খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

বিএনপি ছাড়া এক মঞ্চে সব দলের নেতারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
বিএনপি ছাড়া এক মঞ্চে সব দলের নেতারা

আব্দুল হামিদ, কালের আলো:

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাড়া অন্যসব সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতারা এক মঞ্চে উপস্থিত হন। শহীদ পরিবারসহ আমন্ত্রিত পেশাজীবীরাও ছিলেন সমাবেশে। দলটির পক্ষ থেকে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারাও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তবে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি দল কর্মসূচিতে যোগ দেয়নি। যদিও জামায়াত আমির সমাবেশ মঞ্চে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.মঈন খান।

নতুন সংবিধান চান সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমাদের নতুন সংবিধান লাগবে। গণপরিষদ নির্বাচন লাগবে। নারীদের অধিকার ও সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

সারজিস বলেন, অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে আমরা আরেক বছরে এসে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে মুজিববাদীদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। গোপালগঞ্জে মুজিববাদীদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। মুজিববাদের সদস্যরা এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয়। এই মুজিববাদ একটি আদর্শ। শুধু আইনিভাবেই মুজিববাদের মোকাবিলা করা যাবে না। আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবেই মুজিববাদের কোমর ভেঙে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু স্বৈরাচারের প্রশ্নে অভ্যুত্থানের সব শক্তি একসঙ্গে থাকতে হবে। এই বাংলাদেশে আবার নতুন করে মুজিববাদী ভারতপন্থি শক্তিগুলো এখন সক্রিয় হচ্ছে। আমাদের মতবিরোধ থাকতে পারে তবে এই বাংলাদেশে বাংলাদেশপন্থি ব্যতীত অন্য কোনো পন্থির জায়গা হবে না। এই বাংলাদেশে আর কোনো ভারতীয় আধিপত্যবাদের জায়গা হতে দেওয়া যাবে না। অন্য যে কোনো দেশের নামে বাংলাদেশ হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, হাজারের অধিক ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। একটা আকাক্সক্ষা ছিল, জুলাই-আগস্টের ৫ তারিখ আমাদের যে স্বপ্ন ছিল আরেক ৫ আগস্ট আসতে চলেছে আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সুশীল সরকারের ভূমিকায় চাই না। এই বাংলাদেশে খুনি হাসিনার বিচারের রায় হতেই হবে।

কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অবদানকে ছিনতাইয়ের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জুলাই আন্দোলনের অবদানকে ছিনতাই করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুদ্ধাহত কওমি শিক্ষার্থী রেদওয়ান নাবিল। জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি তাদের অবদানকে জাতির সামনে তুলে ধরা না হয় এবং লুণ্ঠনের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটাতে পিছপা হবেন না তারা।

তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কওমি মাদরাসার ছাত্ররাও জুলাই আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিল। হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেমন আক্রান্ত হয়েছে, তেমনি কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও কোনো অংশে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি নিজে ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম, টিয়ার সেলে আমার চেহারা পুড়ে গিয়েছিল, তবুও আমরা পিছপা হইনি।

হিন্দুদের সঙ্গে দুই দলের প্রতারণার অভিযোগ গোবিন্দ প্রামাণিকের
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় প্রধান রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি বঞ্চনা ও প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীকে একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানান। জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে তিনি তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব অস্বীকার করার অভিযোগ তুলে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কাছে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে ছিলাম। ১৯৫৪ সালে যেদিন আওয়ামী লীগ গঠন হয়েছে সেদিনই তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব অস্বীকার করে। প্রতিনিধিত্বকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ গঠন হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তারা প্রতারণা করেছে। একইভাবে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধেও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি অবহেলা ও ক্ষতির অভিযোগ করে বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ফেনীর একটি উপজেলায় ২০০ জন হিন্দু নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন আদিবাসী কিশোরীকে চারজন বিএনপি কর্মীর দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এদের কোনো বিচার হয়নি।

ঢাকায় জাতিসংঘের অফিস নিয়ে সমালোচনা আখতারের
বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার বাইরে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ নতুন একদিনের প্রত্যাশা করে, যে নতুন দিনে সব পক্ষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করবে। আখতার আরও বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। বাংলাদেশের শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। ১৮ এবং ২৪ সালের নির্বাচনে গণতন্ত্র থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের আগে গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য মৌলিক সংস্থার বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি ভিপি নুরুল হক নুরের
অনতিবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীদারদের কারও কারও সমালোচনা করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে তিনি বলেন, ‘হাদিসে আছে বিপদ কেটে গেলে মানুষ উৎফুল্ল হয়, আনন্দিত হয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি অভ্যুত্থানের অংশীদাররা উৎফুল্ল হয়ে জালিম হয়ে উঠছেন। তাই বলতে চাই, আল্লাহ পাক কিন্তু ছাড় দেবেন না।’

সরকারের সমালোচনা করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, গত ১১ মাস ধরে স্থানীয় সরকারে কোনো প্রতিনিধি নেই। মানুষের চরম ভোগান্তি। তাই অনতিবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিন। জামায়াত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যেহেতু ইসলামের রাজনীতি করেন, ইসলামের মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলেন। আপনারা জানেন আল্লাহ মানুষকে ধন-সম্পদ দিয়ে এবং নিয়ে পরীক্ষা করেন। গত ১৬ বছরে মহান আল্লাহ আমাদের অনেক কিছু নিয়েছিলেন, এজন্য মহান আল্লাহ আমাদের জুলাই উপহার দিয়েছেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে নুরুল হক নুর বলেন, পরিবর্তন পেয়েছি, পরিবর্তনকে টেকসই করার জন্য শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল পরিবর্তন না করে আপনারা নির্বাচনের দিকে হাঁটবেন না। নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দল যেন প্রচার প্রচারণা চালাতে পারে- সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জুলাই সনদ দিতে ব্যর্থ হয় আমরা অভ্যুত্থানের অংশীজনরা এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাই সনদ ঘোষণা করবো।

নির্বাচনে চাঁদাবাজবিরোধীরাই জিতবে মন্তব্য ডা.তাহেরের
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদাবাজবিরোধীরাই জিতবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী চায়, আগামী নির্বাচনে জনগণের জয় হোক। জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই জিতবে। সোহরাওয়ার্দীর বিশাল এ সমাবেশ, মেসেজ কি পাওয়া যাচ্ছে না, কারা জিতবে? আগামীতে বাংলাদেশপন্থিরাই জিতবে, চাঁদাবাজবিরোধীরাই জিতবে, সুশাসনের পক্ষের শক্তি বিজয় হবে। শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তাহের বলেন, ‘বাইরে সভা করেন, সমাবেশ করেন। বলে বেড়ান সংস্কার মানি। অথচ ঐক্যমত কমিশনের মিটিংয়ে বসলে কিচ্ছু মানি না, ভাব দেখায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের জনগণ সংস্কার চেয়েছেন। তারা এখনও সংস্কার চান, সংস্কারের পরেই নির্বাচনের পক্ষে দেশের জনগণ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল মনে করে, সংস্কার সবার জন্যই কল্যাণকর। কিন্তু যারা সংস্কার চান না, তাদের নিশ্চিয়ই বদমতলব আছে।’

জুলাই সনদ ও সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকগুলোতে মূলত জামায়াতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সমাবেশে তিনি সংস্কার কমিশনের ভেতরে-বাইরে কী হয়, তাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন। জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালু করা প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, পিআর পদ্ধতিতে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সুযোগ নেই। সেজন্য মতলব পূরণ হবে না। পিআর পদ্ধতিতে স্বচ্ছ নির্বাচনের বিরোধিতা করা মানে তারা জাতির প্রত্যাশা নিয়ে সচেতন নয়।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে

দেশে ফিরেই বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ণ
দেশে ফিরেই বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরেই প্রয়াত বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে অবস্থিত জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে যান তিনি। এ সময় বাবা-মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

চীন ও মালয়েশিয়ায় ছয় দিনের সরকারি বিদেশ সফর শেষে গতকাল ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এর আগে বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরাও একই ফ্লাইটে দেশে ফেরেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সরকারের মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বিমানবন্দরে দলীয় প্রধানকে স্বাগত জানান।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মালয়েশিয়া-চীন সফরের অর্জন দেশের মানুষের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়া-চীন সফরের অর্জন দেশের মানুষের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া এবং চীন সফরে যদি ভালো কিছু অর্জন হয়ে থাকে— এটি বাংলাদেশের অর্জন, দেশের মানুষের অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সফলতার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এসব কথা বলে। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমাকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে এই সংসদের পক্ষ থেকে, তার জন্য আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ এবং আন্তরিকভাবে সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এখানে মূল বিষয় যেটি, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য।

আমাদের দলের অবস্থান থেকে আমরা একটি স্লোগান ব্যবহার করি, সেটি হচ্ছে যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশ প্রথম’। যে কাজটি করার চেষ্টা করেছি, আমার অবস্থান থেকে আমি আমার দেশের, আমার দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার এবং সেই স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে আমাদের কারোরই কোনো ব্যক্তিগত কোন বিষয় নেই। যদি কিছু অর্জন হয়ে থাকে, ভালো কোনো কিছু অর্জন হয়ে থাকে— এটি বাংলাদেশের অর্জন। এই সফরের মাধ্যমে যদি দেশের মানুষের কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি দেশের মানুষের অর্জন।

তারেক রহমান আরও বলেন, যেহেতু সংসদের সকল সদস্য, বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা- উনিও উৎসাহ প্রদান করেছেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের পক্ষে কাজ করার জন্য— সেজন্য আবারো আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে সকল সদস্য, বিরোধীদলীয় নেতাসহ সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে ধানমন্ডি-হাতিরঝিল লেক: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
এক বছরের মধ্যে বদলে যাবে ধানমন্ডি-হাতিরঝিল লেক: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

রাজধানীর ধানমন্ডি ও হাতিরঝিল লেককে আরও পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও জনবান্ধব করে তুলতে সরকার সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ধানমন্ডি লেকে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে হাতিরঝিলেও চলমান সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

শনিবার (২৭ জুন) হাতিরঝিল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর লেকগুলো অব্যবস্থাপনার মধ্যে ছিল। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। এখন সমন্বিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ধানমন্ডি লেক সুন্দর একটি লেকে পরিণত হবে। অন্যদিকে প্রায় এক মাস ধরে হাতিরঝিল লেকে উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। আমরা নিয়মিত এ কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদারকি করছি।

হাতিরঝিলের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় ও নিরাপদ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সেখানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লেকের দুই পাশে মাটি ফেলে সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর যাতে কোনো হকার সেখানে বসতে না পারে, সেজন্য আনসার সদস্য মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, রেস্টুরেন্ট, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন কোয়ার্টারে ৫০ শতাংশের বেশি স্থানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হয়ে কাজ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রতি শনিবার উপজেলা পর্যায়ের সব স্কুল ও কলেজে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির অংশ।

মীর শাহে আলম বলেন, সরকার দেশের মানুষকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ উপহার দিতে কাজ করছে। আমরা বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে চাই না। তবে অবশ্যই একটি বাসযোগ্য দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