খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

ঈদের দিনেও ‘রুটিন ওয়ার্কে’ সেনাবাহিনী, ছড়িয়েছে প্রীতি ও ভালোবাসার পরাগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০, ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
ঈদের দিনেও ‘রুটিন ওয়ার্কে’ সেনাবাহিনী, ছড়িয়েছে প্রীতি ও ভালোবাসার পরাগ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

আনন্দ আর খুশির পরিবর্তে বিষাদময় এক দিন। ভীষণ অন্য রকম এক ঈদ। একদিকে করোনার ভয়াল সংক্রমণ অন্যদিকে মহাঘূর্ণিঝড় আম্পানে সব হারানোর ক্ষত।

আনন্দের বদলে বেদনা, উৎসবের পরিবর্তে রীতিমতো টিকে থাকার লড়াইয়ে অবতীর্ণ দেশ।

‘বিবর্ণ’ ঈদের জামাত শেষে কোলাকুলি, করমর্দন না করার কাজে তদারকি, পথচারীদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত, যানবাহনে তল্লাশি, গরিব ও দুস্থ মানুষের আহারের বন্দোবস্ত, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, লন্ডভন্ড উপকূলের বাসিন্দাদের ঘরদোর মেরামতের কাজ- সবকিছুই সমান তালেই সামলেছেন।

অভাবী ও অসহায় মানুষের চোখের কোণে সামান্য হলেও হাসির ঝিলিক দিতেই অন্য দিনগুলোর মতোই তাদের পাশে থেকেছেন। সহমর্মিতা ও হৃদ্যতার আলো বিলিয়েছেন।

নিজেদের পরিবার ছেড়ে রাজধানী থেকে শুরু করে তৃণমূলের নিভৃত পল্লীতেও ছুটেছেন; ছড়িয়েছেন প্রীতি ও ভালোবাসার পরাগ।

‘ঘরবন্দি’ এবারের ঈদে সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে মধ্যরাত করোনাকালের এমন রুটিন ওয়ার্কেই নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

দেশের ঘোর দু:সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলায় জেলায় চষে বেড়িয়ে সহমর্মিতা ও মানবতার মাধ্যমেই প্রতিটি প্রান্তেই মলিন চেহারায় ফুটিয়েছেন অনাবিল আনন্দের আবহ। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর করেছেন নিজেদের।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সব সময়ই বল এসেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘টিম স্পিরিট’ নিয়েই লড়াই চালিয়ে যাবে সেনা সদস্যরা।

ঈদের শুভেচ্ছাতেও বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে আসুন আমরা সুস্থ থাকি, অপরকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করি।’

নিজের ঈদের দিনটিও সার্বক্ষণিক দুর্গত মানুষের খোঁজ খবর নিয়েছেন সেনাপ্রধান। আবার গরিব ও অসহায় মানুষের উনুনে আগুন জ্বালাতে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের।

ঈদের দিনেও আত্নত্যাগের অনুশীলনে দেশবাসীকে সুরক্ষা আর উপকূল অঞ্চলের ভাগ্যবিড়ম্বিতদের সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দায়িত্বে অনড় থেকে মানুষে মানুষে কল্যাণের বার্তাই বিলিয়ে দিতে নিজ বাহিনীর দায়িত্বশীল সদস্যদের সৎনিষ্ঠ চেতনাবোধকেই পুনরায় প্রজ্বলিত করেছেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

ঈদের দিনেও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত
দেশের লাখো মানুষের ‘আমিন’ ধ্বনিতে প্রতি ঈদেই মুখরিত হতো যে জাতীয় ঈদগাহ, এবার প্রথম বারেরর মতোই বন্ধ রইলো তাঁর দরজা। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় রাজধানীর এ ময়দানে হয়নি দেশের প্রধান ঈদ জামাত।

তবে মসজিদে মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতের আগে-পরে রাজধানীতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে ঠিকই অন্য দিনের মতোই কাজ চালিয়ে গেছে সেনা সদস্যরা।

একই রকম চিত্র ছিল বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। নিজেরা মাইকিং করে নামাজে আসা মুসল্লি ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করেছেন।

