খুঁজুন
                               
শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১৩ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

বিএনপি ছাড়া এক মঞ্চে সব দলের নেতারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
বিএনপি ছাড়া এক মঞ্চে সব দলের নেতারা

আব্দুল হামিদ, কালের আলো:

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ছাড়া অন্যসব সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতারা এক মঞ্চে উপস্থিত হন। শহীদ পরিবারসহ আমন্ত্রিত পেশাজীবীরাও ছিলেন সমাবেশে। দলটির পক্ষ থেকে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারাও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তবে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি দল কর্মসূচিতে যোগ দেয়নি। যদিও জামায়াত আমির সমাবেশ মঞ্চে অসুস্থ হওয়ার পর তাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.মঈন খান।

নতুন সংবিধান চান সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমাদের নতুন সংবিধান লাগবে। গণপরিষদ নির্বাচন লাগবে। নারীদের অধিকার ও সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

সারজিস বলেন, অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়ে আমরা আরেক বছরে এসে উপস্থিত হয়েছি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে মুজিববাদীদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। গোপালগঞ্জে মুজিববাদীদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। মুজিববাদের সদস্যরা এখনো বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয়। এই মুজিববাদ একটি আদর্শ। শুধু আইনিভাবেই মুজিববাদের মোকাবিলা করা যাবে না। আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবেই মুজিববাদের কোমর ভেঙে দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু স্বৈরাচারের প্রশ্নে অভ্যুত্থানের সব শক্তি একসঙ্গে থাকতে হবে। এই বাংলাদেশে আবার নতুন করে মুজিববাদী ভারতপন্থি শক্তিগুলো এখন সক্রিয় হচ্ছে। আমাদের মতবিরোধ থাকতে পারে তবে এই বাংলাদেশে বাংলাদেশপন্থি ব্যতীত অন্য কোনো পন্থির জায়গা হবে না। এই বাংলাদেশে আর কোনো ভারতীয় আধিপত্যবাদের জায়গা হতে দেওয়া যাবে না। অন্য যে কোনো দেশের নামে বাংলাদেশ হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, হাজারের অধিক ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। একটা আকাক্সক্ষা ছিল, জুলাই-আগস্টের ৫ তারিখ আমাদের যে স্বপ্ন ছিল আরেক ৫ আগস্ট আসতে চলেছে আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা সুশীল সরকারের ভূমিকায় চাই না। এই বাংলাদেশে খুনি হাসিনার বিচারের রায় হতেই হবে।

কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অবদানকে ছিনতাইয়ের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জুলাই আন্দোলনের অবদানকে ছিনতাই করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যুদ্ধাহত কওমি শিক্ষার্থী রেদওয়ান নাবিল। জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি তাদের অবদানকে জাতির সামনে তুলে ধরা না হয় এবং লুণ্ঠনের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আরেকটি অভ্যুত্থান ঘটাতে পিছপা হবেন না তারা।

তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কওমি মাদরাসার ছাত্ররাও জুলাই আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছিল। হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেমন আক্রান্ত হয়েছে, তেমনি কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও কোনো অংশে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি নিজে ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলাম, টিয়ার সেলে আমার চেহারা পুড়ে গিয়েছিল, তবুও আমরা পিছপা হইনি।

হিন্দুদের সঙ্গে দুই দলের প্রতারণার অভিযোগ গোবিন্দ প্রামাণিকের
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ড. গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় প্রধান রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি বঞ্চনা ও প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীকে একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানান। জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে তিনি তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব অস্বীকার করার অভিযোগ তুলে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কাছে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে ছিলাম। ১৯৫৪ সালে যেদিন আওয়ামী লীগ গঠন হয়েছে সেদিনই তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব অস্বীকার করে। প্রতিনিধিত্বকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ গঠন হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি তারা প্রতারণা করেছে। একইভাবে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধেও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি অবহেলা ও ক্ষতির অভিযোগ করে বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ফেনীর একটি উপজেলায় ২০০ জন হিন্দু নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন আদিবাসী কিশোরীকে চারজন বিএনপি কর্মীর দ্বারা ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এদের কোনো বিচার হয়নি।

ঢাকায় জাতিসংঘের অফিস নিয়ে সমালোচনা আখতারের
বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার বাইরে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ নতুন একদিনের প্রত্যাশা করে, যে নতুন দিনে সব পক্ষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করবে। আখতার আরও বলেন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে আমরা অংশ নিয়েছিলাম। বাংলাদেশের শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। ১৮ এবং ২৪ সালের নির্বাচনে গণতন্ত্র থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের আগে গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য মৌলিক সংস্থার বাস্তবায়ন করতে হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি ভিপি নুরুল হক নুরের
অনতিবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীদারদের কারও কারও সমালোচনা করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে তিনি বলেন, ‘হাদিসে আছে বিপদ কেটে গেলে মানুষ উৎফুল্ল হয়, আনন্দিত হয়। আমরা দেখতে পাচ্ছি অভ্যুত্থানের অংশীদাররা উৎফুল্ল হয়ে জালিম হয়ে উঠছেন। তাই বলতে চাই, আল্লাহ পাক কিন্তু ছাড় দেবেন না।’

সরকারের সমালোচনা করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, গত ১১ মাস ধরে স্থানীয় সরকারে কোনো প্রতিনিধি নেই। মানুষের চরম ভোগান্তি। তাই অনতিবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিন। জামায়াত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যেহেতু ইসলামের রাজনীতি করেন, ইসলামের মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলেন। আপনারা জানেন আল্লাহ মানুষকে ধন-সম্পদ দিয়ে এবং নিয়ে পরীক্ষা করেন। গত ১৬ বছরে মহান আল্লাহ আমাদের অনেক কিছু নিয়েছিলেন, এজন্য মহান আল্লাহ আমাদের জুলাই উপহার দিয়েছেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে নুরুল হক নুর বলেন, পরিবর্তন পেয়েছি, পরিবর্তনকে টেকসই করার জন্য শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল পরিবর্তন না করে আপনারা নির্বাচনের দিকে হাঁটবেন না। নির্বাচনের আগে সব রাজনৈতিক দল যেন প্রচার প্রচারণা চালাতে পারে- সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জুলাই সনদ দিতে ব্যর্থ হয় আমরা অভ্যুত্থানের অংশীজনরা এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জুলাই সনদ ঘোষণা করবো।

নির্বাচনে চাঁদাবাজবিরোধীরাই জিতবে মন্তব্য ডা.তাহেরের
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদাবাজবিরোধীরাই জিতবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী চায়, আগামী নির্বাচনে জনগণের জয় হোক। জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই জিতবে। সোহরাওয়ার্দীর বিশাল এ সমাবেশ, মেসেজ কি পাওয়া যাচ্ছে না, কারা জিতবে? আগামীতে বাংলাদেশপন্থিরাই জিতবে, চাঁদাবাজবিরোধীরাই জিতবে, সুশাসনের পক্ষের শক্তি বিজয় হবে। শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তাহের বলেন, ‘বাইরে সভা করেন, সমাবেশ করেন। বলে বেড়ান সংস্কার মানি। অথচ ঐক্যমত কমিশনের মিটিংয়ে বসলে কিচ্ছু মানি না, ভাব দেখায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের জনগণ সংস্কার চেয়েছেন। তারা এখনও সংস্কার চান, সংস্কারের পরেই নির্বাচনের পক্ষে দেশের জনগণ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল মনে করে, সংস্কার সবার জন্যই কল্যাণকর। কিন্তু যারা সংস্কার চান না, তাদের নিশ্চিয়ই বদমতলব আছে।’

জুলাই সনদ ও সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকগুলোতে মূলত জামায়াতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। সমাবেশে তিনি সংস্কার কমিশনের ভেতরে-বাইরে কী হয়, তাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন। জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালু করা প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, পিআর পদ্ধতিতে টাকা দিয়ে ভোট কেনার সুযোগ নেই। সেজন্য মতলব পূরণ হবে না। পিআর পদ্ধতিতে স্বচ্ছ নির্বাচনের বিরোধিতা করা মানে তারা জাতির প্রত্যাশা নিয়ে সচেতন নয়।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে

রাজশাহীর বিসিক লিংক রোড দখল করে চলছে কাঠের ব্যবসা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর বিসিক লিংক রোড দখল করে চলছে কাঠের ব্যবসা

রাজশাহী নগরীর বিসিক লিংক রোড দখল করে অবাধে চলছে কাঠের ব্যবসা। দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে কাঠের ব্যবসা চলতে থাকায় একদিকে যেমন পথচারীদের দুর্ভোগ বেড়েছে অন্যদিকে তেমনি নষ্ট হচ্ছে রাস্তার সৌন্দর্যও। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে কোন মাথাব্যথা নেই।

নগরীর বিজিবি সেক্টর হেড কোয়ার্টার গেট থেকে বিসিক ভবন পর্যন্ত বিসিক লিংক রোডের অবস্থান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই রোডের অনেকটা অংশ জুড়েই ফেলে রাখা হয়েছে কাঠের গুড়ি। কাঠের গুড়ি যেমন ফেলে রাখা হয়েছে ফুটপাত জুড়ে তেমনি রাখা হয়েছে রাস্তার উপরেও।

বিসিক লিংক রোডটি একসময় এক লেনের অত্যন্ত সরু একটি রাস্তা ছিল। রাস্তাটি সেই সময় ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গিয়েছিল। যানবাহন চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হতো। বর্তমানে রাস্তাটি তিন লেনের করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি লেন দিয়ে ভারি যানবাহনসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে।

অন্য লেনটি করা হয়েছে হালকা যানবাহনসহ পথচারী চলাচলের জন্য। আর এই লেনের একটা বড় অংশ জুড়ে কাঠের গুড়ি ফেলে রেখে করা হচ্ছে কাঠের ব্যবসা। জানা গেছে, আব্দুর রাজ্জাক নামের ওই কাঠ ব্যবসায়ীর সেখানে একটি স’মিল আছে।

আর এই স’মিলের ব্যবসা চালানোর জন্যই মূলত কাঠের গুড়িগুলো আনা। অনেকে এখান থেকে কাঠ ক্রয়ও করে থাকেন। কাঠের গুড়ির আঘাতে ফুটপাতে বসানো টাইলসগুলো ভেঙে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন তিন লেনের এই রাস্তাটির দু’টি লেন মাঝে মধ্যে ঝাড়ু দেয়া হলেও তৃতীয় লেনটি কখনোই ঝাড়ু দেয়া হয় না। ফলে সেটি ময়লা আবর্জনায় একাকার হয়ে গেছে। এছাড়া এখানে দু’টি মোটর গ্যারেজ থাকায় রাস্তার উপরেই যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে।

রাস্তা ও ফুটপাতের উপর এখন দোকানপাটও বসতে শুরু করেছে। এছাড়া লেনের পাশে যেখানে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে বাঁশ পুঁতে দড়ি টানিয়ে জামা কাপড় মেলার ব্যাবস্থাও করা হয়েছে যা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু লাগছে। কাঠগুলো ফুটপাত ও রাস্তার উপরে এমনভাবে ফেলে রাখা হয়েছে যে জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তার সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে।

কয়েকজন পথচারী জানিয়েছেন, যানবাহন ও মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য রাস্তাটি প্রশস্ত করা হলেও এসব কারণে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রাস্তা প্রশস্ত করার সুবিধা জনসাধারণ পুরোপুরি ভোগ করতে পারছে না। এখানে কোন উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়না বলে তাদের অভিযোগ।

এ ব্যাপারে স’মিল মালিক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তার মিলে কাঠ রাখার পর্যাপ্ত পরিমাণ জায়গা না থাকায় তিনি কাঠগুলো ফুটপাত ও রাস্তার উপরে রেখেছেন’।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি

 

ইতালিতে এক বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্য খুন, গুরুতর আহত বড় ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
ইতালিতে এক বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্য খুন, গুরুতর আহত বড় ছেলে

ইতালির রাজধানী রোমে দুষ্কৃতিকারীর ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন এক বাংলাদেশি পরিবারের ৩ সদস্য এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯ টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের পিনেতা সাচেত্তি সংলগ্ন ভিয়া মন্তিগ্লো এলাকায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ঘটেছে এ ভয়াবহ ঘটনা।

নিহতদের মধ্যে পরিবারের কর্তা কামাল হোসেনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার বসুরহাটে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন।

নিহত বাকি ২ জন হলেন কামাল হোসেনের স্ত্রী এবং ৫ বছর বয়সী মেয়ে। দুষ্কৃতিকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন কামাল হোসেনের বড় ছেলে। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় গণমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে, সেদিন রাতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি অস্ত্র হাতে ওই ফ্ল্যাটে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীর অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন কামাল হোসেন, তার স্ত্রী এবং তাদের ৫ বছর বয়সি কন্যাসন্তান।

এসময় কামালের বড় ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলে হামলাকারীকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ছুরিকাঘাত করা হয়। আহত অবস্থায় সে সাহায্যের জন্য ফ্ল্যাট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ইতালির বিশেষ পুলিশ বাহিনী কারাবিনিয়েরির সদস্যরা পৌঁছে ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার বড় ছেলেকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে অভিযান শুরু করেছে রোম পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং হামলাকারীকে গ্রেপ্তারে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ইতালীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ছেলেটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।

ইতালীয় পুলিশের বিশেষ তদন্ত ইউনিট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি নাকি ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতার জেরে ঘটেছে- তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় বাংলাদেশিরা এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ঘাতককে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। রোম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এটি মর্মান্তিক, লোমহর্ষক অপরাধ। অপরাধীকে গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি।”

ইতালীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে নিহতদের পরিচয় ও মামলার বিস্তারিত তথ্য এখনই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। তবে অগ্রগতির বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

দেশের ৬ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
দেশের ৬ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

দেশের ছয়টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ের জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এ পূর্বাভাসে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গতকাল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারা দেশের আজকের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এ সময় রাজশাহী, পাবনা ও যশোর জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি