খুঁজুন
                               
, ,
           

মানবতার পক্ষের লড়াইয়ে সেনারা : ত্রাণ যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি; নীরবে-নিভৃতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
মানবতার পক্ষের লড়াইয়ে সেনারা : ত্রাণ যাচ্ছে বাড়ি বাড়ি; নীরবে-নিভৃতে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ঘরবন্দি জীবনে কর্মহীন, শ্রমজীবী, দরিদ্র ও দুস্থদের টান পড়েছে পেটে। সামান্য আয় রোজগারেরও জো নেই। চরম বিপাকে হাসফাঁস অবস্থা খেটে খাওয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনায় সবজি উৎপাদন ‘স্বাভাবিক’ রাখতে সেনাবাহিনীর ভিন্নধর্মী উদ্যোগ!

তাদের দূয়ারে কান পাতলেই ভেসে আসে হাহাকার আর আর্তনাদ। প্রাণঘাতী করোনা যেন যাপিত জীবনে নিয়ে এসেছে ঘোর অমানিষার অন্ধকার।

সঙ্কটময় এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে, আঁধার কাটাতে অতি দরিদ্র এসব মানুষের পাশে থাকার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার। এগিয়ে আসছে সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনার যুদ্ধে সেনা সদস্যদের ১৬ দফা নির্দেশনা সেনাপ্রধানের

চরম অভাবের জীবনে নিম্নবিত্তের কাছে কাঙ্খিত ত্রাণই যেন আবির্ভূত হচ্ছে ত্রাতারূপে। অবশ্য এই ত্রাণ নিয়ে বিশৃঙ্খলা বা লঙ্কাকান্ডের শেষ নেই।

কোন স্থানে ত্রাণ বিতরণ হলেই পরোয়া করা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্বের রীতি-নীতির। খাদ্য সঙ্কটে কোথাও কোথাও বেঁধেছে লড়াই।

আরও পড়ুন: ‘করোনা যোদ্ধা’ সেনা সদস্যদের এ যেন মানবতারই জয়গান! (ভিডিও)

কঠিন এমন বাস্তবতায় কেবলমাত্র সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে পারেনি সরকারের নির্দেশে দেশজুড়ে মাঠে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

করোনা জীবাণুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অশান্ত ও অস্থির সময়ে প্রতিনিয়তই স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন সেনা সদস্যরা। দিন যতো গড়াচ্ছে তাদের কাজের স্টাইলও যেন পাল্টে যাচ্ছে।

কোন জনসমাগম নয়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন গৃহবন্দী জীবন যাপনের শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াটাই এখন তাদের ‘রুটিন ওয়ার্ক’।

অদৃশ্য জীবাণু করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কার্যত এ যুদ্ধের পাশাপাশি মানবতার পক্ষের লড়াইয়েও নিজেদের অবতীর্ণ করেছেন দেশপ্রেমিক সেনারা।

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সেবাতেও এখন ভরসার নাম সেনাবাহিনী

মানবিকতাবোধে জাগ্রত হয়ে দেশের ৬২ টি জেলাতেই কর্মহীন গরিব ও দুস্থদের বাঁচিয়ে রাখতে নিত্যপণ্য বিতরণের কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন।

হুড়োহুড়ি বা শোডাউন প্রবণতার বাইরে গিয়ে তারা গরিব ও দুস্থদের ত্রাণের প্যাকেট পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি। কোথাও কোথাও আবার নীরবে-নিভৃতে; গুটগুটে অন্ধকার রাতে।

কখনও কখনও আবার টহলের গাড়িতে থাকা ত্রাণ সামগ্রী দারিদ্র্য জর্জর মানুষজনকে সড়কেই দেওয়া হচ্ছে তুলে। দারিদ্র্য জর্জর জীবনে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন নিম্নবিত্ত আর কর্মহীনরা।

আর এসব খরচাপাতি হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব উদ্যোগে; নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত রেশনের টাকায়।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাবিক্রি, অনুসরণ হচ্ছে ‘সেনাবাহিনী মডেল’ (ভিডিও)

উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বল্প আয়ের মানুষের পাশে থাকার সরকারি উদ্যোগে নিজেদের সহযাত্রী হিসেবে মানবিক নৈতিকতার মনোভাব নিয়ে পথচলার অঙ্গীকার করেছেন দেশপ্রেমিক অকুতোভয় সেনারা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার সংগ্রামের মূল চেতনাকে ধারণ করে পথচলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার অঙ্গীকার করেছেন।

অমিত দৃঢ়তায় তিনি উচ্চারণ করেছেন ‘আমরা সৈনিক, আমরা সব সময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’ মাঠে থাকা সেনা সদস্যদের কার্যক্রম, রীতিনীতি এবং কঠোর মানসিকতার অগ্নিদেয়ালের পরিবর্তে মানবিক সারসত্যের নিগূঢ়তম বাস্তবতায় নিজেদের সমর্পণের ১৬ দফা কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

আরও পড়ুন: বৃত্তের মাধ্যমে দূরত্ব চিহ্নিত; সেনাবাহিনীর কর্মযজ্ঞে দেশজুড়ে স্বস্তির সুবাতাস (ভিডিও)

নিজের বহুমাত্রিক মেধার বিকিরণে, বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্বের আভায় নিজ বাহিনীর সদস্যদের এসব নির্দেশনা বাহিনীর সদস্যদের সাহস ও মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি করোনা সঙ্কুল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আক্ষরিক অর্থেই ‘টনিক’ হিসেবে কাজ করছে।

নিজের নির্দেশনায় সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ‘জনগণের প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মানবিক হৃদয় নিয়েই ধৈর্য্য, সহনশীলতা ও সৎ সাহসের পরিচয় দিয়ে জনগণের পাশে থেকে তাদের আস্থা অর্জনেও গুরুত্বারোপ করেছেন।

সূত্র মতে, জাতির সংকটময় মুহূর্তে নিজেদের পেশাদারীত্ব, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের আপামর মানুষের পাশে থেকে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন সেনাপ্রধান।

আরও পড়ুন: প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, আতঙ্ক নয় প্রতিরোধের ডাক সেনা সদস্যদের (ভিডিও)

সেনাপ্রধানের এ নির্দেশনায় করোনার মহাপ্রলয়ের সময়েও নির্ভীক সেনা সদস্যরা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।

নিজেদের জীবন বিপন্ন করে রাত-দিন সড়কে সড়কে টহল দিচ্ছে। দেশপ্রেম, আবেগ ও মানবিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য তাদের এমন প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা কেবল নজরকাড়াই নয় মুগ্ধতার শৌর্য-বীর্য আর বীরত্বের বহি:প্রকাশও বটে!

সেনাবাহিনীর মানবিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করে রাজধানীর বেসরকারী গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষক সামিহা ইসলাম তন্নি কালের আলো’কে বলেন, করোনার ভয়াল থাবায় কার্যত বিপর্যস্ত বিশ্ব। ইউরোপ থেকে দক্ষিণ এশিয়া সব পথে এখন মৃত্যুর বিভীষিকা।

আরও পড়ুন: করোনার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত যুদ্ধে সেনাবাহিনী, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার সঞ্চার

অতীতে কোন মহামারীতে একদিনে এতো মৃত্যু দেখেনি বিশ্ব। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় এক মোহনায় মিলিত হয়েছে দেশ।

আর বরাবরের মতো এবারও দেশের সঙ্কটে বা দু:সময়ে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছে দক্ষ ও চৌকস সেনারা। বিভীষিকাময় পরিস্থিতিতে একেকজন সেনা সদস্য যেন একেকজন আলোর পথের যাত্রী।  

কালের আলো’র বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত

চট্টগ্রামে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়োজিত সেনাবাহিনীও তাদের কাজের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি পাড়া মহল্লাতেও চলছে তাদের টহল।

আরও পড়ুন: প্রখর খরতাপেও পথে পথে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে সেনাবাহিনী (ভিডিও)

একই সঙ্গে সড়কের পাশে অপেক্ষারত নিম্ন আয়ের মানুষদের দিচ্ছে ত্রাণ সহযোগিতা। এটি সেনা সদস্যদের নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ।

সেনা বাহিনীর টহল টিমের লিডার ক্যাপ্টেন সালমান বলেন, ‘করোনা মোকাবেলা করতে গিয়ে যাদের জীবনযাত্রা একদম স্থবির হয়ে গেছে তাদের জন্য আমরা কাজ করছি। অসহায় মানুষজনকে সাধ্যমতো খাবারের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিনে প্রায় দুই হাজার পরিবারকে শুকনো খাবার, মাস্ক এবং এক হাজার হ্যান্ড সানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বৃদ্ধ ও সহায়সম্বলহীন পরিবারকে নিয়মিতভাবে  চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন: সহায়তায় আর্মি এভিয়েশন; আকাশপথে সেনা সদস্যদের হাতে যাচ্ছে মেডিকেল সরঞ্জামাদি

শনিবার (১৮ এপ্রিল) আর্টডকের অন্তর্ভুক্ত প্রশিক্ষণ সেন্টার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে।

সদরদপ্তর আর্টডক এর অন্তর্ভুক্ত ৪০৩ ব্যাটল গ্রুপ ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এবং  চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী ও নাটোর এলাকায় অবস্থিত  বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় স্ব স্ব এলাকায় দরিদ্র পরিবারের মাঝে শুকনো খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করেছে।

লক্ষীপুরে টহলরত অবস্থায় সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ১২০ জন অসহায় ও গরিব মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছে সেনা সদস্যরা। এতে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি তেল ও দু’টি সাবান রয়েছে।

আরও পড়ুন: সামাজিক দূরত্ব বজায়ে কঠোর সেনাবাহিনী, বদলে গেছে দৃশ্যপট (ভিডিও)

মাগুরা সদরে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে রাতের বেলায় নীরবে শুকনা খাবার সরবরাহ করেছে সেনা সদস্যরা।

জেলার সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষের মাঝে এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নিজেদের আঙ্গিনায় কাঙ্খিত শুকনো খাবার পেয়ে খুশি অসহায় মানুষজন।

মাগুরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর চাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সেনা সদস্যদের এমন কার্যক্রমে গ্রামের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।’

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্বে এক মোহনায় দেশ, মানুষকে ‘সুরক্ষার যুদ্ধে’ সেনাবাহিনী

শরীয়তপুরে সেনা সদস্যরা গ্রামে গিয়ে গিয়ে তালিকা তৈরি করে খাদ্য সামগ্রী ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে উপকৃত হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। রাতের রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় সেনাটহল জোরদারের পাশাপাশি সদর উপজেলায় অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সেনারা। একই রকম কার্যক্রম চলছে ঝালকাঠি, ঝিনাইদহ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলায়।

কালের আলো/এমএএএমকে

বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৪ অপরাহ্ণ
বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোবাইল জার্নালিজমের নামে অনুমোদনহীন, অপেশাদার বা অনৈতিক কার্যক্রম সরকার সমর্থন করে না।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে অধিকতর শক্তিশালী, কার্যকর ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ; বার

কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা; মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও নীতিনৈতিকতাবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানাসহ কার্যকর বিধান এবং গুজব, ভুয়া খবর, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় প্রেস কাউন্সিলের স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পরিবর্তিত প্রযুক্তিগত পরিবেশ, ডিজিটাল সম্প্রচার ব্যবস্থার বিকাশ, অনলাইন ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন প্রচারসংক্রান্ত নীতিমালা পর্যালোচনাসহ প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধনের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রেখেছে।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন বলেন, পডকাস্ট, ব্লগিং এবং ইনফ্লুয়েন্সারভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্টসমূহের বিষয়বস্তু, প্রচার ও প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ডিজিটাল মাধ্যমের দ্রুত বিকাশ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি যুগোপযোগী নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নবম সংবদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদারের গেজেট প্রকাশের দিন থেকে বাসসে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদান নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়ায়, নবম সংবদপত্র মজুরি বোর্ড পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে মোট ৩ হাজার ৩৩৮টি নিবন্ধিত পত্রিকা রয়েছে। এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ১ হাজার ৪৩৬টি, সাপ্তাহিক পত্রিকা ১ হাজার ২৩১টি, মাসিক পত্রিকা ৪৫২টি, পাক্ষিক পত্রিকা ২১৫টি এবং অর্ধসাপ্তাহিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক ও বার্ষিক পত্রিকার সংখ্যা ৫৪।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দাবি আদায়ে বৃষ্টি উপেক্ষায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
দাবি আদায়ে বৃষ্টি উপেক্ষায় ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ মিছিল

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা। ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনসহ প্রকৃত মালিকদের কাছে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়াসহ সাত দফা দাবি আদায়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পল্টন মোড়ে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন বিক্ষোভকারীরা।

মিছিলে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবি ছিল, এস আলমসহ ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন, ফ্যাসিস্ট আমলে বন্দুকের নলের মুখে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে ইসলামী ব্যাংকের দায় মেটানো ও ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা বলেন, ব্যাংকটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকখাতে অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।

এছাড়া, পূর্বঘোষিত সাত দফা দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

দেশের ১৯ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
দেশের ১৯ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

দেশের ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসার দেওয়া অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে এই বৈরী আবহাওয়া অতিক্রম করতে পারে। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ঝোড়ো আবহাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং নৌযান ও যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানকে সাবধানে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি