খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

এএসপিটিএস’র ‘নবযাত্রা’ শুরু ত্রিশালে, আন্তর্জাতিকমানের ‘বার্তা’ সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০, ৫:২১ অপরাহ্ণ
এএসপিটিএস’র ‘নবযাত্রা’ শুরু ত্রিশালে, আন্তর্জাতিকমানের ‘বার্তা’ সেনাপ্রধানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) থেকে:

সুবিশাল আয়তনের চেলেরঘাট। ঢাকার অদূরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিস্তৃত এ ভূখন্ডটি বেছে নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকা হিসেবে। সবুজ শ্যামলে ঘেরা অপার সৌন্দর্যের মায়াময় অবগাহনে রোমাঞ্চিত এলাকাটির চারপাশ।

পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে পাল্টে দেওয়া হয়েছে দৃশ্যপট। সম্প্রতি এখানে নির্মিত হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টস (এএসপিটিএস)।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৪১ বছর বয়সী শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক একমাত্র এ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা থেকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এখানে।

এর মাধ্যমে একদিকে সেনাবাহিনীর শারীরিক-ক্রীড়া বিষয়ক স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ এলাকার দীর্ঘদিনের অভাব যেমন পূরণ হয়েছে তেমনি সরকারের ফোর্সেস গোল ২০৩০ অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনার পালেও নতুন করে হাওয়া লেগেছে।

বিশাল ও উন্মুক্ত জায়গায় স্বয়ংসম্পূর্ণ অবয়ব নিয়ে নবযাত্রা শুরু করা আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টসের (এএসপিটিএস) মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভূতপূর্ব উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতের অগ্রগতির রথে চড়ে নতুন দিশারী ও কান্ডারি হিসেবে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনী।

উদ্বোধনের পর পরই প্রধান অতিথি হিসেবে নিজের বক্তব্যে আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টসকে (এএসপিটিএস) একটি আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন সেনাপ্রধান।

এএসপিটিএস দেশীয় প্রশিক্ষনার্থী ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষণার্থীদেরও প্রশিক্ষণ দেয় বলেও তিনি জানান।

সেনাবাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের এখানে বিদেশ থেকেও অনেক শিক্ষার্থী আসে। এটার স্যান্ডার্ড ওই পর্যায়ে আপনাদের নিয়ে যেতে হবে। আগে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল।

আমিও সেনাপ্রধান হিসেবে যখন ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানটিতে যেতাম তখন বলা হতো স্যার আমাদের স্পেস নেই। চাহিদামাফিক অনেক কিছুই করতে পারি না।

কিন্তু এখন সেই সমস্যা দূর হয়েছে। আমি আশা করবো এ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নীত করবেন। আমার সেই প্রত্যাশা থাকবে সংশ্লিষ্টদের কাছে।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শারীরিক প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে রাজশাহী সেনানিবাসে এএসপিটিএস  প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরিত করা হয়।

এএসপিটিএস প্রতি বছর শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছাড়াও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের শারীরিক ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করতে সহায়তা করে।

একই সূত্র জানায়, এএসপিটিএস দেশীয় প্রশিক্ষণার্থী ছাড়াও বন্ধু প্রতীম শ্রীলংকা, সুদান, নেপাল ও প্যালেস্টাইনের প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা সেনানিবাসে শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো অপ্রতুলতা প্রকট আকার নিয়েছিল। সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক সেনাবাহিনীর প্রতিটি জোনাল বা জেনারেল কনফারেন্সে জেনারেল কমান্ডাররা নতুন নতুন জায়গার সন্ধান দেন। এ সময়ে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ টি জায়গার বিভিন্ন ধরনের বিষয় উপস্থাপন করা হয়।

এরপর সেনাপ্রধান ত্রিশালের চেলেরঘাটের সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকাটিতে এএসপিটিএস গড়ে তোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এখানে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করা হয়।

আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টসকে ঘিরে বিস্তর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যতে এখানে অফিসার্স কোয়ার্টার, ফ্যামিলি কোয়ার্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। ঢাকা টু ময়মনসিংহ যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হবে।’

এর আগে কপ্টারে করে রাজধানী ঢাকা থেকে সকাল ১০ টার দিকে সেনাপ্রধান ত্রিশালে এসে পৌঁছেন।

এ সময় আর্টডকের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাষ্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামসুল হকসহ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

পরিশ্রম ও সততা মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। তিনি বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাসস চেয়ারম্যান এসব বলেন। চলতি বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চারটি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়।

রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসাইন, গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী এবং নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম সুমন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমরা দেশের আগামীর স্বপ্ন সারথী। স্বপ্নই মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং বড় হওয়ার সাহস দেয়। যার স্বপ্ন যত বড়, সে তত বড় মানুষ। একজন মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন। বড় স্বপ্ন দেখা এবং তা অর্জনের জন্য সততার সঙ্গে পরিশ্রম করাই মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়।

বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমাদের স্বপ্ন সফল করতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমই তোমাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আর মাদকের অতলগ্রাসী ছোবল এবং সোশাল মিডিয়ার কুপ্রভাব থেকে নিজেদের হেফাজত করতে হবে।

ড. মো. আতাউর রহমান শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তোমরা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ, গজারিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার দিদার আলম, গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার সাহা, গজারিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোক্তার হোসেন ও ফিরোজ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মুক্তার হোসেন ভূইয়া। অনুষ্ঠানে গজারিয়া পাইলট মডেল হাই স্কুল, গজারিয়া গার্লস হাই স্কুল, ইসমানিচর উচ্চ বিদ্যালয় এবং গজারিয়া বাতেনিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের সফলতা কামনায় দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই তথ্য জানিয়েছে।

তেহরান-ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও দ্বিতীয় দফার বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বার্তা নিয়ে ইরানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির মাঝে ইসরায়েল ওই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। ইসরায়েলি ওই সূত্র বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে চুক্তির বিষয়ে অবগত আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে এবং বিবদমান দুই পক্ষই আলোচনার পরবর্তী দফার জন্য শিগগিরই পুনরায় বৈঠকে বসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তারা বলেছেন, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শেষ হতে যাওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন; যাতে কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। আঞ্চলিক ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে উভয় পক্ষই ‘নীতিগতভাবে একমত’ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি প্রধান বিতর্কিত বিষয়—পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছেছেন।

তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনার সমন্বয় করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের এই প্রতিনিধিদল ইরান সফরে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবি বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মাঝে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসন এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন করে ‘আশার আলো’ দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এই আশাবাদ তৈরি করেছে। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

গত শনিবার যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি দুই দেশের মধ্যে বিরল সরাসরি বৈঠকগুলোর একটি। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও সংলাপ শুরু হতে পারে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ঘনিয়ে এসেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এটি প্রায় শেষ। হ্যাঁ, আমি এটিকে শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি বলেই মনে করি।”

এর আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। এ জন্য পাকিস্তানকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান কেন প্রথম পছন্দ—এমন প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, “এর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ফিল্ড মার্শাল দারুণ কাজ করছেন। তিনি অসাধারণ—এ কারণে আমাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমরা এমন কোনো দেশে কেন যাব, যার এ বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই?”

পাকিস্তানের উদ্যোগ
মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকায় তারা মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার আগে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব ও কাতার সফর দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হবে। আর তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে অংশ নেবেন তিনি। ফোরামের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন শেহবাজ শরিফ। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার।

অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনা সমন্বয়ের লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল এই সফর করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পরও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘বার্তা আদান-প্রদান’ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় তেহরানে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানি কর্মকর্তারা। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বাঘাই আরও জানান, ইরান তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়। তবে এ কর্মসূচির ধরন ও মাত্রা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী শান্তির জন্য দুই পক্ষকেই কঠিন কিছু শর্তে ছাড় দিতে হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান বড় বাধা হয়ে আছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক ডেভিড মিলার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরান কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

সিএনএনকে তিনি বলেন, ইরান তাড়াহুড়ো করে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়; বরং তাদের হাতে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে তারা আলোচনায় কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদ হুসাইন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই সংলাপ আগামী সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা প্রশমনের পথ তৈরি করতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইরান বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির মতে, আলোচনার প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখেও ইরান নতিস্বীকার করেনি। তাই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত কূটনৈতিক আপসের পথেই এগোতে হবে।

পাকিস্তানের সাবেক নৌ কমোডর ও কূটনীতিক মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ আল জাজিরাকে বলেন, প্রথম দফার আলোচনাতেই বড় কোনো অগ্রগতি আশা করা অবাস্তব ছিল। তবে দুই পক্ষকে মুখোমুখি বসানোই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। দ্বিতীয় দফার উদ্যোগ প্রমাণ করে, কূটনীতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

কালের আলো/এসআর/এএএন