খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সিগন্যালস কোর রিক্রুটদের মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ, গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে সমুন্নত রাখার আহ্বান ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
সিগন্যালস কোর রিক্রুটদের মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ, গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে সমুন্নত রাখার আহ্বান ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি’র

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বাদ্যের তালে তালে মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ। দৃঢ় কণ্ঠে জীবন উৎসর্গ করার শপথ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যালস কোরের সদস্য হওয়ার অনন্য এক গৌরব অর্জন। দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলে দীর্ঘ ৯ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৭৯ জন নবীন সৈনিক। রবিবার (০৩ নভেম্বর) যশোর সেনানিবাসের সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার এন্ড স্কুলে সিগন্যালস কোর এর রিক্রুট ব্যাচ-২০২৪ এর সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ প্যারেড এর এ যেন অভূতপূর্ব এক দৃশ্য।

মনোজ্ঞ এই কুচকাওয়াজ উপভোগ করে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম সিগন্যালস কোরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে সমুন্নত রেখে তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধাপে ধাপে আরও প্রশিক্ষিত হয়ে নিজেদেরকে নবীন সৈনিকরা তৈরি করবে বলেও তাঁর প্রত্যাশার কথা জানান। এর আগে সকালে তিনি প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে যশোর সিগন্যাল ট্রেনিং সেন্টার এন্ড স্কুলের কমান্ড্যান্ট তাকে অভ্যর্থনা জানান।

  • অতিক্রম করতে হয়েছে অনেক চড়াই-উতরাই
  • নৈতিক মূল্যবোধ, আনুগত্য ও শৃঙ্খলা- এসব গুণাবলী দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে গুরুত্বারোপ
  • দেশ ও জাতির উন্নতি এবং অগ্রগতিতে অবদান রাখার পরামর্শ
  • নেতৃত্ব, ভাতৃত্ববোধ ও টিম স্পিরিট তৈরিতে ভূমিকা

জানা যায়, দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সমাপ্ত করে ৫৩২ জন পুরুষ রিক্রুট ও ৪৭ জন মহিলা রিক্রুটসহ সর্বমোট ৫৭৯ জন রিক্রুট এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ মাতৃকার সেবায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনের শপথ গ্রহণ করেন। আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত থাকার কথা জানান দেন। নবীন সৈনিকদের জীবনের শ্রেষ্ঠতম অর্জনে উচ্ছ্বসিত তাদের অভিভাবকরাও। তাদের সন্তানরা নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এই স্বপ্নে বিভোর তাঁরাও।

শপথ গ্রহণ প্যারেডে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম দেশপ্রেম, নৈতিক মূল্যবোধ, আনুগত্য ও শৃঙ্খলা- এসব গুণাবলী দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে গুরুত্বারোপ করেন। পরামর্শ দেন নিরলস প্রশিক্ষণ অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নতি এবং অগ্রগতিতে অবদান রাখার। এ সময় তিনি বলেন, ‘সিগন্যালস কোর এর রিক্রুট ব্যাচ-২০২৪ এর শপথ গ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্ববোধ করছি। আমি আরও আনন্দিত যে, দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ সফলভাবে সমাপ্ত করে আজ তোমরা শপথ গ্রহণ করলে। আজকের এই শুভ দিনে প্রাণপ্রিয় আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ দেশমাতৃকার সেবা করার যে শপথ তোমরা গ্রহণ করলে দোয়া করি সর্বশক্তিমান আল্লাহ যেন তা পালনে তোমাদের সামর্থ্য দান করে। এখন থেকে সিগন্যালস কোরের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে সমুন্নত রেখে তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে ধাপে ধাপে তোমরা আরও প্রশিক্ষিত হয়ে নিজেদেরকে তৈরি করবে এটিই আমাদের প্রত্যাশা।’

চারিত্রিক বিকাশের জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা তোমাদের যেমন শাণিত করেছে, উল্লেখ করে জিওসি আরও বলেন, ‘আমি জেনে অত্যন্ত খুশি হয়েছি যে, সাধারণ সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তোমাদের সামরিক রীতি-নীতি, আচার-আচরণ ও চরিত্র গঠন সম্পর্কে অভ্যস্ত করা হয়েছে। মনে রাখবে চরিত্র একটি অমূল্য সম্পদ। বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণমূলক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ তোমাদের শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি নেতৃত্ব, ভাতৃত্ববোধ ও টিম স্পিরিট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। নৈতিক মূল্যবোধ, আনুগত্য, শৃঙ্খলা ও নিরলস প্রশিক্ষণ অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নতি এবং অগ্রগতিতে অবদান রাখবে বলে আমি আশা ব্যক্ত করি।’