ঈদের নামাজ পড়তে আসা এবং শেষে বাড়ি ফেরা মুসল্লিরা যাতে কোনো রকম করমর্দন কিংবা কোলাকুলি না করে সেটি তদারকি করতে সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলায় টহল তৎপরতা চালিয়েছে সেনাবাহিনীর একাধিক টিম।

যানবাহনে থাকা চালক বা যাত্রীদের মাস্ক পরতে বাধ্য করেছেন। শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করেই ঈদ আনন্দ উপভোগে নিজেদের ব্যস্ত রেখেছেন।

বাড়ি বাড়ি ত্রাণ তৎপরতা
উপকূলীয় জেলা বরিশালেও রীতিমতো তান্ডব দেখিয়ে গেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক। বিষাদের ঈদে অনেকের ঘরে জ্বলেনি চুলো। সেই দিকেও ঈদের দিনে নিজেদের দৃষ্টি দিয়েছেন সেনা সদস্যরা।

সড়কবিহীন গ্রামে উপড়ে পড়া কলাগাছের ফাঁকে হেঁটেই কাঁধে খাবারের বস্তা নিয়ে বাড়ি বাড়ি ‘উপহার’ যেমন দিয়ে এসেছেন তেমনি কোথাও বাড়ির সামনে কোমর সমান পানিতে ডুবে অসহায় ও দু:খী মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন নিজেদের রেশনের একাংশের টাকায় বন্দোবস্ত করা খাবার।

রাজধানীর নিম্ন আয়ের মানুষজনও একইভাবে পেয়েছেন এ মানবিক সহযোগিতা। ‘দুর্গতদের পাশে সর্বদা সেনাবাহিনী’ স্লোগানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগেও দুই বেলা আহার জোগানো, চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা মানুষজনের হাতে নিত্যপণ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।

সবমিলিয়ে গরিব ও অসহায়রা সেনাদের সহায়তায় সাধ্যমতো ভালো রান্না করে সন্তানের মুখে তুলে দিতে পেরেছেন তৃপ্তির খাবার। আবার পটুয়াখালীতে বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে চিকিৎসা সেবা।

কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের পরিচালনায় ও এডহক ১৬ প্যারা পদাতিক ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে রোববার (২৪ মে) দ্বিতীয় দিনের মতো ঈদ বাজারের মাধ্যমে ৫’শ অসহায় মানুষকে খাবার ও নতুন কাপড় দেওয়া হয়েছে।

পঞ্চগড়ে বিভিন্ন রকম সচেতনতামুলক কাজের পাশাপাশি ঈদের দিনেও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এদিনেও অসহায় মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী ও দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেন সেনা সদস্যরা।

দুপুরে জেলা শহরের রামের ডাংগা ও পুরাতন ক্যাম্প এলাকায় শতাধিক মানুষের মাঝে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন সেনা সদস্যরা। এ উপহারের প্যাকেটে ছিল- চাল, ডাল, তেল, চিনি, সেমাইসহ বিভিন্ন খাদ্য পণ্য। ঈদের দিনে সেনাবাহিনীর এমন উপহার পেয়ে খুশি স্থানীয় গরিব ও দুস্থরা।

মাথায় টিন বহনে সেনারা নিজেরাই
করোনায় এমনিতেই বিবর্ণ ঈদ। এরই মধ্যেই আম্পানের ভয়ঙ্কর থাবা উপকূলবাসীর জন্য ঈদকে পরিণত করেছে বিষাদে। নেই নতুন পোশাক বা ঈদের খাবার। খুলনার কয়রা এলাকায় তো পানির ভেতর ঈদের নামাজ আদায় হয়েছে।

ঘর বাড়ি জমি টিকিয়ে রাখতে ঈদের দিনেও চালানো হয়েছে বাঁধ রক্ষার কাজ। অনেকের ঘরে ছিল না সেমাই কেনার টাকা।

সেখানে নতুন পোশাক কেনার চিন্তাও যেন এক রকম বিলাসিতাই। ঠিক সেই সময়েই তাদের মাঝে ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দিয়েছেন সেনা সদস্যরা।

উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরদোর মেরামতে নিজেরাই কাঁধে করে টিন বহন করে ছুটেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনসহ বিভিন্ন ডিভিশন নিজেদের উদ্যোগেই বাঁশ ও নতুন টিন কিনে হাতে হাতে নির্মাণ করে দিয়েছেন ঘর।

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