খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৫৪৮২

দাম কমার দুদিনের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। গত ২৪ জুন এক লাফে ৫ হাজার টাকারও বেশি দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর একদিন পর আরও ২ হাজার টাকা দাম কমানো হয়। তবে দাম কমানোর ঘোষণা দুদিনের বেশি স্থায়ী হয়নি।

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৭ জুন) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দেশ গড়তে ঐক্যের বিকল্প নেই, বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
দেশ গড়তে ঐক্যের বিকল্প নেই, বললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী

দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে বাংলাদেশে উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে হবে। নিয়মিত ও মৌলিক দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে পালন করতে পারলেও উন্নয়নের পথ সুগম হবে। অন্যথায় বিভিন্ন পর্যায়ে বাধার মুখে পড়তে হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।

গণতন্ত্র শক্তিশালী করাই এখন মূল কাজ

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। তিনি বলেন, অন্তত নিয়মিত দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হলেও বাংলাদেশে উন্নয়ন করা যাবে। কিন্তু রুটিন ওয়ার্ক যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে না পারলে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হবে। এ জন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা এ মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান

দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে হবে। গত ১৭ বছরের ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া ছিল না। এখন নতুনভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই যাত্রাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, সামনে এগিয়ে যেতে হলে অনেক কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে।

‘রাজনৈতিক যুদ্ধ করেছি, এখন জীবনযুদ্ধে এগোতে হবে’

দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর রাজনৈতিক লড়াই করতে হয়েছে। এখন জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, যে যেখানে থাকুক না কেন, সবার দায়িত্ব হলো সর্বাত্মক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশের লক্ষ্য অর্জনে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী মনে করেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করা, দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়নের পথ সুগম হতে পারে।

২৫ মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

লক্ষ্মীপুর সমাজ উন্নয়ন পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ ছাইফ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন এবং লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটনসহ অন্য অতিথিরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

মাত্র ৫ সেকেন্ড হাত ধুলেই কি দূর হয় সব জীবাণু?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
মাত্র ৫ সেকেন্ড হাত ধুলেই কি দূর হয় সব জীবাণু?
সংক্রমণ প্রতিরোধের অন্যতম সহজ ও কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেন তাড়াহুড়ো করে। খাওয়ার আগে, রান্না শুরুর সময় কিংবা বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে মাত্র কয়েক সেকেন্ড পানির নিচে হাত ধুয়েই দায়িত্ব শেষ করেন অনেকে। কিন্তু এভাবে হাত ধুলে কি সত্যিই দূর হয় রোগজীবাণু?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কার্যকরভাবে হাত পরিষ্কার করতে শুধু পানি ব্যবহার বা কয়েক সেকেন্ড হাত ভিজিয়ে নেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সাবান, হাতের সব অংশ ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করা এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে ধোয়া। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ঘষার পরামর্শ দেয়।

প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সংক্রামক রোগের বিস্তার কমাতে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

পাঁচ সেকেন্ড হাত ধুলেই কি পরিষ্কার হয়?

দ্রুত হাত ধুলে দৃশ্যমান কিছু ময়লা দূর হতে পারে। তবে হাতের ত্বকে থাকা রোগজীবাণু কার্যকরভাবে কমানোর জন্য এত অল্প সময় যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক, নখের আশপাশ, বুড়ো আঙুল ও হাতের পেছনের অংশ ঠিকভাবে পরিষ্কার না হলে সেখানে জীবাণু থেকে যেতে পারে।

হাত দেখতে পরিষ্কার মনে হলেও তাতে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব থাকতে পারে। দূষিত হাতের মাধ্যমে এসব জীবাণু খাবার, মুখ কিংবা অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর ফলে ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

হাত পরিষ্কারের কার্যকারিতা মূলত সাবান ব্যবহার, ঘর্ষণ এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে ধোয়ার ওপর নির্ভর করে। সাবান ময়লা ও জীবাণু ত্বক থেকে আলগা করতে সাহায্য করে। হাত ঘষার ফলে সেগুলো দূর হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং প্রবাহমান পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে আলগা হয়ে আসা ময়লা ও জীবাণু সরে যায়।

কতক্ষণ ধরে হাত ধোয়া উচিত?

সিডিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, সাবান দিয়ে হাতের সব অংশ কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বর্ণিত প্রচলিত হাত ধোয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় হাত ভেজানো, সাবান লাগানো, ঘষে পরিষ্কার করা, পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা এবং শুকানোসহ সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ড সময় লাগে।

সঠিকভাবে হাত ধোয়ার সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। প্রথমে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে হাত ভিজিয়ে সাবান লাগাতে হবে। এরপর দুই হাতের তালু, হাতের পেছনের অংশ, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল, আঙুলের ডগা ও নখের আশপাশ ভালোভাবে ঘষতে হবে। সবশেষে পরিষ্কার পানিতে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

অনেকেই হাতের তালু পরিষ্কার করলেও আঙুলের ফাঁক কিংবা নখের নিচের অংশে যথেষ্ট মনোযোগ দেন না। ফলে হাত ধোয়ার পরও কিছু জায়গায় ময়লা ও জীবাণু থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই হাতের প্রতিটি অংশ পরিষ্কার করা জরুরি।

গরম পানি নাকি ঠান্ডা পানি—কোনটি বেশি কার্যকর?

হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে পানির তাপমাত্রার চেয়ে সাবান ব্যবহার এবং ভালোভাবে হাত ঘষে পরিষ্কার করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সময় গরম ও ঠান্ডা পানি জীবাণু দূর করার ক্ষেত্রে প্রায় একই রকম কার্যকর হতে পারে।

তাই হাত পরিষ্কার করার জন্য অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। বরং বেশি গরম পানি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমিয়ে শুষ্কতা ও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। নিজের জন্য আরামদায়ক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করলেই চলে।

দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সাধারণ সাবানই যথেষ্ট। প্রতিবার হাত ধোয়ার সময় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করা জরুরি নয়। তবে হাত দৃশ্যত নোংরা বা তৈলাক্ত হলে সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

হাত শুকানোও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পর হাত শুকানোর বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেন না। কিন্তু হাত ধোয়ার প্রক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

ভেজা হাতে জীবাণু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই হাত ধোয়ার পর পরিষ্কার তোয়ালে অথবা পেপার টাওয়েল দিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া উচিত।

বাড়িতে হাত মোছার তোয়ালে ব্যবহার করলে সেটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। একই তোয়ালে দীর্ঘদিন ভেজা অবস্থায় পড়ে থাকলে তাতে ময়লা ও জীবাণু জমতে পারে। তাই তোয়ালে নোংরা হয়ে গেলে বদলে ফেলুন এবং ব্যবহারের পর শুকানোর ব্যবস্থা রাখুন।

কখন হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবেন?

সাবান ও পরিষ্কার প্রবাহমান পানি পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। দুই হাতের তালু, হাতের পেছনের অংশ, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল ও আঙুলের ডগায় স্যানিটাইজার ভালোভাবে লাগাতে হবে। এরপর হাত শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত ঘষতে হবে।

তবে স্যানিটাইজার সব পরিস্থিতিতে সাবান ও পানির বিকল্প নয়। হাত দৃশ্যত নোংরা বা তৈলাক্ত থাকলে এটি কম কার্যকর হতে পারে। আবার নোরোভাইরাসের মতো কিছু জীবাণুর বিরুদ্ধে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া বেশি উপযোগী।

বিশেষ করে টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাবার খাওয়ার আগে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তন করার পর, ময়লা আবর্জনা স্পর্শ করার পর এবং কাশি, হাঁচি বা নাক পরিষ্কার করার পরও হাত ভালোভাবে ধুতে হবে।

কোন কোন সময়ে হাত ধোয়া সবচেয়ে জরুরি?

দৈনন্দিন জীবনে কিছু নির্দিষ্ট সময়ে হাত ধোয়ার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। যেমন—

  • খাবার তৈরি করার আগে, খাবার খাওয়ার আগে এবং অন্যকে খাবার পরিবেশনের আগে।
  • টয়লেট ব্যবহারের পর।
  • শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন করার পর।
  • কাশি, হাঁচি বা নাক ঝাড়ার পর।
  • আবর্জনা, ময়লা কিংবা দূষিত বস্তু স্পর্শ করার পর।
  • অসুস্থ ব্যক্তির পরিচর্যা করার আগে ও পরে।
  • বাইরে থেকে বাড়িতে ফেরার পর, বিশেষ করে হাত ময়লা হলে।

এসব সময়ে হাত পরিষ্কার রাখলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

সচেতনতাই পারে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে

হাত ধোয়া ছোট একটি দৈনন্দিন কাজ হলেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাড়াহুড়ো করে কয়েক সেকেন্ড হাত ধোয়ার পরিবর্তে সঠিক নিয়ম মেনে সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ঘষে পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে হাতের সব অংশ পরিষ্কার করা এবং ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি। পরিবারের শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস শেখানো গেলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

মনে রাখতে হবে, শুধু হাত ভিজিয়ে নেওয়া আর কার্যকরভাবে হাত ধোয়া এক বিষয় নয়। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলেই এই সহজ অভ্যাস থেকে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যগত সুফল পাওয়া সম্ভব।

কালের আলো/জেএন/এসএ

কিশোর গ্যাং নির্মূলে ওসিকে দুই মাসের আলটিমেটাম চিফ হুইপের

বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
কিশোর গ্যাং নির্মূলে ওসিকে দুই মাসের আলটিমেটাম চিফ হুইপের

কিশোর গ্যাং নির্মূলে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আলীমকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন। কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ওসিকে সরাসরি সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন, আপনি থাকবেন না। আগামী দুই মাস টাইম, দুই মাস। কিশোরগ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনও কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’ তাঁর এই বক্তব্যে পাথরঘাটায় কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর কঠোর চাপ দেওয়ার বার্তা উঠে এসেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান তিনি।

সভায় চাঁদাবাজি বন্ধের ওপরও গুরুত্ব দেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, চাঁদাবাজির কোনও জায়গা পাথরঘাটায় নেই। ওসি সাহেব, আপনাকে আমি এখানে বললাম, চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনও সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন, না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না।’ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ দখলদারত্বের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

চিফ হুইপের বক্তব্যে নিজের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করার অভিযোগও উঠে আসে। এ বিষয়ে ওসিকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি কোথায় কী করার কথা বলে চাঁদা খেয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন এখন পলাতক। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতার দেখাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসীদের কোনও দল নেই।’ তবে আউয়াল ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট মামলার অন্যান্য তথ্য বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ দখলবাজি করলে তাঁকে সরাসরি ফোনে না পেলেও যেন বার্তা পাঠানো হয়। তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে যদি কেউ দখলবাজি করে, আমি টেলিফোন ধরতে পারি না, আপনারা আমাকে মেসেজ দিয়ে রাখবেন। আমি রাতে মেসেজ দেখি।’ নিজের নাম ব্যবহার করে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ পেলে তা জানানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে দখলবাজি কিংবা চাঁদাবাজির সুযোগ বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন চিফ হুইপ। কোস্টগার্ডের সোর্স হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কোস্টগার্ডের সোর্স যারা আছেন, তারা সাবধান হইয়েন। প্রয়োজন হলে আমি সবাইকে গ্রেফতার করাবো। তারা থানায়ও দালালি শুরু করেছে। থানায় দালালি বন্ধ কইরেন।’ থানায় দালালি বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন তিনি। পাথরঘাটায় উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় চিফ হুইপের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলবাজি এবং থানাকেন্দ্রিক দালালি বন্ধ করা। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি ওসিকে সরাসরি নির্দেশ দেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি