খুঁজুন
                               
, ,
           

মানবতার পক্ষের লড়াইয়ে সেনারা : ত্রাণ যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি; নীরবে-নিভৃতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
মানবতার পক্ষের লড়াইয়ে সেনারা : ত্রাণ যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি; নীরবে-নিভৃতে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ঘরবন্দি জীবনে কর্মহীন, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও দুস্থদের টান পড়েছে পেটে। সামান্য আয় রোজগারেরও জো নেই। চরম বিপাকে হাসফাঁস অবস্থা খেটে খাওয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনায় সবজি উৎপাদন ‘স্বাভাবিক’ রাখতে সেনাবাহিনীর ভিন্নধর্মী উদ্যোগ!

তাদের দূয়ারে কান পাতলেই ভেসে আসে হাহাকার আর আর্তনাদ। প্রাণঘাতী করোনা যেন যাপিত জীবনে নিয়ে এসেছে ঘোর অমানিষার অন্ধকার।

সঙ্কটময় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে, আঁধার কাটাতে অতি দরিদ্র এসব মানুষের পাশে থাকার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। এগিয়ে আসছে সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনার যুদ্ধে সেনা সদস্যদের ১৬ দফা নির্দেশনা সেনাপ্রধানের

চরম অভাবের জীবনে নিম্নবিত্তের কাছে কাঙ্খিত ত্রাণই যেন আবির্ভূত হচ্ছে ত্রাতারূপে। অবশ্য এই ত্রাণ নিয়ে বিশৃঙ্খলা বা লঙ্কাকান্ডের শেষ নেই।

কোন স্থানে ত্রাণ বিতরণ হলেই পরোয়া করা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের রীতি-নীতির। খাদ্য সঙ্কটে কোথাও কোথাও বেঁধেছে লড়াই।

আরও পড়ুন: ‘করোনা যোদ্ধা’ সেনা সদস্যদের এ যেন মানবতারই জয়গান! (ভিডিও)

কঠিন এমন বাস্তবতায় কেবলমাত্র সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি সরকারের নির্দেশে দেশজুড়ে মাঠে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

করোনা জীবাণুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অশান্ত ও অস্থির সময়ে প্রতিনিয়তই স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন সেনা সদস্যরা। দিন যতো গড়াচ্ছে তাদের কাজের স্টাইলও যেন পাল্টে যাচ্ছে।

কোন জনসমাগম নয়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন গৃহবন্দী জীবন যাপনের শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াটাই এখন তাদের ‘রুটিন ওয়ার্ক’।

অদৃশ্য জীবাণু করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কার্যত এ যুদ্ধের পাশাপাশি মানবতার পক্ষের লড়াইয়েও নিজেদের অবতীর্ণ করেছেন দেশপ্রেমিক সেনারা।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

মানবিকতাবোধে জাগ্রত হয়ে দেশের ৬২ টি জেলাতেই কর্মহীন গরিব ও দুস্থদের বাঁচিয়ে রাখতে নিত্যপণ্য বিতরণের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।

হুড়োহুড়ি বা শোডাউন প্রবণতার বাইরে গিয়ে তারা গরিব ও দুস্থদের ত্রাণের প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। কোথাও কোথাও আবার নীরবে-নিভৃতে; গুটগুটে অন্ধকার রাতে।

কখনও কখনও আবার টহলের গাড়িতে থাকা ত্রাণ সামগ্রী দারিদ্র্য জর্জর মানুষজনকে সড়কেই দেওয়া হচ্ছে তুলে। দারিদ্র্য জর্জর জীবনে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন নিম্নবিত্ত আর কর্মহীনরা।

আর এসব খরচাপাতি হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে; নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত রেশনের টাকায়।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে থাকার সরকারি উদ্যোগে নিজেদের সহযাত্রী হিসেবে মানবিক নৈতিকতার মনোভাব নিয়ে পথচলার অঙ্গীকার করেছেন দেশপ্রেমিক অকুতোভয় সেনারা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার সংগ্রামের মূল চেতনাকে ধারণ করে পথচলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

অমিত দৃঢ়তায় তিনি উচ্চারণ করেছেন ‘আমরা সৈনিক, আমরা সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’ মাঠে থাকা সেনা সদস্যদের কার্যক্রম, রীতিনীতি এবং কঠোর মানসিকতার অগ্নিদেয়ালের পরিবর্তে মানবিক সারসত্যের নিগূঢ়তম বাস্তবতায় নিজেদের সমর্পণের ১৬ দফা কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

নিজের বহুমাত্রিক মেধার বিকিরণে, বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্বের আভায় নিজ বাহিনীর সদস্যদের এসব নির্দেশনা বাহিনীর সদস্যদের সাহস ও মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি করোনা সঙ্কুল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আক্ষরিক অর্থেই ‘টনিক’ হিসেবে কাজ করছে।

নিজের নির্দেশনায় সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘জনগণের প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মানবিক হৃদয় নিয়েই ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে জনগণের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জনেও গুরুত্বারোপ করেছেন।

সূত্র মতে, জাতির সংকটময় মুহূর্তে নিজেদের পেশাদারীত্ব, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের আপামর মানুষের পাশে থেকে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন সেনাপ্রধান।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

সেনাপ্রধানের এ নির্দেশনায় করোনার মহাপ্রলয়ের সময়েও নির্ভীক সেনা সদস্যরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।

নিজেদের জীবন বিপন্ন করে রাত-দিন সড়কে সড়কে টহল দিচ্ছে। দেশপ্রেম, আবেগ ও মানবিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য তাদের এমন প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা কেবল নজরকাড়াই নয় মুগ্ধতার শৌর্য-বীর্য আর বীরত্বের বহি:প্রকাশও বটে!

সেনাবাহিনীর মানবিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করে রাজধানীর বেসরকারী গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সামিহা ইসলাম তন্নি কালের আলো’কে বলেন, করোনার ভয়াল থাবায় কার্যত বিপর্যস্ত বিশ্ব। ইউরোপ থেকে দক্ষিণ এশিয়া সব পথে এখন মৃত্যুর বিভীষিকা।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

অতীতে কোন মহামারীতে একদিনে এতো মৃত্যু দেখেনি বিশ্ব। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় এক মোহনায় মিলিত হয়েছে দেশ।

আর বরাবরের মতো এবারও দেশের সঙ্কটে বা দু:সময়ে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে দক্ষ ও চৌকস সেনারা। বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে একেকজন সেনা সদস্য যেন একেকজন আলোর পথের যাত্রী।  

কালের আলো’র বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত

চট্টগ্রামে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনীও তাদের কাজের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি পাড়া মহল্লাতেও চলছে তাদের টহল।

আরও পড়ুন: প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

একই সঙ্গে সড়কের পাশে অপেক্ষারত নিম্ন আয়ের মানুষদের দিচ্ছে ত্রাণ সহযোগিতা। এটি সেনা সদস্যদের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ।

সেনা বাহিনীর টহল টিমের লিডার ক্যাপ্টেন সালমান বলেন, ‘করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে যাদের জীবনযাত্রা একদম স্থবির হয়ে গেছে তাদের জন্য আমরা কাজ করছি। অসহায় মানুষজনকে সাধ্যমতো খাবারের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিনে প্রায় দুই হাজার পরিবারকে শুকনো খাবার, মাস্ক এবং এক হাজার হ্যান্ড সানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বৃদ্ধ ও সহায়সম্বলহীন পরিবারকে নিয়মিতভাবে  চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

শনিবার (১৮ এপ্রিল) আর্টডকের অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে।

সদরদপ্তর আর্টডক এর অন্তর্ভুক্ত ৪০৩ ব্যাটল গ্রুপ ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এবং  চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী ও নাটোর এলাকায় অবস্থিত  বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় স্ব স্ব এলাকায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেছে।

লক্ষীপুরে টহলরত অবস্থায় সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ১২০ জন অসহায় ও গরিব মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে সেনা সদস্যরা। এতে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি তেল ও দু’টি সাবান রয়েছে।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর সেনাবাহিনী, বদলে গেছে দৃশ্যপট (ভিডিও)

মাগুরা সদরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে রাতের বেলায় নীরবে শুকনা খাবার সরবরাহ করেছে সেনা সদস্যরা।

জেলার সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষের মাঝে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নিজেদের আঙ্গিনায় কাঙ্খিত শুকনো খাবার পেয়ে খুশি অসহায় মানুষজন।

মাগুরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর চাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সেনা সদস্যদের এমন কার্যক্রমে গ্রামের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

শরীয়তপুরে সেনা সদস্যরা গ্রামে গিয়ে গিয়ে তালিকা তৈরি করে খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে উপকৃত হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। রাতের রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় সেনাটহল জোরদারের পাশাপাশি সদর উপজেলায় অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সেনারা। একই রকম কার্যক্রম চলছে ঝালকাঠি, ঝিনাইদহ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায়।

কালের আলো/এমএএএমকে

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাড়ল ট্রেন, নতুন সেবা মহানগর এক্সপ্রেসের

ঢাকা থেকে কক্সবাজার রেলপথে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে এই রুটে যুক্ত হয়েছে মহানগর এক্সপ্রেস। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ট্রেনটির গন্তব্য কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে মহানগর এক্সপ্রেস। ট্রেনটির প্রথম যাত্রা উপলক্ষে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূচি অনুযায়ী, সপ্তাহের রোববার ছাড়া প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছাড়বে ট্রেনটি। রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে যাত্রাবিরতির পর রাত ৩টায় আবার যাত্রা শুরু করে পরদিন সকাল ৬টার দিকে কক্সবাজারে পৌঁছানোর কথা।

