব নির্দেশনা বাহিনীর সদস্যদের সাহস ও মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি করোনা সঙ্কুল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আক্ষরিক অর্থেই ‘টনিক’ হিসেবে কাজ করছে।

নিজের নির্দেশনায় সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘জনগণের প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মানবিক হৃদয় নিয়েই ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে জনগণের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জনেও গুরুত্বারোপ করেছেন।

সূত্র মতে, জাতির সংকটময় মুহূর্তে নিজেদের পেশাদারীত্ব, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের আপামর মানুষের পাশে থেকে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন সেনাপ্রধান।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

সেনাপ্রধানের এ নির্দেশনায় করোনার মহাপ্রলয়ের সময়েও নির্ভীক সেনা সদস্যরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।

নিজেদের জীবন বিপন্ন করে রাত-দিন সড়কে সড়কে টহল দিচ্ছে। দেশপ্রেম, আবেগ ও মানবিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য তাদের এমন প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা কেবল নজরকাড়াই নয় মুগ্ধতার শৌর্য-বীর্য আর বীরত্বের বহি:প্রকাশও বটে!

সেনাবাহিনীর মানবিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করে রাজধানীর বেসরকারী গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সামিহা ইসলাম তন্নি কালের আলো’কে বলেন, করোনার ভয়াল থাবায় কার্যত বিপর্যস্ত বিশ্ব। ইউরোপ থেকে দক্ষিণ এশিয়া সব পথে এখন মৃত্যুর বিভীষিকা।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

অতীতে কোন মহামারীতে একদিনে এতো মৃত্যু দেখেনি বিশ্ব। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় এক মোহনায় মিলিত হয়েছে দেশ।

আর বরাবরের মতো এবারও দেশের সঙ্কটে বা দু:সময়ে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে দক্ষ ও চৌকস সেনারা। বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে একেকজন সেনা সদস্য যেন একেকজন আলোর পথের যাত্রী।  

কালের আলো’র বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত

চট্টগ্রামে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনীও তাদের কাজের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি পাড়া মহল্লাতেও চলছে তাদের টহল।

আরও পড়ুন: প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

একই সঙ্গে সড়কের পাশে অপেক্ষারত নিম্ন আয়ের মানুষদের দিচ্ছে ত্রাণ সহযোগিতা। এটি সেনা সদস্যদের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ।

সেনা বাহিনীর টহল টিমের লিডার ক্যাপ্টেন সালমান বলেন, ‘করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে যাদের জীবনযাত্রা একদম স্থবির হয়ে গেছে তাদের জন্য আমরা কাজ করছি। অসহায় মানুষজনকে সাধ্যমতো খাবারের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিনে প্রায় দুই হাজার পরিবারকে শুকনো খাবার, মাস্ক এবং এক হাজার হ্যান্ড সানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বৃদ্ধ ও সহায়সম্বলহীন পরিবারকে নিয়মিতভাবে  চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

শনিবার (১৮ এপ্রিল) আর্টডকের অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে।

সদরদপ্তর আর্টডক এর অন্তর্ভুক্ত ৪০৩ ব্যাটল গ্রুপ ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এবং  চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী ও নাটোর এলাকায় অবস্থিত  বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় স্ব স্ব এলাকায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেছে।

লক্ষীপুরে টহলরত অবস্থায় সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ১২০ জন অসহায় ও গরিব মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে সেনা সদস্যরা। এতে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি তেল ও দু’টি সাবান রয়েছে।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর সেনাবাহিনী, বদলে গেছে দৃশ্যপট (ভিডিও)

মাগুরা সদরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে রাতের বেলায় নীরবে শুকনা খাবার সরবরাহ করেছে সেনা সদস্যরা।

জেলার সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষের মাঝে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নিজেদের আঙ্গিনায় কাঙ্খিত শুকনো খাবার পেয়ে খুশি অসহায় মানুষজন।

মাগুরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর চাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সেনা সদস্যদের এমন কার্যক্রমে গ্রামের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

শরীয়তপুরে সেনা সদস্যরা গ্রামে গিয়ে গিয়ে তালিকা তৈরি করে খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে উপকৃত হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। রাতের রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় সেনাটহল জোরদারের পাশাপাশি সদর উপজেলায় অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সেনারা। একই রকম কার্যক্রম চলছে ঝালকাঠি, ঝিনাইদহ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায়।

কালের আলো/এমএএএমকে

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।

নতুন দামে ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সর্বশেষ বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত এ দাম সমন্বয় করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি 

অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ
অটোরিকশা উচ্ছেদ নয়, নিবন্ধন ও ফিটনেসের আওতায় আনার দাবি

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সম্পূর্ণ বন্ধ বা উচ্ছেদ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এনে সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ বা উচ্ছেদের পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এ খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

১০ দফা দাবি

সংগঠনের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সনদ প্রদান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা এবং প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

এ ছাড়া গ্যারেজ থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায়, সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কে অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ এবং জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকার প্রধান সড়কে পৃথক লেন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ, দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে এ যানবাহনকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিও রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তরের দাবি

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তারা বলেন, অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ কারণে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে।

একই সঙ্গে পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবি জানান তারা।

নেতারা বলেন, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি মো. আবু বকর ছিদ্দিক এবং কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএসআইপি