খুঁজুন
                               
, ,
           

মুজিববর্ষে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী সেনাবাহিনী, রোপণের টার্গেট তিন লক্ষাধিক বৃক্ষ (ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
মুজিববর্ষে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী সেনাবাহিনী, রোপণের টার্গেট তিন লক্ষাধিক বৃক্ষ (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো :

ইতিহাসের মহাকাব্যের মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই…’ বিখ্যাত এ গানের আকুতির মতোই বঙ্গবন্ধু মারা না গেলে এ বছর শতবর্ষী হতেন।

আদর্শ ও অনুপ্রেরণায় বাঙালির মননে গেঁথে আছে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির মহান পথপ্রদর্শক ও অবিসংবাদিত এ নেতার নাম।

জাতির চির আরাধ্য পুরুষের জন্মশতবর্ষে দেশের বনজ সম্পদ বৃদ্ধি ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় উদ্যোগী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

দেশবাসীকে গাছ লাগানোর প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি মুজিববর্ষে পরিবেশ রক্ষায় সারা দেশে তিন লক্ষাধিক বৃক্ষ রোপণের টার্গেট নিয়েছে দেশপ্রেমিক এ বাহিনীটি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের ‘আল্লাহু মসজিদ’ প্রাঙ্গণে একটি কাঠগোলাপ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্মারক বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

পরে নিজেই পরিচর্যার অংশ হিসেবে নতুন বৃক্ষে মাটি ও পানি দেন।

চলতি বছর বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘সবুজ বৃক্ষ-নির্মল পরিবেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। পাশাপাশি একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সেনানিবাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও তিনি উদ্বোধন করেন।

শুধু গাছ লাগানোতেই সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, পরিপূর্ণভাবে গাছের যত্নও নিতে হবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এমন নির্দেশনাও দিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

তিনি মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহজ মাধ্যম হচ্ছে বৃক্ষরোপণ। এ বৃক্ষরোপণ অভিযানে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাবাহিনী বৃক্ষরোপণ অভিযানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষসহ সৌন্দর্য্যবর্ধক বিভিন্ন প্রকারের প্রায় তিন লক্ষাধিক গাছের চারা রোপন করবে।

সকল সেনানিবাস, স্বর্ণদ্বীপসহ সকল প্রশিক্ষণ এলাকা ও ফায়ারিং রেঞ্জ, সকল ডিওএইচএস এবং জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে মাসব্যাপী এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

সূত্র জানায়, দেশের সংগ্রামশীল জাতিসত্ত্বার দু:সময়ের সাথী হয়ে ত্যাগ ও বিশ্বস্ততার দৃষ্টান্ত স্থাপনের পাশাপাশি যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলা, দেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান অব্যাহত রেখেছে জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন গৌরবদীপ্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

চলমান করোনা দু:সময়ে নানামুখী কর্মকান্ডের মাধ্যমে তারা মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। দেশের ক্রান্তিকালে তাদের অবদান ইতিহাসে অমর, অব্যয় হয়েই ঠাঁই নিয়েছে।

সূত্র মতে, জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের রোববার (১৪ জুলাই) ঢাকা সেনানিবাসের ‘বোট ক্লাব’ শহীদ মোস্তফা কামাল লাইন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

ওই বছর তাঁর নির্দেশে দেশের প্রতিটি সেনানিবাসে প্রায় দু’লক্ষাধিক বৃক্ষ রোপণ করা হয়।  

সেদিন সেনাপ্রধান নিজ হাতে ছাতিম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় সবাইকে বনজ ও ফলজ গাছ লাগানোরও অনুরোধ করেন তিনি।

এর আগের বছর নির্ঝর আবাসিক এলাকায় সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ‘রাধাচূড়া’ গাছের চারা রোপণ করেছিলেন।

মুজিববর্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘এবারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির একটি বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে।

ইতিহাসের মহানায়ক, মহান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে পরিবেশের উন্নয়নে বৃক্ষরোপণকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।’

বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এ দেশকে অবারিত সবুজে পরিণত করার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য দেশ গড়ে তোলা, পরিবেশের ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা থেকে রক্ষায় বৃক্ষরোপণ গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন সেনাপ্রধান।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস থেকে সবাইকে রক্ষা করতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কার্যকর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জেনারেল আজিজ আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কবে যাবে, ভ্যাকসিন কবে আসবে এটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সেনাবাহিনী সারা দেশে করোনাভাইরাস থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত করতে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে হবে।’

এ সময় সেনাবাহিনীর কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শামসুল হকসহ ঢাকা সেনানিবাসের উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/আরআই

আইসিটি ও জ্বালানিতে জাপানি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ণ
আইসিটি ও জ্বালানিতে জাপানি বিনিয়োগ চান প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে মাসুমি কাকিনোকির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকার জন্যও ধন্যবাদ জানান তিনি।

বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় মাসুমি কাকিনোকি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ইপিএ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে বলে বৈঠকে প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এসব খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এসব খাতে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে সার উৎপাদন খাতেও জাপানের সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন।

সার উৎপাদন খাতের সক্ষমতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সার কারখানার অবস্থান, বিনিয়োগের পরিমাণ কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বৈঠক-পরবর্তী তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা বাড়ানো গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও উৎপাদনশিল্পে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং দেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

নারিকেলবাগে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন প্রাণ গেল একজনের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
নারিকেলবাগে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন প্রাণ গেল একজনের

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নারিকেলবাগ এলাকার আমান প্লাস্টিক কারখানায় এ আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জের নারিকেলবাগ এলাকায় আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগার খবর আসে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটে তারা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ইউনিট সরাসরি আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় সোমবার দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হলেও তিনি কারখানার শ্রমিক, কর্মচারী নাকি অন্য কেউ—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনে কারখানার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কারখানাটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। কেরানীগঞ্জের এই অগ্নিকাণ্ডে একজনের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এবং কারখানার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎহীন পুরো ইউনিয়ন

ফরিদপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎহীন পুরো ইউনিয়ন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় আট মাস ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নদীর তলদেশ দিয়ে স্থাপন করা সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম।

পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্যাবলটি ছিঁড়ে যাওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সংযোগ পুনরায় চালু না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে শিক্ষাসহ নানা ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে না পারায় নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন শেখ বলেন, প্রায় আট মাস ধরে তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। সন্ধ্যা হলেই অন্ধকারে থাকতে হয়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়াসহ দৈনন্দিন নানা কাজেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি জানান তিনি।

আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলতে থাকায় তাঁরা খুব কষ্টে আছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর অনুরোধ জানান। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকার প্রায় দেড় হাজার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক। সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, পদ্মার তলদেশে তীব্র স্রোতের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দোহার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খায়রুল বাকী খান ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলটি অনেক পুরোনো। পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে এতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় আপাতত নতুন করে ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। তাঁর আশা, আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে।দীর্ঘ আট মাসের ভোগান্তির পর নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের আশ্বাসে বিদ্যুৎ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তবে নতুন সংযোগ স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের দুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করবে এবং দেড় হাজার পরিবারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি