খুঁজুন
                               
, ,
           

এএসপিটিএস’র ‘নবযাত্রা’ শুরু ত্রিশালে, আন্তর্জাতিকমানের ‘বার্তা’ সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০, ৫:২১ অপরাহ্ণ
এএসপিটিএস’র ‘নবযাত্রা’ শুরু ত্রিশালে, আন্তর্জাতিকমানের ‘বার্তা’ সেনাপ্রধানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) থেকে:

সুবিশাল আয়তনের চেলেরঘাট। ঢাকার অদূরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিস্তৃত এ ভূখন্ডটি বেছে নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকা হিসেবে। সবুজ শ্যামলে ঘেরা অপার সৌন্দর্যের মায়াময় অবগাহনে রোমাঞ্চিত এলাকাটির চারপাশ।

পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে পাল্টে দেওয়া হয়েছে দৃশ্যপট। সম্প্রতি এখানে নির্মিত হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টস (এএসপিটিএস)।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৪১ বছর বয়সী শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক একমাত্র এ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা থেকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এখানে।

এর মাধ্যমে একদিকে সেনাবাহিনীর শারীরিক-ক্রীড়া বিষয়ক স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ এলাকার দীর্ঘদিনের অভাব যেমন পূরণ হয়েছে তেমনি সরকারের ফোর্সেস গোল ২০৩০ অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনার পালেও নতুন করে হাওয়া লেগেছে।

বিশাল ও উন্মুক্ত জায়গায় স্বয়ংসম্পূর্ণ অবয়ব নিয়ে নবযাত্রা শুরু করা আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টসের (এএসপিটিএস) মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভূতপূর্ব উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতের অগ্রগতির রথে চড়ে নতুন দিশারী ও কান্ডারি হিসেবে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনী।

উদ্বোধনের পর পরই প্রধান অতিথি হিসেবে নিজের বক্তব্যে আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টসকে (এএসপিটিএস) একটি আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন সেনাপ্রধান।

এএসপিটিএস দেশীয় প্রশিক্ষনার্থী ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষণার্থীদেরও প্রশিক্ষণ দেয় বলেও তিনি জানান।

সেনাবাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের এখানে বিদেশ থেকেও অনেক শিক্ষার্থী আসে। এটার স্যান্ডার্ড ওই পর্যায়ে আপনাদের নিয়ে যেতে হবে। আগে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল।

আমিও সেনাপ্রধান হিসেবে যখন ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানটিতে যেতাম তখন বলা হতো স্যার আমাদের স্পেস নেই। চাহিদামাফিক অনেক কিছুই করতে পারি না।

কিন্তু এখন সেই সমস্যা দূর হয়েছে। আমি আশা করবো এ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নীত করবেন। আমার সেই প্রত্যাশা থাকবে সংশ্লিষ্টদের কাছে।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শারীরিক প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে রাজশাহী সেনানিবাসে এএসপিটিএস  প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরিত করা হয়।

এএসপিটিএস প্রতি বছর শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছাড়াও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের শারীরিক ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করতে সহায়তা করে।

একই সূত্র জানায়, এএসপিটিএস দেশীয় প্রশিক্ষণার্থী ছাড়াও বন্ধু প্রতীম শ্রীলংকা, সুদান, নেপাল ও প্যালেস্টাইনের প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা সেনানিবাসে শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো অপ্রতুলতা প্রকট আকার নিয়েছিল। সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক সেনাবাহিনীর প্রতিটি জোনাল বা জেনারেল কনফারেন্সে জেনারেল কমান্ডাররা নতুন নতুন জায়গার সন্ধান দেন। এ সময়ে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ টি জায়গার বিভিন্ন ধরনের বিষয় উপস্থাপন করা হয়।

এরপর সেনাপ্রধান ত্রিশালের চেলেরঘাটের সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকাটিতে এএসপিটিএস গড়ে তোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এখানে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করা হয়।

আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টসকে ঘিরে বিস্তর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যতে এখানে অফিসার্স কোয়ার্টার, ফ্যামিলি কোয়ার্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। ঢাকা টু ময়মনসিংহ যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হবে।’

এর আগে কপ্টারে করে রাজধানী ঢাকা থেকে সকাল ১০ টার দিকে সেনাপ্রধান ত্রিশালে এসে পৌঁছেন।

এ সময় আর্টডকের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাষ্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামসুল হকসহ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

নেপাল সীমান্তসংলগ্ন জিরং স্থলবন্দরের কাছে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ওই এলাকায় নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য এলাকায় একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় হ্রদটির পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে যেকোনো সময় হ্রদটি ভেঙে গিয়ে প্রবল পানির স্রোত, কাদা ও পাথরের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জিরং স্থলবন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। সিসিটিভির সঙ্গে থাকা এক প্রতিবেদক জানান, সামনের সারির দল থেকে জরুরি নির্দেশনা পাওয়ার পর সব উদ্ধারকারীকে জিরং বন্দরের দিকে আর না এগোতে বলা হয়েছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলের বেশির ভাগ সদস্য বর্তমানে জিরং শহরের লাওজিয়াং গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন। গ্রামটি চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে।

এর আগে বুধবারের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। তবে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কালের আলো/এসএ

গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সার্বীয় জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস এ তথ্য জানিয়েছে।

১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় ভূমিকার জন্য ‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত ছিলেন ম্লাদিচ। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তিনি কয়েকবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল তাঁর পরিবার ও সার্বিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা। তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দ্য হেগের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল।

স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার ঘটনায় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন ম্লাদিচ।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধ ছিল সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় সমাজতন্ত্রের পতনের পর ছড়িয়ে পড়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায়। ওই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ২২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

যুদ্ধের সবচেয়ে নৃশংস অধ্যায়গুলোর একটি ছিল স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা। জাতিসংঘের সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত স্রেব্রেনিৎসায় আশ্রয় নেওয়া বসনিয়ার মুসলিম পুরুষ ও কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন সার্ব বাহিনী হত্যা করে।

তখনকার ভিডিও ফুটেজে ম্লাদিচকে নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার আগে শিশুদের হাতে মিষ্টি তুলে দিতে দেখা যায়। এরপর পুরুষ ও কিশোরদের একটি বনে নিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহগুলো গণকবরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ গোপন করতে অনেক গণকবর থেকে মরদেহ তুলে অন্য জায়গায় পুনরায় দাফন করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

স্রেব্রেনিৎসা থেকে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সার্ব বাহিনীর হাতে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন।

১৯৯৫ সালের নভেম্বরে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। সামরিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর গ্রেপ্তার এড়িয়ে ছিলেন।

শুরুর দিকে সার্বিয়ার সামরিক বাহিনীর সহায়তায় অনেকটা প্রকাশ্যেই জীবনযাপন করেছেন ম্লাদিচ। দেশটির একটি অংশ তাঁকে এখনো নায়ক হিসেবে দেখে।

তবে ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ায় গ্রেপ্তার হন ম্লাদিচ। পরে তাঁকে দ্য হেগে নেওয়া হয়।

বিচারের পুরো প্রক্রিয়ায় ম্লাদিচ গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন। আদালতে একাধিকবার ক্ষুব্ধ বক্তব্যও দেন তিনি। বিচারকদের উদ্দেশে আদালতকে ‘পশ্চিমা শক্তির সন্তান’ বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে ‘ন্যাটো জোটের লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

২০১৭ সালে তাঁকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২১ সালে আপিলেও সেই সাজা বহাল থাকে।

মুসলিম ও বসনীয়দের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে বিতাড়িত করে তথাকথিত ‘বৃহত্তর সার্বিয়া’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাপক জাতিগত নিধন অভিযান পরিচালনার জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়।

তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের আমলে সংঘটিত অপরাধকে ‘মানবজাতির জানা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম’ বলে অভিহিত করেছিল। সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধান জেইদ রা’দ আল-হুসেইন তাঁকে ‘অশুভর প্রতিমূর্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

জীবনের শেষ দিকে ম্লাদিচের আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাঁর মুক্তির আবেদন করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, তিনি গুরুতর ও নিরাময়-অযোগ্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং এমন অবস্থায় তাঁকে কারাগারে রাখা অমানবিক শাস্তির পর্যায়ে পড়ে।

তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত দ্য হেগের কারাগারেই মৃত্যু হলো সাবেক এই সার্বীয় সামরিক প্রধানের।

ম্লাদিচের বয়স নিয়েও দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল। তিনি দাবি করতেন, তাঁর জন্ম ১৯৪৩ সালের মার্চে। তবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নথিতে তাঁর জন্মসন ১৯৪২ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’-তাসরিফ খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’-তাসরিফ খান

অবসর কাটাতে নেপালে গিয়ে বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকা পড়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তাঁদের ফেরার পথ।

তাসরিফ জানান, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তবে কবে ঘান্দ্রুক থেকে বের হয়ে দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার পরিচিত পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুক অন্নপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচু এই এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ তাঁরা দেখেননি। তবে বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কোথাও সেতুও ভেঙে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন ওই পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে।

তাসরিফ বলেন, বুধবার রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যে বড় বিপর্যয় ঘটেছে, সেটি ঘান্দ্রুক থেকে অনেক দূরে। তবে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের দুর্যোগের খবর এবং তাঁদের ফেরার পথের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মঙ্গলবার তাঁরা ঘান্দ্রুকে পৌঁছান। বুধবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বের হতে কিছুটা দেরি হওয়ায় গাইড তাঁদের ওই দিন আর যাত্রা না করার পরামর্শ দেন।

পরে তাঁরা জানতে পারেন, ফেরার পথে সড়কের বিভিন্ন অংশ পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাসরিফের ভাষায়, সময়মতো বের হলে হয়তো তাঁরাও বিপদের মধ্যে পড়তেন। দেরি হওয়াটাই তাঁদের রক্ষা করেছে।

বর্তমানে তাঁদের গাইড বিকল্প পথের সন্ধান করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। গাইড ফিরে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁদের আরও দুই থেকে তিন দিন ঘান্দ্রুকে থাকতে হতে পারে।

দুর্যোগের পাশাপাশি অর্থসংকটও তৈরি হয়েছে তাসরিফদের জন্য। তাঁর হাতে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার রয়েছে। কার্ডে টাকা থাকলেও দুর্গম এই এলাকায় কার্ড বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে নগদ অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

দেশে ফেরার নতুন টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক সড়কপথ ব্যবহার করা সম্ভব না হলে নদীর পাশ দিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেক করে বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের মধ্যে এমন পথও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি নিশ্চিত না হয়ে তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চান না তাসরিফ।

স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, পাহাড়ি এই এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। দুর্যোগের কারণে পর্যটননির্ভর এলাকার বাসিন্দারাও জীবিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

টানা কাজের পর কয়েক দিনের অবসর কাটাতেই নেপালে গিয়েছিলেন তাসরিফ। সম্প্রতি তাঁর রোমান্টিক ঘরানার মৌলিক গান ‘বৃষ্টি’ মুক্তি পেয়েছে। দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।

তবে এখন সব পরিকল্পনা বাদ দিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।

তাসরিফ বলেন, ‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’

তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যাতে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা সুস্থভাবে দেশে ফিরে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।

কালের আলো/এসএ