ফেরার পথে সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে মহানগর এক্সপ্রেস। চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতির পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ট্রেনটি বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। ফেরার পথেও এসব স্টেশনে থামার কথা রয়েছে। তবে সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি রাখা হয়নি।

রেলওয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মহানগর এক্সপ্রেসের ভাড়া আসনশ্রেণিভেদে ৬৮৫ থেকে ১ হাজার ৫৭০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ভাড়া ২৪০ থেকে ৫৪৭ টাকা। ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থ শ্রেণির আসন রয়েছে। যাত্রীরা বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট, রেল সেবা অ্যাপ এবং অনুমোদিত স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

এর আগে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস চলাচল করত। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রুটে চলাচল করত সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস। মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণে কক্সবাজারগামী ট্রেনের সেবা আরও বিস্তৃত হলো।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নতুন এই সেবার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মধ্যবর্তী জেলাগুলোর যাত্রীদের কক্সবাজার যাতায়াত সহজ হবে। এতে পথে পরিবহন পরিবর্তনের ঝামেলা কমার পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এ সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে সময়সূচি মেনে ট্রেন পরিচালনা, টিকিটের পর্যাপ্ততা ও যাত্রীসেবার মান বজায় রাখা জরুরি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
সাসাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, আলোচনায় ভ্যাকসিন কারখানা

জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওর মেইজি কিনেনকানের হানাগাসুমি রেস্তোরাঁয় এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী গত সেপ্টেম্বরে ঢাকায় নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে সাসাকাওয়ার দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন উৎপাদনের একটি কারখানা স্থাপনে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলামসহ অন্যরা।

জাপানের পক্ষে নৈশভোজে অংশ নেন নিপ্পন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক তাকাশি আরিকাওয়া ও সংস্থাটির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিমান বাহিনী প্রধানের ইউরোপ সফর: আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৯ অপরাহ্ণ
বিমান বাহিনী প্রধানের ইউরোপ সফর: আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

আধুনিক বিমান বাহিনীর সক্ষমতা কেবল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বা সমরাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ উড়োজাহাজের কার্যকারিতা বজায় রাখা, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রতি জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করেছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। সফরে তিনি বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বিমান শক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

  • জার্মানিতে উড়োজাহাজ ও আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিদর্শন
  • চেক প্রজাতন্ত্রে ভবিষ্যৎ বিমানশক্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ
  • বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নতুন সম্ভাবনা

গত ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর জার্মানি সফরকালে বিমান বাহিনী প্রধান গ্রোব এয়ারক্রাফট এসই-এর আমন্ত্রণে প্রতিষ্ঠানটির টুসেনহাউজেন-ম্যাটসিসে অবস্থিত উড়োজাহাজ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে গ্রোবের তৈরি প্রশিক্ষণ বিমান ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব বিমানের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সফর বিদ্যমান উড়োজাহাজের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতেও সহায়ক হতে পারে।

জার্মানি সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল দেশটির অন্যতম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিল ডিফেন্সের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন। প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার জন্য মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করে। বিশেষ করে তাদের IRIS-T SLM ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহারের উপযোগী। একটি দেশের সমন্বিত ও স্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিমান বাহিনী প্রধান ডিল ডিফেন্সের উৎপাদন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ স্থাপনের দিক থেকে এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ।

জার্মানি সফর শেষে গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন চেক প্রজাতন্ত্র সফর করেন। চেক বিমান বাহিনীর কমান্ডার এবং ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সের চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে তিনি প্রাগে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আধুনিক আকাশযুদ্ধের পরিবর্তিত প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করেন। আলোচনায় মাল্টিরোল লাইট এয়ারক্রাফট, আধুনিক প্যাসিভ ও অ্যাক্টিভ সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সশস্ত্র চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি), কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যৎ বিমান শক্তি গড়ে তুলতে প্রযুক্তি সংগ্রহের পাশাপাশি দক্ষ জনবল, কার্যকর প্রশিক্ষণ, আধুনিক রণকৌশল এবং রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা উন্নয়ন অপরিহার্য। প্রাগের সম্মেলন এসব বিষয়ে বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ তৈরি করেছে।

বিমান বাহিনী প্রধানের এই সফরের দুটি অংশ পরস্পরের পরিপূরক। জার্মানিতে তিনি উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা লাভের সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে চেক প্রজাতন্ত্রে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ আকাশযুদ্ধ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এ ধরনের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিমান বাহিনী প্রধানের জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর কেবল আনুষ্ঠানিক সফর বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

এটি আধুনিক বিমান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ, পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও উন্মোচিত করেছে।

কালের আলো/এমএএএমকে