নবীন সৈনিকদের এই কুচকাওয়াজ অত্যন্ত আকর্ষণীয়, সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘তোমাদের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য্য, একাগ্রতা, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সর্বোপরি তোমাদের ওপর মহান আল্লাহ’র অশেষ রহমতের জন্যই তা সম্ভবপর হয়েছে। আমি জানি তোমাদের প্রশিক্ষণের প্রতিটি পদক্ষেপেই সম্মুখীন হতে হয়েছে অনেক বাধা বিঘ্ন ও পরীক্ষা। অতিক্রম করতে হয়েছে অনেক চড়াই-উতরাই। মনে রাখবে প্রশিক্ষণ হচ্ছে একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা তোমাদের জন্য সর্বোত্তম কল্যাণ। কঠোর পরিশ্রম, সহিষ্ণুতা ও দৃঢ় মনেবলের জন্যই তোমরা সফলভাবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পেরেছো, এজন্য আমি তোমাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।’

রিক্রুট ব্যাচ ২০২৪ এর ‘সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে যশোর ও খুলনা অঞ্চলের উর্ধ্বতন সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তারা, জেসিও, অন্যান্য পদবীর সৈনিকরা ও প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী রিক্রুটদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ উপভোগ করেন। এই বছর সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠ রিক্রুট হিসেবে রিক্রুট নূর মোহাম্মদ বিবেচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

কালের আলো/এমএএএমকে

র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আভিযানের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৬৩টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩টি জিপ, ১০০টি টহল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রয়েছে। দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১২২ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন র‍্যাবের ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার যানবাহন ক্রয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

সুপারিশ অনুযায়ী, ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গত ২৭ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন পায়।

জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকলেও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং র‍্যাবের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক থেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত। চলতি আরএডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নতুন করে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য নয়, বরং শিক্ষার প্রকৃত মান ও ফলাফল নিশ্চিত করার আন্দোলন হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হচ্ছে মানসম্পন্ন শিক্ষা। কিন্তু শিক্ষার মান, বরাদ্দ, ব্যয়ের কাঠামো, ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাখাত নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা বা বয়ান চালু রয়েছে। কেউ বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমরা অগ্রাধিকার বুঝি বরাদ্দ দিয়ে। বরাদ্দ যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে সেই অগ্রাধিকার বাস্তব নয়। আবার শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না, সেই বরাদ্দ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা কিংবা উচ্চশিক্ষা— কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই ব্যয় অবকাঠামো নির্মাণে যাচ্ছে নাকি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে। কেবল ভবন নির্মাণ করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না।

সরকারের উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শুধু উপবৃত্তি দিয়ে শিক্ষার ব্যয় মোকাবিলা সম্ভব নয়। পরিবারের আরো নানা ধরনের খরচ রয়েছে, যা দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বড় চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সবাই শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন। মানুষ মনে করছে, শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করা না গেলে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার ভেতরে ধরে রাখা না গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বিশেষ করে মেয়েদের ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধান না হলে প্রকৃত অর্থে শিক্ষার অগ্রগতি হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও তুলনামূলক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী দিনের শ্রমবাজার বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে প্রায় ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে। আবার নতুন করে প্রায় ৫০ লাখ কাজের সুযোগও সৃষ্টি হবে। কিন্তু সেই নতুন ধরনের কাজের জন্য দেশের তরুণ সমাজ প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সবাইকে শিক্ষার আওতায় আনা। এখন সময় এসেছে শিক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করার। ইংরেজিতে যেটা বলা হয়, আগে ছিল ‘ফাইট ফর এডুকেশন’, এখন সময় এসেছে ‘ফাইট ফর আউটকাম অব এডুকেশন’ এর। শিক্ষা আন্দোলনকে শুধু কারিগরি মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। এটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়েও একটি জোট গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষা সংস্কার ও মানোন্নয়নের দাবিকে আরো জোরালোভাবে সামনে আনা যায়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়। পরে তাদের ১৪ মে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদেশের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ওই ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ৭১ টিভির সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। আপাতত তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছে।

আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৫৮ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থা।

কালের আলো/এসআর/এএএন