খুঁজুন
                               
, ,
           

এএসপিটিএস’র ‘নবযাত্রা’ শুরু ত্রিশালে, আন্তর্জাতিকমানের ‘বার্তা’ সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০, ৫:২১ অপরাহ্ণ
এএসপিটিএস’র ‘নবযাত্রা’ শুরু ত্রিশালে, আন্তর্জাতিকমানের ‘বার্তা’ সেনাপ্রধানের

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) থেকে:

সুবিশাল আয়তনের চেলেরঘাট। ঢাকার অদূরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিস্তৃত এ ভূখন্ডটি বেছে নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকা হিসেবে। সবুজ শ্যামলে ঘেরা অপার সৌন্দর্যের মায়াময় অবগাহনে রোমাঞ্চিত এলাকাটির চারপাশ।

পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে পাল্টে দেওয়া হয়েছে দৃশ্যপট। সম্প্রতি এখানে নির্মিত হয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টস (এএসপিটিএস)।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৪১ বছর বয়সী শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক একমাত্র এ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা থেকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে এখানে।

এর মাধ্যমে একদিকে সেনাবাহিনীর শারীরিক-ক্রীড়া বিষয়ক স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ এলাকার দীর্ঘদিনের অভাব যেমন পূরণ হয়েছে তেমনি সরকারের ফোর্সেস গোল ২০৩০ অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনার পালেও নতুন করে হাওয়া লেগেছে।

বিশাল ও উন্মুক্ত জায়গায় স্বয়ংসম্পূর্ণ অবয়ব নিয়ে নবযাত্রা শুরু করা আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টসের (এএসপিটিএস) মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভূতপূর্ব উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতের অগ্রগতির রথে চড়ে নতুন দিশারী ও কান্ডারি হিসেবে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনী।

উদ্বোধনের পর পরই প্রধান অতিথি হিসেবে নিজের বক্তব্যে আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টসকে (এএসপিটিএস) একটি আন্তর্জাতিকমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন সেনাপ্রধান।

এএসপিটিএস দেশীয় প্রশিক্ষনার্থী ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষণার্থীদেরও প্রশিক্ষণ দেয় বলেও তিনি জানান।

সেনাবাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদের এখানে বিদেশ থেকেও অনেক শিক্ষার্থী আসে। এটার স্যান্ডার্ড ওই পর্যায়ে আপনাদের নিয়ে যেতে হবে। আগে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল।

আমিও সেনাপ্রধান হিসেবে যখন ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানটিতে যেতাম তখন বলা হতো স্যার আমাদের স্পেস নেই। চাহিদামাফিক অনেক কিছুই করতে পারি না।

কিন্তু এখন সেই সমস্যা দূর হয়েছে। আমি আশা করবো এ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নীত করবেন। আমার সেই প্রত্যাশা থাকবে সংশ্লিষ্টদের কাছে।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শারীরিক প্রশিক্ষণ ও ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে রাজশাহী সেনানিবাসে এএসপিটিএস  প্রতিষ্ঠিত হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরিত করা হয়।

এএসপিটিএস প্রতি বছর শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছাড়াও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের শারীরিক ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করতে সহায়তা করে।

একই সূত্র জানায়, এএসপিটিএস দেশীয় প্রশিক্ষণার্থী ছাড়াও বন্ধু প্রতীম শ্রীলংকা, সুদান, নেপাল ও প্যালেস্টাইনের প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা সেনানিবাসে শারীরিক ও ক্রীড়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো অপ্রতুলতা প্রকট আকার নিয়েছিল। সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক সেনাবাহিনীর প্রতিটি জোনাল বা জেনারেল কনফারেন্সে জেনারেল কমান্ডাররা নতুন নতুন জায়গার সন্ধান দেন। এ সময়ে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ টি জায়গার বিভিন্ন ধরনের বিষয় উপস্থাপন করা হয়।

এরপর সেনাপ্রধান ত্রিশালের চেলেরঘাটের সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকাটিতে এএসপিটিএস গড়ে তোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এখানে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করা হয়।

আর্মি স্কুল অব ফিজিক্যাল ট্রেনিং এন্ড স্পোর্টসকে ঘিরে বিস্তর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, ‘ভবিষ্যতে এখানে অফিসার্স কোয়ার্টার, ফ্যামিলি কোয়ার্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

দ্রুত সময়ের মধ্যেই এখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেওয়া হবে। ঢাকা টু ময়মনসিংহ যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হবে।’

এর আগে কপ্টারে করে রাজধানী ঢাকা থেকে সকাল ১০ টার দিকে সেনাপ্রধান ত্রিশালে এসে পৌঁছেন।

এ সময় আর্টডকের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ও ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাষ্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামসুল হকসহ সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

এরদোয়ান-অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা ইস্যুতেও জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
এরদোয়ান-অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা ইস্যুতেও জোর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচি পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন তিনি। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের তুর্কি হাউসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তারেক রহমান। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় উঠে আসে। হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত বিশ্বনেতাদের সম্মানে স্বাগত প্রাতরাশে সস্ত্রীক অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বেও যোগ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।

কালের আলো/এমএসআইপি 

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্প-ডেনমার্কের নতুন চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্প-ডেনমার্কের নতুন চুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত বক্তব্যের পর দুই পক্ষের সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, নতুন এ চুক্তির মাধ্যমে তা কিছুটা প্রশমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ১০ পৃষ্ঠার চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। দক্ষিণের নারসারসুয়াক ও পূর্বাঞ্চলের মেস্টারসভিগে এসব ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক ঘাঁটিও থাকবে।

চুক্তিতে আবারও ‘ডেনমার্ক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার’ প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও স্বীকার করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি ও চমৎকার একটি সম্পর্কের সূচনা করবে। তাঁর ভাষায়, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সবার জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তায় কৌশলগত গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত পথের ওপর অবস্থিত হওয়ায় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ অনুত্তোলিত বিরল খনিজ রয়েছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও অঞ্চলটির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

নতুন চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত খাতগুলোতে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে চীন ও রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান তৈরির সুযোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘আরও শান্তি ফিরবে’

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, চুক্তির পর তাঁর দেশ আগের দিনের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডে আরও শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেনও চুক্তিটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের জন্য দেশে ফিরে আরও কাজ করতে হবে এবং সেটি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হবে।

চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান আন্তোনিও কোস্তা এটিকে আটলান্টিক পারের সহযোগিতা ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও চুক্তিটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হলেও এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ডকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বা ন্যাটোতে যোগ দিতে হবে।

১৯৫১ সালের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে ওই চুক্তি হালনাগাদ করা হয়।

কালের আলো/এসএ

৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আগামী বছরের শুরুতে শুরু হয়ে ৬ জুনের মধ্যে শেষ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো আগামী ৬ জুনের মধ্যে শেষ করতে চায়। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রমজান, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ইসি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কখন শুরু হবে, তা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে না।

প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব

পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা নির্বাচনে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তুলনামূলক কম অর্থের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য এই ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ দেওয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে চূড়ান্ত হিসাবের সঙ্গে ব্যয়ের পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

চলতি বছর নির্বাচন নিয়ে সংশয়

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসির নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, নির্বাচন আগামী বছর শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আবার বৈঠক হতে পারে। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন এবং ইসি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে পারে।

সরকার চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায় বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে মন্তব্য

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়বে কি না—জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণই এখনো নির্ধারিত হয়নি। তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা কঠিন।

নির্বাচনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই প্রশ্ন করা ভালো।

তিনি আরও বলেন, এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীও হননি। তাই প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। নির্বাচন হলে তখন মানুষের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি